আন্দোলন বন্ধ করতে অভিভাবকদের অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের থামাতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মন্ত্রী বলেন, আমি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলছি, দয়া করে আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের আর রাস্তায় পাঠাবেন না। এতে আপনারাসহ সারা দেশবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনারাই আপনাদের বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যেতে পারছেন না। একটি অন্যায়কে আরেকটি অন্যায় দিয়ে প্রতিবাদ করা যায় না।

বুধবার (১ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ৭ দিনব্যাপী ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৮’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, যারা নিরপরাধ ফুলের মত পবিত্র শিশুদের ওপর বাস চালিয়ে দিয়েছে আমি তাদের তীব্র নিন্দা করি এবং এ অপরাধীদের বিচারের দাবি জানাই। এ অপরাধীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে, কারণ কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, স্বাস্থ্যখাতে আমরা যেভাবে এগিয়ে গিয়েছি মাতৃদুগ্ধ পানের ক্ষেত্রেও আমরা বিশ্বে এক নম্বর হতে পারব ইনশাল্লাহ। আধুনিকতার নামে আমরা আমাদের সন্তানদেরকে বঞ্চিত করতে পারি না। মায়ের দুধ থেকে শিশু রোগপ্রতিরোধ শক্তি পায়। যদিও বর্তমানে ব্রেস্টফিডিং ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম সফল হয়েছে। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনকে (বিবিএফ) আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তারা অত্যন্ত ভালো কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের বাজেট দরকার এটা আমি জানি। আপনাদের জন্য চেষ্টা করব অর্থ সরবরাহের জন্য।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারোয়ার, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. সমীর কান্তি সরকার, বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস কে রায় প্রমুখ।

শিশুর অপুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্রের দুষ্ট চক্র এই ৩টি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়েছে ‘মায়ের দুধ পান সুস্থ জীবনের বুনিয়াদ’।

এতে বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং ট্রেন্ড ইনিশিয়েটিভের রিপোর্ট অনুসারে ১৫২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শিশুদের মাতৃদুগ্ধ দান বিষয়ক নীতি নির্ধারণ ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন জাতীয় পুষ্টি সেবা কার্যক্রমের আওতায় ৭২০টি সরকারি ও বেসরকারি কেন্দ্রে শিশুবান্ধব হাসপাতালের কার্যক্রম, মাতৃ পুষ্টি উন্নয়নে ১৬০০টি সভা, ১২০টি মা সহায়ক দল কার্যক্রম, শিশু পুষ্টি উন্নয়নে ১৫০০ উঠান বৈঠক, ১০১টি মাতৃদুগ্ধ বিকল্প শিশু খাদ্য আইন অবহিতকরণ সভা, কিশোরী পুষ্টি উন্নয়নে ১২টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ১০০০ কিশোরীকে নিয়ে ৬৪টি অবহিতকরণ সভা সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া প্রায় ৫৯২ জায়গায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার এবং ৫০ জায়গায় ডে কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৯৯৭টি শিশুবান্ধব হাসপাতালকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে। মাতৃদুগ্ধ সুরক্ষা আইন ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গেজেট হিসেবে প্রকাশ হয়। ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট এর চূড়ান্ত বিধিমালা প্রকাশিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য মঞ্জুরি খাত থেকে বিবিএফকে বাৎসরিক কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *