গত ২০০৯ সালের পর ফ্ল্যাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। আবাসনপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রচুর প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আবাসন খাতে ধস নামে। তবে গত এক-দেড় বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি আনুমানিক ৫-৭ শতাংশ বেড়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা এমনটা জানিয়েছেন। অবশ্য তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রি বৃদ্ধির বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন তাঁরা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলা শুরু হচ্ছে। মেলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকালের সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে রিহ্যাব। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের একটা বড় অংশজুড়েই ছিল দাবিদাওয়া। অবশ্য কয়েক বছর ধরে প্রায় সব অনুষ্ঠানে একই দাবি জানিয়ে আসছেন রিহ্যাব নেতারা। দাবি পূরণ হয় না। তাই পুরোনো দাবিগুলোই বারবার তুলে ধরেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ করতে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চেয়েছে রিহ্যাব। যাতে এক অঙ্কের সুদে আবাসনের জন্য ঋণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানোর দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁদের বিশ্বাস, নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে নামিয়ে আনলে আবাসন খাতের গতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে আবাসন খাতে বিনা শর্তে কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার পুরোনো দাবিটির ব্যাপারে কিছু বলেননি তাঁরা।

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যার কারণে আবাসন খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও সংকট এখনো চলছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি।’

রিহ্যাবের দাবি কেন পূরণ হচ্ছে না। সমস্যা কোথায়? জানতে চাইলে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন খাতকে চাঙা করতে কয়েক বছর ধরেই কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছে রিহ্যাব। দাবি একেবারেই পূরণ হয়নি, তা বলা যাবে না। সরকার থেকে ঘোষণা না এলেও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ৮৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। তারা এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়া নিবন্ধন ফি কমানোর আশ্বাস মিলেছে। আশা করছি, আসছে অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।’

রিহ্যাবের এই সহসভাপতি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আবাসন খাতের সেকেন্ডারি মার্কেট আছে। তবে বাংলাদেশে উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে বাজারটি তৈরি হচ্ছে না। এ জন্য পুরোনো ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় ২-৩ শতাংশ নির্ধারণ করা দরকার। তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের প্রতারণা বন্ধে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে জন্য প্রতারণা তুলনামূলক কমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ, শাকিল কামাল চৌধুরী, আবু বকর সিদ্দিক, মেলা কমিটির সদস্য মির্জা আনোয়ার, এস এম ইমদাদ হোসেন, এম জি আজম প্রমুখ। এতে জানানো হয়, পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের আবাসন মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মেলায় ২০৩টি আবাসন, ভবন নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

উদ্বোধনের দিন বেলা দুইটায় মেলার প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। বাকি দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় একবার প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা আর পাঁচবার প্রবেশের জন্য ‘মাল্টিপল টিকিট’ ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে। টিকিটের অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। প্রবেশ-টিকিটে র‍্যাফল ড্র হবে। সেখানে প্রথম পুরস্কার থাকছে একটি প্রাইভেট কার।