বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৫, ২০১৮, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বিএনপির আট নেতার বিরুদ্ধে ‘১২৫ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং’-এর ঘটনা তদন্তে নেমেছে দুদক। বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর দলের নেতাদের দমনেই এই তৎপরতা। এমনকি টিআইবি বলছে, বিএনপির এতজন নেতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলছে, ‘অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে, এটা সত্য কি না। কারো প্রতি অন্যায় হোক, এটা আমরা চাই না।’
এ জন্যই বিএনপির আট নেতার ব্যাংক হিসাব থেকে ৩০ দিনে ১২৫ কোটি টাকা সন্দেহজনকভাবে লেনদেন হয়েছে কিনা তা জানতে যেসব ব্যাংক থেকে লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, সেই সব ব্যাংককে চিঠি দিয়ে দুদক ওই আট নেতার লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে।
বিএনপির যে ৮ নেতার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, তাঁরা হলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মীর্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোর্শেদ খান, যুগ্ম-মহাসচবি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল।
দুদকের চিঠিতে ব্যাংকগুলোকে লেনদেনের হিসাব চাওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘৩০দিনের মধ্যে তাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন জ্ঞাত আয় বহর্ভিূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের তদন্তের প্রয়োজনে।’
অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরচিালক মো. শামছুল আলমের নতেৃত্বে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সন্দেহজনক লেনদেনের একটি হিসাবের কথাও বলছে দুদক। তাতে বলা হয়, ‘তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হিসাব থেকে ১১, ১৫ ও ২২ ফেব্রুয়ারি মোট ৩২ কোটি টাকা তোলা হয়। একই মাসে তাঁর ছেলে তাবিথ আউয়ালের হিসাব থেকে তোলা হয় ২০ কোটি টাকা।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খানের ব্যাংক হিসাব থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ১৮ কোটি টাকা। তাঁর ছেলে ফয়সাল মোর্শেদ খানের হিসাব থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি তোলা হয় ৯ কোটি টাকা।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন ৩ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ১২টি চেকের মাধ্যমে ২১ কোটি টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি চেকে টাকা তোলা হয়েছে ঢাকার বাইরে থেকে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ও ৪ মার্চ ঢাকা ব্যাংকে মীর্জা আব্বাসের হিসাব থেকে ১৬ কোটি টাকা তোলা হয়। এছাড়া নজরুল ইসলাম খান এবং হাবিব উন নবী খান সোহেলের ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে ৭ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে’ বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
দুদকের এই অনুসন্ধানের ব্যাপারে অনুসন্ধান তালিকায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর যেসব নেতা বিভিন্ন পর্যায় থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করছেন, দলকে সংগঠিত করার কাজ করছেন, তাদেরই এখন টার্গেট করা হচ্ছে। তারা যাতে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই হাস্যকর অনুসন্ধান শুরু হয়েছে দুদকের।’
তিনি দাবি করেন, যেসব ব্যাংকের কথা বলা হচ্ছে, ওইসব ব্যাংকে তো মোশাররফ সাহেবের কোনো অ্যাকাউন্টই নেই।
‘আমার ব্যাংক থেকে পারিবারিক প্রয়োজনের বাইরে কোনো টাকা তোলা হয়নি। মিন্টু সাহেবের ক্ষেত্রেও তাই। নজরুল ইসলাম খান একজন লেবার লিডার। তার চলার মতো পয়সা নেই। ২০ দলের সমন্বয়কারী তিনি, এজন্য তার বিরুদ্ধে তদন্ত। সোহেলেরও চলার মতো পয়সা নাই। সে ঢাকা সিটিতে বিএনপিকে সংগঠিত করছে। তাই তার বিরুদ্ধেও তদন্ত। মানে যারা এখন দলকে সংগঠিত করছেন, আন্দোলন সংগঠন করছেন তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক খাতে এখন যে বিশৃঙ্খল অবস্থা চলছে, তা থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোও এর উদ্দেশ্য। তারা একটি কথিত অনলাইনের ওপর ভিত্তি করে এসব কাজ করছে। ওই অনলাইনটি বিএনপি ও নেতাদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে ভিত্তিহীন খবর প্রকাশ করে আসছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপি নেতারা মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে ১২৫ কোটি টাকার লেনদেন কেন করলেন, কী কারণে করলেন, তা দুদক অনুসন্ধান করতেই পারে। দুদকের কাজই হলো দুর্নীতি, অস্বাভাবিক লেনদেনের অনুসন্ধান করা। তারা তো আওয়ামী লীগেরও অনেক এমপি ও নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তাদের ওপর সরকারের প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি বলেন, এই ১২৫ কোটি টাকার ব্যাপারে দেশের মানুষও জানতে চায়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামন বলেন, অভিযোগের গুণগত মান এবং স্বচ্ছ তদন্তই আমরা আশা করি। দুদককে এই তদন্তে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে কেউ যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তার শাস্তি প্রাপ্য। কিন্তু আইন সবার জন্য সমান এবং দুদক সমতার নীতিতে আইন প্রয়োগ করছে, তা প্রমাণ করা জরুরি।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির এতজন নেতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বাভাকিভাবেই এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’ আমরা আশা করবো, এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। তবে সেটা দুদককেই তার স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
এদিকে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেলে অনুসন্ধান করে দেখতে হবে, এটা সত্য কি না। অনুন্ধানের পরই বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য কি না, তা বলা যাবে। এই অনুসন্ধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘কারো প্রতি অন্যায় হোক, এটা আমরা চাই না।’

 

সুত্র:শীর্ষ নিউজ