শুক্রবার, এপ্রিল ১৩, ২০১৮, ৪:১০ অপরাহ্ণ

সম্পাদকীয়,

কামরুল হাসান রনি : ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগি্ন স্থানে শুচি হোক ধরা’। প্রকৃতির নিয়মে দেখতে দেখতে শেষ হয়ে এলো বাংলা সন ১৪২৪। বসন্ত শেষে প্রকৃতিতে ছোঁয়া লেগেছে গ্রীষ্মের। ঝাঁজালো রোদও তাই জানান দিচ্ছে। কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে আরো একটি বছর। রাত পোহালেই নতুন বাংলা বছর ১৪২৫ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সবাই। মানুষ ভালো থাকুক আর মন্দ থাকুক নববর্ষ ভালোভাবে কাটুক এটাই সবার প্রত্যাশা। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেশের সর্বত্র আগামীকাল ১৪ এপ্রিল শনিবার ১৪২৫ বাংলা সনের প্রথমদিন পহেলা বৈশাখ উদ্যাপিত হবে মহাআনন্দে সাড়ম্বরে। ব্যতিক্রম দেখা যাবে কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তারা বৈশাখের দ্বিতীয়দিন রোববার হালখাতা অনুষ্ঠান করবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।

সারাদেশের বিভিন্ন জেলা,উপজেলা শহর, গ্রাম আর শহরতলীর মানুষ বৈশাখ উদ্যাপনে উদ্গ্রীব হয়ে উঠেছে। সবাই নিজ নিজ ভাবনায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কীভাবে বরণ করবে পহেলা বৈশাখকে। তাই চারদিকে ব্যাপক আয়োজন। বাঙালিয়ানা আর ঐতিহ্যের আহ্বান থেকে চিরচেনা বৈশাখকে কীভাবে বরণ করবে তার পরিকল্পনাও নিয়ে রেখেছেন অনেকে।

উৎসবপ্রিয় বাঙালি নববর্ষের বর্ণাঢ্য উচ্ছ্বাসময় উৎসবের জন্যে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুত নিয়ে রেখেছে। দোকান/গদিঘর, মিল-ফ্যাক্টরী ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নিচ্ছে। অতীতের গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন প্রভাতে নতুন মনে আবার ফুটে উঠুক সকলের মুখে আনন্দের হাসি। এমনটা কামনা করে পুরাতন হিসাব চুকিয়ে শুভ হালখাতা করা নিয়ে ব্যস্ত সকল স্তরের ব্যবসায়ী। মিষ্টি দোকানিরা ব্যস্ত জিলাপি, দই-মিষ্টি বানানোর কাজে। খই-মুড়ির পাইকারি ও খুচরা বাজারও সরগরম। পোশাক ও কসমেটিকস এবং শাড়ি-লুঙ্গির দোকানগুলোর বেচা বিক্রি নববর্ষ উপলক্ষে বেড়েছে। শহরে বিভিন্ন মার্কেটে চলছে নববর্ষের কেনাকাটা। পহেলা বৈশাখে নারীর কাছে নতুন ডিজাইনের শাড়ি এবং পুরুষদের পছন্দ উৎসবের পাঞ্জাবি-পায়জামা ও ফতুয়া। খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তারা যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন মহাজনরা খুশি মনে তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাঞ্জাবি-লুঙ্গি, গামছা এমনকি বউয়ের জন্য শাড়িও উপহার হিসেবে দিয়ে থাকেন। নববর্ষের দিনটিতে সবাই ভালো থাকতে চেষ্টা করেন। এই উৎসবকে ঘিরে পাড়া-মহল্লার ছেলে-মেয়েরা আনন্দে মেতে উঠে। এবং বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলাও বসে থাকে।

একসময় ১লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে পান্তা ইলিশ খাওয়ার খুব রেওয়াজ থাকলেও গত বেশ ক’বছর সেই রেওয়াজ নেই। জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় বছরের এ সময় নদীতে মাছ ধরা (বিশেষ করে ইলিশ) ধরা নিষেধ থাকায় এখন আর শহরে ১লা বৈশাখের ইলিশ পান্তা খাওয়া হচ্ছে না। তারপরও কোনো কোনো ব্যবসায়ী ১লা বৈশাখকে সামনে রেখে বার্মার ইলিশ আমদানিসহ কিছু দেশী ইলিশ মজুদ রেখেছেন হয়তো আগামীকাল মহাআনন্দে ভোজন রসিকদের পান্তা ইলিশ উদ্যাপনের সুবিধার্থে।

বিগত দিনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ২ বৈশাখ রোববার অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উদ্যাপিত হবে হালখাতা অনুষ্ঠান। কোনো কোনো বাংলা পঞ্জিকা মতে ১৪২৫ বাংলা সনের প্রথমদিন রোববারই হলো পহেলা বৈশাখ। সেই মতে অনেকেই এ দিনটি বাংলা শুভ নববর্ষ হিসেবে উদ্যাপন করবে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনের কাছে এ দিনটি বাংলা বছরের ১ম দিন হিসেবে বিবেচিত হবে।

শুভ কামনায় নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা । শুভ নববর্ষ ২০২৫ সন।