ভোর থেকেই কুয়াশার ফিনফিনে চাদরে ঢাকা পড়েছিল রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিল, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গতকাল রোববার যেন সত্যিকারের শীতের সকাল ধরা দিয়েছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীতে জাঁকালো শীতের দেখা পেতে জানুয়ারি নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।

গতকাল সারা দিনই ক্ষণে ক্ষণে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ছিল সূর্য। ধোঁয়াটে কুয়াশার ভাব ছিল শহরজুড়েই। কুয়াশার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামার সময় আর পরিকল্পনাতেও বদল আনতে হয়। বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম প্রথম আলোকেবলেন, কুয়াশার কারণে সকালে চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় নামতে পারেনি। সিঙ্গাপুর আর শারজাহ থেকে ছেড়ে আসা দুটি ফ্লাইট গন্তব্য বদলে কলকাতায় নামে। কুয়ালালামপুর আর মাস্কট থেকে আসা দুটি ফ্লাইট ঢাকার বদলে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে প্রতিটি ফ্লাইটই নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির পর এখন তাপমাত্রা কমেছে। তাই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নদী অববাহিকায় এ সপ্তাহ থেকেই ঘন কুয়াশা থাকবে। আর জানুয়ারির ৯ থেকে ১০ তারিখ নাগাদ তীব্র শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নৌপথের চিত্র

কুয়াশার কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে গতকাল ভোর পাঁচটা থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চলাচল স্বাভাবিক হয়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথেও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সড়কপথ

কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাত ১১টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে থেমে থেমে যানবাহন চলে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার কুর্ণী থেকে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের স্কয়ার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

[তথ্য দিয়েছেন মাদারীপুর, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি]