সোমবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭, ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে এ বছর। চলতি বছর বন্দর নগর থেকে ৫৫ হাজার ২৫৩ জন শ্রমিক কর্মসূত্রে বিদেশে গেছেন। গত বছরের তুলনায় চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সারা দেশে চট্টগ্রামের অবস্থান এখন তৃতীয়।

প্রতারণা কমে যাওয়া, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদারকি বৃদ্ধি সর্বোপরি নিরাপদ অভিবাসনের কারণে শ্রমিক রপ্তানি বাড়ছে বলে এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

জনশক্তি রপ্তানি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৩২ জন শ্রমিক বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য গেছেন। যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার বেশি। এবারের সংখ্যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রপ্তানির ক্ষেত্রে এবার এগিয়ে আছে কুমিল্লা। এই জেলা থেকে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ২ হাজার জন। দ্বিতীয় অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেখান থেকে গেছেন ৫৫ হাজার ৮৬০ জন।

চট্টগ্রাম থেকে গত বছর ৪৪ হাজার ৩১৮ জন শ্রমিক বিভিন্ন দেশে যান। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও ১০ হাজার ৯৩৫ জন। চলতি বছরে ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক বিদেশে যান। এরপর রয়েছে রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও হাটহাজারী।

চট্টগ্রাম জনশক্তি রপ্তানি দপ্তরের সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক শ্রমিক বিদেশে গেছে। সরকারি দপ্তরের মনিটরিং (তদারকি) বাড়ার কারণে অভিবাসন এখন অনেক নিরাপদ হয়েছে। এ কারণে এবার জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতারণাও প্রায় শূন্যের কোটায় চলে এসেছে।

জনশক্তি রপ্তানি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন, যা সংখ্যায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৬২ জন। ৬ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে শ্রমবাজারের দুয়ারের খোলার পর থেকে সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির হার ঊর্ধ্বমুখী। চট্টগ্রাম থেকেও এবার সৌদি আরবে বেশি শ্রমিক গেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ও ওমানে ৮৩ হাজার করে শ্রমিক গেছেন। এর পরের অবস্থানে আছে কাতার, কুয়েত ও সিঙ্গাপুরের। তবে বাংলাদেশ থেকে দুবাই, ব্রুনেই ও ইউরোপের দেশে জনশক্তি রপ্তানি আপাতত বন্ধ রয়েছে।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মুজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে শ্রমিক রপ্তানি বেড়েছে। তবে এখনো দুবাই, ব্রুনেই এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

অভিবাসন নিরাপদ করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। কারিতাসের সেফ মাইগ্রেশন প্রকল্পের অধীনে অভিবাসনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ভিসা, টাকা পাঠানো ও টিকিট নিয়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে প্রকল্পের সমন্বয়ক শ্যামল মজুমদার বলেন, আগে মানুষ ভিসা পেলে সেটা যাচাই-বাছাই করতে পারত না। মানুষ সচেতন ছিল না। এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যাচাই করা যায়। এসব কারণে অভিবাসন বেড়েছে।

ভিসা নিয়ে কাতার যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাটের বাসিন্দা টাইলস মিস্ত্রি কার্তিক তালুকদার। ভিসাটি আসল কিনা তা পরীক্ষার জন্য গতকাল তিনি সেফ মাইগ্রেশন প্রকল্পে গিয়ে যাচাই করে দেখেছেন। কার্তিক তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ভিসাটি পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ভিসা আসল। ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়বেন বলে জানান।

এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা খুব কম। এবার সারা দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার নারী কর্মসূত্রে বাইরে গেছেন। চট্টগ্রাম থেকে গেছেন মাত্র ১ হাজার ৩৮৭ জন।

 জহিরুল আলম মজুমদার আরও বলেন, ২০১২ সালে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে ১৫ জন নারী গেছেন এবার সেটা দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছে। নারীদের মধ্যে একটু রক্ষণশীলতা রয়েছে। কম হওয়ার এটাও একটা কারণ।

 এইচ এম মুজিবুল হক আরও বলেন, কেবল সৌদি আরব নারী কর্মী নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে নারীদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তাই নারী শ্রমিকের সংখ্যা কম।