জাপানে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদ্‌যাপন করেছে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস। এ উপলক্ষে রাজধানী টোবিওতে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া সদ্যপ্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আলোচনা পর্বে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বক্তব্য প্রদান করেন। জাপানপ্রবাসী অভিবাসীরা তাদের ব্যস্ত সময়ের মধ্যেও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করায় রাষ্ট্রদূত তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে অভিবাসী দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘নিরাপদ অভিবাসন যেখানে, টেকসই উন্নয়ন সেখানে’। এই প্রতিবাদ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাবাব ফাতিমা আরও বলেন, মিয়ানমারের বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি অভিবাসীদের উন্নয়নে সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন এবং অভিবাসীদের দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরে জাপানে বাংলাদেশের অভিবাসীদের অবস্থান ও ক্রমধারা নিয়ে একটি উপস্থাপনা করেন দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সম্ভাবনা ও সার্থকতা নিয়ে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও দেখানো হয়।

পরে উপস্থিত অভিবাসীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় জাপানে কীভাবে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়, অভিবাসীদের সমস্যা দূর করার উপায় এবং কীভাবে দেশে বৈধ পথে ও সহজে আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো যায় ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে। অভিবাসীরা জাপানে পড়তে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের আসার পথ সুগম করা এবং পড়া শেষে কাজ করার বিষয়ে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং অনেক বছর ধরে অবস্থান করা অভিবাসীদেরও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এ সময় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি