মঙ্গলবার, অক্টোবর ৯, ২০১৮, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : অলিখিত বাকশাল ও একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতেই সরকার তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পাস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের বৈধতা নেই তাই জনগণ এ আইন মানে না।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলের হলরুমে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ নিয়ে সাংবাদিক থেকে শুরু করে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশে যে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে, তাকে আরো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।
‘আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক, মুক্ত স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি, বহু মত, বহু পথ, ভিন্নমতের ব্যবস্থাকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়ে একটি দলের শাসন বাস্তবায়নের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। দেশের সব মানুষকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে সম্পাদক পরিষদের দাবি না মেনে সরকার প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই আইন মানি না। অবৈধ সংসদে এই আইনটি পাস হয়েছে। কোনো ধরণের আলোচনা ছাড়াই তা পাশ হয়েছে। সম্পাদকমণ্ডলীকে কথা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রতারক সরকার কথা রাখেনি। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যবদ্ধের কাজ শুরু করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগেই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। শুধু আমরা না, অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোও আজ ঐক্যবদ্ধ। এখনও সময় আছে, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়, তা করুন। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সাময়িক দেশ শাসন করা যায়, দীর্ঘদিন করা যায় না।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বিশেষ কালো আইন। এরচেয়ে বড় কালো আইন আর হতে পারে না। অলিখিত বাকশাল চলছিলো। এটিকে লিখিত করার জন্য কালো আইন প্রয়োজন ছিলো। সেটি করা হলো। আসলে তারা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটাই মূল কথা৷ এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়। আমি মনে করি বর্তমান স্বৈরশাসকের নিরাপত্তার জন্য আইনটি পাশ করা হয়েছে৷
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, প্রহসনমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। যার জন্য এমন একটি কালো আইন বাস্তবায়ন হলো। এই আইনটি অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা, নিজেদের সুরক্ষার আইন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সময়ে এই আইনটি বাস্তবায়নে এত জুলুম পড়েছে কেন? বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির দস্তখত হয়ে গেল।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রকল্প উল্লেখ করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার যা সংবিধানে বলা হয়েছে তা হরণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের একটি নির্বাচনী প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিজিটাল আইন পাশ করা হয়েছো। এই প্রকল্পে আছে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রেখে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। ইভিএম চালু করে ভোটে কারচুপি করা, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, বিভিন্ন নির্বাচনী আইন পাস ইত্যাদি। সূতরাং ডিজিটাল আইন পাস পুরোপুরি নির্বাচনী প্রকল্প। এই প্রকল্প যতোক্ষণ বাস্তবায়ন হবে না ততোক্ষণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে যাবে সরকার। আজকে এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। আমাদের আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।
গনস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা জাফর উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলির সকলেই মারা গেছেন তাই তিনি সকল সময় হতাশায় ভোগেন, মানষিক চাপে থাকেন। তিনি একটি দেশ পরিচালনা করেন কিন্তু ভালো কাজ করতে চাইলেও তার পাশের লোকেরা কখনোই তাকে ভালো কাজ করতে দেয়না। পৃথিবীতে যত যঘন্নতম অইন আছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
শীর্ষনিউজের সম্পাদক একরামুল হক বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে যেই আইন করেছে তা নিয়ে দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমি যতদিন আছি ততোদিন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একরামুল হক আরও বলেন, আমরা জতদিন তার কথামতো চলবো ততোদিন আমাদের কোনো সমস্যা হবে না তার কথার বাইরে গেলেই সমস্যা হবে প্রধানমন্ত্রী এটাই বুঝাতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, যাতে সরকার এই ডিজিটাল আইনটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এই আইন যাতে বাস্তবায়ন করতে না পারে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপি আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিকরা অংশ নেন। সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ; সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মো. আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামাল উদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, শীর্ষনিউজের সম্পাদক ইকরামুল হক, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ল রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি সাইদ আহমেদ খান, কলামিস্ট হাসান আবেদ চৌধুরী কিরণ ও এসএ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন বক্তব্য দেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মামুন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ সোহরাব, সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, জেবা খান, শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবীর খান প্রমুখ।
সাংবাদিকদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুন স্ট্যালিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।