দুই কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ

নিউজ মিডিয়া ২৪: রাজধানীতে দুই কলেজ ছাত্র নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘সারাদেশে গণপরিবহন ভাংচুর ও যানাবহন চলাচলে বাধা এবং সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে’ গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে চাঁদপুরসহ সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এদিকে হঠাৎ করে দূরপাল্লার সকল বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাঁদপুর বাস টার্মিনালে যাত্রীরা এসে তাদের গন্তব্যে যেতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্যে চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে উপচেপড়া ভিড় ছিলো শুক্রবার সারাদিন। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাট ত্যাগ করতে দেখা গেছে লঞ্চগুলোকে। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে শিশু ও নারী যাত্রীদের। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর কথা স্বীকার করেনি বন্দর ও পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল হয়ে ঢাকার সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জ রূটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।

এদিকে সড়কপথে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চাঁদপুর জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার চাঁদপুরের কোথাও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে দেখা যায়নি।

গতকাল ৩ আগস্ট শুক্রবার সকাল থেকে চাঁদপুর-ঢাকা ও কুমিল্লা, চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, চাঁদপুর-সিলেট, চাঁদপুর-খাগড়াছড়ি, হাজীগঞ্জ-ঢাকা, ফরিদগঞ্জ-চট্টগ্রাম, মতলব-ঢাকা, কচুয়া-ঢাকাসহ আরো বেশ কিছু রূটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়ন। চাঁদপুর পৌর বাসস্ট্যান্ডের মালিক প্রতিনিধিরা জানান, সড়কে কাগজপত্র দেখার নামে শুধু হয়রানিই নয়, যানবাহন ভাংচুর, যাত্রী এবং শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে আপাতত বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। চাঁদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি শাহীর হোসেন পাটওয়ারী জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ।

সরজমিনে চাঁদপুর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন রুটের বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাস শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকাগামী যাত্রীরা লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে নৌ-পথে নিজেদের গন্তব্যে যাচ্ছেন। চাঁদপুর জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ প্রসঙ্গে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন জানান, সড়কে শ্রমিক ও পরিবহনের নিরাপত্তা না থাকায় শ্রমিকরা গাড়ি চালাতে অপারগতা প্রকাশ করে। তাই দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল সকালে ও বিকেলে লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বাস যাত্রীরা চাঁদপুর হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই লঞ্চগুলোতে যাত্রী বোঝাই হয়ে যাচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মানুযায়ী লঞ্চে যাত্রী পরিপূর্ণ হলেও সেগুলো ছাড়তে দেখা যায়নি। তাদের নির্দিষ্ট সময়েই প্রায় ২ গুণ যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে লঞ্চগুলো। সকাল থেকে এমভি সোনারতরী, এমভি রফ রফ, এমভি ঈগল, এমভি প্রিন্স অব রাসেল, আব-এ-জমজম, মেঘনা রাণী, সোনার তরী-২, বোগদাদীয়া-৭, ইমাম হাসান-২, ইমাম হাসানসহ অধিকাংশ লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চাঁদপুর ঘাট ছেড়েছে।

লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রুহুল আমিন জানান, চাঁদপুর-ঢাকা-চাঁদপুর নৌ-রূটে ভ্রমণ আরামদায়ক হওয়ার কারণে যাত্রীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তার মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রী অনেক বেশি। বর্তমানে এরূটে ২২টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাতায়াত করে। চাঁদপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও শরীয়তপুর জেলার ঢাকাগামী অনেক মানুষ এখন এ রূটে যাতায়াত করে। বাস চলাচল হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় কর্মমুখী মানুষগুলো নিজ গন্তব্যে ফেরার জন্যে এখন লঞ্চেই যাতায়াত শুরু করেছে।

লক্ষ্মীপুর থেকে আসা যাত্রী মোহাম্মদ নিয়াজ জানান, সিডিউল সময়ে ও নিয়মানুযায়ী লঞ্চগুলো আগের তুলনায় অধিক যাত্রী নিয়ে ছাড়ছে। প্রতি ঘন্টায় লঞ্চ রয়েছে। সে কারণে আমরা ইচ্ছে করেই ভিড়ের মধ্যে লঞ্চে উঠছি না। ঢাকাগামী আরো কয়েকজন যাত্রী বলেছেন, কর্মস্থলে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী লঞ্চে যাত্রা করবো। তারপরেও ঝুঁকি নিবেন না। কারণ সময়ের চাইতে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

চাঁদপুর বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে যাতে কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না যেতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সতর্কর্। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ বেড়েছে হঠাৎ আজ শুক্রবার থেকে। এ ঘাটের যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও স্কাউট সদস্যসহ আমাদের লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *