বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০১৮, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক: একে একে পাঁচ-পাঁচটি উইকেট তুলে নিলেন টাইগার ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান। সেইসাথে নিশ্চিত করেন দলের জয়ও। আগের ম্যাচে ডুবিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে নায়ক ওই ব্যাটসম্যানরাই! লিটন দাসের হাফসেঞ্চু্রির পর ঝড় তুলেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছেন অলরাউন্ডার সাকিব। ব্যাটিংয়ের পর তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
শুরুতে ব্যাট করতে নেমে লিটন-সাকিব-সৌম্য-মাহমুদউল্লাহ’র ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল টাইগাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে উইন্ডিজের সামনে ছুঁড়ে দেয় ২০১২ রানের টার্গেট।
পরে বল হাতেও জ্বলে উঠেন সাকিব-মিরাজরা। এর মধ্যে একাই ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব। ফলাফল ৩৬ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি তাই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয়েছে।
প্রথম ওভারেই আউটের সম্ভাবনা জেগে উঠলেও তা হয়নি। কিন্তু তৃতীয় ওভারে আর রক্ষা পেলেন না এভিন লুইস। মাত্র এক রান করেই আবু হায়দার রনির বলে বাউন্ডারিতে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লুইস।
লুইস ফিরলেও আগের ধারাবাহিকতায় অব্যাহত ছিলো সাই হোপের চার-ছয়ের ঝড়। তবে অপর প্রান্ত থেকে ফিরে গেলেন নিকোলাস পুরান। সাকিব আল হাসানের বলে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ৬ বলে ১৪ রান করেন তিনি।
পুরান ফিরে যাওয়ার পরের ওভারেই ভয়ংকর হয়ে ওঠা হোপকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। মাত্র ১৯ বলেই ৩৫ রান করেন হোপ। ফলে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ৬২ রানে তিন উইকেট হারায় উইন্ডিজ। এরপরও থামেনি সফরকারীরা। হেটমেয়ার ও পাওয়েলের জুটিতে ছুটতে থাকে জয়ের লক্ষ্যে। তবে ১১তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন দলপতি সাকিব। ওভারের দ্বিতীয় বলে হেটমেয়ার ও ষষ্ঠ বলে ব্রাভোকে তুলে নিয়ে জয়ের পাল্লা নিজেদের দিকে ভারী করেন সাকিব। আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ২৬ রান করেন মারকুটে হেটমেয়ার।
নিজের তৃতীয় ওভারে এসে ক্যারিবীয় শিবিরে ফের আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এবার তার শিকার হন প্রতিপক্ষ দলনেতা কার্লোস ব্রাথওয়েট। মাত্র তিন বল খেলে এক ছক্কায় ৮ রান করেন তিনি। এতে ১১৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় দলটি। আর নিজের ৪র্থ ওভারে এসে ক্যারিবীয় শিবিরে ব্যক্তিগত ৫ম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এ্যালেনকে তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত পাঁচ উইকেট শিকার করলেন তিনি।
এর আগে লিটন-সৌম্য ঝড়ের পর সাকিব-মাহমুদুল্লার ব্যাটিং তাণ্ডব দেখলো টাইগার সমর্থকরা। আর এই চার ব্যাটসম্যানের ব্যাটিংয়ে সফরকারী উইন্ডিজকে ২১২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দুই শতাধিক রানের স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। এ ম্যাচে ব্যাটে ঝড় তুলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন ওপেনার লিটন কুমার দাস।
এর আগে তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের দুর্দান্ত শুরু পর বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট। ১৬ বলে ১৫ রান করে ফাবিয়ান অ্যালেনের বলে শেলডন কোটরেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল।
কিন্তু রানের চাকা থামতে দেননি সৌম্য সরকার। আরও দ্বিগুণ গতিতে ঘুরতে থাকে তা। ওপেনার লিটন দাস ও সৌম্য সরকারের ব্যাটে স্কোর বড় হতে থাকে বাংলাদেশের। ২৬ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন দাস। যা এক কথায় দুর্দান্ত।
এদিন ছয়টি চার আর চারটি ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে ফিফটি পূরণ করেন এ মারকুটে ব্যাটসম্যান। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঝড় তোলেন ওয়ান ডাউনে নামা সৌম্য সরকারও। তিন চার ও এক ছয়ে ভালই খেলছিলেন তিনি। কিন্তু শেলডন কোটরেলের বলে উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্রাথওয়েটের দুর্দান্ত এক ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। প্রথম চেষ্টায় হাত ফসকে গেলেও দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় ঠিকই ধরে ফেলেন কার্লোস। ফলে ২২ বলে ৩২ রান করে ফিরতে হয় সৌম্যকে।
সৌম্যর বিদায়ের পর একই ওভারের শেষ বলে ফেরেন লিটনও। শেষ পর্যন্ত আউট হয়েছেন ৬০ রান করে। বল খেলেছেন ৩৫টি।
শুরুটা তামিম-লিটন ও সৌম্য সরকারের হলেও শেষের গল্পটা শুধুই সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। শেষ ৮ ওভারে এ দুজন তোলেন ৯২ রান। সাকিব ২৬ বলে পাঁচ চার ও এক ছয়ে করেন ৪২ রান আর মাহমুদউল্লাহ সাত চারে করেন ৪৩ রান। তাদের ধারালো ব্যাটিংয়ে উইন্ডিজদের সামনে ২১২ রানের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে টি-২০তে এটিই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান।
এর আগে উইন্ডিজদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফেরার ম্যাচে টসে হারে বাংলাদেশ। টস জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন উইন্ডিজ অধিনায়ক কার্লোস ব্র্যাথওয়েট।