২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বিভিন্ন শহর দখলে নিয়ে খেলাফত ঘোষণার পর ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে ‘জিহাদে’ অংশ নিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আনুমানিক ৪০ হাজার মানুষ জঙ্গিগোষ্ঠীটিতে যোগ দেয়। তিন বছরের মাথায় সিরিয়া ও ইরাকে পর্যুদস্ত হচ্ছে আইএস।

ইরাকে ইতিমধ্যে আইএসের বিরুদ্ধে বিজয় ঘোষণা করা হয়েছে। সিরিয়াতেও কোণঠাসা তারা। কয়েক শ লোক এখনো আইএসের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। বাকি যোদ্ধারা তাহলে এখন কোথায়?

আইএসের হয়ে লড়াই করতে যাওয়া কয়েক হাজার লোক মারা পড়েছে ইতিমধ্যে। তবে আরও বহু আইএস সদস্য বেঁচে গেছে। তারা আগামী দিনগুলোতে হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক র‍্যান্ড করপোরেশনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষানীতি কেন্দ্রের পরিচালক সেথ জোন্সের মতে, কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ, কতজন আইএস সদস্য মারা গেছে, কতজন অন্যত্র যুদ্ধ করতে গেছে এবং কতজন আইএস ত্যাগ করেছে?

আইএসে যোগ দেওয়া বিদেশি যোদ্ধাদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাদের মোকাবিলা করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থা।

ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের দেশ থেকে ১ হাজার ৭০০ ব্যক্তি আইএসের হয়ে লড়াই করতে দেশ ছেড়েছিল। এদের মধ্যে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন মারা পড়েছে। দেশে ফিরেছে ২৫০ জন। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভ লুদরিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় এখনো ৫০০ ফরাসি আইএসের পক্ষ হয়ে লড়ছে। তাদের জন্য এখন ফ্রান্সে ফিরে আসাটা বেশ কঠিন। এর বাইরেও ৫০০ ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তারা যুদ্ধের কৌশল রপ্ত করেছে, বোমা বানাতে পারে এবং অস্ত্র চালাতেও পারঙ্গম।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ ব্রুস হফম্যান জানিয়েছেন, হাজারো আইএস যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সটকে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে এখন বলকান অঞ্চলে অবস্থান করছে। সুযোগ খুঁজছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢোকার জন্য।

সন্ত্রাসবাদ-বিষয়ক আরেক বিশেষজ্ঞ থমাস স্যান্ডার্সের মতে, বহু উগ্রবাদী ইতিমধ্যে ইরাক ও সিরিয়া থেকে অন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পাড়ি জমিয়েছে। অন্তত ৮০ জন আইএস যোদ্ধা ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আবু সায়েফ বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। তারা মরক্কো, সৌদি আরব, রাশিয়া ও ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছিল।

আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ফরাসি ভাষায় কথা বলে, এমন আইএস যোদ্ধারা সম্প্রতি তাদের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। আফ্রিকার দেশ লিবিয়া ও সোমালিয়ায় আইএস অনুপ্রাণিত বিভিন্ন গোষ্ঠী উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সিরিয়া ও ইরাক থেকে আইএস সদস্যরা সেখানে অবস্থান নিচ্ছে।

ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের পরাজয় ঘটলেও তাদের পলায়নপথ বন্ধ করা যায়নি। অনেক আইএস যোদ্ধা বেসামরিক লোকজনের সঙ্গে মিশে গিয়েছে কিংবা অর্থের বিনিময়ে তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছে।