বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক : বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য স্বাধীন এবং দৃঢ়চেতা নির্বাচন কমিশন প্রয়োজন। আরও প্রয়োজন সবার শান্তিপূর্ণ প্রচার ও মতপ্রকাশ এবং ভোটারদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা।
গতকাল মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কিত আলোচনায় এ অভিমত প্রকাশ করে বলেন, দেশটির উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাংলাদেশবিষয়ক গ্রুপের প্রধান মিস জ্যাঁ ল্যামবার্ট সাম্প্রতিক কালে বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা সৃষ্টিকারী সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে তিনি দলীয় যুবগোষ্ঠীগুলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। মিস ল্যামবার্ট বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির পররাষ্ট্র ও মানবাধিকারবিষয়ক মুখপাত্র চার্লস ট্যানকের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি বড় প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এর নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি কমিটি কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অধ্যাপক জিস্ট বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগত মান কমার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানের যে অবনতি ঘটেছে, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। দারুস সালাম বা আদ্দিস আবাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিং ঢাকার চেয়েও ওপরে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এগুলোর দিকে নজর না দিলে ২০৪১ সালে মধ্যম আয়ের বৃত্ত থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবে না।
সভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পেইন ফর দ্য রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশের অজিত সাহা এবং সেক্যুলার মুভমেন্ট অব বাংলাদেশের পুষ্পিতা গুপ্ত সংখ্যালঘু, বিশেষত হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন সহিংসতা ও বৈষম্যের কথা তুলে বলেন। তাঁরা দুজনেই বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন হলেই হিন্দুদের ওপর হামলা হয়। তার আর বিচার হয় না। তাই আগামী নির্বাচন নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন বলে জানান। অজিত সাহা গত পাঁচ বছরের বিভিন্ন হামলার ঘটনার ছবি ও তথ্য তুলে ধরে বলেন, সরকার এসব ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে।