গত এপ্রিলে হাওরাঞ্চলে বন্যায় যে ফসল বিপর্যয় ঘটেছে, আগামী মৌসুমেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার কথা ১৫ ডিসেম্বর থেকে, অথচ প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো (পিসিআই) গঠনের কাজই এখনো শুরু করা হয়নি।

কিন্তু কেন? এভাবে কালক্ষেপণের কারণ কী?

বলা হচ্ছে, এবার হাওরের পানি ধীরে নামছে, উপরন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি আরও বেড়েছে। এই সময়ে হাওরগুলোর যেসব জায়গা থেকে পানি নেমে যাওয়ার কথা, সেগুলো এখনো জলমগ্ন। তাই বাঁধের প্রকল্প নির্ধারণে সমস্যা হচ্ছে। আর প্রকল্প নির্ধারণের আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো গঠন করা যায় না।

বাস্তব সমস্যাই বটে। কিন্তু কী কারণে হাওরের পানি যথাসময়ে নেমে যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে এ কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কতটা বেড়েছে? আর পানি ধীরে নামার কারণ কি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক? এমন কিছু করার কি নেই, যাতে অপেক্ষাকৃত দ্রুত পানি নেমে যায় এবং বাঁধের প্রকল্পগুলো দ্রুত নির্ধারণ করে নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়া যায়?

সতর্কতার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার, হাওরের বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এক অংশের কায়েমি স্বার্থ আছে; হাওরের পানি নামতে যত দেরি হয়, ততই তাদের লাভ। কারণ, শেষ মুহূর্তে বাঁধ নির্মাণের কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ মেলে, যেনতেন প্রকারে কিছু মাটি ফেলেই নির্মাণ শেষ করা হয়। এভাবে নির্মিত বাঁধগুলো স্বভাবতই দুর্বল হয়, বানের পানি এলে এই বাঁধগুলোই সবচেয়ে আগে ভাঙে এবং হাওরে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হয়। প্রতিবছর কমবেশি এমন ঘটনা ঘটে। গত বছর ঘটেছে অত্যধিক মাত্রায়।

আসলে পানি নামছে না বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। হাওর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার জলকপাটগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখুন; অনেক জলকপাট অকেজো হয়ে আছে। সেগুলো সচল করে এবং জায়গাবিশেষে নালা কেটে দিলে হাওরের পানি নেমে যাওয়ার গতি অবশ্যই বাড়বে। গত মৌসুমের ফসল বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি অবশ্যই ঠেকানো দরকার।