বুধবার, আগস্ট ১, ২০১৮, ৬:১৮ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দ্রুত বিচার করে দোষীদের সাজা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনায় মানুষ মারলে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে। তবে কোনো ঘটনার জন্য পুরো সম্প্রদায়কে দোষ দেওয়া ঠিক নয়।

রোববার ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী আবদুল করিম ও দিয়া খানমের মৃত্যু হয়।

সচিবালয়ে বুধবার নিজের দপ্তরে আনিসুল সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি যেই মুহূর্তে (বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মামলার) তদন্ত শেষে এই মামলা আদালতে গড়াবে আমি প্রসিকিউশনকে বলে এটার তড়িৎ বিচারের ব্যবস্থা করব।

“কেউ যদি মনে করেন মানুষ মেরে কম শাস্তি নিয়ে চলে যেতে পারবেন- এটা তো হয় না। আবার এটাও ঠিক একজনের ভুলের জন্য সকলকে দায়ী করাও ঠিক না। যে ভুল করেছে তার বিচার করা উচিত কিন্তু সম্প্রদায়কে দায়ী করা ঠিক হবে না।”

সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯৯১ সালের নিজের স্ত্রীর মারা যাওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সড়ক বা রেল দুর্ঘটনায় কেউ যদি নিহত হয় সেটার সম্বন্ধে আমার অভিজ্ঞতা আছে। দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যাথিত।

“এ রকম ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেটা সম্বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার যা যা উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন তা গ্রহণ করবে।”

সড়ক পরিবহন আইনে বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আনিসুল বলেন, “আশা করছি আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে আইনটি উঠবে।”

সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে যেসব জিনিস রাখা উচিত তা নতুন আইনে রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আমি মনে করি যে দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে তাদের বিচার যেমন তড়িৎ হওয়া উচিত সব দুর্ঘটনার বিচারও তড়িৎ হওয়া উচিত।”

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রেখে গত বছরের ২৭ মার্চ এই আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। এরপর থেকে আইনের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ছিল।

খসড়ায় ভেটিং শেষ করতে কেন এত দেরি হল- সেই প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “কিছু দিন যাবৎ সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। আমরা পুঙ্খনাপুঙ্খরূপে দেখার চেষ্টা করেছি- রাস্তার কারণে, গাড়ির কারণে, মানুষ চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা হতে পারে, সেগুলোর ব্যাপারে পর্যাপ্ত প্রভিশন করা হয়েছে কি না। সেইগুলো যাতে না ঘাটে সেই রকম পর্যাপ্ত প্রভিশন আছে কি না, আইনের ফাঁকফোকর আছে কি না, সেসব দেখে কাকতালীয়ভাবে এটাও প্রস্তুত হয়েছে আর এ রকম একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে।

“অত্যন্ত পরিস্কার করে বলতে চাই এই আইনটি অত্যন্ত আধুনিক আইন। তার কারণ হচ্ছে অনেক বিষয় আগে যেগুলো কোনো দিনই আইনে অ্যাড্রেস হয়নি।”

মন্ত্রী জানান, অন্যান্য দেশের মত প্রস্তাবিত আইনে চালকদের জন্য ১২ পয়েন্ট রাখা হয়েছে, বিভিন্ন অপরাধের সাথে সাথে সেই পয়েন্ট কাটা যাবে। যদি ১২ পয়েন্ট কাটা যায় তাহলে সে কোনো দিন আর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না।

“বিদেশে চালকের ভুল যদি হয় একেবারে জেল-হাজলে না রেখে পয়েন্ট কাটা হয়, এখানেও সেই পদ্ধতি রাখা হয়েছে।”

মন্ত্রী বলেন, “(প্রস্তাবিত আইনে) অল্প অপরাধে বেশি শাস্তি না হয়ে যায় আবার বেশি অপরাধে কম শাস্তি না হয়ে যায় সেগুলো অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে সুবিন্যাস করা হয়েছে।

“তড়িৎ বিচারের ব্যবস্থাও এই আইনের মধ্যে রাখা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রীও চান এটা তড়িৎ উপস্থাপিত হোক। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় এই আইনটা যদি অনুমোদিত হয় তাহলে সংসদে যাওয়ার সময় আমার ধারণা সব স্টেকহোল্ডারই ন্যায় বিচার পাবেন।”

নতুন আইনে অনেক সাজার বিধান রাখা হচ্ছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে হলে যে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সেটা পর্যাপ্ত।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ইন্সুরেন্স, জরিমানা, সাজা, চালকদের কোন ধরনের যেসব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন সেসব বিষয়ও আইনে বিস্তারিতভাবে বলা আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।