শনিবার, আগস্ট ৪, ২০১৮, ১:৩৭ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: মালিক-শ্রমিকের অঘোষিত ‘ধর্মঘট’ বাসশূন্য ঢাকার রাজপথ। গণপরিবহনের অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। রিকশা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা-ই এখন তাদের প্রধান বাহন।

শনিবার (০৪ আগস্ট) ট্রাক-পিকআপে করেও মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। অনেককেই আবার ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গন্তব্য পৌঁছেছেন।

তাই ভোর থেকেই রাস্তায় জনতার ঢল দেখা গেছে। অন্যান্য দিনে দু’একটি বাসের দেখা মিললেও শনিবারের চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। এদিন রাজধানী পুরোপুরি বাস শূন্য ছিলো বলা চলে।

সকাল ৯টায় মিরপুর ১০ নম্বরে আধাঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো বাসের দেখা মেলেনি। অথচ এই পথ দিয়ে অনেকগুলো রুটের বাস চলাচল করে। বলা হয়, এখানে দাঁড়ালে নাকি নগরীর যে কোনো স্থানে যাওয়ার বাস পাওয়া যায়।

এরপর পুরবী-কালশি হয়ে দুর্ঘটনার উৎপত্তি স্থল কুর্মিটোলায় গিয়েও শুধু দু’একটি বিআরটিসির বাস ছাড়া কোনো বাসের দেখা পাওয়া যায়নি। এসব এলাকায় হাজার হাজার যাত্রীকে বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

আরো পড়ুন>> রাস্তায় পরিবহন নেই, জনভোগান্তি চরমে

অনেকে আবার দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থেকে বাসের দেখা না পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওয়ানা দিয়েছেন।

সুমন মিয়া চাকরি করেন বাড্ডার একটি তৈরি পোশাক কারখানায়। সকাল ৬টায় খিলক্ষেত থেকে গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন। কোনো রকম যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই কর্মস্থলে যাচ্ছেন পৌঁছেছেন তিনি।

ঢাকা শহরের প্রধান রুট এয়ারপোর্ট সড়ক, খিলক্ষেত থেকে মহাখালী পর্যন্ত ঘুরেও কোথাও বাসের দেখা মিলেনি। ঢাকা শহরের অপর অন্যতম রুট প্রগতি সরণিতেও কোনো বাস চলাচল চোখে পড়েনি।

রাজধানীর এই একটি মাত্র রুট যে রুট দিয়ে এখনও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। সেখানে কোনো দূর পাল্লার বানস চলাচল করতেও দেখা যায়নি। এমনকি বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলোও বন্ধ থাকতে দেখো গেছে।

অন্যান্য পরিবহন দুয়েকটা থাকলেও রাজধানী এখন গণপরিবহন শূন্য। ছবি: বাংলানিউজকোনো ধরনের কর্মসূচি না থাকলেও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কে ভাঙচুরের কারণে পরিবহন শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না।

২৯ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক জাবালে নূর পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। ধীরে ধীরে অলিখিত ‘ধর্মঘটে’ যান মালিক-শ্রমিকরা। এখন রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দেশের কোনো কোনো এলাকায় গুটিকয়েক যান চলাচলের খবর থাকলেও বাস সংকট চরমে রয়েছে বলে জানা গেছে।

র‌্যাবের হাতে ঘাতক বাস চালক আটকের খবরে খুদেদের আন্দোলন যখন কিছুটা স্বস্তির দিকে গড়াচ্ছিলো, তখন দ্বিতীয়দিনের (৩১ জুলাই) আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আন্দোলনে ঘি ঢেলেছে পুলিশ।

আবার তৃতীয়দিনে (০১ আগস্ট) শনির আখড়ায় আন্দোলনকারীদের উপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।

শনির আখড়ার ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ওইদিন সাইন্সল্যাব মোড়, শাহবাগ, মিরপুর, রামপুরাসহ বেশ কিছু জায়গা থেকে ভাঙচুরের খবর আসে। চতুর্থদিনে (বৃহস্পতিবার) সংঘাত এড়াতে দেশের সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও ইউনিফর্ম-ব্যাগ কাঁধে রাস্তায় নেমে আসেন শিক্ষার্থীরা। এদিনও আন্দোলনের কারণে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে থাকে ঢাকা।