বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, অসুস্থ হওয়ার পরও আমাকে চিকিৎসা করতে বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এভাবে আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব৷ আমার বয়স হয়েছে, চিকিৎসা করতে দেবে না, বাইরে যেতে দেবে না। মৃত্যুর আমি ভয় করি না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বনানীর নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে গাড়ি থেকে না নেমেই নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
নির্বাচন সামনে রেখে পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না এরশাদকে। তার অসুস্থতার বিষয়ে জাতীয় পার্টির এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য দেয়া হচ্ছিল সাংবাদিকদের।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বনানীর নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে এসে গাড়ি থেকে না নেমে নেতাকর্মীদের সামনে কয়েক মিনিট কথা বলেন এরশাদ। তিনি বলেন, আজ বলতে এসেছি, আমাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না, এগিয়ে যাব। দলের নতুন মহাসচিবকে সহায়তা ও তার নির্দেশনা মেনে দলকে আরো গতিশীল করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে এরশাদ বলেন, আমি বেঁচে আছি, ভালো আছি। তোমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে শক্তিশালী করো। আমরা নির্বাচনে যাবো, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অনেক ভালো করবে। দলকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবো আমরা। তোমরা জাতীয় পার্টির পতাকাতলেই থেকো, কেউ যেন দল না ছাড়ে তিনি সে আহবানও জানান।
যদিও এরআগে বনানী অফিসে সংবিধান সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মোবাইল ফোনে সাবেক রাষ্ট্রপতি পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতীয় পার্টি এখন কঠিন সময় পার করছে, আমরা ভেঙে পরিনি। আগামীতে হয়তো আরো কঠিন সময় পার করতে হবে। সেজন্য জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কেউ যেন দল ছেড়ে যেওনা, কেউ নিরুৎসাহিত হইওনা। সবাই এমপি হতে পারেনা, সবাইকে দলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ, সুদিন আমাদের আসবেই। ভালো থেকো, সবাই।
এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়ে এরশাদ নাটকীয় অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্ব পান। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘অসুস্থ’ এরশাদের সিএমএইচে ভর্তির খবর এলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবিধান সংরক্ষণ দিবসের এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। সভায় প্রেসিডিয়াম সদস্য নূর-ই হাসনা লিলি চৌধুরী, সুনীল শুভ রায়, এস.এম. ফয়সল চিশতী, উপদেষ্টা এ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব বেলাল হোসেন, শ্রমিক পার্টির সভাপতি একেএম আশরাফুজ্জামান খান, ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক মোড়ল জিয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, প্রফেসর মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, এটিইউ তাজ রহমান, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, উপদেষ্টা একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, মোঃ নোমান, মোঃ সেলিম উদ্দিন, নাজমা আখতার, একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, অধ্যাপক আবুল হোসেন, নুরুল ইসলাম মিলন, আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, সরদার শাহজাহান, আতাউর রহমান আতা, হেনা খান পন্নি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, মোস্তাকুর রহমান মোস্তাক, এ্যাড. তোফাজ্জল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, সালাউদ্দিন মুক্তি, জহিরুল আলম রুবেল, শফিকুল ইসলাম শফিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান আহমেদ সেলিম, মুনিম চৌধূরী, হেলাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ঝন্টু, মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম প্রমুখ।