মঙ্গলবার, মার্চ ৬, ২০১৮, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক : বাংলাদেশে গত তিন বছর ধরেই লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছিল – কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ওপর শনিবার হামলা হয়েছে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা আসলে কতটা চ্যালেঞ্জের? মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার পর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ছবিতে দেখা গেছে তাঁর নিরাপত্তায় থাকা পুলিশের কয়েকজনের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো হামলাকারী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উচ্ছাস তালুকদার। তিনি বলছেন, “স্যার যখন মঞ্চ ছিলেন তখন পুলিশ ছিলো। সবসময় যেমন থাকে যে ওরা মোবাইলে কথা বলে। যখন ছুরি মারলো তখন পুলিশই প্রথম ধরে। পরে সবাই এগিয়ে যাই আমরা।” শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে প্রশ্ন উঠলেও রবিবার সিএমএইচে মিস্টার ইকবালকে দেখতে গিয়ে তার স্ত্রী ইয়াসমিন হক স্পষ্ট করেই বলেছেন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকায় তারা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, “২৪ ঘন্টাই আমাদের সঙ্গে পুলিশ থাকে। অসম্ভব প্রটেকশন দিয়েছে আমাদের। জাফর ইকবাল সবসময় বলে আপনারা সরে যান, শিক্ষার্থীদের বাধা দেবেন না। তারপরেও পুলিশ তাদের সেরা চেষ্টাই করেছে। তারা বাধা দিয়েছে। একজন আহতও হয়েছে”।

বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার জন্য রয়েছে বিশেষ বাহিনী এসএসএফ। আবার মন্ত্রী,আমলাদের মধ্যে অনেকে পেয়ে থাকেন বিশেষ পুলিশী নিরাপত্তা। এর বাইরেও জাফর ইকবালের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিরাপত্তায় পুলিশ বা গানম্যান দিতে দেখা যায় যারা নিয়মিতই জনসমাবেশসহ নানা ধরনের পাবলিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি আসলেই কঠিন?

জবাবে এসএসএফ -এর সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ফাতেমী আহমেদ রুমী বলেন, “খুবই কঠিন আসলে। একটা হলো শারীরিক নিরাপত্তা, আরেকটা হলো গোয়েন্দা নিরাপত্তা। আমাদের যেহেতু আগাম তথ্য কম থাকে সেজন্য শারীরিক নিরাপত্তা বাড়িয়ে দেই। সেজন্য ভিভিআইপিরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন”।

যদিও এসএসএফ র অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকেও বারবার বলতে দেখা যায় এমনভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাতে করে তারা জনবিচ্ছিন্ন না হন। আবার জাফর ইকবালের স্ত্রী যেমন বলছেন মিস্টার ইকবালও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তার কারনে তার শিক্ষার্থীরা বাধাগ্রস্ত হোক সেটি পছন্দ করেননি। বাংলাদেশ পুলিশের মুখপাত্র সহকারী মহাপরিদর্শক সোহেলী ফেরদৌস বলছেন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ দুটির মধ্যে সমন্বয় করাটাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশের এই মুখপাত্র বলছেন, পরিস্থিতি যেমনই থাকুক যখন যার নিরাপত্তায় পুলিশ ব্যবস্থা নেয় – তখন তাকে অবহিত করেই নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা তারা নিয়ে থাকেন। সূত্র: বিবিসি।