শনিবার, মে ১২, ২০১৮, ১১:২৪ অপরাহ্ণ


নিউজ মিডিয়া ২৪:  রাজশাহী: রাজশাহীর নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটোর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়ার কারণে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করে ঝাড়ু মিছিল করেছেন।
আজ শনিবার দুপুরে ঘণ্টাব্যাপী নগরীর শিরোইল কলোনি এলাকার প্রায় হাজারখানেক মানুষ ঝাড়ু মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করেন।

এ সময় থানার সামনে এলাকাবাসী ঝাড়ু নিয়ে অবস্থান করেন এবং বহুল আলোচিত রাজশাহী মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা তৌহিদুল হক সুমনের বিচার ও শাস্তি দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক সুমনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি এক কিশোরকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিরোইল কলোনিসহ নগরীতে তোলপাড় শুরু হয়।

গত ১১ মে শুক্রবার জুম্মার নামাজের খুতবার সময় শিরোইল কলোনি মসজিদের ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলাম আশরাফি বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা সুমন ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেন।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ মসল্লিরা ইমামকে মসজিদে অবরুদ্ধ করেন। পরে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইমামকে মুক্ত করেন।

এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ইমাম মাওলানা মাইনুল ইসলাম আশরাফি ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টিটোর বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে মসজিদে শান্তিশৃঙ্খলার অবনতির জন্য কাউন্সিলর টিটোকে দায়ী করেন।

বিষয়টি প্রকাশ পেলে এলাকাবাসীর মধ্যে আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে ঝাড়ু মিছিল নিয়ে এলাকাবাসী চন্দ্রিমা থানা ঘেরাও করেন।

চন্দ্রিমা থানার ওসি হুমায়ুন কবির বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে উপস্থিত হয়ে বলেন, কাউন্সিলর নুরুজ্জামান টিটোর বিরুদ্ধে ইমামের দায়েরকৃত অভিযোগ সত্য না।

তাছাড়া এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ওসির বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসেন।

প্রসঙ্গত, এক কিশোরের সঙ্গে মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমনের বিকৃত যৌনাচারের ভিডিও গত ১৫ এপ্রিল ফাঁস হয়। পরে বিষয়টি  গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তোলপাড় শুরু হয়। গত ২০ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর যুবলীগ থেকে সুমনকে তিন মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

সঙ্গে কারণ দর্শাতে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও মহানগর যুবলীগ ও এলাকাবাসীর কাছে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারেননি সুমন।