রাহুলের নামে দুধ, চা, পেঁয়াজ

৩০ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি ভারতের উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুরে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) যোগী আদিত্যনাথের ঘাঁটি গোরক্ষপুর। তবে রাহুল গান্ধীর ভক্ত আনোয়ার।

২০০৫ সালে আনোয়ার ছিলেন ছাত্র। সে সময় গোরক্ষপুরের যুব কংগ্রেস আয়োজিত একটি সভায় যোগ দিতে এসেছিলেন রাহুল গান্ধী। ওই জনসভায় রাহুল গান্ধীর ভাষণ শুনে অভিভূত হয়েছিলেন আনোয়ার। এরপরে ধীরে ধীরে কংগ্রেসের প্রতি অনুরক্ত হন। প্রথমে কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন ছাত্র পরিষদ, তারপর যুব কংগ্রেস এবং শেষে কংগ্রেসে যোগ দেন।

আনোয়ার রাহুল গান্ধীর আদর্শে চলেন। দেখাও করেছেন রাহুল গান্ধীর সঙ্গে। শুরু করেছেন, কংগ্রেসের জন্য নবীন সদস্য সংগ্রহের কাজ। আনোয়ার এখন গোরক্ষপুরের কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে নরেন্দ্র মোদির চা ছিল আলোচনায়। ‘চাওয়ালা মোদি’ হিসেবে প্রচার চলে তাঁর। ওই নির্বাচনে বসে থাকেননি আনোয়ারও। এলাকায় বিনা মূল্যে দুধ বিতরণ শুরু করেন। নাম দেন ‘রাহুল দুধ’।

শুধু কি তা–ই? ২০১৫ সালে আনোয়ার রাহুল গান্ধীকে কংগ্রেসের সভাপতি করার জন্য নিজের রক্ত দিয়ে আবেদন লিখে পাঠান কংগ্রেস হাইকমান্ডে। এই খবর তখন গোটা দেশে সাড়া ফেলেছিল। গত বছর নভেম্বরে নোট বাতিলের পর মানুষ যখন টাকার জন্য ব্যাংকে লাইন দিয়েছিল, তখন আনোয়ার লাইনে লাইনে ঘুরে বিনা পয়সায় চা খাইয়েছিলেন। সেই চায়ের নামও ছিল ‘রাহুল হারবাল চা’। পেঁয়াজের দাম যখন বেড়ে গেল, তখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাঁচ রুপিতে বিক্রি করেন আনোয়ার। আর সেই পেঁয়াজের নাম দেন ‘রাহুল পেঁয়াজ’। উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটারদের হাতে আনোয়ার তুলে দিয়েছিলেন গোলাপ। নাম দিয়েছিলেন ‘রাহুল গোলাপ’।

নিজের বাড়িও সাজিয়েছেন রাহুলের ছবি দিয়ে। বাড়িতেই গড়েছেন রাহুলের ছবির গ্যালারি। এমনকি চা-কফি পানের মগেও দিয়েছেন রাহুল গান্ধীর ছবি। আনোয়ারের শয়নে–স্বপনে শুধু রাহুল গান্ধী।

আনোয়ারের প্রিয় সেই রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি পদে গত শনিবার নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আনোয়ারের আনন্দের সীমা নেই। এবার আনোয়ার নতুন কিছু করবেন। কিন্তু সেটা কী, তা এখনো জানাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *