রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের বৈঠক ২৭ সেপ্টেম্বর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন আলোচনা করবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়ে এই বৈঠক করবেন। এর আগে গত জুনে মাহমুদ আলী যখন চীন সফর করেছিলেন তখন এই তিন দেশ বেইজিংয়ে একই ধরনের বৈঠক করেছিল।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চীন এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ দেশটি চায় রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান হোক এবং প্রত্যাবাসন যেকোনো পরিস্থিতিতে শুরু হোক। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। দেশটি সবসময় বলেছে এই সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করার জন্য। তারা রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব না হওয়ার জন্য বলেছে।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন, র্যাডিকালাইজেশন বা রাখাইনে সামাজিক অসমতা কোনও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয় বরং আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়। কারণ এর প্রভাব গোটা অঞ্চল বা বিশ্বের ওপর পড়তে পারে।’
মিয়ানমারের মিলিটারি গণহত্যার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে বলে জাতিসংঘ রিপোর্ট দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের উদ্বেগ জানাবে এবং এক্ষেত্রে রাখাইন ব্যতিক্রম নয় বলে তিনি মনে করেন। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চীন মিয়ারমারকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে কারণ সেখানে বেইজিংয়ের অনেক বড় স্বার্থ রয়েছে।’
একই মত পোষণ করেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘রাখাইন থেকে কুনমিং পর্যন্ত বেইজিং ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার গ্যাস ও তেল পাইপলাইন নির্মাণ করেছে।’
শুধু তাই না, মিয়ানমারে ৬ হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার জন্য চীন তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে রাজি হয়েছিল কিন্তু ২০১০ সালে মিয়ানমার সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। রাখাইন সংকট শুরু হওয়ার পরে মিয়ানমার আবার এই প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগে রাজি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘বেইজিং ঢাকার বন্ধু, উন্নয়ন অংশীদার এবং অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন মিয়ারমারের পক্ষ নিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের মিলিটারি রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করলে হাজার রোহিঙ্গা নিহত বা নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *