মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের লাখ লাখ ই-মেইল চালাচালি হয়েছিল। সেই ই-মেইলের নথি এখন রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট ম্যুয়েলারের হাতে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ খবর বেরিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো ইতিমধ্যেই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

‘ট্রাম্প ফর আমেরিকা’ নামের ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের আইনজীবী কোরি ল্যাংহোফার অভিযোগ করেছেন, আইনবহির্ভূতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এই ই-মেইলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এভাবে ব্যক্তিগত ই-মেইল হাতিয়ে নেওয়ায় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফর আমেরিকা গ্রুপটি ট্রাম্পের নির্বাচন থেকে তাঁর অভিষেক পর্যন্ত নিজেদের কাজের জন্য সরকারি সংস্থা জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (জিএসএ) ব্যবহার করেছিল। জিএসএ গত গ্রীষ্মে এই লাখ লাখ ই-মেইল তদন্ত ম্যুয়েলারের তদন্ত দলের হাতে তুলে দিয়েছে।

কোরি লংহোফার তাঁর চিঠিতে বলেছেন, ট্রাম্প ফর আমেরিকা গ্রুপের সঙ্গে জিএসএর চুক্তি ছিল তারা ই-মেইল তৃতীয় কারও কাছে তুলে দেবে না, কিংবা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না। কিন্তু সরকারি সংস্থাটি সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে তা ম্যুয়েলারের হাতে দিয়েছে।

তবে সাবেক কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি রেনাটো মারিওট্টির মতো অনেকেই বলছেন, এর মাধ্যমে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এভাবে তথ্য নেওয়ার নজির আছে।

আমেরিকান নিউজ ওয়েব সাইট অ্যাক্সিওস শনিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ ট্রাম্পের প্রচার দলের অন্তত ১২ জনের ই-মেইল ম্যুয়েলারের হাতে এসে গেছে।

বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা শিগগিরই ম্যুয়েলারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন এবং ট্রাম্পের প্রচার দলের সদস্যরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ই-মেইলগুলোর বিষয়বস্তু প্রকাশ পেলে ট্রাম্প আবারও একটি বড় ধরনের ধাক্কা খাবেন। নতুন করে বিতর্ক চাঙা হয়ে উঠবে।