সোমবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭, ৬:০৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকার সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক অধিকার সংহত করার জন্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বোস্টনভিত্তিক গবেষণামূলক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (আইএসডিআই) আয়োজনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

‘বাংলাদেশের টেকসই পোশাকশিল্পের স্বচ্ছতায় মাল্টি স্টেকহোল্ডার সমন্বয় ও উদ্যোগ’ শীর্ষক এ সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কমপ্লায়েন্সের জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়া যায়নি। কমপ্লায়েন্স ও ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাংলাদেশকে যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, প্রতিযোগী দেশগুলোকে সেই পরিমাণ চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

তবে সরকার পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর এটার আশার কথা বলে মন্তব্য করেন মসিউর রহমান।

সেমিনারে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জোয়েল রেইফম্যান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের লিয়ানা ফক্সভোগ বলেন, বাংলাদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আসার পর কয়েক বছর ধরে গার্মেন্টসে বড় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে বেশ কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ কমপ্লায়েন্ট হতে পারেনি।

টানা চতুর্থ বছরের মতো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্তর্জাতিক সেমিনার করছেন বলে জানান আয়োজক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ইকবাল ইউসুফ। এবারের আয়োজনে দিনব্যাপী পাঁচটি সেশনে ৩০ জন বক্তা বাংলাদেশ এবং বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নানা প্রতিকূলতা তুলে ধরেন। প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন। বরাবরের মতো এই সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপের আমদানিকারক, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও লেবার ডিপার্টমেন্ট, বিশ্বব্যাংক, শ্রমিক সংগঠক, গবেষক এবং শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন।