বুধবার, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮, ১১:১১ অপরাহ্ণ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধ দমনে গঠিত ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের সব প্রার্থীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে নির্বাচন আচরণবিধি ভঙ্গসহ নানা অপরাধের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ আসা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি নীরব রয়েছে। তদন্ত কমিটির বিচারকদের নির্বাচনি মাঠে সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। যেকোনও প্রার্থীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আজ বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচনি তদন্ত কমিটির বিচারকদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সিইসি বলেন, ‘যিনি আপনাদের কথা শুনবেন না, প্যানেল কোডের ১৯৩ ধারা মতে তাদের ৭ বছরের জেল হবে, যদি মিথ্যা তথ্য দেয় এবং আপনাদের আদেশ না মানে, প্যানেল কোডের ২২৮ ধারা অনুসারে তাদের বিচার হবে। তার মানে হলো ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর ১৯০৮’-এর সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান করবেন। এটা আপনাদের প্রকৃত, যেটা আপনাদের চেম্বারে নয়, মাঠে। সমস্যার মুখোমুখি, প্রার্থীদের মুখোমুখি, আরচণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি, আপনাদের ওপরে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এটা অন্যরকম পরিবেশ বা অন্যরকম দায়িত্ব আপনাদের ওপরে অর্পিত হয়েছে। এটাকে আপনাদের ভালোভাবে দেখভাল করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভিজিবল (দৃশ্যমান) হতে হবে। তার মানে আপনারা এখন পর্যন্ত কিন্তু ভিজিবল হননি। বাস্তবতা হলো সেটা। ভিজিবল যখন হবেন, আপনাদের কাজের মাধ্যমে যখন আস্থা রাখবে, আপনাদের যখন চিনবে, তখন থেকে আপনাদের ওপরে দায়িত্ব আসবে। তখন আর আমাদের ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসবে না। আমরা প্রত্যেক দিন শত শত অভিযোগ পাই। কিন্তু অভিযোগগুলো আমাদের কাছে আসার কথা না। কারণ, আপনারা সেখানে (মাঠ পর্যায়ে) রয়েছেন। আমরা কী করবো? অভিযোগগুলো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দেবো। প্রয়োজন ছিল অভিযোগগুলো সরাসরি আপনাদের কাছে যাবে। ’
সিইসি আরও বলেন, ‘২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল, আমরা আশা করেছিলাম প্রত্যেকটি কমিটি অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করবে। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল, ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তাও হয়নি। কারণ, সেটাই, এ পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি। আজ থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কী করণীয়, দায়িত্ব এবং কীভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনে শুনে ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদের রিলিফ দেবেন, যাতে তারা যাদের জায়গায় বসে, এলাকায় থেকে, ঢাকা পর্যন্ত না এসে আপনাদের কাছ থেকে, পাশে থেকে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন।’
কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে একপক্ষের আধিপত্য বিস্তার কার্যকর হয় না। নির্বাচন আইনানুগ না হলে সে নির্বাচন কালো নির্বাচন, কমিশন একটি সাদা স্বচ্ছ নির্বাচন করতে চায়।’
কবিতা খানম বলেন, ‘আইনের কোনও ব্যত্যয় যেন না ঘটে, কারও প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না।’
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সাহসিকতার সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে ভয়ভীতি ও চাপ উপেক্ষা করতে হবে।