সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে চাঁদপুরের বিদায়ী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম

নিউজ মিডিয়া ২৪: আজ আমি চাঁদপুরের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একেবারে সবটুকু উজাড় করে দিলাম এই বিদায়ী ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে ভালোবাসার নিদর্শন ফুলেল শুভেচ্ছা আমি এ জেলার প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌছে দিলাম। আমি চাঁদপুরের মানুষগুলোকে কখনো কোনোদিন ভুলতে পারবো না। আমার প্রত্যেকটি কাজে এ মানুষগুলোর যে কী অসম্ভব সহযোগিতা পেয়েছি, তা কোনোদিন ভুলার মতো নয়। আমি তো আমার চাকুরির জন্যে, আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জন্যে করেছি। কিন্তু আপনারা সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষগুলো যে আমার ওইসব কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন, সেটি তো আপনারা না করলেও পারতেন। আপনারা সেটি করেছেন, তা সম্পূর্ণ সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে। সুতরাং আমার যতটুকু সফলতা, এর সম্পূর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার তো আপনারা। আপনারা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যদি আমাকে সার্বিক দিক দিয়ে সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন না করতেন তাহলে তো আমি অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জিং কাজে সফল হতাম না। চাঁদপুরে সড়কে ট্রাক্টর নামক যন্ত্রদানব চলাচল বন্ধের ব্যাপারে আপনারা আমাকে বাহ্বা দিচ্ছেন কিন্তু আমি বলবো-এর সফলতা আপনাদের। কারণ, আপনারা না বললে, পত্রিকায় তুলে না ধরলে তো আমি এ বিষয়ে জানতামই না।’

এভাবেই নিজের সকল অর্জন এবং সফলতার জন্যে চাঁদপুর জেলাবাসীর কৃতিত্বের কথা নিঃসঙ্কোচিত্তে বললেন চাঁদপুর জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। বদলিজনিত বিদায়লগ্নে চাঁদপুরে তাঁর সর্বশেষ কর্মদিবসের দিন গতকাল ১২ আগস্ট চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এভাবেই চাঁদপুর এবং চাঁদপুরের মানুষগুলোকে নিয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ মতবিনিময় সভাকালে ১৬ জন সাংবাদিকের বক্তৃতার সময় এবং পুলিশ সুপার নিজের বক্তৃতার সময় বেশ ক’বার তিনি আবেগতাড়িত হয়ে যান, অশ্রুসিক্ত হন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার যেনো নিজের আপনজনদের ছেড়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালের ১২ জুন চাঁদপুর জেলায় যোগদান করেন আর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট বিদায় নিলেন। তিন বছর দুই মাস এ জেলায় দায়িত্বপালনকালে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার কী কী জনহিতকর কাজ করেছেন তাঁকে সুদীর্ঘকাল মনে রাখার মতো, তারও সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ১৬ জন সাংবাদিক তাঁদের বক্তৃতায়। বিশেষ করে সড়কে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করা, মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, তাঁর কার্যালয়ে নারী ও শিশু সহায়তা সেল খুলে অনেক অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানো এবং পুরো জেলাবাসী মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদ বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করা ইত্যাদি নানা জনকল্যাণকর উদ্যোগের কথা সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। এসব প্রসঙ্গ তুলে ধরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত তাঁর বক্তৃতায় বলেন, কথা রেখে যেতে পারা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব, যেটি আপনি পেরেছেন। আর আমরা আপনার মাঝে সৃষ্টিশীলতা খুঁজে পেয়েছি। নারীর সীমাবদ্ধতাও আপনি অতিক্রম করতে পেরেছেন। আর চাঁদপুর আপনার চাকুরিজীবনে এ জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে যে, এ জেলায় থাকতেই আপনি পিপিএম পদক পেয়েছেন, পর পর দু’বার পুলিশের জাতীয় প্যারেডে নেতৃত্বে দিয়েছেন।

এসব কিছু কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বিদায়ী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার আবারো বলেন, এ জন্যই তো বলছি, চাঁদপুরকে আমি ভুলতে পারবো না। তিনি বলেন, আমি মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করার সুযোগ এ জেলা থেকেই পেয়েছি। পুলিশ সুপার হিসেবে আমার চাকুরি চাঁদপুরই প্রথম। আমি চেষ্টা করেছি জনবান্ধব পুলিশিংয়ের জন্যে। শুরুতে আমি পুলিশের সাথে মানুষের যে একটা দূরত্ব রয়েছে এবং ভুল ধারণা রয়েছে সেটি ঘুচাতে। ইনশাআল্লাহ্ আমি তাতে শতভাগ না হলেও অনেকটা সফল হয়েছি। মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো জেলায় এ টুর্নামেন্টে ১ হাজার ৪শ’ ৭১টি ম্যাচ হয়েছে। ২ হাজার ২শ’ ৫০ জন খেলোয়াড় এসব ম্যাচে খেলেছে। এই টুর্নামেন্ট যেনো অব্যাহত থাকে, আর আপনারা চাইলে অবশ্যই থাকবে। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ জনকে তৈরি করতে পেরেছি। এখন এদেরকে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং এবং পুলিশ সুপারও সাংবাদিকদের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দিয়ে পুরো জেলাবাসীকে এ শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া ইনার হুইল ক্লাবের পক্ষ থেকেও পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর সভাপ্রধানে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মির্জা জাকির, সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, শহীদ পাটোয়ারী, বিএম হান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, জিএম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, সাংগঠনিক সম্পাদক আলম পলাশ, প্রচার সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, লাইব্রেরি সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন লিটন, সদস্য শাহাদাত হোসেন শান্ত ও আজীবন সদস্য তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী। এছাড়া অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের স্বামী মোঃ হেলাল উদ্দিন, নারী নেত্রী অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম ও নাঈমা মোশারফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *