সুনীতি ও সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ জরুরি

চাল, পেঁয়াজসহ কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বহুলাংশে বজায় থাকাটা প্রমাণ দিচ্ছে যে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ খুব কার্যকর নয়। আমন ধানের বাম্পার ফলন একটা বড় সুখবর এনে দিলেও সরকারের শিথিল বাজার ব্যবস্থাপনা ভোক্তাজীবনে খুব স্বস্তি বয়ে আনছে না।

সরকারের তরফ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে সম্ভবত ভুল সংকেত যাচ্ছে। বিশেষ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লক্ষ করছেন, দাম নিয়ন্ত্রণের সরকারি পদক্ষেপগুলো তেমন কোনো কাজ দিচ্ছে না। যেমন সরকারের অজানা ছিল না যে সরকারি গুদামে যদি চালের মজুত কম থাকে, তাহলে সেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারেন। যেখানে ১০ থেকে ১২ লাখ টন চাল মজুত থাকার কথা, সেখানে তা ২ লাখ টনে নেমে আসার আগ পর্যন্ত সরকারকে নির্বিকার থাকতে দেখা গেছে। আবার চালের আমদানি শুল্ক অনেক আগেই কমানো দরকার ছিল। সম্প্রতি যখন শুল্ক কমানো হলো তখন ভারত রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দিল। তাই সুফল মিলল না। আবার পেঁয়াজের ঝাঁজও ভোক্তাদের অস্বস্তিতে রাখছে। ৫ থেকে ৬ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতির দেশকে উদ্বৃত্তের দেশে সহজেই পরিণত করা সম্ভব। এ জন্য দরকার উপযুক্ত নীতি ও ভর্তুকি, কিন্তু সে রকম কোনো তোড়জোড় চোখে পড়ে না।

জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে ব্যাপক সুফল যে মানুষ পেতে পারে, সরকার যেন তা কানেই তুলতে চাইছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলে ভর্তুকি এখন শুধু একেবারেই বন্ধ তা নয়, তারা অতীতে এই খাতে যত ভর্তুকি দিয়েছিল, তা এখন কড়ায়-গন্ডায় উশুল করে নিচ্ছে। অথচ শুধু জ্বালানি তেলের দাম কমালে তার ভালো প্রভাব বহুমুখী হতে পারে। এমনকি ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব দাবি করেছে যে যদি জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়, তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয় না। বাজার স্থিতিশীল থাকতেও তা খুব সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সরকার সেদিকে হাঁটতে নারাজ। বিদ্যুতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে না, কারণ উৎপাদনকারীদের তারা ঋণ দিচ্ছে। আর এই ঋণ শুধু নয়, তার সুদের টাকাও চাপানো হচ্ছে ভোক্তাদের ওপর। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উচিত হবে সরকারের নীতিনির্ধারণী বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা।

বাজারের ওপর সরকারের সময়োপযোগী নীতি (ভর্তুকিসহ) ও সে অনুযায়ী হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ডজন দেড়েক পণ্যের সরবরাহ ও দাম সার্বক্ষণিকভাবে তদারক করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সেল থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *