‘নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইনসহ বাজেটের কিছু অংশ নিয়ে আমরা আতঙ্কিত। জনগণের মধ্যে আশঙ্কা—নতুন ভ্যাট আইনের কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। আবগারি শুল্ক নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।’

গতকাল সোমবার পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি অবশ্য আরও বলেন, ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশ্বাস করি, বাজেটের যেসব জায়গায় বিতর্ক আছে, তা থাকবে না।’

শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছর থেকে বাজেট ঘোষণার পর তা বিশ্লেষণ করে উপস্থাপন করবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

নতুন ভ্যাট আইনকে কেন্দ্র অনেক জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে—সাংবাদিকেরা এই বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ দেশে চাঁদ উঠলেও দাম বাড়ে আবার চাঁদ ডুবলেও দাম বাড়ে। নতুন ভ্যাট আইন মূল্যবৃদ্ধির উপলক্ষ বলে তিনি স্বীকার করেন।

চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাজারে চালের ঘাটতি নেই। মিলারদের কাছে চাল আছে। তাঁদের কাছ থেকে চাল আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরবরাহ পর্যায়ে কিছু সমস্যা আছে। হাওর এলাকায় সময়ের আগেই বন্যা হয়েছে। বৃষ্টির কারণেও রাস্তাঘাটে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এটি একটি অস্বাভাবিক সময় চলছে। চাহিদার যে চাল ঘাটতি আছে, তা আমদানি করে মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে ৫২ হাজার টন চাল বন্দর থেকে খালাস হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এত দিন স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকার কারণে চাল আমদানিতে শুল্ক আরোপ আছে। এখন আমদানির স্বার্থে এই শুল্ক তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। আশা করি, চালের দাম সহনীয় রাখতে সরকার এই উদ্যোগ নেবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজানের ঘটনার কারণে দেশের মেগা প্রকল্পে কর্মরত সব বিদেশি নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। কয়েক মাস আগে থেকে তাঁরা ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশিরা চলে যাওয়ায় ওই মেগা প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজেটে ওই সব প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও খরচ করতে পারেননি। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

গত শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বাজেট সংলাপ অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মেগা প্রকল্প নিয়ে বক্তব্যে সমালোচনা করেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘তিনি (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী) বলেছেন, আট হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প ২৮ হাজার কোটি টাকা হয়ে যায়। আমরা ছোট প্রকল্প নিই না। বর্তমান সরকারের আমলে প্রতিবছর এডিপিতে ১ হাজার ২০০ প্রকল্প থাকে। এডিপিতে মাত্র ১০টি মেগা প্রকল্প; বাকিগুলোর মধ্যে অসংখ্য ছোট প্রকল্প আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের (বিএনপি) সময়ে এক কিলোমিটারও চার লেন সড়ক হয়নি। বাংলাদেশ এখন বড় বড় ক্রিকেট দলকে হারায়। তাদের সময়ে ক্রিকেট খেলায় আমরা কাউকে হারাতে পারিনি।’

এই সময়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল জয়লাভ করেছিল। তখন পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ওই ম্যাচটি আমি জেলে বসে দেখেছিলাম। তার মানে, ওই ম্যাচটি তাদের সময়ে নয়; সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে (তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল না)। তাদের (বিএনপি) সময়ে কোনো খেলায় আমরা জিততে পেরেছি কি না, তা খুঁজে দেখতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে (বিবিএস) বলব।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনাসচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য শামসুল আলম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.