‘রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য সৃষ্টির দায়িত্ব ইসির নয়’—প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আপনি কাদের নিয়ে নির্বাচন করবেন?

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, আইনে কি আছে না আছে বড় কথা নয়; বাস্তবতা আপনাকে দেখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচন করবেন। তারা যদি মনে করে, নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই, তাহলে আপনি কোন নির্বাচন করবেন? ওই রকিবমার্কা নির্বাচন করবেন ২০১৪ সালের মতো, সেটা হবে না।’

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব কথা বলেন। ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এর আগে তিনি নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সংক্ষুব্ধ হয়েছে ভালো কথা। আইনের বিধান বলছে, যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হয়, তাহলে রিভিউ করতে পারে। সেখানে না গিয়ে আজ তারা দেশের মানুষের কাছে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিচ্ছে যে জোর করে হলেও এটার ওপর প্রভাব বিস্তার করবে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘না হলে এই রায়ের পরে সরকারি দল ও সরকারের মন্ত্রী কী করে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান? তারপরেই আমরা দেখলাম রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল গেলেন। প্রকাশ্যে তাঁরা বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করতে শুরু করেছেন। এ কারণে গোটা জাতি আজ উদ্বিগ্ন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা আমাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বা লেখাপড়া শিখে যতটুকু দেখেছি, কখনো এ ঘটনা দেখিনি যে একটি অসামরিক ব্যবস্থাপনায় বিচার বিভাগের ওপরে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা যেতে পারে। কোথায় বাস করছি, কোন দেশে বাস করছি আমরা।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে। এখন তারা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানে হাত দিয়েছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যে তিনটি মূল স্তম্ভ—পার্লামেন্ট, এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়ারি। দুটি খেয়েছে। এখন তারা জুডিশিয়ারির ওপর হাত দিয়েছে।

বিচারপতি খায়রুল হকের প্রসঙ্গে টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি ছিলেন। তিনি এ দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন। তাঁর ত্রয়োদশ সংশোধনী রায়ের পূর্বে পঞ্চম সংশোধনীর রায় দিলেন, সেই রায়ের বদৌলতে আজ এই দেশ অস্থিতিশীল, এত অনিশ্চয়তা, এত সহিংসতার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে, এই ষোড়শ সংশোধনীর মূল রূপকার তিনি। সরকার যে এটা পাস করিয়েছে, তার মূল রূপকার তিনি। তাহলে আজ জনগণের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এই বিচারপতি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার কাছে একটা জিনিস মনে হচ্ছে, সরকার এখন ইচ্ছা করেই একটা সহিংস অবস্থা তৈরি করতে চাইছে, সরকার এখন নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ দেশের একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্ট করতে চাইছে।’

এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, এলডিপির যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.