ছবিতে মহিউদ্দিনের কুলখানির পদদলন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানির মেজবানিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। নগরের রিমা কমিউনিটি সেন্টারে দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুপুরে ছবিগুলো ক্যামেরাবন্দী করেছেন জুয়েল শীল।


পদদলনে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।


হুড়োহুড়িতে জুতা রেখে যে যার মতো প্রাণ বাঁচাতে ছুটেছেন। এভাবে পড়ে আছে জুতাগুলো।


দুর্ঘটনার খবর শুনে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি উপলক্ষে মেজবানের আয়োজন করা হয়। দুর্ঘটনার আগে রিমা কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে মানুষের ভিড়।


দুর্ঘটনার পর ভয়-আতঙ্কে এক শিশুর কান্না।


 

শাহাদুজ্জামানের প্রিয় জীবনানন্দ দাশ, ছেলের প্যাট্রিক নেস

শাহাদুজ্জামান, কথাসাহিত্যিক। তাঁর বড় ছেলে নিয়র জামান, পড়াশোনা করছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেন্টে। আজ থাকছে বাবা-ছেলের পছন্দ-অপছন্দের কথা

১. প্রিয় খাবার কোনগুলো?

শাহাদুজ্জামান: খিচুড়ি, বেগুন ভাজা আর থাই খাবার।

ছেলে: নাচোজ, পাস্তা, আলুর দম।

২. প্রিয় রং?

শাহাদুজ্জামান: বাদামি।

ছেলে: লাল।

৩. যে জায়গায় বারবার বেড়াতে যেতে চাই…

শাহাদুজ্জামান: ভিয়েতনামের রাজধানী হানয় আর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম।

ছেলে: ক্রোয়েশিয়া আর স্পেনের মাদ্রিদ।

৪. প্রিয় লেখক যাঁরা…

শাহাদুজ্জামান: জীবনানন্দ দাশ, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, দস্তয়ভস্কি।

ছেলে: প্যাট্রিক নেস, স্টিভেন চাবোস্কি, জন গ্রিন।

৫. নিজেকে বদলে দিয়েছে যে বই…

শাহাদুজ্জামান: কোনো একটা বিশেষ বই তো নেই যা নিজেকে বদলে দিয়েছে। কাজান যাকিসের লেটার টু এল গ্রেকো বা দীপেশ চট্টোপাধ্যায়ের প্রভিন্সিয়ালাইজিং ইউরোপ-এর কথা হয়তো বলা যায়।

ছেলে: ডেনিয়েল কিইজের ফ্লাওয়ারস ফর আলগারনন।

৬. যে সিনেমা মুগ্ধ করে বারবার…

শাহাদুজ্জামান: কোনো একটা ছবির নাম বলা মুশকিল। ঝাং ইয়ামুর রেইজ দ্য রেড ল্যানটার্ন বা আসগার ফারাদির সেপারেশন-এর নাম বলা যায়।

ছেলে: সিটি অব গড।

৭. প্রিয় গায়ক-গায়িকা কারা?

শাহাদুজ্জামান: মান্না দে, কিশোর কুমার, শচীন দেববর্মন।

ছেলে: ট্রেভিস স্কট, লিল উজিভারট।

৮. পরস্পরের কোন বিষয়টি ভালো লাগে?

শাহাদুজ্জামান: নিয়রের চমৎকার সেন্স অব হিউমার।

ছেলে: যেকোনো ব্যাপারে বাবার অন্যকে সহযোগিতা করার মনোভাব।

৯. পরস্পরের যেদিকটি বদলালে ভালো লাগবে?

শাহাদুজ্জামান: নিয়র ছুটিতে বাড়িতে এসে লম্বা সময় ঘুমায়। সে সময়টায় ছোট ভাইকে সঙ্গ দিলে খুশি হব।

ছেলে: আমাকে খুশি করার জন্য বাবার বদলানোর দরকার কী? বদল তো নিজের ভেতরের ব্যাপার।

সাক্ষাৎকার: আলতাফ শাহনেওয়াজ

জাতীয় সংগীত গাইতে হবে নিয়ম মেনে

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি…’—আমাদের জাতীয় সংগীত। আমাদের এক অস্তিত্বের নাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ২৫ লাইনের এই গানের ১০ লাইনকে জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংগীত গাওয়ার কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে। দেশে জাতীয় সংগীত বিধিমালা রয়েছে। ১৯৭৮ সালে এ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ বিধিমালা মেনেই জাতীয় সংগীত গাইতে হবে।

জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম

জাতীয় সংগীতের পুরোটা সব অনুষ্ঠানে গাওয়ার নিয়ম নেই। বিভিন্ন জাতীয় দিবস, যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের শুরুতে ও শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণ সংগীত বাজাতে হবে। তবে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের প্যারেড অনুষ্ঠানে দুই লাইন শুরুতে বাজানোর নিয়ম রয়েছে। সব বিদ্যালয়ের দিনের কার্যক্রম জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু করতে হবে। বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের আগে শুধু চার লাইন গাইলে হবে না। গাইতে হবে পুরো জাতীয় সংগীত। রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্যে সংসদ ভবনে প্রবেশ করার শুরুতে ও শেষে পূর্ণ জাতীয় সংগীত বাজাতে হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ যখন জাতির উদ্দেশে সম্প্রচার করা হয়, তখন সম্প্রচারের শুরু ও শেষে দুই লাইন বাজাতে হবে। রাষ্ট্রপতি যখন কোনো প্যারেডে সালাম গ্রহণ করেন, তখনো দুই লাইন বাজাতে হয়। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতি যদি কোনো অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হন বা কোনো অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অথবা প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন, তাহলে এসব ক্ষেত্রে তাঁদের আগমন ও প্রস্থানের সময় দুই লাইন জাতীয় সংগীত বাজানোর নিয়ম রয়েছে। বিদেশি কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান তাঁর রাষ্ট্রীয় বা সরকারি সফরে বাংলাদেশে এলে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করার আগে জাতীয় সংগীতের প্রথম দুই লাইন বাজাতে হবে। এ ছাড়া কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা সমমর্যাদার কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি যখন রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণ করেন, তখন দুই লাইন বাজাতে হবে। সিনেমা হলে সিনেমা প্রদর্শনের আগে দুই লাইন বাজাতে হবে। রেডিও এবং টেলিভিশনের প্রতিদিনের কার্যক্রমের শেষেও দুই লাইন বাজানোর কথা বলা হয়েছে।

গাওয়ার সময় যা করতে হয়

জাতীয় সংগীত কোনোভাবেই ভুল গাওয়া যাবে না। একদম সঠিক উচ্চারণে এবং সুরে শুদ্ধ করে গাইতে হবে এবং গাওয়ার সময় এর প্রতি যথাযথ সম্মানও দেখাতে হবে। যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয় ও জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়, তখন উপস্থিত সবাইকে জাতীয় পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে। যখন পতাকা প্রদর্শন না করা হয়, তখন সবাইকে বাদক দলের দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে এবং কারও মাথায় টুপি থাকলে খুলে ফেলতে হবে। অনেককেই বুকে হাত রেখে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়। এটি আসলে সঠিক নয়। জাতীয় সংগীত গাইতে হবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে। সাধারণ নাগরিকদের বাইরে ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষাÿবাহিনীর জন্য জাতীয় সংগীত গাওয়ার নিয়ম পৃথকভাবে বলা হয়েছে।

লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

দেশি নাকি হাইব্রিড বরই

কুল বা বরই—দুই নামে পরিচিত ফলটি। দুই নামের পাশাপাশি আমাদের দেশে দুই জাতের বরই পাওয়া যায়। একটি দেশি, আরেকটি হাইব্রিড। কাঁচা ও পাকা দুই রকমের বরই খাওয়া হয়। স্বাদ টক ও কাঁচা-মিঠাজাতীয়।

দেশি ও হাইব্রিড এবং কাঁচা ও পাকা—সব রকম বরই পুষ্টিতে ভরপুর। ঢাকার বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ও প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ জানালেন দুই ধরনের বরইয়ের গুণাগুণ।

দেশি বরই

দেশি বরইয়ে ভিটামিন সির পরিমাণ বেশি। ভিটামিন সি বেশি থাকার কারণে সংক্রমণজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে। দেশি বরইয়ে প্রচুর পরিমাণ রস থাকে। বরইয়ের রসকে অ্যান্টিক্যানসার হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ফলের রয়েছে ক্যানসার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার অসাধারণ ক্ষমতা। দেশি বরই স্বাদে তুলনামূলক টক। টক বেশি হওয়ার কারণে এতে ক্যালরি ও ফাইবার বেশি। ক্যালরি ও ফাইবার থাকার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। তবে দেশি বরই বেশি খেলে অ্যাজমা ও কাশি হতে পারে। শুকনো বরই রক্ত পরিশুদ্ধ করে। এটি হজম প্রক্রিয়ার সহায়ক। বরইতে ফ্যাট নেই বললেই চলে। ২ আউন্স (প্রায় ৪টি) বরই শরীরে ৪৪ ক্যালরি শক্তি জোগান দেয়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে। বরইয়ের খাদ্যশক্তি শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে সহায়তা করে। ডায়রিয়া, মোটা হয়ে যাওয়া, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি রোগ খুব দ্রুত সারিয়ে তোলে এই ফল।

হাইব্রিড বরই

হাইব্রিড বরই খেতে খুব সুস্বাদু। বেশি ভাগ মানুষ এ জাতের বরই পছন্দ করে। হাইব্রিড বরইয়ে চিনির পরিমাণ বেশি। চিনি বেশি থাকার কারণে শরীরের বেশ কিছু উপকার হয়। এই বরই বেশি খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। ক্ষুধা নিবারণের জন্যও হাইব্রিড বরই খেতে পারেন। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদিসহ আরও অনেক ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে এ বরইয়ে। ফলে হাড় শক্ত ও মজবুত করতে সাহায্য করে। আয়রন ও ফসফরাস শরীরে রক্ত উৎপাদন এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া বাড়ায়। এই বরইয়ে ভিটামিন এ থাকায় চোখের যত্নে দারুণভাবে কাজ করে। দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী করতে বরইয়ের জুড়ি নেই।

গ্রন্থনা: তারিকুর রহমান খান

গেমের জন্য স্যামসাংয়ের গোপন স্মার্টফোন

স্মার্টফোনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছর থেকেই স্মার্টফোনে গেমের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে। স্মার্টফোন নির্মাতারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। গেম খেলার সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোনে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। এর কারণ? অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে নতুন গেমারদের যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগানো। নতুন নকশার ভাঁজ করা স্মার্টফোন ঘিরে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা।

সম্প্রতি স্যামসাংয়ের নতুন নকশার স্মার্টফোনের পেটেন্ট প্রকাশিত হয়েছে। ওই পেটেন্টের শিরোনাম হচ্ছে ‘মোবাইল ডিভাইস উইথ টাচস্ক্রিন অ্যান্ড মেথড অব কন্ট্রোলিং দ্য সেম’। ওই পেটেন্টের বর্ণনায় বলা হয়েছে, নতুন ভাঁজ করা স্মার্টফোন বইয়ের মতো খোলা ও বন্ধ করা যাবে। এ ছাড়া স্মার্টফোনের দুটি অংশ ৩৬০ ডিগ্রি বাঁকা করার সুবিধা থাকবে। দুটি পৃথক স্ক্রিনের তৈরি স্মার্টফোনটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এই দুটি স্ক্রিন পৃথকভাবে ব্যবহার করা যাবে, আবার চাইলে ট্যাবলেট বা ডেস্কটপের মতো একটি স্ক্রিন হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

নতুন এই স্মার্টফোনটিতে মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও গেম খেলার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। একটি স্ক্রিনকে ডিসপ্লে হিসেবে ব্যবহার ও আরেকটিকে টাচ কন্ট্রোলার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

বর্তমানে স্যামসাংয়ের শুধু গেমের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডিভাইস নেই। মোবাইল গেমিং ডিভাইস হিসেবে গ্যালাক্সি এস সিরিজের স্মার্টফোনের কথা প্রচার করে প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য পেটেন্ট করলেই যে সে স্মার্টফোন বাস্তবে আলোর মুখ দেখে তা কিন্তু নয়। তবে মোবাইল গেমিংয়ের ওপর জোর দেওয়া শুরু করেছে স্মার্টফোন নির্মাতা। গেমিং যন্ত্রাংশ নির্মাতা রেজার সম্প্রতি গেমের জন্য বিশেষ স্মার্টফোন বাজারে ছেড়েছে। স্যামসাংও এ খাতটি পরীক্ষা করে দেখতে চাইছে। তথ্যসূত্র : ফোর্বস অনলাইন।

বাসের জন্য অ্যাপ আনল বিআরটিসি

বাসের জন্য ‘কত দূর’ নামের একটি অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন-বিআরটিসি ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ-ডিটিসিএ। তথ্যপ্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিজনেস অটোমেশন লিমিটেড ও আইডিয়েশন টেকনোলজি সল্যুশনস অ্যাপটি বিআরটিসির সহযোগী হিসেবে তৈরি করেছে।

আজ রোববার গাবতলীতে বিআরটিসি নতুন বাস ডিপোতে অ্যাপটির উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ডিটিসির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আহম্মদ, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভুঁইয়া।

বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকার গণপরিবহন–ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ডিজিটাল যুগে পা রাখল বিআরটিসি। গণপরিবহন নিয়ে যাত্রীদের দুশ্চিন্তা দূর করতে ‘কত দূর’ অ্যাপটি চালু করল বিআরটিসি। ঢাকার নবীনগর–গাবতলী পথে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে। এর আগে আবদুল্লাহপুর-মতিঝিল এবং নবীনগর–মতিঝিল পথে অ্যাপটি পরীক্ষা করে সফলতা এসেছে।
বিজনেস অটোমেশন লিমিটেডের এন্টারপ্রাইজ ব্যবসার প্রধান শাহেদ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, নবীনগর-গাবতলী পথে নতুন ১০টি বাস চালু করবে বিটিআরসি। ওই বাসগুলোর পাশাপাশি ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে মতিঝিলগামী বিআরটিসির বাসে পরীক্ষামূলকভাবে অ্যাপের মাধ্যমে সেবা শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এ অ্যাপের সেবা ঢাকার অন্যান্য পথেও বাড়ানো হবে।

অ্যাপে কী সুবিধা পাওয়া যাবে? এ প্রশ্নের জবাবে শাহেদ ইকবাল জানান, এটি ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার যাত্রীদের জন্য। বাসের বর্তমান অবস্থান, পথ, স্টপেজ, ভিড়, আসন–সংক্রান্ত দরকারি ফিচার আছে। ‘কত দূর’ অ্যাপ দিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে ইচ্ছুক যাত্রীরা পরবর্তী বাসের যাত্রীসংখ্যা, গন্তব্যে পৌঁছাতে সম্ভাব্য সময় বা যানজটের খবর জানতে পারবেন। সামনের বা পেছনের কোন স্টপেজে গেলে বাসে সিট পেতে পারেন, সে সম্পর্কে ধারণা দেবে। এর ফলে যাত্রীরা ইচ্ছা করলে পরবর্তী বা আগের কোনো স্টপেজ থেকেও সিট নিয়ে বাসে উঠতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকার গণপরিবহন–ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ডিজিটালাইজেশনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবিষ্যতে বিআরটিসির অন্যান্য পথ ও বাসে প্রযুক্তির নিত্যনতুন ব্যবহার যুক্ত হবে।

সামনে দুই ক্যামেরার স্মার্টফোন

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে সেলফির জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তাই স্মার্টফোন নির্মাতারা সেলফি ক্যামেরাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বাজারে আইটেল মোবাইল সেলফিকে গুরুত্ব দিয়ে এনেছে এস ১২ নামের একটি স্মার্টফোন। এর সামনে রয়েছে ডুয়াল বা দুটি সেলফি ক্যামেরা। একটি ক্যামেরা ৫ ও আরেকটি ২ মেগাপিক্সেলের। এর সঙ্গে রয়েছে ফেস বিউটি মোড। এতে সেলফি ভালো ওঠে। ফোনটির পেছনে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা।

ধাতব কাঠামোর স্মার্টফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সুবিধা আছে। অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ বা নুগাট অপারেটিং সিস্টেম চালিত ফোনটিতে পাঁচ ইঞ্চি মাপের ডিসপ্লে, ১ দশমিক ৩ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রসেসর, এক জিবি র‍্যাম ও ২৪০০এমএএইচ ব্যাটারি আছে। এর দাম ৬ হাজার ৭৯০ টাকা। এর সঙ্গে তিন মাসের বেশি রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিজ্ঞপ্তি।

বেশি করে ভিডিও দেখাবে ফেসবুক

নিউজফিডে বেশি করে ভিডিও দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেসবুক। এমনকি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও ভিডিওকে প্রাধান্য দেবে। গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিউজফিডে ভিডিও দেখানোর এ সিদ্ধান্ত জানায়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান পর্ব ধরে দেখানোর মাধ্যমে গুগলের ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ল ফেসবুক।

ফেসবুকের নিউজফিডে সাধারণ বন্ধু বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খবর পোস্ট আকারের দেখানো হয়। ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ থেকে ২১০ কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুক চালু করলে ওই নিউজ ফিড দেখতে পান। এ বিষয়টিই মূল্যবান অনলাইন সম্পদে পরিণত হয়েছে। জটিল এক র‍্যাঙ্কিং সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারী কোনো পোস্ট আগে দেখবে তা নির্ধারিত হয়। গত বছরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলেছিল, নিউজফিডে বন্ধু ও পরিবারের পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ফেসবুক বর্তমানে ভিডিওতে বিনিয়োগ করছে বেশি। গত আগস্ট মাসে ভিডিও সেবা ওয়াচ তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ভকস ও ডিসকভারি কমিউনিকেশনসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ওই ভিডিওতে দেখানো হয়। ইউটিউবের মতো ভিডিও নির্মাতাদের তৈরি ভিডিও এতে আপলোড করার সুবিধা দিতে ওয়াচ চালু হয়।

এখন নিউজফিডে হালনাগাদ আনার ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের লাইক দেওয়া পেজ ও সার্চ হিস্ট্রি অনুযায়ী অনুমান করে ভিডিও দেখাবে ফেসবুক। অনুষ্ঠানের আগের কোনো পর্ব দেখলে পরের পর্বগুলো চলে আসবে।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিভোটাল রিসার্চের গ্রুপের বিশ্লেষক ব্রায়ান উইজার বলেন, ফেসবুকের আয় দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারী বাড়ছে। তবে ফেসবুকে বেশিক্ষণ ব্যবহারকারীকে আটকে রাখতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে ভিডিও তাদের সুবিধা দেবে। ইউটিউবও দ্রুত বাড়ছে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীকে ভিডিও দেখার সময় বিরক্ত করতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি। ভিডিও যদি তিন মিনিটের কম হয়, তবে মাঝপথে কোনো বিজ্ঞাপন দেখাবে না। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরিতে উৎসাহী হবে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অনলাইন সেবাকেন্দ্র

দেশে ফ্রিল্যান্সিং বা মুক্ত পেশায় অনেকেই যুক্ত আছেন। অনেক সময় তাঁদের বিভিন্ন সহযোগিতার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু তাঁদের জন্য কোনো প্রচলিত সেবাকেন্দ্র নেই। এ সমস্যা সমাধান করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণদাতা ‘শিখবে সবাই’ চালু করেছে অনলাইন সেবাকেন্দ্র।

শিখবে সবাইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসার পর নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অনেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরেও সমস্যায় পড়লে সাহায্য পান না। প্রশিক্ষণ-পরবর্তী সময়ে কাজের সুবিধার্থে এখন অনলাইনে সহযোগিতা দিতে উদ্যোগ নিয়েছে শিখবে সবাই। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিনা মূল্যের এ অনলাইন সেবা চালু থাকবে।

‘শিখবে সবাই’-এর প্রধান নির্বাহী শাকিল মাহমুদ বলেন, অনেক ফ্রিল্যান্সার আছেন, যাঁরা নানা সমস্যায় পড়ে কাজ করতে পারেন না। একটু তথ্য ও সহযোগিতা তাঁদের কাজ শেষ করতে সাহায্য করতে পারে। দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে। কোনো কাজ বুঝতে না পারলে অথবা ঠিকমতো ক্লায়েন্টকে উপস্থাপন না করতে পারলে এই সহযোগিতা চাওয়া যাবে। নতুনরা যেকোনো তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারবেন। সাপোর্ট সেন্টারের ঠিকানা : http://support.shikhbeshobai.com

শীতার্তদের জন্য শিশুটির দান…

শীতার্ত মানুষের জন্য দরকার কম্বল। যাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, শীতে তারা অনেক কষ্ট পায়। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাশল্যান্ডের নয় বছর বয়সী মিকাহ ফ্রের মনে দাগ কাটে এ বিষয়টি। নিজের গেম খেলার যন্ত্র এক্সবক্স দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে দেয় সে।

মিকাহের প্রিয় যন্ত্রটি শীতার্ত মানুষের শীতবস্ত্র কেনার জন্য দান করার বিষয়টি অনেকের মনে দাগ কাটে। এ খবর পৌঁছায় মার্কিন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা মাইক্রোসফট পর্যন্ত। গত শনিবার মিকাহের জন্য চমক দেওয়ার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি। মাইক্রোসফটের কর্মীরা মিকাহকে উপহার হিসেবে আরেকটি এক্সবক্স উপহার তুলে দিয়েছে।

মিকাহের দাদি টেরি ব্র্যান্ট বলেন, ‘তারা যখন আমাকে কল করল, আমি ফোনেই কেঁদে ফেলেছিলাম। বিশ্বাস করতে পারিনি। এ মাসের শুরুর দিকে মিকাহের এক্সবক্স দান করার বিষয়টি প্রকাশ করে ফক্স ৮।’

ব্র্যান্ট বলেন, মিকাহ পরিবারকেও কয়েক বছর আগে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তাদের বসবাসের জায়গা ছিল না। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক সপ্তাহ থাকতে হয়েছিল। যে আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের থাকতে হয়েছিল, সে কেন্দ্র থেকেই দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল দেওয়া হচ্ছে।