শামসুজ্জামানসহ আটক ৭৯ চার জেলায় বাধা
ঢাকায় বাধা ছাড়াই বিএনপির কর্মসূচি

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ঢাকায় গতকাল সোমবার প্রথম পুলিশি বাধা ছাড়াই দলীয় কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধায় কর্মসূচি পালন করতে পারেনি দলটি। ভোলায় পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন ১০ নেতা-কর্মী। এ ছাড়া অন্তত চার জেলায় বাধা দিয়েছে পুলিশ।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল দেশজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি ডেকেছিল বিএনপি। এদিকে গত রোববার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত প্রথম আলোর পাওয়া তথ্য
অনুযায়ী ছয় জেলায় বিএনপি-জামায়াতের ৭৯ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় আটক হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামানসহ ১৮ জন। তবে বিএনপির হিসাবে
সারা দেশে গতকাল গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮৮ জন। গতকাল দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূর্বঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে দলের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। কর্মসূচি থেকে খালেদা জিয়াকে ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কর্মসূচি শেষে ফেরার সময় মৎস্য ভবনের সামনে থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামানসহ ১৮ জনকে আটক করে পুলিশ।
মানববন্ধন কর্মসূচির পূর্বনির্ধারিত সময় ছিল বেলা ১১টা। তবে আগে থেকেই একজন-দুজন করে নেতা-কর্মী সেখানে জড়ো হন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তার পুরোটাজুড়েই তাঁরা অবস্থান নেন। গাড়িগুলো তখন এক সারিতে করে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এ সময় আশপাশের এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদারের নেতৃত্বে পুলিশ মানববন্ধনস্থলে অবস্থান নেয়। পুলিশের সদস্যদের গাড়ির চলাচল অব্যাহত রাখতে রাস্তার কিছু অংশ ফাঁকা রাখতে সচেষ্ট দেখা যায়। দুই পক্ষের মধ্যে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাঁকে ছাড়া এ দেশের কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। আসুন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করি।’
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে একপর্যায়ে মাইকের তার ছিঁড়ে যায়। এরপর নেতারা মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করে খালেদা জিয়া দেশে জনপ্রিয় নেত্রী। তাঁকে অন্যায়ভাবে মামলা দিয়ে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চার দিন ধরে ডিভিশন না দিয়ে সরকার আমাদের নেত্রীকে একজন সাধারণ বন্দী হিসেবে কষ্ট দিয়েছে। সরকারের এহেন কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘যত ষড়যন্ত্র হোক, নির্বাচন খালেদা জিয়াকে নিয়েই হবে। তাঁকে ছাড়া কেউ নির্বাচনের চিন্তা করলে সেটা হবে দুঃস্বপ্ন।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি দুই দিন বিক্ষোভ কর্মসূচির পর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে তিন দিনের টানা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যার প্রথম দিনের কর্মসূচি হিসেবে এই মানববন্ধন করা হয়। আজ মঙ্গলবার ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান এবং পরদিন বুধবার অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিশনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
গতকালের মানববন্ধনে বিএনপির নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কামাল ইবনে ইউসুফ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নাল আবেদীন, জয়নুল আবদিন ফারুক, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, খায়রুল কবির, ফজলুল হক, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, সৈয়দ এমরান সালেহ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
এ ছাড়া ২০-দলীয় জোটের নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মোস্তফা জামাল হায়দার, মোস্তাফিজুর রহমান, অপর অংশের হামদুল্লাহ মেহেদি, এলডিপির সাহাদাত হোসেন, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সারা দেশে আটক ৬১, চার জেলায় বাধা
প্রথম আলোর পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল ছয় জেলায় বিএনপি-জামায়াতের ৬১ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিএনপির হিসাবে এই সংখ্যা ১০ জেলায় ৮৮। গতকাল দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানানো হয়।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, আঞ্চলিক কার্যালয়, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর:
ভোলায় সকালে জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীরের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সদর রোডে দলীয় কার্যালয়ের পেছনে জমায়েত হতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে নেতা-কর্মীরা মানববন্ধনে দাঁড়ালে পুলিশ তাতে বাধা দেয়। লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় নেতা-কর্মীদের। এ সময় আহত হন ১০ জন। আটক করা হয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল কাদের এবং ভোলা পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ফারুক সিকদারকে।
ভোলা মডেল থানার ওসি মো. ছগির মিয়া বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করছিলেন। তাঁদের সেই অপচেষ্টা বানচাল করে দেওয়া হয়েছে।
ঝালকাঠিতে সকাল ১০টায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন নেতা-কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান অভিযোগ করেন, জেলা কার্যালয়ের সামনে সীমিত আকারে কর্মসূচি পালনের শর্ত দেয় পুলিশ। তাদের বেঁধে দেওয়া ১০ মিনিটের মধ্যে মানববন্ধন শেষ করতে হয়।
বরিশাল সদর রোডে মানববন্ধন করতে চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু পুলিশের বাধায় সেখানে পারেনি। পরে পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে অশ্বিনীকুমার হল-সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে তারা।
মৌলভীবাজারে পুলিশি বাধায় জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশ শহরের কুসুমবাগ এলাকায় এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশ শমশেরনগর সড়ক এলাকায় মানববন্ধন করতে পারেনি। মৌলভীবাজার সদরে জামায়াত ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরে ডিবি পুলিশের বাধায় বিএনপির কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। এ সময় চারজনকে আটক করে পুলিশ। জেলার রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার হান্নানসহ রামগতি ও কমলনগরে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপির ছয় নেতা-কর্মী।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে আটক করেছে পুলিশ।
নাটোরের বড়াইগ্রামে গ্রেপ্তার হয়েছেন বনপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার রফিকুল ইসলামসহ তিনজন।
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সাংসদ গাজি নজরুল ইসলামসহ ৪১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

‘জনতার জোট’ নামে বৃহত্তর ঐক্যের প্রস্তাব

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়তে একমত হয়েছে বিএনপির শরিক দলগুলো। সম্ভাব্য এই বৃহত্তর রাজনৈতিক মোর্চার নাম হতে পারে ‘জনতার জোট’।

গতকাল রোববার বিকেলে গুলশানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা এবং সম্ভাব্য জোটের ওই নামকরণের প্রস্তাব আসে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৃহত্তর ঐক্য গঠনে ২০-দলীয় জোটের কোনো দল যদি বাধা হয়, এর বিকল্প বের করে হলেও জাতীয় ঐক্য গড়ার পরামর্শ আসে। বৈঠকে একটি ইসলামি দলের প্রধান দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় ও কারাবন্দী হওয়ার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়’ সব দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ২০ দলের বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে জোটের ঐক্যকে আরও প্রসারিত করার জন্য অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব জানান, সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মুঠোফোনে বক্তব্য দেন। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে সমর্থন দিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত শরিক দলের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, নেতারা একমত হয়েছেন যে জনগণের ওপর চেপে বসা বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারকে সরাতে হলে জনতার ঐক্য গড়তে হবে। ‘পিপলস প্ল্যাটফর্ম’ বা ‘জনতার জোট’ নামটি তারেক রহমানের কাছ থেকে এসেছে।

বিকেল পাঁচটায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়।

জোটগত কর্মসূচি দেবে ২০ দল

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিএনপির কর্মসূচিতে শরিকেরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে অদূর ভবিষ্যতে ২০-দলীয় জোট থেকে কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় দেশনেত্রীর সাজা ও তাঁকে কারাগারে নেওয়ায় নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও ২০-দলীয় জোটের গ্রেপ্তার সব নেতা-কর্মীর মুক্তির দাবিও জানানো হয়।

এখন জোটের নেতা কে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘দেশনেত্রীই (খালেদা জিয়া) হচ্ছেন ২০-দলীয় জোটের নেত্রী। আমি জোটের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলাম, এখনো করছি।’

বৈঠকে বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিজেপির আন্দালিব রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুর রকিব, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান প্রমুখ।

কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে যে চারটি মামলায় এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তা কার্যকর করা হবে। এই চার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। খালেদা জিয়াসহ অন্য যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ৩০ জানুয়ারি থেকে পুলিশ দেশব্যাপী যে ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছিল, তা অব্যাহত থাকবে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দেশে সহিংসতার যে আশঙ্কা করেছিল পুলিশ, তা হয়নি। বরং বিএনপি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। রায়ের পরের পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভেতরেও একধরনের স্বস্তি রয়েছে। এভাবে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল থেকে সরে আসবে না ক্ষমতাসীন দল।

আওয়ামী লীগ কি বিএনপির ব্যাপারে শক্ত অবস্থানেই থাকবে? এ প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, খালেদা জিয়ার মামলা তো চলছেই, এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির আরেকটি মামলা আছে। নাইকোর মামলাও চলছে। তাঁর নামে বাস পোড়ানোর মামলার পরোয়ানা আছে। দুর্নীতির মামলা আছে। দেখা যাক কী হয়। কারাবাস দীর্ঘ হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এটা তাঁদের আপিল করার ওপর ও আদালতের ওপর নির্ভর করবে।

খালেদা জিয়ার নতুন কোনো মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হবে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমার জানা নেই।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দলের বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির অর্থদণ্ডসহ ১০ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণার পরই খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁকে রাখা হয়েছে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে। কারাবিধি অনুসারে তাঁকে ডিভিশন দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে। এ কারণে পুরোনো কারাগারের ডে কেয়ার সেন্টার বলে পরিচিত মহিলা কারাবন্দীদের ওয়ার্ডে খালেদা জিয়াকে স্থানান্তর করা হবে।

চার মামলায় পরোয়ানা
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা আছে। এর মধ্যে ৪টি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। পরোয়ানা থাকা মামলার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ১৫ আগস্ট ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালন এবং বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ মামলাগুলো হয়।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে ৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি মামলা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেন। ১টি মামলায় অর্থাৎ বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ আছে। ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ১টি এবং ৩ ফেব্রুয়ারি ২টি মামলা দায়ের করা হয় চৌদ্দগ্রাম থানায়। পরবর্তী সময়ে আদালত তিন মামলায় খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে গত বছরের নভেম্বর মাসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠান।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘ভুয়া জন্মদিন’ পালনের অভিযোগ এনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। ওই বছরের ১৭ নভেম্বর আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। চলতি মাসের ২৫ তারিখ এই মামলার শুনানির তারিখ রয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। গত বছরের ১২ অক্টোবর ওই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নুর নবী। আগামী ১৪ তারিখ এই মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন নড়াইলের আদালত। নড়াইলের নড়াগাতী থানাধীন চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল সদর আমলি আদালতে এ মামলা করেন।

শঙ্কায় বিএনপি
বিএনপির চেয়ারপারসনের কারাবাস যে দীর্ঘায়িত হচ্ছে এ নিয়ে বিএনপির ভেতরেই শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির একাধিক আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরাও মনে করছেন, খালেদার কারামুক্তি বিলম্ব হতে পারে। কারণ হিসেবে তাঁরা মনে করছেন, ওই মামলার রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি এখনো খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা পাননি। অনুলিপি না পাওয়ায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। আবার এই মামলার বাইরে অন্য মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে আলাদাভাবে তাঁকে জামিন নিতে হবে। এতেও সময় লাগবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আপিলের জন্য ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে স্বাভাবিকভাবেই দেরি হবে।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সরকারের তরফ থেকে যদি খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন জেলে রাখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে অবশ্যই দেরি করবে। গতকাল রোববার পর্যন্ত প্রত্যয়িত অনুলিপি তাঁরা হাতে পাননি। তিনি বলেন, রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে আপিল দায়ের করা সম্ভব। নিম্ন আদালতের রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ও জামিন আবেদনের শুনানি এক সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে, যদি সরকারপক্ষ থেকে বিলম্ব করার চেষ্টা করা না হয়।

আপিলের সম্ভাব্য যুক্তি
আইনজীবী সূত্রগুলো বলেছে, আপিল দায়েরের অন্যান্য প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য যুক্তি হিসেবে থাকবে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী ক্ষেত্রে বিশ্বাস ভঙ্গ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে থাকলে সে ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে। কিন্তু এই মামলায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়নি। বাদীপক্ষ থেকেও বলা হয়নি ওই অর্থ সরকারি অর্থ। এই মামলায় কোনো অর্থ আত্মসাৎ হয়নি। এখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের ভূমিকা নেই।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ওই মামলায় দণ্ডিতদের সাজা বৃদ্ধির বিষয়ে দুদক এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুদক রায় পর্যালোচনা করে পরীক্ষণ করে তারপরই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। জামিন আবেদন করলে বিরোধিতা করবেন কি না, এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম বলেন, ‘অবশ্যই। উনি (খালেদা জিয়া) আপিল করলে আমরা এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। জামিন চাইলেও কনটেস্ট করব। দুদক ওই মামলার রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপির জন্য আবেদন করেছে।’

ভাবনায় নির্বাচন
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেওয়া নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল ঢাকায় বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কাউকে নির্বাচনের বাইরে রেখে নির্বাচন করার ইচ্ছা সরকারের নেই। কিন্তু আইনের কারণে কেউ যদি নির্বাচনের বাইরে থাকে, সেখানে সরকারের কিছুই করার নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেউ কারাগারে যাক, সেটা আমরা চাই না। তবে রাজনীতিবিদদের জন্য এটা কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। আদালতের আদেশে খালেদা জিয়া কারাগারে গেছেন। আমরা চাই বিএনপি আইনানুগভাবেই তাদের নেত্রীকে মুক্ত করে আনুক। যাতে সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নির্বাচন হতে আরও আট থেকে নয় মাস বাকি। বিএনপি এখন নির্বাচনমুখী। নির্বাচনে না যাওয়ার ভুল তারা আর করবে না বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু সব দেখে মনে হচ্ছে সরকার বিএনপিকে আরও কোণঠাসা করবে। দলের প্রধান নির্বাচনে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনই সংশয় দেখা দিয়েছে। যদি দলের প্রধান নির্বাচনে যেতে না পারেন এবং সরকার যদি আরও কঠোর হয়, তাহলে বিএনপির প্রতি মানুষের সহানুভূতি বাড়বে।

তারেক রহমান লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার নির্দেশদাতা

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: তারেক রহমানই লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার নির্দেশদাতা—এমন মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ হামলার বিষয়ে ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলকে জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের আজ সোমবার সকালে কক্সবাজারে এ কথা বলেন। সদর উপজেলার লিংক রোডের শহীদ এ টি এম জাফর আলম সড়কের (কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক) ফলক উন্মোচন করেন।

লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৭ ফেব্রুয়ারি জোর করে ঢুকে ভাঙচুর করেন বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা। এর পরদিনই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ওই মামলার রায়কে কেন্দ্র করেই লন্ডনে বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে প্রায় ১০ মিনিট পর্যন্ত বিএনপির কর্মীরা হাইকমিশনের নিচতলার অভ্যর্থনাকক্ষে হট্টগোল করে। হাইকমিশনের বিভিন্ন কর্মকর্তার নাম ধরে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সেখানে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করেন। ওই দিন স্থানীয় সময় বিকেল চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসির আহমদ শাহীনকে আটক করে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দূতাবাসে যে হামলা হয়েছে, সেটি পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, এই হামলার নির্দেশদাতা লন্ডনে অবস্থানরত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর পরিকল্পনাতেই এ হামলা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে ইন্টারপোলকে জানানো হয়েছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দশ বছর ও মানি লন্ডারিং মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল, কোনো দণ্ডিত ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বিএনপির নেতা হতে পারবেন না। তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে তড়িঘড়ি করে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭ ধারা তুলে দিয়েছে। এখন এটা পরিষ্কার, কেন ধারাটি বাতিল করা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, কারাগারে বসে গুলশান কার্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা চিন্তা করলে হবে না। বিএনপি নেতারা যদি কারাগারকে গুলশান কার্যালয় মনে করেন, তাহলে ভুল হবে। বেগম জিয়া চান, তাঁর সঙ্গে গৃহপরিচারিকা থাকুক, এয়ারকন্ডিশন থাকুক, কিন্তু এটা তো জেলকোড সমর্থন করে না। এমনকি ডিভিশনেও নেই। জেলকোড সমর্থন করে না, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

কাদের আরও বলেন, খালেদা জিয়া দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদাবান ব্যক্তি। সেটা বিবেচনা করে ডিভিশন না থাকা সত্ত্বেও তিনি ডিভিশনের সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। এখন আদালতও নির্দেশনা দিয়েছে ডিভিশন দেওয়ার জন্য। সরকার এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি ভাঙার জন্য বিএনপিই যথেষ্ট। সেখানে অন্য কাউকে চক্রান্ত করতে হয় না।’

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান, কক্সবাজার-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

এরপর সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখান থেকে ফেরার পথে বেলা দুইটায় উখিয়ার কোটবাজারে এক পথসভায় বক্তব্য দেন।

খালেদার নাম মুছে দিল ছাত্রলীগ

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: রাজশাহী কলেজের বাস থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাম মুছে দিয়েছে ছাত্রলীগ। ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বাসটি উপহার দিয়েছিলেন।

বাসটির গায়ে এত দিন খালেদা জিয়ার নাম ও উপহার দেওয়ার সাল-তারিখ লেখা ছিল। গত শনিবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতারা বাস থেকে তাঁর নামটি মুছে দিয়ে নিজেরাই ছবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

গত শনিবার বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটের সময় রাহুল ভট্টাচার্য নামের এক যুবক খালেদা জিয়ার নাম মোছার একটি ছবিসহ তাঁর ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এটি তিনি ছাত্রলীগের রাজশাহী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষকে ট্যাগ করেছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ তথা রাজশাহী কলেজের কোনো জায়গায় কোনো চোরের নাম থাকবে না, থাকতে পারে না। আজ রাজশাহী কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের বাস থেকে খালেদা চোরের নাম মুছে ফেলেছেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রিয় বড় ভাই নাইমুল হাসান নাঈম ভাই।’

ছবিতে দেখা যায়, নাইমুল হাসান কালো কালি দিয়ে বাসের গায়ে লেখা খালেদা জিয়ার নাম মুছে দিচ্ছেন। তাঁর পাশে কালির পাত্র ধরে দাঁড়িয়ে আছেন ছাত্রলীগের রাজশাহী কলেজ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসিক দত্ত। ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন কর্মীকে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে নাম মোছার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ গতকাল রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ফেসবুক দেখেননি। তবে রাজশাহী কলেজেই আছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তিনি পরে জানাবেন।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, আগে তিনি বিষয়টি জানতেন না। গতকাল রোববার তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তিনি নাইম হাসানের কাছে জানতে চেয়েছিলেন। তিনি খালেদা জিয়ার নাম মুছে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাইমুল হাসান গতকাল বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়ার উপহার দেওয়া বলে বাসটিতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেন। তাঁরা বসার পরে জায়গা থাকলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বসার সুযোগ পান। অনেক সময় তাঁরা মুখ ফুটে বলেও ফেলেন যে এটা তাঁদের নেত্রীর দেওয়া বাস। তিনি বলেন, বাসটি রাজশাহী নগরের বায়া এলাকায় যাতায়াত করে। সেই এলাকা থেকে যেসব ছাত্রছাত্রী আসা যাওয়া করেন তাঁদের সঙ্গে কথা বললেই তাঁর কথার সত্যতা মিলবে।

নাইমুল হাসান দাবি করেন, এটা তাঁদের দলীয় বা ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে করেননি বা কাউকে ছোট বা খাটো করার জন্যও করেননি। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার জন্য করেছেন। চোর বলে ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, কে কী লিখেছেন, তিনি বলতে পারবেন না। তিনি বলেন, মন্তব্য যাঁরা লিখেছেন তাঁরা সবাই ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।

কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার ম খা আলমগীরের

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের কমিশন নেওয়াসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সরকারি দলের সাংসদ মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তাঁর দাবি, তিনটি পত্রিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অসত্য তথ্য প্রকাশ করেছে।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা দেন মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের প্রত্যবেক্ষণ কামনা করেন।

কোনো পত্রিকার নাম উল্লেখ না করে এই সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘তারা বলেছে, ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ঋণ বিতরণের আগে কমিশন নিয়েছি। এত বড় অসত্য কথা আমার ৭৭ বছর বয়সে আমি কখনো সম্মুখীন হইনি।’

পেশাগত জীবনে বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করার কথা তুলে ধরে মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, তাঁর কার্যকলাপ সম্পর্কে এ ধরনের কোনো উদাহরণ কেউ দিতে পারেনি।

মহীউদ্দীন খান আলমগীর একটি ব্যাংকের হিসাব বিবরণী দেখিয়ে বলেন, ‘আমি এ অভিযোগের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত আমার ব্যাংক হিসাবের পুরো অংশ নিয়ে এসেছি। এই অংশে কোথাও কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না যে কোনো ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে আমার এখানে কোনো অর্থ ঢুকেছে।’

ফারমার্স ব্যাংকের অন্যতম এ উদ্যোক্তা বলেন, পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী গত বছরের ১৭ জুলাই গ্রাহকের হিসাব থেকে তাঁর ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি ঢুকেছে। কিন্তু তাঁর ব্যাংক হিসাবে এ ধরনের কোনো লেনদেন ঘটেনি।

ম খা আলমগীর বলেন, পত্রিকায় লিখেছে, তারা তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ৭৮ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে তিনি স্পিকারের অনুশাসন চান, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার মেনে চলে।

ম খা আলমগীর দাবি করেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকতে অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ ফারমার্স ব্যাংক দেয়নি। এ ধরনের অনুমানভিত্তিক প্রতিবেদন আর্থিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রাখার প্রতিকূল। অনুমোদিত ঋণের চেয়ে বেশি অননুমোদিত ঋণ দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঋণ দেওয়ার কর্তব্য ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তাঁরা অনুমোদনের বাইরে কোনো ঋণ দিয়ে থাকলে তা তাঁদের দায়িত্ব। কিন্তু তাঁর জানামতে তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে ম খা আলমগীর বলেন, নিয়োগের সব ক্ষেত্রে যথাযোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার উত্তরসূরিকে নিয়োগ দিয়েছে এবং তা ইচ্ছাকৃত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তথ্যে উঠে এসেছে যে ফারমার্স ব্যাংকের গ্রাহকের ঋণের ভাগ নিয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী। এর মাধ্যমে দুজনের নৈতিক স্খলন ঘটেছে এবং তাঁরা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। পরিদর্শনে উঠে এসেছে, ব্যাংকটির জনবল নিয়োগ হয়েছে মূলত এ দুজনের সুপারিশেই। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা নিয়োগ দিয়েছেন।

নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খালেদাকে

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: কুমিল্লা আদালতের একটি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার সংলগ্ন জগমোহনপুর এলাকায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের মামলায় গত ২ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ ৪৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠায়। আজ সোববার গুলশান থানা-পুলিশ ওই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য মো. কাইমুল হক।

২৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার আমলি আদালতে (চৌদ্দগ্রাম) ওই মামলার বিচারকার্যের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় আসামাত্র দুর্বৃত্তরা পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেওয়ার দুদিন পর আরও একজনসহ মোট আটজন মারা যান ও ২৭ জন আহত হন। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হলে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্ত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই মো. ইব্রাহিম।

দুই বছর এক মাস তিন দিন পর ২০১৭ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লার আদালতে ওই দুই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ ও বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরী, চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের সাবেক সাংসদ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির সাহাবউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. মিজানুর রহমান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির শাহজাহান, চিওড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির ও ক্যাডার মেজবাহ উদ্দিন ওরফে নয়ন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদাসহ ৭৮ জনের নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। খালেদা জিয়া মামলার ৫১ নম্বর আসামি।

কুমিল্লার কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। বিষয়টি এখন ঢাকার এখতিয়ারে। আমাদের এখানে কিছু নেই।’

অন্য দুই মামলা স্থগিত : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। একটি মামলায় অর্থাৎ বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে। ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কুমিল্লার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার হালদারপাড়া এলাকায় কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে এই মামলা করা হয়েছিল। ওই দিন রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি মামলা হয়। জেলা ও দায়রা জজ স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১–এ এই মামলা বিচারাধীন। তবে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর এই মামলা হাইকোর্ট থেকে স্থগিত করা হয়। এ মামলাটি বর্তমানে স্থগিত।
এ ছাড়া ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় খালেদা জিয়াসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। এটিও স্থগিত।

অন্তর্জালে ফাঁদ পেতেছে পুলিশ

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: চলতি এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে অন্তর্জালে ফাঁদ পেতেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে পুলিশের সদস্যরা প্রশ্ন কেনাবেচার গ্রুপে ঢুকে পড়ছেন। প্রশ্ন কিনছেন। আর পুলিশের এই ফাঁদে গত কয়েক দিনে ধরা পড়েছে এক ডজনের বেশি লোক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নানা উদ্যোগ ও পুলিশি তৎপরতার মধ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা যায়নি। এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের ধরিয়ে দিলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়াসহ আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়নি। বরং ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষার সাতটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষার শুরুর আগে-পরে আড়াই ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি সীমিতকরণের সিদ্ধান্ত থেকে আজ সোমবার সরে এসেছে সরকার। তবে এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে আরেক নতুন নির্দেশনা। যেখানে বলা হচ্ছে, পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কিংবা পরীক্ষা কেন্দ্রের ভেতরে কাউকে মোবাইল ফোনসহ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে নতুন নির্দেশনাকে ‘অবাস্তব’ বলে মন্তব্য করছে খোদ পুলিশ। ঢাকার একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর থানা এলাকায় এমন কেন্দ্র আছে যার ৩০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যেই বড় সড়ক ও ফুটপাত রয়েছে। সেখান দিয়ে সকাল থেকেই মানুষ হেঁটে ও গাড়িতে চলাচল করে। মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনা আইন মানতে হলে এখন তাদের গণহারে গ্রেপ্তার করতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস জানতে না পারলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে অন্তর্জালে ফাঁদ পাতার বিষয়টি কাজে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপকমিশনারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, অন্তর্জালে হাজারের বেশি গ্রুপ খোলা হয়েছে। এসব যাচাই–বাছাই করে পুলিশের কাজ চলছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের উৎস এখনো জানা যায়নি।

প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নজরদারি করার দায়িত্বে থাকা ডিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুকে হাজারো গ্রুপে ঢুঁ মারতে এখন তাদেরও ভুয়া আইডি খুলে ক্রেতা সেজে প্রশ্ন কিনতে হচ্ছে। এর মধ্যেই কয়েক হাজার টাকার প্রশ্ন কেনা হয়েছে। সকালবেলা ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাঁচ শ টাকাতেই পাওয়া যায়। কেনাও হয়েছে এ দরে। লেনদেন হয়েছে বিকাশ নম্বরে। এর সূত্রধরেই বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের কেউ এখন পর্যন্ত বলেননি কোত্থেকে প্রশ্ন পেয়েছেন। এরা একজন আরেকজনের গ্রুপ থেকে প্রশ্ন কিনেছেন বলে জানাচ্ছেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এক শিক্ষকের কথা বলেছেন। ফেসবুকে ‘রাতুল স্যারে’–এর গ্রুপ থেকে প্রশ্ন পাওয়ার কথা অনেকে বলেছেন। কিন্তু এটিও ভুয়া আইডি।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম সাকলায়েন বলেন, তাঁরা অন্তর্জালে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকজন ব্যক্তির ওপরেও নজরদারি চলছে।

এত দিন পর্যন্ত ধারণা ছিল, পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রশ্ন নিয়ে যাওয়ার পথে বা কেন্দ্রে প্রশ্ন নিয়ে যাওয়ার পর ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি পরীক্ষার আগের রাতে অন্তর্জালে আসা হাতে লেখা একটি গণিতের প্রশ্ন সমাধানসহ পাওয়া গেছে। তাতে ওই ধারণা বদলে যায়।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত হন বলে মনে করা হতো। তবে গণিতের হাতে লেখা প্রশ্ন পাওয়ার পর বোঝা যাচ্ছে এর উৎস ভিন্ন।

গত রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, শুধু শিক্ষকেরা নন। কেন্দ্রে দায়িত্বরত যে কোনো কর্মকর্তা, পিয়ন বা অন্য স্টাফরাও এ কাজ করতে পারেন। পুলিশ এখনো প্রশ্ন ফাঁসের গোড়ায় পৌঁছাতে পারেনি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যায় না।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪ মামলা

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। দুর্নীতি, যানবাহনে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা, সহিংসতা, নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে এসব মামলা হয়। এর মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন আছে।

এই ১৯টির মধ্যে গত ৪ জানুয়ারি ১৪টি মামলা বিচারের জন্য ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ এজলাসে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি।

ওই বিশেষ এজলাসে আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বিচার শেষে ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন আদালত। সেখানে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার অনেকটা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন যে ৩৪টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে ৪টি। সেগুলো হলো জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা। চারটি মামলায়ই সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে (এক-এগারোর সময়‍) করা।

অন্য ৩০টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে হয়েছে। মূলত রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে এসব মামলা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেছেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।

নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে কুমিল্লার আদালতে থাকা দুটি মামলার মধ্যে একটি উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। অন্যটিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানহানির অভিযোগে করা একটি মামলা বর্তমানে স্থগিত। নড়াইলে মানহানির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর মানহানির মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। এ মামলায় ১২ অক্টোবর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এটি বিশেষ এজলাসে বিচারাধীন আছে।

১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম মামলা করেন। এ মামলায় খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি পরোয়ানা জারিসংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

ব্যাংকঋণ খেলাপের অভিযোগে সোনালী ব্যাংক খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে মামলা করে। আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে পক্ষ করা হয়। মামলাটি ঢাকার অর্থঋণ আদালতে সাক্ষ্য পর্যায়ে বিচারাধীন আছে।

হত্যা ও নাশকতার ১৩ মামলা
২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপিসহ ২০ দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সময় বাসে আগুন, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ, মানুষ হত্যাসহ বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় ঢাকায় করা ১০টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানায় ২টি ও দারুস সালাম থানায় ৮টি মামলা রয়েছে।

এই ১০টি মামলার মধ্যে ৮টি ঢাকার বিশেষ আদালতে, অন্য ২টি মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পর্যায়ে রয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা হরতাল-অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়। বাসে আগুন ধরে আটজন যাত্রী পুড়ে মারা যায়। এ ঘটনায় ২টি মামলা হয়।
২টিতে খালেদা জিয়া হুকুমের আসামি। ২টি মামলায় গত বছরের ৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াতের ৭৮ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ। এর মধ্যে ১টি মামলা উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত আছে।

২০১৫ সালেগুলশানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগে করা ১টি মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য এসব মামলায় হুকুমের আসামি করা হয়।

তদন্তে নেই অগ্রগতি, অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। পুলিশ সেই অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলামকে ২৬ দিনেও ধরতে পারেনি। ওই দিনের ঘটনায় অন্য অস্ত্রধারীরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

মেয়র আইভীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তার মামলা ২২ দিনেও নেয়নি পুলিশ। এ কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নারায়ণগঞ্জের নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ প্রভাবশালী একটি পক্ষকে খুশি করতেই মামলা নিচ্ছে না, আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না।

প্রশাসনের তদন্ত

গত ১৬ জানুয়ারির হামলার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনেরও একটি কমিটি হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার তিন সদস্যের এই কমিটির প্রধান। অপর দুই সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান ও র‌্যাব-১১-এর সহকারী পরিচালক (এএসপি) বাবুল আখতার। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার কথা। কমিটি আবেদন করে দুই দফায় নয় কার্যদিবস সময় বাড়িয়ে নিয়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত মেয়র আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের সাক্ষ্য নেয়নি এই তদন্ত কমিটি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসীম উদ্দিন হায়দার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ওই দিনের ঘটনায় ভুক্তভোগী, হকার, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিকসহ ২০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে। আমরা এই সপ্তাহের শেষে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করব।’

মেয়র আইভী ও সাংসদ শামীম ওসমানের সাক্ষ্য নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি যখন কাজ শুরু করে, তখন মেয়র আইভী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়নি। প্রয়োজন হলে সাংসদ শামীম ওসমানের বক্তব্য নেওয়া হবে।

আইভীর মামলা নেয়নি পুলিশ

মেয়র আইভীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এনে সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ২৩ জানুয়ারি এজাহার দাখিল করেন। এতে সাংসদ শামীম ওসমানের ক্যাডার অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলাম, শাহ্ নিজামসহ নয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু এটিকে মামলা হিসেবে না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ দিনেও তা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী সিটি করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা জি এম এ আবদুস সাত্তার বলেন, ‘মামলা না নেওয়ার বিষয়ে আমি বারবার থানায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কেউ কোনো সদুত্তর দেয়নি।’

ওই ঘটনার ৯ দিন পর ২৪ জানুয়ারি পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে।

এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি অস্ত্রধারী নিয়াজুল বাদী হয়ে তাঁর ছোট ভাই রিপনের মাধ্যমে অস্ত্র ছিনতাই ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মেয়র আইভীর ভাই, সমর্থকসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

অস্ত্রধারী নিয়াজুলসহ অন্যরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক ও সুশীল সমাজের নেতারা।

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা বরাবর বলে আসছি, স্থানীয় প্রশাসন একটি বিশেষ পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের স্বার্থ বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। এটি তারই প্রমাণ। প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলা করার পরও মামলা গ্রহণ না করা এবং অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার না করা, এটি কোনোভাবেই আইনের শাসনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম বলেন, মেয়র আইভীর ওপর যখন হামলা হয়, তখন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। মামলা না নেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল। প্রভাবশালী কাউকে খুশি করতেই পুলিশ মামলা নেয়নি।

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশ না পাওয়ার কারণে তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে না। শামীম ওসমানের সময়ই নিয়াজুলের উত্থান। আইভী শুধু মেয়র নন, উপমন্ত্রী পদমর্যাদাধারী। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়রের ওপর হামলার বিচার না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, মেয়র আইভী ও নিয়াজুলের অভিযোগ জিডি হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশের মামলায় অভিযোগ দুটি সম্পৃক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। তদন্তকাজ চলছে। নিয়াজুলকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি নগরীর চাষাঢ়ায় ফুটপাতে হকার বসানোকে কেন্দ্র করে মেয়র আইভী ও তার সমর্থকদের ওপর হকার ও সাংসদ শামীম ওসমানের সমর্থকদের সশস্ত্র হামলায় মেয়র আইভী, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। এ সময় সাংসদ শামীম ওসমানের ক্যাডার অস্ত্রধারী নিয়াজুল ইসলাম ও শাহ্ নিজামকে পিস্তল হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।