এস কে সিনহা এই সময় বইটি প্রকাশ না করলেও পারতেন: কাদের

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা :গাজীপুর: নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বই প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তাঁর মতে, এই সময়ে বইটি প্রকাশ করে সাবেক প্রধান বিচারপতি সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি না দিলেও পারতেন।
আজ শুক্রবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাইপাস মোড় এলাকায় বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটসহ (বি আরটি) কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে ওবায়দুল কাদের ওই সব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা অনেক কঠিন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহার বই প্রকাশ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাঁর লেখা বই তিনি প্রকাশ করবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন, তা বিদেশের মাটিতে বসে কেন? আর নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন? বইটি আরও দুই-তিন মাস পরেও প্রকাশ করা যেত। বইটি এ সময়ে প্রকাশ করে সরকারবিরোধী অপপ্রচারের উসকানি এ সময় তিনি না দিলেও পারতেন।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাবেক প্রধান বিচারপতি, তাঁর মনে কষ্ট থাকতে পারে, জ্বালা থাকতে পারে, প্রধান বিচারপতি পদ থেকে তিনি নিজেই সরে গেছেন। এখন বিদেশে গিয়ে মনগড়া তথ্য দিয়ে তিনি সরকারবিরোধী মহলের অপপ্রচারের সুবিধার জন্য যদি এ সময় বইটি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমার মনে হয়, তিনি একজন প্রধান বিচারপতি ছিলেন, এখানে তাঁর দায়িত্বশীলতার বিষয়টি প্রশ্নচিহ্ন হয়ে ঝুলে থাকবে।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার বক্তব্য দিয়েছেন। এতে কারও আতঙ্কিত হওয়ার, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটা আইন, প্রায়োগিক বাস্তবটাই সবচেয়ে বড় কথা। ডিজিটাল ক্রাইমকে মোকাবিলা করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হবে না, ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সেভাবেই আইনটি প্রয়োগ করা হবে।
এদিকে যুক্তফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন দল ও নেতাদের ঐক্য প্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্টকে সরকার স্বাগত জানায়। তারা সভা–সমাবেশেরও অনুমতি পাচ্ছে। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, পুলিশ কমিশনারকে। যাঁরাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা করতে চান, তাঁদের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এখন দলে দলে ঐক্য হবে, নেতায় নেতায় ঐক্য হবে। তাতে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের পক্ষে জনমত আছে।’

‘বঙ্গভবনে পৌঁছে যা দেখলাম, আমি বেকুব হয়ে গেলাম’

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : ডেস্ক : সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রকাশ হওয়া ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল’, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ বইটি নিয়ে তোলপাড় সর্বত্র। এই বইতে তার পদত্যাগ থেকে দেশত্যাগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যা যা ঘটেছিল তার সবই তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১লা জুলাই বঙ্গভবনে এসকে সিনহাকে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল কি বলেছিলেন সেই কথাও পুরোটা তুলে ধরেছেন।

এসকে সিনহা লেখেন, “জুলাই মাসের ১ তারিখ, ২০১৭। সকালবেলা আমার ব্যক্তিগত মোবাইলে একটা কল আসলো। নিজেকে তিনি প্রেসিডেন্টের মিলিটারি সেক্রেটারি পরিচয় দিয়ে জানালেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করতে হবে। এই ধরণের ফোন পেয়ে আমি কিছুটা অবাক হলাম। কারণ এসব ক্ষেত্রে সবসময় আমার রেজিস্টারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে যে কোন বৈঠকের দিন-ক্ষণ ঠিক করা হয়।
ফোনে কথা শেষ করার একটু পরেই ০১৭৩০০৯০০৯৫ নম্বর থেকে মিলিটারি সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন মিটিং এর রিকনফার্মেশন করে একটি এসএমএস পাঠালেন।

আমি উদ্বিগ্ন এবং হতবুদ্ধি হয়ে বসে থাকলাম।
যা-ই হোক, নির্দিষ্ট সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই আমি বঙ্গভবনে পৌছালাম। সামনের বারান্দায় মিলিটারি সেক্রেটারি আমাকে রিসিভ করে একটি রুমে নিয়ে গেলেন। আমি শুধু অবাক হচ্ছি। কারণ বঙ্গভবনে আমি অনেকবার এসেছি, সবসময় আমাকে অভ্যর্থনার জন্য নির্দিষ্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হতো।
কিন্তু তিনি এদিন আমাকে অফিসারদের একটা রুমে নিয়ে গেলেন। ভাঙাচুরামার্কা এক রুমে তিনি নিজে টেবিলের ওপাশে একটা চেয়ারে বসলেন এবং আমাকে সামনের সোফাতে বসালেন। আমি অপমানবোধ করতে লাগলাম এবং চিন্তা করতে থাকলাম এভাবে বসার চেয়ে বরং ভেগে যাওয়াই ভালো হবে। এইটা একজন প্রধান বিচারপতির প্রাপ্য আচরণ না।
এইসময় তিনি আমার সাথে এই সেই কথাবার্তা বলে সময় কাটাতে চাচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন আমি চা বা কফি খাবো কি না, আমি বললাম নো থ্যাংকস।
এভাবে পয়তাল্লিশ মিনিট সময় পার হয়ে গেলো। তারপর এক সময় তারা আমাকে প্রেসিডেন্টের রুমে নিয়ে গেলো। ওখানে উপস্থিত মানুষদের দেখে তো আমি হতবাক। প্রেসিডেন্টের সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
প্রাথমিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শেখ হাসিনা আর আনিসুল হক মিলে আমাকে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় প্রসঙ্গে চেপে ধরলেন। দীর্ঘক্ষণ তর্কবিতর্ক হলো। অ্যাটর্নি জেনারেল আমাকে বললেন, এ পর্যন্ত অসংখ্য এক্সট্রাঅর্ডিনারি রায় দিয়ে বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমি যে খেদমত করেছি তার জন্য সরকার আমাকে চিরকাল মনে রাখবে। কিন্তু এখন এই একটা রায় প্রসঙ্গে দ্বিমত করে আমি সব বরবাদ করে দিচ্ছি। এই কথা শুনে আমার খুব অপমানবোধ হলো।
যখন তারা বুঝতে পারলেন যে আমাকে আমার মতামত থেকে নড়ানো সম্ভব না, তখন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেগে গেলেন। তিনি বললেন, আমার সম্পর্কে সব গোপন খবরাখবর তার ভালো করেই জানা আছে। তার কথাবার্তা শুনে আমি এবার পুরোপুরি বেকুব হয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিলো ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী অন্ধ হয়ে গেছেন। তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করা।
পুরো সময়টাতে প্রেসিডেন্ট নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকলেন, মাঝে মধ্যে শুধু ছোটখাটো দু’একটা মন্তব্য করছিলেন। ঐদিন এ মিটিং এতো গোপনভাবে করা হয়েছিলো যে, সে রাতে আমাদের জন্য কোনো খাবারের আয়োজনও করা হয়নি। শেষপর্যন্ত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কোন সমাধান ছাড়াই মিটিং শেষ হয়ে যায়।
তখন আমার এতো ক্ষুধা লেগেছিলো যে আমি দাঁড়িয়ে ঠিকমতো ব্যালেন্স রাখতে পারছিলাম না। যন্ত্রের মতো টলতে টলতে গাড়িতে এসে উঠি এবং বাসায় পৌছার পর শুধু এক গ্লাস পানি খেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ি। আমার অবস্থা দেখে আমার স্ত্রী খাবার দাবার নিয়ে সেরাতে আর কোনো কথা বলেনি।’’

নির্বাচনী প্রকল্পের আওতায় ভৌতিক মামলা, গণগ্রেফতার : খসরু

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলেছেন, আজকে যারা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে না, যেসব রাজনীতিবিদ জাতির বিপক্ষে দাঁড়াবে, তারা আজ কলঙ্কিত হবে। জাতি আজ নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে কারা তাদের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছে, কারা পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। জাতি আজ প্রস্তুত হয়ে গেছে। আজকে আপনাদের এই প্রবাদ-শক্তিকে সঠিক পথে চালিত করতে হবে। এই বৃহৎ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে মুক্ত করতে হবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খসরু এই মন্তব্য করেন।
‘নির্বাচন নামক প্রকল্পের’ আওতায় খালেদা জিয়া জেলে আছেন দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ‘নির্বাচন নামক এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ভৌতিক মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষক আসামি করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
এই নির্বাচনী প্রকল্পের আওতায় ইভিএম নামক একটি মেশিন এসেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করছে। এই প্রকল্পের আওতায় সংবিধানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেই সংবিধান দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য, সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে।’
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে যেন স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম কাজ করতে না পারে। দেশের বিভিন্ন ধরনের আইন করা হচ্ছে, যাতে করে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলতে না পারে। একটা আইন করে দেশের জনগণসহ গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে চায় সরকার।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে জাতি আজ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে তাদের মালিকানা ফিরে পেতে। এতে কোনো সন্দেহ নাই, যার প্রতিফলন হিসেবে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন জাতীয় ঐক্য হতে যাচ্ছে।’ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

সাজা প্রাপ্ত সাড়ে পাঁচ হাজার আসামিকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা :ডেস্ক : দেশের সব জেলখানা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার লঘু অপরাধের সাজা পাওয়া আসামি মুক্তি দিচ্ছে সরকার। দ্বিতীয় ধাপে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী,প্যারালাইস ও ক্যান্সার রোগীদের মুক্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, আইজি প্রিজন। এরইমধ্যে দ্বিতীয় ধাপে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা আসামিদের তালিকাও তৈরী করা হয়েছে। প্রথম ধাপে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে সিলেট বিভাগের ১৪৮জন বন্দি। তবে, মানবাধিকারকর্মী নূর খান মনে করেন নির্বাচনের আগে জেল খালি একটি নতুন গণগ্রেফতারের উদ্দেশ্য হতে পারে, যা প্রশ্নবিদ্ধ করবে সরকারকে।
সারা দেশের কারাগারে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার। কিন্তু বর্তমানে সাজাপ্রাপ্ত বন্দিই আছেন ৮৪ হাজারেরও বেশি। নানা অপরাধের অভিযোগে নিয়মিত আটক কিংবা গ্রেফতারের হিসাব ধরলে এ সংখ্যা লাখ ছাড়াবে।
ফলে অনেক সময়ই বন্দিদের জন্য নিশ্চিত করা যায় না ন্যূনতম মানবাধিকারটুকুও। এ অবস্থায় লঘু অপরাধের আসামিদের মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক অবস্থায় মুক্তি দেয়া হবে আট বিভাগের ৫ হাজার ৭৭৫ জনকে।
যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ২৪৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১ হাজার ৩২৩, খুলনা বিভাগে ৬০৪ আর রংপুর ৩৭৫ জন।
প্রথম ধাপে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে, সিলেট বিভাগের ১৪৮জন বন্দি। কারা মহাপরিদর্শক বলছেন, পর্যায়ক্রমে তালিকার সবাইকে মুক্তি দেয়া হবে।
কারা মহাপরিদর্শক জানান, পরের ধাপে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধি, পক্ষঘাতগ্রস্ত ও ক্যান্সার রোগীদের মুক্তি দেয়া হবে। এছাড়া তালিকা করা হয়েছে বিনা বিচারে বন্দিদেরও। তবে নির্বাচনের আগে এমন উদ্যোগকে অনেকেই দেখছেন সন্দেহের চোখে। মানবাধিকারকর্মী নূর খানের মতে, নির্বাচনের আগে গণগ্রেফতারের উদ্দেশ্যে কারাগার খালি করা হচ্ছে, জনমনে উঠতে পারে এমন প্রশ্ন।
নূর খান বলেন, এ সুযোগে কোনো দাগি আসামি ছাড়া পেয়ে যায় কিনা, সেটি খেয়াল রাখতে হবে কারা কর্তৃপক্ষকে। সেইসাথে সতর্ক থাকতে হবে, ছাড়া পাওয়ারা পুনরায় যাতে অপরাধে না জড়ায় সে বিষয়েও।

কৌশলে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায়ের প্রতারক চক্রের ৪ তরুণীসহ ৪ যুবক আটক

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : নওগাঁ : নওগাঁয় ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যদের টার্গেট করে প্রেমের আহ্বান জানিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে বিশেষ কৌশলে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায়ের মতো প্রতারক চক্রের ৪ তরুণী ও তাদের সহযোগী ৪ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এই চক্র বেশ কিছুদিন ধরে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে এই অপকর্ম করে আসছিল। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ (দক্ষিণপাড়া) এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত শহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আজ শুক্রবার সকালে তাদেরকে নওগাঁ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো পার-নওগাঁ দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে শান্তা খাতুন (৩০), নিপা খাতুন (৩২) ও সন্ধ্যা খাতুন (১৯), বগুড়া জেলাধীন আদমদিঘী থানার কেল্লা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে রিয়া খাতুন, সদর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ মন্ডলের ছেলে হারুন মন্ডল (৩৬), আজাহার আলীর ছেলে মো. আরিফ হোসেন (২৫), মো. আফজাল হোসন মোল্লার ছেলে নুর ইসলাম নোবেল (২০) এবং আব্দুস সালামের ছেলে মো. আশিক (১৯)।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার শিউলী ম্যানসনের চতুর্থতলায় ভাড়া থাকাকালীন সময় মঙ্গলপুর গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলামকে এমন ফাঁদে ফেলে নগদ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে এবং ৮ লাখ টাকা দাবী করে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিন, শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী পরিচালককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাড়িতে ডেকে ফাঁসিয়ে অর্থ আদায়ের কৌশল অবলম্বন করে। কৌশলে তিনি থানায় জানালে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
নওগাঁ সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. আব্দুল হাই জানান, গ্রেফতারকৃত শান্তা, নিপা, সন্ধ্যা ও রিয়া নামের মেয়ের সহযোগিতায় যে কোন ধনাঢ্য ব্যক্তিকে টার্গেট করে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাদের প্রথমে প্রেমের অফার দিয়ে বাড়িতে ডাকে। এই ডাকে কেউ কেউ সাড়া দিয়ে ফেঁসে যায়। তাদের বাড়িতে ডেকে এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে উভয়ে বিবস্ত্র হয়। তারপর ছেলে সহযোগীদের ফোন করে। তারা এসে দরজা নক করে ভিতরে প্রবেশ করে। তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় বিভিন্ন আঙ্গিকের ছবি তোলে। সেই ছবি ফেসবুকে বা নানাভাবে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে।

চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি, চালক নিহত, দুই আরোহী আহত

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা :বাগেরহাট: বাগেরহাটে চলন্ত মোটরসাইকেলের তিন আরোহীকে লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মোটরসাইকেলের চালক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন বাকি দুজন। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাগেরহাটের চুলকাটি এলাকার বি.ই ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির সামনে এই গুলির ঘটনা ঘটে। ওই তিন মোটরসাইকেল আরোহীকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
গুলিতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বাকি দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বরিশাল: বরিশালের জল্লা ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে হত্যা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, কে বা কারা তাকে হত্যা করে ফেলে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিশ্বজিৎ হালদার নান্টু প্রথমবারের মতো ইউপি চেয়ারম্যান হন।

রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের বৈঠক ২৭ সেপ্টেম্বর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : রোহিঙ্গা ইস্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন আলোচনা করবে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং মিয়ানমারের ইউনিয়নমন্ত্রী টিন্ট সোয়ে এই বৈঠক করবেন। এর আগে গত জুনে মাহমুদ আলী যখন চীন সফর করেছিলেন তখন এই তিন দেশ বেইজিংয়ে একই ধরনের বৈঠক করেছিল।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চীন এই বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে। কারণ দেশটি চায় রোহিঙ্গা সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান হোক এবং প্রত্যাবাসন যেকোনো পরিস্থিতিতে শুরু হোক। তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের একাধিক বৈঠক হয়েছে। দেশটি সবসময় বলেছে এই সমস্যা দ্বিপক্ষীয়ভাবে সমাধান করার জন্য। তারা রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরব না হওয়ার জন্য বলেছে।
অন্য একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন, র্যাডিকালাইজেশন বা রাখাইনে সামাজিক অসমতা কোনও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয় বরং আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়। কারণ এর প্রভাব গোটা অঞ্চল বা বিশ্বের ওপর পড়তে পারে।’
মিয়ানমারের মিলিটারি গণহত্যার উদ্দেশ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে বলে জাতিসংঘ রিপোর্ট দিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের উদ্বেগ জানাবে এবং এক্ষেত্রে রাখাইন ব্যতিক্রম নয় বলে তিনি মনে করেন। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চীন মিয়ারমারকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে কারণ সেখানে বেইজিংয়ের অনেক বড় স্বার্থ রয়েছে।’
একই মত পোষণ করেন মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘রাখাইন থেকে কুনমিং পর্যন্ত বেইজিং ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার গ্যাস ও তেল পাইপলাইন নির্মাণ করেছে।’
শুধু তাই না, মিয়ানমারে ৬ হাজার মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার জন্য চীন তিন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে রাজি হয়েছিল কিন্তু ২০১০ সালে মিয়ানমার সরকার প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। রাখাইন সংকট শুরু হওয়ার পরে মিয়ানমার আবার এই প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগে রাজি হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, ‘বেইজিং ঢাকার বন্ধু, উন্নয়ন অংশীদার এবং অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন মিয়ারমারের পক্ষ নিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের মিলিটারি রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করলে হাজার রোহিঙ্গা নিহত বা নিখোঁজ হয়। এখন পর্যন্ত সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলো ভারত

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা :ডেস্ক : কাশ্মিরের সোপিয়ানে তিন পুলিশের অপহরণ ও খুনের ঘটনার পর পাকিস্তানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করেছে ভারত। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশির সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের। সোপিয়ানের ঘটনার পর শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, ‘আলোচনা আর সন্ত্রাস একই সঙ্গে চলতে পারে না।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, ‘ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই ইমরান খানের মুখোশটা সরে গিয়ে মুখটা বেরিয়ে এল।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ইমরান খান ওই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। ভারত তাতে রাজি হয়। তবে এও জানায়, ওই বৈঠকের অর্থ এই নয় যে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবার আলাপ-আলোচনা শুরু হলো।
আনন্দবাজার জানায়, কাশ্মিরের সোপিয়ানে বৃহস্পতিবার রাতে চার পুলিশকর্মীকে অপহরণ করে জঙ্গিরা। তাদের মধ্যে তিনজনের দেহ শুক্রবার সকালে উদ্ধার করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, অপহৃতদের মধ্যে একজন গ্রামবাসীদের সাহায্যে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। মঙ্গলবারই এক ভিডিও বার্তায় পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের চাকরি থেকে ইস্তফা দেয়ার দাবি জানায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিন। পদত্যাগ না করলে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। এরপরই এই ঘটনা। তাই প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অপহরণের নেপথ্যে রয়েছে হিজবুল মুজাহিদিন।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, উপত্যকায় জঙ্গিরা কোণঠাসা। পাথর বৃষ্টি বা অন্য কোনও বিশৃঙ্খলায় কাশ্মিরবাসী আর তাদের সাহায্য করছেন না। তাই এখন অন্য পথে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

বি. চৌধুরীর সঙ্গে বিএনপির বৈঠক

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : ঢাকা : বিকল্প ধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর (বি. চৌধুরী) সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা। শুক্রবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বি. চৌধুরীর বারিধারার বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকল্প ধারা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।