প্রতি বছর হবে ব্লিসের আয়োজন

দেশের রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতে পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বের সেরা ১০টি রপ্তানিকারকের একটি হতে চায় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কৌশলগত লক্ষ্যে অর্জনের জন্য স্থানীয় চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকেরা ‘বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার এবং লেদার গুডস ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো (ব্লিস)’ নিয়মিত আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিন ব্যাপী ব্লিস-২০১৭ সকল স্টেক হোল্ডারদের ইতিবাচক সাড়া অর্জন করেছে। এলএফএমইএবির মতে এই আয়োজন বৈশ্বিক রপ্তানিকারক, ব্র্যান্ড, নির্মাতা ও ক্রেতাসাধারণের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।

‘থিংক অ্যাহেড থিংক বাংলাদেশ’ (Think Ahead, Think Bangladesh) প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৬-১৮ নভেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাতের এ প্রদর্শনীর আয়োজক যৌথভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এলএফএইএইচ।
১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্লিসের উদ্বোধন করেন।

ব্লিসের বিভিন্ন স্টলে বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণকারীদের উদ্ভাবনী পণ্যের ৩০ টিরও বেশি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে স্থানীয় ক্রেতা, ডিজাইনার, ব্র্যান্ড, ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ, শিল্প নেতা, সোর্সিং এজেন্ট, খুচরা সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীগণ ব্যাপক পরিসরে চামড়া শিল্পের স্থানীয় নির্মাতা ও রপ্তানিকারকদের সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এন্ট্রির স্ট্র্যাটেজি হিসাবে ব্রেক আউট সেশন, লিন ম্যানেজমেন্ট এবং চামড়া শিল্প সরবরাহ চ্যানেলের স্থিতিশীলতা সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের দ্বারা স্থানীয় শিল্পের প্রচুর প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক শিল্পের তথ্য এবং অন্তর্দৃষ্টি আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে চামড়াশিল্পের নীতি নির্ধারক ও সরকারি কর্তাগণ চামড়াশিল্পের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন।

চামড়াশিল্পের নীতি নির্ধারকেরা বলেন, ব্লিস, এলএফএমইএবি ও সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে একত্রে চামড়া শিল্পের সরবরাহ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

গ্লোবাল ম্যাগাজিন এবং অনলাইন পোর্টাল যেমন-আন্তর্জাতিক লেদার মেকার, লেদারেজ, ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার ম্যাগাজিন এবং মোডাপেলের মতো অনলাইন পোর্টালগুলো চামড়া খাতকে চিত্রিত করে ব্লিসকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছে, যা বিদেশে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজকে শক্তিশালী করেছে।

সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া খাতের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৫.০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে, কারণ বাংলাদেশের পণ্যগুলো সাধারণত বৈশ্বিক ক্রেতাদের এবং ব্র্যান্ডের আকর্ষণের জন্য যথেষ্ট। বিষয়ে, ব্লিস বাংলাদেশি পণ্যর মান সম্পর্কে বহির্বিশ্বের মানসিকতা পরিবর্তন সহায়ক হয়েছে।

পরবর্তীতে, এলএফএমইএবি বাংলাদেশের বার্ষিক ইভেন্ট হিসাবে ব্লিসকে ঘোষণা করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও এলএফএমইএবি যৌথভাবে কমপক্ষে পরবর্তী তিন বছরের জন্য এ অনুষ্ঠান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। পরের বছর ব্লিস একই স্থানে ১-৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

এশিয়া বিষয়ক ১৬টি পাদুকা সমিতির ব্যবসায়ী নেতারা ৭০টি আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ব্লিস পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশ থেকে সরবরাহের সুযোগের পাশাপাশি বিনিয়োগের সুযোগও খুঁজে পান।

আবাসন খাতের ব্যবসা বেড়েছে ৫-৭ শতাংশ

গত ২০০৯ সালের পর ফ্ল্যাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। আবাসনপ্রতিষ্ঠানগুলোও প্রচুর প্রকল্প হাতে নেয়। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে আবাসন খাতে ধস নামে। তবে গত এক-দেড় বছরে ফ্ল্যাট বিক্রি আনুমানিক ৫-৭ শতাংশ বেড়েছে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গতকাল রোববার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) নেতারা এমনটা জানিয়েছেন। অবশ্য তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত নেই। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট বিক্রি বৃদ্ধির বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন তাঁরা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলা শুরু হচ্ছে। মেলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকালের সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে রিহ্যাব। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের একটা বড় অংশজুড়েই ছিল দাবিদাওয়া। অবশ্য কয়েক বছর ধরে প্রায় সব অনুষ্ঠানে একই দাবি জানিয়ে আসছেন রিহ্যাব নেতারা। দাবি পূরণ হয় না। তাই পুরোনো দাবিগুলোই বারবার তুলে ধরেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ করতে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চেয়েছে রিহ্যাব। যাতে এক অঙ্কের সুদে আবাসনের জন্য ঋণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানোর দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁদের বিশ্বাস, নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে নামিয়ে আনলে আবাসন খাতের গতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে আবাসন খাতে বিনা শর্তে কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়ার পুরোনো দাবিটির ব্যাপারে কিছু বলেননি তাঁরা।

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যার কারণে আবাসন খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও সংকট এখনো চলছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি।’

রিহ্যাবের দাবি কেন পূরণ হচ্ছে না। সমস্যা কোথায়? জানতে চাইলে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন খাতকে চাঙা করতে কয়েক বছর ধরেই কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছে রিহ্যাব। দাবি একেবারেই পূরণ হয়নি, তা বলা যাবে না। সরকার থেকে ঘোষণা না এলেও বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ৮৫০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। তারা এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়া নিবন্ধন ফি কমানোর আশ্বাস মিলেছে। আশা করছি, আসছে অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে।’

রিহ্যাবের এই সহসভাপতি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই আবাসন খাতের সেকেন্ডারি মার্কেট আছে। তবে বাংলাদেশে উচ্চ নিবন্ধন ব্যয়ের কারণে বাজারটি তৈরি হচ্ছে না। এ জন্য পুরোনো ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ব্যয় ২-৩ শতাংশ নির্ধারণ করা দরকার। তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের প্রতারণা বন্ধে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সে জন্য প্রতারণা তুলনামূলক কমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ, শাকিল কামাল চৌধুরী, আবু বকর সিদ্দিক, মেলা কমিটির সদস্য মির্জা আনোয়ার, এস এম ইমদাদ হোসেন, এম জি আজম প্রমুখ। এতে জানানো হয়, পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের আবাসন মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মেলায় ২০৩টি আবাসন, ভবন নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।

উদ্বোধনের দিন বেলা দুইটায় মেলার প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। বাকি দিনগুলোতে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় একবার প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা আর পাঁচবার প্রবেশের জন্য ‘মাল্টিপল টিকিট’ ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে। টিকিটের অর্থ দুস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। প্রবেশ-টিকিটে র‍্যাফল ড্র হবে। সেখানে প্রথম পুরস্কার থাকছে একটি প্রাইভেট কার।

আলু-মুলায় মুখ কালো

শীতের সকাল। সবজির পাইকারি বাজার বগুড়ার মহাস্থানহাট শীতকালীন নানা ধরনের সবজিতে ভরপুর। সেই সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় মুখরিত হাট। ভোরে খেত থেকে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, আলু, গাজরসহ সবজি তুলে হাটে নিয়ে এসেছেন চাষিরা। এসব সবজি কিনতে আসা আড়তদার-ব্যাপারীদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ছিল না চাষিদের প্রত্যাশিত দাম।

এ বছর বর্ষাজুড়ে সবজির দাম চড়া ছিল। তাই আগাম সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশি ছিল। কিন্তু শীতের শুরুর দিকেই বেশির ভাগ সবজির দামে ধস নেমেছে। বেশি কমেছে মুলার দাম। প্রতি মণ মুলা বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অথচ মুলার উৎপাদন, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ মণপ্রতি খরচ হয় ৩২০ টাকার মতো। চাষিরা জানান, দুই সপ্তাহ আগেও এ হাটে প্রতি মণ মুলা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম পড়ে গেছে।

১০ ডিসেম্বর মহাস্থানহাটে গেলে কৃষকেরা এ হিসাব দেন। তাঁরা জানান, আগাম আলু চাষেও তাঁদের লাভ হচ্ছে না। মহাস্থানহাটে প্রতিমণ ক্যারেজ, গ্র্যানুলা ও অ্যাসটরিক জাতের নতুন আলু গড়ে প্রতি মণ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। আলু চাষে বিঘাপ্রতি কৃষকের খরচ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন গড়ে ২০ থেকে ২২ মণ। প্রতি মণ আলু গড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতি বিঘায় গড়ে সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।

হাটে সবজি বিক্রি করতে যাওয়া চলনাগাতি গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান বলেন, ১১ মণ মুলা এনে তিনি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এক মাস আগে একই হাটে তিনি মুলা বিক্রি করেন ২ হাজার ৪০০ টাকা মণ দরে।

হাটে আগাম জাতের নতুন আলু বিক্রি করতে যাওয়া মাস্তা গ্রামের ফয়েজুল ইসলাম বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আগাম আলু চাষ করেছিলেন। জমির দাম ধরে বিঘাপ্রতি খরচ হয় গড়ে ২২ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ মণ আলু হয়েছে। ৫৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে তিনি হাতে পেয়েছেন মাত্র ১১ হাজার টাকা।

দেশি পাকড়ি আলু বিক্রি করতে আসা মোকামতলার আফাজ উদ্দিন বলেন, গত বছর এ সময় প্রতি মণ আলু ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। এবার দাম একেবারেই কম।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন, এ মৌসুমে বগুড়ায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার হেক্টরে।

দামে ধস নেমেছে বেগুনের দামেও। ১০ ডিসেম্বর মহাস্থানহাটে প্রতি মণ গোল ও লম্বা বেগুন ৬০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হয়। এক মাস আগে হাটে প্রতিমণ বেগুন গড়ে ২ হাজার টাকা মণ দরে কেনাবেচা হয়।

অবশ্য ফুলকপিতে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা। এক সপ্তাহ আগে প্রতিটি গড়ে এক কেজি ওজনের প্রতি মণ ফুলকপির দাম ছিল ৪০০ টাকা। ১০ ডিসেম্বর সেই ফুলকপি প্রতি মণ ৮০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। এতে কিছুটা লাভ হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা।

সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এসকেএফ

দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ কোম্পানি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাজার প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কোম্পানির বার্ষিক সম্মেলনে এ কথা বলা হয়েছে।

এবারের সম্মেলনে প্রতিপাদ্য ছিল ‘উইন দ্য রেস থ্রো রিপিটেড অ্যাকশন উইথ কারেজ অ্যান্ড এথিকস’ বা ‘সাহসিকতা ও নৈতিকতার সঙ্গে পুনঃ পুনঃ পদক্ষেপ নিয়ে প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া’। সেই লক্ষ্যে আগামী ২০১৮ সালে কোম্পানিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন এসকেএফের গোটা কর্মী বাহিনী। দেশে ব্যতিক্রমী সাহসের প্রতিচ্ছবি ও বন্ধুদের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী তরুণ ফারাজ আইয়াজ হোসেনের অমিত সাহস এবং ট্রান্সকম গ্রুপ ও এসকেএফের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নৈতিক মূল্যবোধের অবিচল প্রেরণায় ৪ হাজার জনবলের এই কর্মী দল দারুণ উজ্জীবিত এবং কোম্পানির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিদের ভয়াবহ হামলার সময়ে বন্ধুদের ত্যাগ না করে তাঁদের পাশে থাকতে গিয়ে তরুণ ফারাজ শহীদ হন।

অনুষ্ঠানে শহীদ ফারাজের মহান আত্মত্যাগের সমুজ্জ্বল আদর্শ তুলে ধরে বক্তব্য দেন তাঁর বড় ভাই যারেফ আয়াত হোসেন। তিনি ফারাজ হোসেন ফাউন্ডেশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং তাঁর সাহসিকতা, বন্ধুত্ব ও মানবিকতার আলোকে কর্মীদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে ট্রান্সকম গ্রুপ ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানসহ কোম্পানির পরিচালক শাহনাজ রহমান, আতিকুর রহমান, আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও শাজরেহ হক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কোম্পানির বিক্রয় ও বিপণন পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম, টেকনিক্যাল সার্ভিসেসের পরিচালক ইখতিয়ার হোসেন, বিপণনপ্রধান বিনয় দাস, বিক্রয়প্রধান এ বি সিদ্দিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের প্রধান রাজাসেকর বক্তব্য দেন।

লতিফুর রহমান বলেন, ‘সর্বোচ্চ ফল পেতে আমাদের সাহস ও নৈতিকতার সঙ্গে এবং সর্বোত্তম প্রচেষ্টায় কাজের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

সম্মেলনে লতিফুর রহমান ও সিমিন হোসেন ট্রান্সকম ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের সেরা কর্মীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। বিজ্ঞপ্তি

রিহ্যাবের সেই পুরোনো দাবি

কয়েক বছরে ধরে প্রায় সব অনুষ্ঠানেই একই দাবি জানিয়ে আসছেন দেশের আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব নেতারা। দাবি পূরণ হয় না। তাই নতুন করে আবারও সেই পুরোনো দাবিগুলোই বারবার তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের শীতকালীন আবাসন মেলা। মেলার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রিহ্যাব। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়েই ছিল পুরোনো দাবিদাওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ করতে ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল চেয়েছে রিহ্যাব। যাতে করে এক অঙ্কের সুদে আবাসনের জন্য ঋণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ কমানোর দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা। তাঁদের বিশ্বাস, নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে নামিয়ে আনলে আবাসন খাতের গতিশীলতা ফিরে আসবে। তবে আবাসন খাতে বিনা শর্তে কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ-সুবিধা দেওয়ার পুরোনো দাবিটির ব্যাপারে কিছু বলেননি তাঁরা।

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে নীতিনির্ধারণী কিছু সমস্যার কারণে আবাসন খাত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও সংকট এখনো চলছে। কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো ঘোষণা আসেনি।’

রিহ্যাবের দাবি কেন পূরণ হচ্ছে না, সমস্যা কোথায়? জানতে চাইলে নুরুন্নবী চৌধুরী বলেন, ‘আবাসন খাতকে চাঙা করতে কয়েক বছর ধরেই কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছে রিহ্যাব। তবে দাবি একেবারেই পূরণ হয়নি তা বলা যাবে না। সরকার থেকে ঘোষণা না এলেও হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন সাড়ে আট শ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে। তারা এক অঙ্কের সুদে আবাসন ঋণ দিচ্ছে। এ ছাড়া নিবন্ধন ফি কমানোর আশ্বাস মিলেছে। আশা করছি, আসছে বছর ঘোষণা আসবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, পরিচালক কামাল মাহমুদ, শাকিল কামাল চৌধুরী প্রমুখ। এতে জানানো হয়, পাঁচ দিনব্যাপী রিহ্যাবের আবাসন মেলার উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এবারের মেলায় ২০৩টি আবাসন, ভবন নির্মাণসামগ্রী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। ২৪টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্পনসর হয়েছে।

উদ্বোধনের দিন বেলা দুইটায় মেলার প্রবেশদ্বার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে। বাকি দিনগুলোয় সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। মেলায় একবার প্রবেশের জন্য টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা আর পাঁচবার প্রবেশের জন্য ‘মাল্টিপল টিকিট’ ১০০ টাকায় পাওয়া যাবে। টিকিটের অর্থ দুস্থ ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। প্রবেশ টিকিটে র‍্যাফেল ড্র হবে। সেখানে প্রথম পুরস্কার থাকছে একটি প্রাইভেট কার। দ্বিতীয় পুরস্কার একটি মোটরসাইকেল।

রিহ্যাব ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় আবাসন মেলার আয়োজন করছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১০টি মেলা করেছে তারা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ১২টি, যুক্তরাজ্য, দুবাই, ইতালির রোম, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও কাতারে ১টি করে আবাসন মেলার আয়োজন করেছে রিহ্যাব।

উদ্যোক্তা তৈরির টাকা বেহাত

উদ্যোগও সফল হয়নি, টাকাও ফেরত আসছে না। কারণ, প্রভাবশালীরা উদ্যোক্তা তৈরির সুদবিহীন মূলধনের বেশির ভাগ টাকাই মেরে দিয়েছেন। তাঁদের অনেককে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও নতুন করে মূলধন জোগান দেওয়ার তৎপরতা চলছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে সমমূলধন তহবিল বা ইইএফ ব্যবস্থাপনাকারী সংস্থা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

গত অক্টোবর পর্যন্ত ইইএফ থেকে সারা দেশের ৯৫৫ জন ব্যক্তিকে ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেওয়া হয়েছে। এর অর্ধেক টাকাই আদায় হচ্ছে না। সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও টাকা ফেরত না দেওয়ায় এবং মূলধনের যথাযথ ব্যবহার না করায় কৃষি খাতের ১৫১টি প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ২৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে আইসিবি।

জানতে চাইলে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুদবিহীন মূলধন দেওয়ার পরও যারা সফল হতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অর্থায়নের বড় অংশই শুরুর দিকের। আমরা এখন অনেক দেখেশুনে অর্থ ছাড় করছি। কোনো ধরনের দুর্ঘটনা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিদর্শন প্রতিবেদন ভালো না হলে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে না।’

কৃষিভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং খাত দুটির উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা নিয়ে ২০০১ সালে গঠন করা হয়েছিল ইইএফ নামের এই তহবিল। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত এ সময়ে দেওয়া অর্থের বড় অংশেরই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ২০০৯ সালের পর তহবিলটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় আইসিবিকে। ইইএফ পরিচালনায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার।

তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী, ইইএফ সহায়তার প্রথম কিস্তি ছাড়ের দিন থেকে পরবর্তী আট বছরের মধ্যে পুরো অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা। এর মধ্যে কৃষিভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে তহবিলের প্রথম কিস্তি ছাড়ের ৪ বছরের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থ ফেরত দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রথম কিস্তি ছাড়ের ৪ বছরের মধ্যে ১০ শতাংশ ফেরত দিতে হয়।

আইসিবি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের আগে যাঁরা আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অনেককে এখনো মূলধন জোগান দেওয়া হচ্ছে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে পরিদর্শন করা হচ্ছে। এরপরই অর্থ ছাড়। তবে বেশির ভাগ পরিদর্শনেই প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ভালো তথ্য মিলছে না। অনেকেই অর্ধেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন, আবার কেউ কেউ অন্যের প্রকল্প ভাড়া নিয়ে চালাচ্ছেন। তবে উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার চাপে শেষ পর্যন্ত এসব প্রতিবেদন ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে অর্থ ছাড় করতে হচ্ছে।

২০১৪ সালে কুমিল্লা জেলায় মঞ্জুর এগ্রো ফার্মকে মূলধন জোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিবি। পাম ফল থেকে পাম তেল উৎপাদিত হবে, এ জন্য নতুন এই উদ্যোগে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া উদ্যোক্তা নিজে এ তহবিলে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জোগান দেবে। আইসিবি দুই দফায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেয়। এরপর আইসিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দেখতে যৌথ পরিদর্শন করে। ওই পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘টাকা দেওয়ার পরও প্রকল্পটির উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। টাকা ছাড়ের আগের অবস্থাতেই রয়েছে। তহবিলের সিংহভাগ অর্থ প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়নি।’ এরপরও ইইএফ তহবিলের বাকি ৩২ লাখ টাকা ছাড়ের আবেদন করেন উদ্যোক্তা।

আইসিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার চাপে এই প্রকল্পে বাকি অর্থ ছাড়ের জন্য নতুন করে পরিদর্শন করা হয়। এতেও উঠে এসেছে, ‘আধুনিক পদ্ধতিতে পাম ফল থেকে তেল উৎপাদন করা হবে, এ শর্তেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এতে পাম তেলের পরিবর্তে দেশীয় সরিষার তেল উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ভেতরেই গরুর খামার তৈরি করা হয়েছে।’ এরপরও ওই প্রকল্পে নতুন করে অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।

মঞ্জুর এগ্রোর এমডি মঞ্জুর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শীতের কারণে পাম ফল পাওয়া যাচ্ছে না, এ কারণে উৎপাদন বন্ধ আছে। গরুর খামার, সরিষার তেল ও কৃষি খামার আমার নিজস্ব প্রকল্প। কিছু কর্মকর্তা প্রকল্পের নামে ভালো প্রতিবেদন দেয়নি, এ কারণে তাদের সঙ্গে ঝামেলাও হয়ে গেছে। বিষয়টার সুরাহা হয়ে যাবে।’

মঞ্জুর হোসেন জানান, চার জেলায় পাম ফল লাগানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে এ জন্য ১০ লাখ টাকাও দিয়েছে। তবে আগের মতো সহায়তা মিলছে না।’