সম্পাদক ও প্রকাশকের পক্ষ থেকে সকলকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিউজ মিডিয়া ২৪: ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত আনন্দ- পবিত্র ঈদুল আযহার উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হোক সবাই এ প্রত্যাশায় নিউজ মিডিয়াবিডি ২৪ এর অগণিত পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা ও সকল শুভানুধ্যায়ীকে জানাচ্ছি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।

মো:কামরুল হাসান রনি

প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশক
নিউজ মিডিয়া ২৪/মাসিক কমল পাতা
সভাপতি,গ্রামিন জনগোষ্টির উন্নয়নের মানবাধিকার সংস্থা

দেশবাসীকে ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খালেদা জিয়া

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা : দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গত রোববার কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে খালেদা জিয়া এ শুভেচ্ছা জানান।

আজ মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ওই তথ্য দেন। রিজভী বলেন, গত রোববার কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী, বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায়, দলের নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে দেশবাসীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিশেষ আদালত। এরপর থেকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে চাঁদপুরের বিদায়ী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম

নিউজ মিডিয়া ২৪: আজ আমি চাঁদপুরের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একেবারে সবটুকু উজাড় করে দিলাম এই বিদায়ী ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে ভালোবাসার নিদর্শন ফুলেল শুভেচ্ছা আমি এ জেলার প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌছে দিলাম। আমি চাঁদপুরের মানুষগুলোকে কখনো কোনোদিন ভুলতে পারবো না। আমার প্রত্যেকটি কাজে এ মানুষগুলোর যে কী অসম্ভব সহযোগিতা পেয়েছি, তা কোনোদিন ভুলার মতো নয়। আমি তো আমার চাকুরির জন্যে, আমার দায়িত্ব ও কর্তব্যের জন্যে করেছি। কিন্তু আপনারা সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণী-পেশার মানুষগুলো যে আমার ওইসব কাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন, সেটি তো আপনারা না করলেও পারতেন। আপনারা সেটি করেছেন, তা সম্পূর্ণ সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে। সুতরাং আমার যতটুকু সফলতা, এর সম্পূর্ণ কৃতিত্বের দাবিদার তো আপনারা। আপনারা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ যদি আমাকে সার্বিক দিক দিয়ে সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন না করতেন তাহলে তো আমি অনেক বড় বড় চ্যালেঞ্জিং কাজে সফল হতাম না। চাঁদপুরে সড়কে ট্রাক্টর নামক যন্ত্রদানব চলাচল বন্ধের ব্যাপারে আপনারা আমাকে বাহ্বা দিচ্ছেন কিন্তু আমি বলবো-এর সফলতা আপনাদের। কারণ, আপনারা না বললে, পত্রিকায় তুলে না ধরলে তো আমি এ বিষয়ে জানতামই না।’

এভাবেই নিজের সকল অর্জন এবং সফলতার জন্যে চাঁদপুর জেলাবাসীর কৃতিত্বের কথা নিঃসঙ্কোচিত্তে বললেন চাঁদপুর জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম। বদলিজনিত বিদায়লগ্নে চাঁদপুরে তাঁর সর্বশেষ কর্মদিবসের দিন গতকাল ১২ আগস্ট চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এভাবেই চাঁদপুর এবং চাঁদপুরের মানুষগুলোকে নিয়ে নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ মতবিনিময় সভাকালে ১৬ জন সাংবাদিকের বক্তৃতার সময় এবং পুলিশ সুপার নিজের বক্তৃতার সময় বেশ ক’বার তিনি আবেগতাড়িত হয়ে যান, অশ্রুসিক্ত হন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার যেনো নিজের আপনজনদের ছেড়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালের ১২ জুন চাঁদপুর জেলায় যোগদান করেন আর ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট বিদায় নিলেন। তিন বছর দুই মাস এ জেলায় দায়িত্বপালনকালে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার কী কী জনহিতকর কাজ করেছেন তাঁকে সুদীর্ঘকাল মনে রাখার মতো, তারও সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন ১৬ জন সাংবাদিক তাঁদের বক্তৃতায়। বিশেষ করে সড়কে ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ করা, মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স, তাঁর কার্যালয়ে নারী ও শিশু সহায়তা সেল খুলে অনেক অসহায় নারীর পাশে দাঁড়ানো এবং পুরো জেলাবাসী মাদক, বাল্যবিবাহ ও জঙ্গিবাদ বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন করা ইত্যাদি নানা জনকল্যাণকর উদ্যোগের কথা সাংবাদিকরা তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। এসব প্রসঙ্গ তুলে ধরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত তাঁর বক্তৃতায় বলেন, কথা রেখে যেতে পারা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব, যেটি আপনি পেরেছেন। আর আমরা আপনার মাঝে সৃষ্টিশীলতা খুঁজে পেয়েছি। নারীর সীমাবদ্ধতাও আপনি অতিক্রম করতে পেরেছেন। আর চাঁদপুর আপনার চাকুরিজীবনে এ জন্যই স্মরণীয় হয়ে থাকবে যে, এ জেলায় থাকতেই আপনি পিপিএম পদক পেয়েছেন, পর পর দু’বার পুলিশের জাতীয় প্যারেডে নেতৃত্বে দিয়েছেন।

এসব কিছু কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বিদায়ী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার আবারো বলেন, এ জন্যই তো বলছি, চাঁদপুরকে আমি ভুলতে পারবো না। তিনি বলেন, আমি মানুষকে সাথে নিয়ে কাজ করার সুযোগ এ জেলা থেকেই পেয়েছি। পুলিশ সুপার হিসেবে আমার চাকুরি চাঁদপুরই প্রথম। আমি চেষ্টা করেছি জনবান্ধব পুলিশিংয়ের জন্যে। শুরুতে আমি পুলিশের সাথে মানুষের যে একটা দূরত্ব রয়েছে এবং ভুল ধারণা রয়েছে সেটি ঘুচাতে। ইনশাআল্লাহ্ আমি তাতে শতভাগ না হলেও অনেকটা সফল হয়েছি। মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো জেলায় এ টুর্নামেন্টে ১ হাজার ৪শ’ ৭১টি ম্যাচ হয়েছে। ২ হাজার ২শ’ ৫০ জন খেলোয়াড় এসব ম্যাচে খেলেছে। এই টুর্নামেন্ট যেনো অব্যাহত থাকে, আর আপনারা চাইলে অবশ্যই থাকবে। এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৫ জনকে তৈরি করতে পেরেছি। এখন এদেরকে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং এবং পুলিশ সুপারও সাংবাদিকদের হাতে ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দিয়ে পুরো জেলাবাসীকে এ শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া ইনার হুইল ক্লাবের পক্ষ থেকেও পুলিশ সুপারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর সভাপ্রধানে সাংবাদিকদের মধ্য থেকে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মির্জা জাকির, সাবেক সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, শহীদ পাটোয়ারী, বিএম হান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, সোহেল রুশদী, জিএম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, সাংগঠনিক সম্পাদক আলম পলাশ, প্রচার সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, লাইব্রেরি সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন লিটন, সদস্য শাহাদাত হোসেন শান্ত ও আজীবন সদস্য তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী। এছাড়া অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের স্বামী মোঃ হেলাল উদ্দিন, নারী নেত্রী অধ্যক্ষ মাহমুদা খানম ও নাঈমা মোশারফ।

বছরের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করছে রাজধানীবাসী

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বর্ষা মৌসুমের মাঝামাঝি এসে বৃহস্পতিবার বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনটি পার করছে রাজধানীবাসীবাসী।
আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল বলেন, আজ বছরের সবচেয়ে গরম দিন গেল ঢাকায়। বৃষ্টিহীন দিনে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় গরম অনুভূত হয়েছে তাপমাত্রার চেয়েও বেশি।
আগের দিন বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকার তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। তবে শ্রাবণের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় এমন আবহাওয়া অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ নাজমুল।
২০১৪ সালের ২২ এপ্রিল ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা পাঁচ দশকের সর্বোচ্চ ।

পানামা ও প্যারাডাইস পেপারে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে: দুদক চেয়ারম্যান

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা : পানামা ও প্যারাডাইস পেপারে থাকা ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার দুদক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে পানামা ও প্যারাডাইস পেপারে বাংলাদেশি কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম আসার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত সাতজনকে তলব করেছে দুদক। তাদের মধ্যে সোমবার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আজ এখন পর্যন্ত একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি দুজনের কাছে দুদক থেকে পাঠানো চিঠি ঠিকানা সঠিক না হওয়ায় ফেরত এসেছে।
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন পেপারে আসা নামগুলো দেখে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। কাউকে হয়রানির জন্য এ জিজ্ঞাসাবাদ নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের অবৈধ সম্পদ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ, মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পদ অর্জন বিষয়টি জড়িত। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে আসলে মানি লন্ডারিং হয়েছে কিনা।
এদিকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা। তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত ও প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয় ও সম্পদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দুদক থেকে আমার ট্যাক্স ও ভ্যাটের কাগজ চাওয়া হয়েছে, যেগুলো আমি পরবর্তীতে দুদকে জমা দেবো। চলমান তদন্ত সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, তদন্ত কমিটি এটার তদন্ত করছেন। তারা সবগুলো বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে।

দ.এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের কোনো বন্ধু নেই: আলী রীয়াজ

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রর ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কোনো বন্ধু নেই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান যথেষ্ট। কিন্ত ভারত সব সময় বাংলাদেশের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আর এটা বুঝতে প্রণব মুখার্জির বই যথেষ্ট। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মূলত অম্ল মধুর মতো।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে “বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টা আলোচনা হয় সেটা হলো, আগামী জাতীয় নির্বাচন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি আবার হবে কিনা তা নিয়ে সবার মধ্য একটা আশঙ্কা কাজ করছে। এ নিয়ে সবার মধ্য অস্থিরতা এবং ভয় কাজ করছে। যদিও এটা নতুন কিছু নয়। তবে আমার মনে হয় অতীতের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশে বেশি রাজনৈতিক সংকট চলছে।

বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে নিয়ে অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন না হলে কট্টর ইসলাম পন্থীদের প্রভাব বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই এখন বলছে এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কিনা! কিন্তু তার থেকে বড় প্রশ্ন হলো- সকল দল নির্বাচনে যাবে কিনা। গণতন্ত্রের এই একটা বিষয় নিয়ে সবাই ভাবছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে কারোর কোনো চিন্তাভাবনা নেই, এটাই আমাকে অবাক করে। অন্য বিষয়গুলোও বিবেচনা হওয়া উচিৎ।

বৈশ্বিকভাবে এখন বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা একটি ভিন্ন মর্জাদা এনে দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বিস্তার ক্রমন্বয়েই বাড়ছে। সেখানে ভারতও প্রতিযোগী হওয়ার চেষ্টা করছে। প্রকৃত অর্থে তারা পেরে উঠতেছে না। তাদের সাথে বাংলাদেশ ছাড়া আর কেউ নেই। এখানের সব বিষয়েই তাদের যতটুকু দৌরত্ম রয়েছে। এটা আর কোথাও নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, কতৃত্ববাদী শাসনের অবসান হলেই যে গণতন্ত্র ফিরে আসবে বিষয়টা আসলে তা নয়। ১৯৯১ সালেই সিভিল সোসাইটিকে দলীয় করণ করা হয়েছে। এতে করে সিভিল সোসাইটির মধ্য বিভক্ত তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দশকে নতুন করে শ্রেণি বৈষম্য বেড়েছে। সুইস ব্যাংকে টাকাতো বাংলাদেশীরাই রাখছে। কিন্ত সেটার কোনো ব্যাখা রাষ্ট্রর কাছে নেই। বিএনপির অন্যতম রাজনৈতিক উপাদান হলো ভারত বিরোধিতা করা আর ক্ষমতাসীনদের ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ এসব একেকটা অর্থ বহন করে।

আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর ফেলো রাষ্ট্র বিজ্ঞানী রওনক জাহান বলেন, বিশ্ব নেতৃত্ব দেখছে শুধু তরুণদের। ওবামা জাস্টিন ট্রুডোরা যখন তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছে তখন বাংলাদেশ শুধু বুড়োদের খুঁজে বেড়ায়। তরুণদের প্রতিনিধিত্ব এবং তাদের মেধার মূল্যায়নের বিষয়টিও আমাদের ভাবতে হবে।

রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে। রিডিং ক্লাব ট্রাস্টের সভাপতি আরিফ খান, নির্বাহী প্রধান জুলফিকার ইসললাম প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনের নতুন স্টাইল দেখালো গাজীপুর

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: ‘আওয়ামী লীগের বদনাম হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না। কেন্দ্রের নির্দেশ সবাইকে মেনে চলতে হবে।’ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তিনদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হলেও কেউ মানলেন না সেই নির্দেশ। প্রকাশ্যেই কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারার ‘মহাকর্মযজ্ঞ’ দেখালেন সরকার দলীয় গাজীপুরের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যা গত মাসের ১৫ তারিখে খুলনায় অনুষ্ঠিত বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীন সবচেয়ে বিতর্কিত নির্বাচনকেও হার মানিয়েছে বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, নির্বাচনের নতুন স্টাইল দেখালো গাজীপুর। এমন নির্বাচন কেউ আগে কল্পনাও করতে পারেননি। নৌকায় সিল মারা ব্যালট পেপার ভোটারদের সরবরাহ আবার মেয়রপ্রার্থীর ব্যালট পেপার না দিয়ে শুধু কাউন্সিল প্রার্থীদের ব্যালট পেপার সরবরাহের ঘটনাও ঘটেছে গাজীপুরে। এছাড়া জালভোটের অভিনব সব কৌশল প্রয়োগ হয়েছে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে। ফলে দেশবাসীর কাছে এখন নতুন আলোচনার নাম হয়েছে গাজীপুর।
এদিকে অনেকের প্রত্যাশা ছিল, জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনার পর গাজীপুরে অন্তত মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াবে ইসি। কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, খুলনায় যা হয়েছিল কিছুটা আড়ালে-আবডালে। গাজীপুরে তা নগ্নতার চরম বহিঃপ্রকাশ দেখেছেন দেশবাসী। গাজীপুরে ‘ভোট ডাকাতির’ নতুন কৌশল প্রয়োগের অভিযোগ তুলে তা ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানের’ পাশাপাশি নতুন করে ভোটের আয়োজন করার দাবি করেছে বিএনপি। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন গাজীপুরে ‘সুন্দর ভোট উপহার’ দেওয়ার জন্য। একইভাবে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকার আশাও ওবায়দুল কাদেরের।
অনিয়মের ‘লেটেস্ট মডেল’ গাজীপুর
খুলনার মতো গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচন দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ হলেও অন্তরালে অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতি হয়েছে সীমাহীন। অনেকে বলেছেন, গাজীপুরে জালিয়াতির স্টাইল খুলনাকে হার মানিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুরুর দিকে ভোটগ্রহণ স্বাভাবিক মনে হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকেই আসতে থাকে অনিয়মের নানা খবর। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকেরা জালভোট দিতে এলে তাদের নিবৃত্ত না করে সহযোগীর ভূমিকা পালন করে ভোটকেন্দ্রের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাদের যোগসাজশে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থীর এজেন্টদের। কোনো কোনো কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্টরা ঢুকতেই পারেনি। কেন্দ্রের গেট থেকে ‘সাদা পোশাকধারীরা’ তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ মিলেছে।
আধঘণ্টাও কেন্দ্রে টিকতে পারেননি ধানের শীষের এজেন্ট: গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কোনো কেন্দ্রে আধঘণ্টাও টিকতে পারেননি বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পোলিং এজেন্টরা। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া নির্বাচনে কোনো কোনো কেন্দ্রে ১০ থেকে ২০ মিনিট করে বসতে পারলে পরে তাদের বের করে দেয়া হয়। গতকাল সারাদিন নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো ঘুরে এ চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থকরা কেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান নিয়ে দখলে নেয়া শুরু করে। একই সঙ্গে পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়। গাজীপুর কোনাবাড়ীর বিভিন্ন কেন্দ্রে সরজমিন দেখা যায়, এই এলাকার একটি কেন্দ্রেও ভোটকক্ষে ধানের শীষের কোনো পোলিং এজেন্ট ছিলেন না। জরুন হাফিজিয়া মাদরাসা কেন্দ্রে দেখা যায় নৌকা প্রতীকের ব্যাজ ধারণ করে ভোট কক্ষগুলোতে বসে আছেন এজেন্টরা।
নারীকেন্দ্রে পুরুষ ভোটার : বাইরে দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতাও লক্ষণীয়। কিছুক্ষণ পরপর এদিক-ওদিক ছুটে যাচ্ছে র‌্যাব-পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি। কিছু কিছু কেন্দ্রের বাইরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প পাশাপাশি। সকালের দিকে প্রায় সব কেন্দ্রে এ রকম দৃশ্যই দেখা গেছে। এ সময় বেশির ভাগ কেন্দ্রেই উপস্থিত ছিলেন সকল প্রার্থীর এজেন্ট। সবমিলিয়ে গাজীপুর সিটিতে সকালে ছিল উৎসব ভাব। কিন্তু প্রতিটি কেন্দ্রের মুখে সকাল থেকেই অবস্থান নেয় নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। যাদের বেশির ভাগই তরুণ-যুবক। তারা হৈ-হুল্লোড় করছেন, ভোটারদের দাঁড় করিয়ে হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন নৌকা প্রতীকের ভোটার স্লিপ। নৌকার ব্যাজ ঝুলিয়ে দিয়েছেন গলায়। ক্ষমতাসীন দলের কর্মী-সমর্থকদের এমন অবস্থানের কারণে ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেনি এলাকায় বিএনপির চিহ্নিত কর্মী-সমর্থকরা। কেন্দ্রের মুখে এমন সরব মহড়ার মাধ্যমে বিএনপিসহ বিরোধী দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হলেও সেসব দেখেও দেখেননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী কর্মকর্তারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের পরিস্থিতি। বের করে দেয়া হয় ধানের শীষের এজেন্ট। মিডিয়ার উপস্থিতিতে প্রশাসনের নীরব সহায়তায় প্রকাশ্যে সিল মারা হয় নৌকা প্রতীকে। বিএনপির তরফে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে প্রতি কেন্দ্রে দুইজন করে বিকল্প এজেন্ট রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবতা দেখা গেছে ভিন্ন। সকাল ১০টার পর ৮০ ভাগ কেন্দ্রেই বিএনপি প্রার্থীর কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। আর প্রতিটি কেন্দ্রেই জালভোটের ব্যাপারে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের উত্তর শোনা গেছে একই- আমি কিছু জানি না, কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে টঙ্গী, গাছা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুর, বাসন, চান্দনা, জয়দেবপুর, সদর ও পুবাইলের অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে সরজমিন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
দুপুর তখন সাড়ে ১২টা। ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের গাছার বড়বাড়ি এলাকার মির্জা ইবরাহিম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুইটি মহিলা ভোটকেন্দ্র। কেন্দ্রের বাইরে সরকার সমর্থকদের মহড়া থাকলেও পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। স্কুল মাঠের উত্তরপ্রান্তের ভবনে ২৪৬ নং কেন্দ্র। প্রিজাইডিং কর্মকর্তার আধবোজা দরোজায় দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন। ঠিক পাশের কক্ষে উঁকি দিতেই দেখা গেল, ভেতরে পঞ্চাশোর্ধ একজন প্রকাশ্যেই নৌকা প্রতীকে সিল মেরে বাক্সে ভরছেন ব্যালটগুলো। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, একেবারে স্বাভাবিকভাবে। পরিচয় জানালেন, তার নাম আবদুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম দুলালের পোলিং এজেন্ট। কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট হয়েও মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোট মারছেন কেনো? উত্তরে জানালেন, দুই প্রার্থী একই দলের। তাই জাহাঙ্গীর আলমের হয়েও কাজ করছেন। স্বীকার করলেন, কাজটি ‘ভুল’ হয়েছে।
আড়াই ঘণ্টায় ব্যালট শেষ : ভোটগ্রহণ শুরুর মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় গাসিক ১৭নং ওয়ার্ডের মুগর খাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ব্যালট পেপার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রটি দখলে নেয় আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নৌকা মার্কার লোকজন। ভোটগ্রহণের কিছু সময় পরেই ওই কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেন নৌকা প্রতীকের কর্মীরা। পরে তারা ব্যালট নিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারেন। এ বিষয়ে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জহুরুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রে আবার নতুন ব্যালট পেপার এনে ভোট নেয়া শুরু হয়েছে। কিছু সময় ভোটগ্রহণ থেমে ছিল।
ভোটকেন্দ্রের গেটে তালা দিয়ে নৌকায় সিল : দুপুর সাড়ে ১২টায় ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জা ইব্রাহীম মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে এক যুবককে ৮টা ব্যালট হাতে ভোট দিতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকরা তার হাতে এতগুলো ব্যালট কেন জানতে চাইলে ওই যুবক বলেন, বয়স্ক মানুষকে সাহায্য করছেন। এরপর পেছন থেকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এসে সাংবাদিকদের প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে যান। সাথে ছিলেন পুলিশের এসআই আসিফ। প্রিজাইডিং অফিসার হারুন উর রশীদ সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, ‘এ কেন্দ্রে সকাল থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে।’ সাংবাদিকরা ওই যুবকের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ‘মাত্র অভিযোগটি পেলাম। আর কোনো অভিযোগ পাইনি।’
১২টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রের বাইরে কৃত্রিম গোলযোগ সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়রের সমর্থকেরা। এ সময় ভোটারদের বের করে দিয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ের গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। বাইরে থেকে বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকেরা গেটে ধাক্কা দিতে থাকে। পুলিশ অস্ত্র উঁচিয়ে তাদের সরে যেতে বলে। ঘটনার সময় কেন্দ্রের বুথগুলো থেকে নৌকার ব্যাজধারী প্রায় অর্ধশত যুবক বের হয়ে আসে। এরপর এসআই আসিফের মোবাইল নিয়ে এসে প্রিজাইডিং অফিসারকে কথা বলতে বলেন। প্রিজাইডিং অফিসার মোবাইলের অপর পাশে থাকা ব্যক্তিকে জানান, তার কেন্দ্রে ভোট রয়েছে ৩ হাজার ৪০০। সকাল থেকে ভোট দিয়েছেন ৯৪৪ জন। তখন মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে ১২০০ ভোট কাস্ট করার কথা জানানো হয় প্রিজাইডিং অফিসারকে। পরে ওই কক্ষে নৌকার ব্যাজধারী চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলেন, ‘মেয়র সাহেব বলেছেন, এটা নিয়ে নাও। এ ঘোষণায় বুথগুলো থেকে বেরিয়ে আসা পুরুষেরা আবার বুথে ফিরে যান এবং জালভোট দিতে থাকেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। কোনো জালভোট হচ্ছে না।’ এ দিকে এ কেন্দ্রে ঝামেলার সময় পাশের পুরুষ কেন্দ্র মাহিরা উচ্চবিদ্যালয়ও দখলে নেয় আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা।
নৌকায় সিল মারা ব্যালট সরবরাহ : ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জা ইব্রাহীম মেমোরিয়াল স্কুল ভোটকেন্দ্রের একটি বুথে ভোট শুরুর আগেই নৌকার সমর্থকেরা ব্যালটের একটি বইয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মেরে রাখে। পরে ভোটাররা ভোট দিতে এলে তাদের সিল মারা ব্যালট দেয়া হয়। দুপুর ১২টায় ওই কেন্দ্রের একটি বুথে ভোট দিতে ঢুকেন এক তরুণী। তিনি জানান, তাকে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। মেয়র প্রার্থীর ব্যালট নিতে গেলে সেখানে থাকা কয়েকজন জানায়, ‘মেয়রের ভোট দেওয়া লাগবে না। এ ভোট তারা নিজেরাই দিয়ে দিচ্ছে।’ একই ওয়ার্ডে পাশের হাজী আবদুল লতিফ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই অবস্থা দেখা গেছে। বেলা দেড়টায় জানা যায়, এ কেন্দ্রটিতে নৌকার পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রতীক ঠেলাগাড়িতেও সিল মারা রয়েছে।
নৌকায় সিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ: শহীদ স্মৃতি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকেরা জোর করে ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করে বিএনপি-সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থী হান্নান মিয়া হান্নুর সমর্থকেরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। ওই কেন্দ্রের ২০১ নম্বর বুথের ভোটার মীর মোহাম্মদ মোফাজ্জল (৩৩০৬৩৪১৮৭৭৮৬) বলেন, ‘আমি বুথে প্রবেশ করার পরে ৭-৮ জন লোক এসে আমার কাছ থেকে ব্যালট ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা বুথে থাকা অন্য ব্যালট নিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে থাকে।’ ওই কেন্দ্রের ৬টি বুথে বিএনপির কোনো এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ২০৩ নম্বর কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট শেষ। তবে নারী কাউন্সিলরের ব্যালট শেষ হয় ৮১টা। ওই বুথের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জানান, তাদের চার পাশ ঘিরে ধরে আধঘণ্টায় ভোট কেটে নেওয়া হয়। পাশের বুথ ২০৫ নম্বরেও একই ঘটনা ঘটে। এই বুথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট শাহীন রেজা নিজেও তার প্রার্থীর পক্ষে ব্যালটে সিল মারেন। সামনাসামনি এ অভিযোগ করেন নৌকার এজেন্ট মো: মিজানুর রহমান লিটন এবং অপর কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট আব্দুল করিম। ২০৬ নম্বর বুথে দেখা গেছে, মেয়র প্রার্থীর ব্যালট ১০৬টা ব্যবহার হলেও কাউন্সিলর ও নারী কাউন্সিলর প্রার্থীর ব্যালট গেছে ৯১টি। এবিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে সমস্যা জেনে নিচ্ছি। কিছু লোক জাল ভোট দিতে এসেছিল, পোলিং এজেন্টরা তাদের চিহ্নিত করার পর একটু সমস্যা হয়েছে। আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
একই ঘটনা জয়দেবপুর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মদিনাতুল উলুম সিনিয়র মাদরাসা কেন্দ্রেও। জোর করে ঢুকে নৌকার পে সিল মারে ২০ থেকে ৩০ জন যুবক। এ ঘটনায় সেখানে আধ ঘণ্টার মতো ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

ধানের শীষের এজেন্টদের কার্ড ছিনতাই : গাজীপুর সিটিতে বেশির ভাগ কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ছিল না। ভোট শুরুর দিকে কিছু কেন্দ্রে এজেন্ট ছিল। তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর তাদের বের করে দেয়া হয়। ধানের শীষের এজেন্টদের কার্ড ছিনিয়ে নেয় নৌকা সমর্থকেরা। কেন্দ্রের বাইরেও বিএনপি নেতাকর্মীদের থাকতে দেয়া হয়নি। কেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় সরকার দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের মহড়া ছিল দিনভর। ভোটের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নীলেরপাড়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরে বিএনপির কোনো এজেন্ট নেই। বাইরে ধানের শীষের ব্যাজ পরা কয়েকজনকে দেখা যায়। তারা অভিযোগ করেন, ভোট শুরুর পর পুলিশ এসে তাদের চলে যেতে বলেছে। বিএনপির এজেন্ট শূন্য ওই কেন্দ্রে ভোটের হারও ছিল অস্বাভাবিক। সেখানে প্রথম এক ঘণ্টায় ছয়টি বুথে প্রায় ৭০০ ভোট পড়ে। ওই কেন্দ্রে ভোটার ২৩২৭। কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার সুমন কুমার বসাক দাবি করেন, ধানের শীষের এজেন্টরা এসেছিল। তবে তারা কেন চলে গেলেন তা তিনি জানেন না।
আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের নিজ কেন্দ্র কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ধানের শীষের কোনো এজেন্ট ছিল না। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার তানজুরুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিএনপির এজেন্ট ঢুকতে পারছে না- এমন কোনো অভিযোগ তিনি পাননি।
৯ কেন্দ্রের ভোট স্থগিত : ৪২৫টি ভোটকেন্দ্রের অধিকাংশ কেন্দ্রেই ব্যালট পেপার ছিনতাই, জালভোট, কেন্দ্র দখল, বিরোধী পক্ষের এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ধানের শীষের ব্যাচ ছিনতাই করে নৌকার লোক বিএনপির এজেন্ট সেজে বসে থাকা এবং বিএনপির নির্বাচনী কেন্দ্র পর্যন্ত দখল করে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। তবে এর মধ্যে জালিয়াতির ঘটনায় মাত্র ৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়। স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলো হচ্ছেÑ খরতৈল মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (নং-৩৭২), খরতৈল মনসুর আলী আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (নং ৩৭৩), হাজী পিয়ার আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (নং-৩৮১), জাহান পাবলিক দত্তপাড়া টঙ্গী কেন্দ্র (নং-৩৪২), ভোগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (নং-৯৮), কুনিয়া হাজী আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-১ (নং-২৪৩), কুনিয়া হাজী আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (নং-২৪৪), মেশিন টুলস উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র-২ (নং-১৬১) এবং বিন্দান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পূবাইল কেন্দ্র (নং ২৭৪)।
এ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং অফিসার তারিফুজ্জামান জানান, কেন্দ্রগুলোর সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসার ইসির সাথে পরামর্শ করে বিধি মোতাবেক ভোট গ্রহণ স্থগিত করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে তালিকা পাঠিয়েছেন। এসব কেন্দ্রে ভোটারসংখ্যা ২৩ হাজার ৯৩৫ জন।
খুলনা টু গাজীপুর
খুলনা টু গাজীপুর। দুইশ’ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব দুই সিটির। খুলনায় ভোট হয়েছিল ১৫ই মে। এর ৪০ দিন পর ভোট গাজীপুরে। তবে দুই সিটির ভোটে দারুণ মিল দেখা গেছে ২৬ জুন, মঙ্গলবার। ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোটের উৎসব আর কেন্দ্র দখলে রেখে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেয়ার চিত্র দেখা গেছে দিনভর। খুলনার মতোই এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। নির্বাচনে অনিয়ম জাল ভোট ঠেকাতে পুলিশকে কোথাও তৎপর না দেখা গেলেও নির্বাচনী খবর সংগ্রহে থাকা সংবাদিকদের নানা অজুহাতে পুলিশ হয়রানি করেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে। এমনকি আটক করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। খুলনায় এক নতুন কিছিমের ভোট হয়েছিল। বাইরে দৃশ্যত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করে জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ ছিল পুরো নির্বাচনী এলাকায়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করেন। খুলনার মতোই গাজীপুরে দিনভর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। বড় কোনো সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সকাল থেকেই বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করতে থাকেন তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও এজেন্টরা কেন্দ্রেই যেতে পারেননি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন কেন্দ্র দখলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সকালে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা থাকলেও দুপুরের পর থেকে তা কমে যায়। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জাল ভোট দেয়ার মহাকর্মযজ্ঞ দেখায় সরকার দলীয় লোকজন। তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই গাজীপুরেও নির্বাচন শেষ হয়েছে।
ভোটের ফলাফল: গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ডের মোট ৪২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৬টিতে জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৪ লাখ ১০ ভোট। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।
এছাড়া অন্য মেয়রপ্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা নাসির উদ্দিন পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩৮১ ভোট। মিনার প্রতীকধারী ইসলামী ঐক্যজোট মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা ফজলুর রহমান ১ হাজার ৬৫৯ ভোট পেয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী কাজী রুহুল আমিন কাস্তে প্রতীকে ৯৭৩ ভোট, মোমবাতি প্রতীকের জালাল উদ্দিন ১ হাজার ৮৬০ ভোট ও ঘড়ি প্রতীকের ফরিদ আহমেদ ১ হাজার ৬১৭ ভোট পেয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনে মোট ৫৭ দশমিক ০২ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরমধ্যে বৈধ ভোটের সংখ্যা ৬ লাখ ৩০ হাজার ১১১।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে: ইসি
খুলনার মতো গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘গাজীপুরের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। নিজস্ব পর্যবেক্ষক দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের নির্দেশ ছিল কোনো কেন্দ্রে অনিয়ম হলে তা বরদাশত করা হবে না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, বিএনপি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছে। তাদের অভিযোগের ব্যাপারে আমি কোনো কিছু জানি না। জাল ভোটের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন বলেন, এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

‘আ.লীগ জিতেছে গণতন্ত্র হেরেছে’
নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গাজীপুরবাসী ৮০ বছরের ইতিহাসে এমন ভোট ডাকাতি দেখেনি।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ৪’শর অধিক কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্বরূপ উন্মোচন করার জন্যই বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেনি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতেছে, গণতন্ত্র হেরেছে।’
বিএনপির এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেনি। এমন ভোট ইতিপূর্বে গাজীপুরবাসী দেখেনি। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে কমিশনকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। এর আগে নির্বাচন চলাকালেই ভোট স্থগিতের দাবি করেছিলেন হাসান উদ্দিন সরকার।
আ.লীগ-বিএনপি যা বলছে…
গাজীপুর সিটিতে নির্বাচনের পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গাজীপুরে ভোট ডাকাতির নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ হয়েছে। এই নির্বাচন আমরা ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। সেই সাথে নতুন করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

অপরদিকে বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘গাজীপুরে সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ।’ একইভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নৌকার এই জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশা করছেন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

‘অর্থের অভাবে সাধারণের মানুষের ঈদ আনন্দ মাটি”

নিউজ মিডিয়া ২৪: কামরুল হাসান রনি :ঢাকা: দেশে সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা নেই। ব্যাংকেও অর্থ সংকট। যারা চাকরিজীবী তারাও অনেকে এখনো বেতন-বোনাস পাননি। তাই ঈদবাজারে আগের মতো ভিড় নেই। যার বড় প্রভাব দেখা গেছে রাজধানীর দর্জির দোকানগুলোতে। অন্য সময় ১০ রোজার মধ্যে দর্জির দোকানগুলোতে কাজের অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলেও এবার ১৯ রমজান পর্যন্ত কাজের কাঙ্ক্ষিত অর্ডার পাননি দর্জিরা। শুধু দর্জির দোকানই নয়। রেডিমেট বা তৈরি পোশাকের দোকানসহ পুরো ঈদবাজারে অন্য বছরের তুলনায় ভিড় কম। বেচা-কেনাও হচ্ছে না আগের মতো। ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে টাকার অভাবে কেনাকাটা করতে না পারায় সাধারণ মানুষের ঈদ আনন্দই পুরাপুরি মাটি হতে চলেছে।

এর পেছনে বেশ কিছু কারণ জানা গেছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বেশির ভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থসংকটে রয়েছে। আগের মতো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময় মতো বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস দিতে পারছে না। তাই বেসরকারি চাকরিজীবীরা পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটাও করতে পারছেন না। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরিজীবীদের দুই-তিন মাস পর্যন্ত বা তারও বেশি বেতন বাকি। ধার-দেনা করে চলছেন তারা। ঈদের আগে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-বোনাস পাওয়ার আশাও ছেড়ে দিয়েছেন কর্মীরা। সেই পরিবারগুলোতে আনন্দের পরিবর্তে হতাশা ও কষ্ট বয়ে আনছে এবারের ঈদ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন হতাশা ও কষ্টের কথা জানিয়েছেন অনেকে। এমনকি পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্যও ঈদে নতুন পোশাক কেনা হবে বলে কষ্টের সঙ্গে আর্থিক দুরাবস্থার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ।

তাদেরই একজন জামাল উদ্দিন (ছদ্মনাম)। একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ৪ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে আছেন তিনি। বেতন যা পান তা দিয়ে কষ্ট করে ৫ সদস্যের সংসার চালান। আজ মঙ্গলবার পবিত্র রমজানের ১৯তম দিন। জুন মাসের ৫ তারিখ যাচ্ছে। এখনো মে মাসের বেতন পাননি। বোনাসের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন। ঈদের কোনো কেনাকাটা এ পর্যন্ত তিনি করতে পারেননি। বেতন যা পান তা দিয়ে ঈদে নতুন পোশাক কিনলে সারা মাস না খেয়ে থাকতে হবে জামালের পরিবারকে। তাই এ ঈদে তার পরিবারের সদস্যরা নতুন পোশাকের চিন্তাই ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা শুধু জামাল উদ্দিনের একার নয়। ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদেরও একই অবস্থা। এভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আরও অনেকে একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে ব্যাংকে তারল্য সংকটের কারণেও এর প্রভাব পড়েছে ঈদবাজারে। বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স না আসা, বেকারত্ব বেড়ে যাওয়াসহ নানা কারণে সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা নেই। তাই ঈদুল ফিতরে নতুন পোশাকের যে ঐতিহ্য দেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে তা অর্থের অভাবে অনেকের জন্য এবার ফিকে হয়ে যাচ্ছে। দেশের বড় জনগোষ্ঠী- নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে।

অপরদিকে, বর্তমান সরকারের সুবিধাভোগী গোষ্ঠী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের লোকজন দেশে কেনাকাটা না করে ভারতসহ বিদেশে শপিং করতে দেশ ছেড়েছেন। এর মাধ্যমে দেশের টাকা যেমন বিদেশে চলে যাচ্ছে সেই সাথে অনেকে এই সুযোগে অর্থপাচারেও মেতেছেন। দেশ থেকে এভাবে অর্থ বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকটের পেছনে লুটপাটের পাশাপাশি এটিও অন্যতম কারণ বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে ঈদবাজারেও যার প্রভাব এখন স্পষ্ট।

কাজ কম, মুখ ভার দর্জিদের
ঈদকে কেন্দ্র করে দর্জির দোকানগুলো বরাবরই সরগরম থাকে। তবে এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর দর্জির দোকানগুলোতে। রোজার অর্ধেক পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশানুযায়ী কাজ না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন দর্জিরা। রোজার ১৮তম দিনে সোমবার রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, চাঁদনি চক, ফার্মগেইট ও মিরপুরের বিভিন্ন দর্জিবাড়ি ঘুরে ব্যস্ততা চোখে পড়লেও কাজ কম পাওয়ার হতাশা ছিল প্রায় সবখানেই। এসব মার্কেটে সাধারণ দোকানগুলোতেও তুলনামূলক ভিড় কম লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে দর্জিরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বার ঈদে কাজের বাড়তি চাপ থাকায় ১০ রোজার পরে কাপড়ের অর্ডার না নিলেও এবার তেমন কাজের চাপ না থাকায় এখনও অর্ডার নিচ্ছেন তারা। কাজ কম পাওয়ার পেছনে চাকরিজীবীদের দেরিতে বেতন ও বোনাস পাওয়াকেই মূল কারণ মনে করছেন তারা।

রোজার অর্ধেক পার হয়ে গেলেও গাউসিয়া মার্কেটের পাশের ইসমাইল ম্যানশনের তৃতীয় তলায় দুই-একটি ছাড়া সব দর্জি দোকানেই ক্রেতা আসামাত্র অর্ডার নিতে দেখা গেছে। এখানকার লাভলী টেইলার্সের কাটিং মাস্টার সাইফউদ্দিন জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ঈদে কম কাজ পেয়েছেন তারা। “অন্যান্য বার এই সময়ে তো আমাদের দম ফেলার সময় থাকে না। আর এইবার কাজ কম পাওয়ায় এখনও অর্ডার নিচ্ছে।”
স্কয়ার লেডিস ফ্যাশন টেইলার্সের কর্ণধার মো. খুরশেদ আলম ১২ বছর ধরে দর্জির কাজ করেন। ১৫ রোজা পর বেতন ও বোনাস পাওয়ায় কাজ কম এসেছে বলে মনে করেন তিনি। “রোজার ১৮ তারিখ আজ। কিন্তু মানুষের হাতে তো টাকা আসে মাসের ১ থেকে ৫ তারিখে। এই জন্যই এবার ব্যবসা খারাপ। আবার গর্জিয়াস ড্রেসগুলা রেডিমেডই বেশি পাওয়া যায়। তাই রেডেমেড কিনা নিতাছে।”

তবে দর্জিপাড়ায় কাজ কমে যাওয়ার জন্য পোশাক তৈরিতে বেশি মজুরি নেওয়াকেও দায়ী করছেন ক্রেতারা।

এদিকে নয়াপল্টনের পলওয়েল মার্কেটের এক দোকানি বলেছেন, প্রতি বছর রমজানে আমাদের যে পরিমাণ বেচা-বিক্রি হয় সেই তুলনায় এবারের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ, হিসেবে সাধারণ মানুষের পকেটে টাকা না থাকা, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, সেই তুলনায় আয় না বাড়া, উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো ঈদের কেনাকাটার জন্য বিদেশে যাওয়াকে উল্লেখ করেছেন ওই ব্যবসায়ী।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, আমদানি পণ্যে অতিমাত্রায় শুল্ক আরোপের কারণে একটি পণ্য দেশি বাজারে আসতে দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাই যারা বিদেশি পণ্য ইউজ করেন তাদের অনেকেই এখন আর দেশের বাজারে আসেন না। শপিংয়ের জন্য ঈদের আগে বিদেশ চলে যান। ভ্রমণ করে আসেন, কেনাকাটাও সারেন বিদেশে। আর এর মাধ্যমে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিজ্ঞ ওই ব্যবসায়ী

পেশাজীবীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বিভিন্ন পেশার শীর্ষস্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ইফতার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষক; বিভিন্ন সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও টিভি চ্যানেলের সম্পাদক ও সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ক্রীড়াবিদরা সোমবার গণভবনে এই ইফতারে অংশ নেন। ইফতারের আগে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন টেবিলে ঘুরে আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম আখতারুজ্জামান, দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাবেক বিচারপতি এএফএম মেজবাহউদ্দিন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আফম রুহুল হক এবং কৃষিবিদ নূর মোহাম্মদ তালুকদার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে ইফতার করেন। ইফতারে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এছাড়া পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন, ইন্সটিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ ইফতারে অংশ নেন।

ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১ জুন

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ১ জুন। চলবে ৬ জুন পর্যন্ত।
আজ বৃহস্পতিবার রেলভবনে সংবাদ সম্মেলন করে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এ তথ্য জানান। এর আগে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন মন্ত্রী।
এতে জানানো হয়, প্রথম দিন দেয়া হবে ১০ জুনের টিকিট। ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১০ জুন। চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত।
আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের কথা রয়েছে।
সে হিসাবে ঈদযাত্রীদের ১ জুন দেয়া হবে ১০ জুনের টিকিট। এর পর পর্যায়ক্রমে ২ জুন দেয়া হবে ১১ জুনের, ৩ জুন দেয়া হবে ১২ জুনের, ৪ জুন দেয়া হবে ১৩ জুনের, ৫ জুন দেয়া হবে ১৪ জুনের এবং ৬ জুন দেয়া হবে ১৫ জুনের টিকিট।
আর ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতি যাত্রীদের ১০ জুন দেয়া হবে ১৯ জুনের, ১১ জুন দেয়া হবে ২০ জুনের, ১২ জুন দেয়া হবে ২১ জুনের, ১৩ জুন দেয়া হবে ২২ জুনের, ১৪ জুন দেয়া হবে ২৩ জুনের এবং ১৫ জুন দেয়া হবে ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট।
মুজিবুল হক বলেন, এবার ঈদে মোট ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন থাকছে। ঈদের আগে পাঁচ দিন এবং পরে সাত দিন বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। রেলে এই ১২ দিন কোনো বন্ধ থাকবে না। এই দিনগুলোতে সারা দেশের সব রুটেই ট্রেন চলাচল করবে।
তিনি জানান, ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যে ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে, সেসবের টিকিট সংখ্যা হবে ২২ হাজার। রেলপথের একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন।
এর আগে বলা হয়েছিল, ঈদুর ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২ জুন থেকে।