নেত্রীর লাশ নিতে জেলগেটে অপেক্ষা করতে হবে: গয়েশ্বর

নিউজ মিডিয়া ২৪:  ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জীবিত মুক্তি দিবেন না। জেলগেটে তার লাশ ফেরত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও এম ইলিয়াস আলীর সন্ধ্যান দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন কম কথা বলার। কিন্তু কি করব, না বললে তো মনে কথা জমা হয়ে যায়। সে কারণেই বলছি- শেখ হাসিনার অধীনে যদি আগামী নির্বাচনে যাই, তাহলে ২০১৪ সালে কেন গেলাম না? বিগত বছরে যে এত নির্যাতন হলো, নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে এখান কি জবাব দিবেন?’
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশ গ্রহণে। বিএনপিও ওই নির্বাচনে আসবে এ কথা সকাল-বিকেল বলে চলেছেন ওবায়দুল কাদের। আমি জেলে থাকা অবস্থায় শুনেছি, এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি গ্রুপ আমাকে ম্যানেজ করার জন্য জেলেও যাবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেই ঐক্য যেন মান্নান ভূইয়ার মত না হয়। খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে বের করে দিয়ে নয়। আমরা আগামী দিনে নির্বাচনে যাব কি যাব না এটা নিয়ে নানা শর্ত আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু, একটাই শর্ত, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অধীনে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিকে পাশ কাটিয়ে। আমরা যদি নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা আদায় করতে পারি, তাহলে আমাদের নেত্রীও মুক্তি পাবেন। তখন খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাব, না তাকে ছাড়া যাব, সেই নির্দেশনাও তিনি আমাদের দিবেন।’
প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপি নেত্রী শাম্মি আক্তার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট প্রমুখ।

শ্রীলংকার বিপক্ষে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ


নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক: শ্রীলংকার বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৮২ রান তোলে, কোনো উইকেট না হারিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছায় লংকান উদ্বোধনী জুটি।
জয়ের জন্য শ্রীলংকা মাত্র ১১ ওভার ৫ বল সময় নেয়।
বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার মধ্যে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে ক্রিকেট সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
তবে ফাইনাল নিশ্চিত করলেও চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি।
ব্যাটিং অর্ডারের মাত্র ২জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের সংগ্রহ পান।
মিরপুরের শের-এ-বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতে ব্যাট করে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা মনে করেন, উইকেট পর্যবেক্ষণে ভুল করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। যার ফলে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, “এমন উইকেটে যে কোনো দলই ফিল্ডিং নেবে। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকার যে ম্যাচে ২৯০ ও ২৭৮ রান উঠেছে, বা বাংলাদেশ যে ম্যাচে ৩২০ রান তুলেছে, এটি সেই উইকেট ছিলোনা।”
তবে উইকেটের সমালোচনা করার পাশাপাশি হীরার মতে, কঠিন মুহূর্তে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে খেলার প্রবণতা নেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।
মাত্র ২৪ ওভার টিকতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহের তালিকায় এটি নবম।
প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের আউটের ধরণ পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, “সাকিব রান আউট হয়েছে, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ যে পুলটি করেছেন সেটি সরাসরি ফিল্ডারের হাতে পৌঁছেছে। সাব্বির এসেই রিভার্স সু্ইপ করার চেষ্টা করছিলো, সেসময় তো উইকেটে থিতু হবার কথা। শেষ পর্যন্ত সাব্বির আউট হলেন ডাউন দা উইকেটে খেলতে গিয়ে, যেটা দৃষ্টিকটু।”
ব্যাটসম্যানদের আরো বেশি ধৈর্য ধরার কথা জানান হীরা।
প্রথম তিন ম্যাচে অর্ধশতক পূর্ণ করা তামিম ইকবাল আউট হন ৫ রান করে।
এনামুল হক বিজয় প্রথম তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১৭, ৩৫ ও ১ রান করার পর আজ শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন।
সাকিবও ফিরে যান ৮ রান করে। সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৫৬ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও, কেউ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি।
শ্রীলঙ্কান পেস বোলার সুরঙ্গ লাকমল, দুশমন্থ চামিরা ও থিসারা পেরেরা মিলে মোট ৭ উইকেট নেন।
২৭শে জানুয়ারি শনিবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

রানবৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ইংল্যান্ড বৃষ্টিরই প্রার্থনায়

জো রুট কি আকাশের পানে চেয়ে প্রার্থনায় বসেছেন? বৃষ্টির কারণে দিনের পুরো খেলা হয়নি। তারপরও শান্তি পাচ্ছেন না রুট। দ্বিতীয় ইনিংসে ইতিমধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ইনিংসে পরাজয় এড়াতে এখনো প্রয়োজন ১২৭ রান। ওয়াকার প্রায় ভেঙে পড়া উইকেটে বীনের সামনে নাচতে থাকা সাপের মতো ঘুরছে বল। অলআউট না হওয়াই এখন এভারেস্ট বিজয়ের মতো কঠিন। তাই রুটদের একমাত্র ত্রাতা হতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও শেষ দিনে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ ভেসে না গেলে ৩-০ ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে রুটদের।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া রানের বন্যায় ভাসিয়েছে ইংলিশদের। ৯ উইকেটে ৬৬২ রান তুলে ঘোষণা করেছে প্রথম ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার ২৫৯ রানের লিডের কারণেই ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড।

অ্যাশেজে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়া নতুন করে লিখিয়েছে পঞ্চম উইকেটে মিচেল মার্শ ও স্টিভ স্মিথের ৩০১ রানের জুটির সৌজন্যে। আজ অবশ্য দিনের শুরুতেই কোনো রান যোগ না করেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে এলবিডব্লু হয়েছেন মার্শ। ১১ রান পর আউট হয়েছেন স্মিথও। ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৩৯ রান করে অ্যান্ডারসনেরই শিকার। ১ রান যোগ করতেই আবারও ধাক্কা, এবারে রান আউট মিচেল স্টার্ক।
আগের দিন দাপুটে ব্যাটিং করা স্বাগতিকদের সামনে তখন অলআউট হওয়ার শঙ্কা। উদ্ধার করলেন প্যাট কামিন্স ও টিম পেইন। অষ্টম উইকেটে দুজন ৯৩ রান যোগ করেছেন। তাতেই স্বাগতিকদের লিড দুই শ ছাড়িয়েছে। অ্যান্ডারসনের তৃতীয় শিকার কামিন্স ফিরেছেন ৪১ রান করে। আর ৪ রান করে নাথান লায়ন আউট হতেই ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে স্মিথের শিস, ইনিংস ঘোষণার। পেইন তখন অপরাজিত ৪৯ রানে।

২৫৯ রানের লিডটাকে আরও বড় বানিয়ে দিয়েছে ওয়াকার উইকেট। এক সময় পেসের কারণে বিখ্যাত এই পিচ দেখে তখন উপমহাদেশের গল কিংবা মোহালির কথা মনে পড়ছিল। মাঝ বরাবর লম্বা একটা ফাটল। প্রথম বল হওয়ার আগেই অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে নিলেন লায়ন। এমন উইকেট তো স্পিনারদের জন্য স্বপ্ন।
তবে প্রথম আঘাতটা পেসারদেরই। একটানা করিডোর ধরে বল করে যাওয়ায় জশ হ্যাজেলউডের বলে পেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মার্কাস স্টোনম্যান। খানিক পরেই নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে অ্যালিস্টার কুককেও ড্রেসিংরুমের পথ দেখালেন হ্যাজেলউড। জেমস ভিন্সের সঙ্গে ৩০ রানের ছোট্ট এক জুটি গড়ে ফিরে গেলেন অধিনায়ক রুট। ৬০ রানে নেই প্রথম ৩ উইকেট, ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত দিন পার করতে পারে কি না, সেটাই তখন প্রশ্ন। চতুর্থ দিনের খেলা তখনো যে ৪০ ওভারের মতো বাকি।

চতুর্থ উইকেট ডেভিড মালান ও ভিন্সের ৪০ রানের জুটিতে ইনিংসের প্রথম প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। ৫৫ রান করে স্টার্কের দারুণ এক বলে বোল্ড হয়েছেন ভিন্স, যেটিকে অনেকেই বলছেন ‘শতাব্দীর সেরা’ বল; এমনই দুর্দান্ত ছিল বলটি। এরপর ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন পার করেছেন প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান মালান ও বেয়ারস্টো। আসলে বৃষ্টি বাধায় দিনের শেষে আর খেলাই হতে পারেনি। তাতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঘরে ফিরেছেন দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩২ রান।

শেষ দিনে পরাজয় এড়াতে অন্তত ১২৭ রান চাই রুট বাহিনীর। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়াকার ভাঙা উইকেটে যা প্রায় অসম্ভব। এখন বৃষ্টি আসলেই প্রাণে বেঁচে যায় সফরকারীরা। নয়তো প্রথম তিন টেস্টের সব কটিতে হেরে অ্যাশেজ হাতছাড়া করার লজ্জায় পড়তে হবে রুটদের।

ভারতের ঘামও ঝরাতে পারল না শ্রীলঙ্কা

২১৬ রানের লক্ষ্য পেরোতে ভারতের কষ্ট হওয়ার কথা নয়। তাই বলে এতটা একতরফা জয় হয়তো স্বাগতিকেরাও আশা করেনি। মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই সিরিজ জিতে নিল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে শিখর ধাওয়ানের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে ১০৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নিল ভারত।

আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মা আজ ফিরে গেছেন ৭ রানে। ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারানো ভারত শুরুতে কিছুক্ষণ অস্বস্তিতে কাটিয়েছে। কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রেয়াস আয়ার ও শিখর ধাওয়ান সব দুশ্চিন্তা ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছেন। ৬৩ বলে ৬৫ রান করে আয়ার যখন ফিরছেন, ভারতের রান তখন প্রায় দেড় শ ছুঁইছুঁই (১৪৯)। আয়ার ফিরে গেলেও রানের চাকার গতি শ্লথ হয়নি ভারতের। ৮৫ বলে ১০০ রান করে ৩২.১ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন ধাওয়ান।

১৬ ওভার ও ৫৫ রানের একটি অধ্যায়ই ম্যাচের রূপ বদলে দিল। দুর্দান্ত এক বছর কাটানো উপুল থারাঙ্গা সেঞ্চুরি দিয়ে বছর শেষ করার অপেক্ষায়। মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০১৭ সালে ওয়ানডেতে এক হাজার রান তোলার উদ্‌যাপন সেঞ্চুরিতেই মানাত। চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবের একটি বাইরের বল ড্রাইভ করতে গেলেন এই ওপেনার। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য গোড়ালিটা বের হয়ে এল ক্রিজ থেকে। ওটুকুতেই সর্বনাশ হয়ে গেল থারাঙ্গার। ধোনির গ্লাভস ভেঙে দিল স্টাম্প। ৮২ বলে ৯৫ রান করে ফিরে গেলেন থারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৬০। ইনিংসের বয়স ২৭.১ ওভার। হাতে আ-ট উইকেট।

শ্রীলঙ্কার ধসের শুরু থারাঙ্গার আউটে। এর পর একে একে ফিরলেন ডিকভেলা, ম্যাথুস, পেরেরারা। ২৫ ওভার শেষে সহজে ৩০০ ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা শ্রীলঙ্কা সব গুবলেট পাকিয়ে শেষ ৮ উইকেট হারাল ৫৫ রানে। টেস্টেও ৫০-এর ওপর স্ট্রাইকরেট রাখা আসেলা গুনারত্নে অনেকক্ষণ ঠুকঠুক করলেন শেষ দিকে। কিন্তু ৫১ বলে ১৭ করেও ৪৫তম ওভারে দলের অলআউট হওয়া আটকাতে পারলেন না।