বার্সার কাছে ‘গার্ড অব অনার’ চান রোনালদো!

এখন সময়টা হয়তো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরই। কিছুদিন আগেই ক্যারিয়ারের পঞ্চম ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। সে সময় দম্ভভরে রোনালদো জানিয়েছিলেন, তিনিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আর গত রাতে নিজের গোলে গ্রেমিওকে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জেতার পর ফাটালেন আরও একটি বোমা। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছ থেকে গার্ড অব অনার পেতে চান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।

আসছে ২৩ তারিখেই লা লিগার প্রথম এল ক্লাসিকো। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রোনালদোরা আতিথ্য দেবেন মেসি-সুয়ারেজদের। এর আগে চেনা শত্রুর কাছ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ পেতে চান রোনালদো। ফাইনাল-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের রোনালদো বলেছেন, ‘এটা ভালোই হবে এবং আমি চাই বার্সেলোনা আমাদের “গার্ড অব অনার” দিক। আশা করছি, আমরা ম্যাচটা জিতব এবং রিয়ালের জন্য লিগ জেতার সুযোগ থাকবে। আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে হবে, কারণ আমরা জানি না ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে।’

ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে এক মৌসুমে পাঁচ-পাঁচটি শিরোপা জিতল জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদ। শিরোপার বিচারে পৃথিবীর সফলতম ক্লাবটি এর আগে কখনোই মৌসুমে পাঁচটি শিরোপা জেতেনি। স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি অর্জনের অংশ হতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত রোনালদো, ‘গোলটি করতে পেরে আমি আনন্দিত, খুবই খুশি। আমি দারুণ একটা মৌসুম কাটাচ্ছি। রিয়াল মাদ্রিদ কখনোই এক বছরে পাঁচটি শিরোপা জেতেনি, আমরা এটা করতে চেয়েছিলাম। এটা দারুণ একটা রেকর্ড।’

ইউরোপীয় ফুটবলের রীতি অনুযায়ী কোনো ক্লাব লিগ শিরোপা আগেই নিশ্চিত করে ফেললে সেই দল মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোয় প্রতিপক্ষের মাঠে ‘গার্ড অব অনার’ পায়। তবে এটি মূলত একটি প্রথা, কোনো বাধ্যগত নিয়ম নয়। রোনালদোর এমন মন্তব্যে বার্সেলোনা-সমর্থকদের জ্বলুনিটা বাড়ার কথা। গত মৌসুমে জাপানে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপ জেতার পর বার্সেলোনার মাঠে ‘গার্ড অব অনার’ পায়নি রিয়াল। উয়েফা সুপার কাপ জেতার পর দুই দলের দেখা হয়েছিল সুপারকোপা ডি এস্পানাতে। সেখানেও রামোসদের কপালে এই সম্মান জোটেনি। মজার ব্যাপার হলো ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ঠিকই গার্ড অব অনার পেয়েছিল মাদ্রিদ। ঠিক তার পরের মৌসুমেই বার্সেলোনাকে এই সম্মান দেখিয়েছিল রিয়াল বেটিস। এখন এই মন্তব্যে নিজের জন্যই গর্ত খুঁড়লেন না তো রোনালদো? এই মৌসুমে লা লিগার শীর্ষস্থানে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি, রোনালদোদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৮। আর লিগে রিয়ালের ফর্ম হিসাবে নিলে শিরোপার জন্য ফেবারিট মানতে হয় বার্সেলোনাকেই। সূত্র: মার্কা।

নেপালকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছে বাংলাদেশের। আজ দুপুরে ঢাকার কমলাপুরে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে নেপালকে ৬-০ গোলে হারিয়েছে তারা। হ্যাটট্রিক করেছে তহুরা।

অসাধারণ ফুটবল খেলেই নেপালকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। পুরো ম্যাচে মেয়েদের দাপট এতটাই ছিল যে খেলা হয়েছে নেপালের অর্ধেই। গোলরক্ষক মাহমুদার সময় কেটেছে দাঁড়িয়ে থেকেই।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার। মার্জিয়ার শট ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। ১১ মিনিটে মনিকা চাকমা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে এগিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। ১৪ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ করে আনুচিং। মার্জিয়ার কর্নার থেকে আঁখি বলটি এগিয়ে দেয় আনুচিংয়ের দিকে। সাইড ভলিতে গোল করে সে।
৩২ মিনিটে বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করে তহুরা। প্রায় একক প্রচেষ্টাতেই ডান প্রান্ত দিয়ে নেপালের বক্সে ঢুকে গোলটি করে সে। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে তহুরার পেস থেকে স্কোরলাইন ৪-০ করে আনুচিং।

বিরতির পর বাংলাদেশ কিছুটা ‘ধীরে চলো নীতি’ নিয়ে খেলে। এ সময় গোলের জন্য ঝাঁপানোর চেয়ে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার দিকেই মনোযোগী ছিল দল। ৫৯ মিনিটে আনুচিংয়ের শট নেপালের এক ডিফেন্ডার ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করে তহুরা। ৭২ মিনিটে আনুচিংয়ের পাস থেকেই হ্যাটট্রিক পূরণ করে তহুরা।
বাংলাদেশের পরের খেলা মঙ্গলবার ভুটানের বিপক্ষে।

ফুটবল ভালোবাসলে নেইমারকে ভালোবাসতেই হবে

গত নভেম্বরে কথাটা বলেছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। ‘ফুটবল ভালোবাসলে তাকে মেসিকেও ভালোবাসতে হবে।’ কথাটা লিওনেল মেসির জন্য অনেক বড়। যাঁরা মেসির সমর্থক বা ভক্ত নন, তাঁদেরও মুগ্ধ করার ক্ষমতা মেসির আছে, এমনটাই বলেছিলেন আর্সেনাল কোচ। সেই কথাটা এবার একটু ঘুরিয়ে বললেন উনাই এমেরি। তাঁর প্রশংসা এবার নেইমারের জন্য। পিএসজি কোচ বলেছেন, নেইমার যখন তাঁর সেরাটা খেলেন, সেটি ফুটবলকে ভালোবাসে এমন সবার জন্যই অনেক বড় পাওয়া।

কাল নেইমারের জোড়া গোলে ফরাসি লিগে রেনেঁকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পিএসজি। লিগে ১৩ ম্যাচে ১১ গোল করলেন এই ব্রাজিলিয়ান। সব মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে এই মৌসুমে ১৯ ম্যাচে ১৭ গোল। এর মধ্যে ৬ গোল করেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগে। কাল পিএসজির হয়ে গোল পেয়েছেন এডিনসন কাভানি আর কিলিয়ান এমবাপ্পেও।

পিএসজির হয়ে গত দুই ম্যাচে খেলেননি নেইমার। নিষেধাজ্ঞার কারণে লিলের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলা হয়নি। বুধবার লিগ কাপের ম্যাচেও ছিলেন না, পারিবারিক কাজে উড়ে গিয়েছিলেন ব্রাজিল। কিন্তু কাল একাদশে ফিরেই নেইমার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকা রাখলেন। ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল করেছেন, ১৭ মিনিটে এমবাপ্পেকে দিয়ে গোল করিয়েছেন।
৫৩ মিনিটে রেনেঁ ২-১ করে ফেলেছিল। ৭৫ মিনিটে কাভানি ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার পরের মিনিটেই নেইমার ‘হালি’ ‌পূর্ণ করেন পিএসজির। শেষের দিকে পেনাল্টি পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি রেনেঁ। অবশ্য নেইমার ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন আগেই।

নেইমারে মুগ্ধ এমেরি বলেছেন, ‘আপনি যখন নেইমারের মতো খেলোয়াড়কে দেখবেন, যেসব সমর্থক আজ এখানে মাঠে ছিল বা টিভিতে দেখেছে; তারা হয়তো পিএসজিকে সমর্থন করে (কিংবা করে না); কিন্তু আপনি যদি ফুটবল পছন্দ করেন, নেইমারের মতো খেলোয়াড়কে দেখলে আপনার ভালো লাগবেই।’

শুধু গোল করাতেই নয়, নেইমার আলো ছড়াচ্ছেন গোল করিয়েও। কেবল লিগে যেমন আটটি গোল করিয়েছেন। গোলের খেলা ফুটবলে বেশির ভাগ মানুষ গোলটাই দেখে। তবে এমেরি মনে করেন, শুধু গোলটাই নেইমারের শেষ কথা নয়, ‘আজ (কাল) সন্ধ্যায় ও ওর প্রতিভার পুরো ঝলকটাই দেখিয়েছে। কৌশলগত দিক দিয়ে আর প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস ছড়ানোতে ও দুর্দান্ত ছিল। আসলে আমাদের তিন ফরোয়ার্ডই গোল করেছে, পাশাপাশি অন্যকে দিয়ে করিয়েছেও। এটাই আমাদের জন্য বেশি ইতিবাচক।’