এসআই নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক : বাংলাদেশ পুলিশের ২০১৮ সালের বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত লিখিত, অ্যাপটিটিউট ও মৌখিক পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে।
২২ অক্টোবর বিকেলে পুলিশ হেড কোয়ার্টারসের এআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) তামান্না ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে চূড়ান্তভাবে ২ হাজার প্রার্থীকে সিলেকশন বোর্ড সাময়িকভাবে সুপারিশ করা হয়েছে।
উত্তীর্ণদের জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের দেয়া শর্ত হচ্ছে :
১। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার পর ১ (এক) বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য ও সন্তোষজনক পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় প্রেরণ করা হবে।
২। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় ১ (এক) বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকৃত প্রার্থীদের শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে যোগদানের তারিখ হতে ২ (দুই) বছর চাকরিকাল সফলভাবে সম্পন্নের পর বিধি মোতাবেক তাকে স্থায়ী করা হবে।
৩। বহিরাগত ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ডিআইজির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া রেঞ্জ ডিআইজি নির্বাচিত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণের কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থান নির্ধারণ করবেন এবং প্রার্থীদের যথাসময়ে অবহিত করবেন।
উত্তীর্ণদের তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

সমাবেশের অনুমোদন না দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে ঐক্যফ্রন্টের রিট

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকা সমাবেশের অনুমোদন না দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের সমন্বয়ক আলী আহমদের পক্ষে আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক। ড. কামাল হোসেন রিট আবেদনের শুনানিতে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, সিলেটের পুলিশ কমিশনারসহ ৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। সমাবেশের অনুমতি না দেয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না’ তা জানতে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে রিটে।
আগামীকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী জগলুল হায়দার আফ্রিক।
ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ডাকা সমাবেশ করতে না দেয়ায় সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তাই সংবিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে রিট করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল আমরা শুনানি করবো।
আগামী ২৩ অক্টোবর সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশের জন্য মহানগর পুলিশের কাছে অনুমতি চেয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সিলেটে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এই সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নগরের নিরাপত্তার স্বার্থে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গত ১৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার কথা জানানো হয় বলে ওইদিন সন্ধ্যায় বিষয়টি জানান, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সিলেটের সমন্বয়ক আলী আহমদ।
সেদিন আলী আহমদ বলেন, আমরা ২৩ অক্টোবর দুপুরে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেছিলাম। দুপুরে আমার মোবাইলে কল দিয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার কথা জানান। অনুমতি না পেলেও জাতীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা ২৩ তারিখ সিলেটে আসবেন। ওইদিন তারা হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরানের (রহ.) মাজার জিয়ারত করবেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম বলেন, এই সমাবেশকে ঘিরে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গত ১৬ অক্টোবর বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সমন্বিত সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম বৈঠক শেষে জানানো হয়, ২৩ অক্টোবর সিলেট সফরের মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু করবে এই জোট। জোটের শীর্ষ নেতারা এইদিন সিলেট সফরে এসে হজরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারত করবেন। সেই সঙ্গে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশেরও আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।
এই সমাবেশকে ঘিরে সিলেটের রাজনীতিতে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। একদিকে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন বিএনপিসহ জোটের শরিক দলের নেতারা।
অন্যদিকে, ছাত্রলীগসহ ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা জাতীয় ঐক্যজোটের অনেক নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে সিলেটে তাদের প্রতিহতের ডাক দেন। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই ডাক দেন তারা।

২১ আগস্টের রায় নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই: ডিএমপি কমিশনার

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, তবে রায়কে ঘিরে কেউ সহিংসতার চেষ্টা করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, আগামীকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই। রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা মহামান্য আদালতের একটা স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আয়োজিত ‘ডিএমপি শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রায়কে ঘিরে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষি মহল সহিংসতার চেষ্টা করলে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে, কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাস্ত করা হবে না। নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আমরা রাজনীতি করি না, জনগণের জানমাল রক্ষা করা আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই কেউ যদি দেশের স্বাভাবিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।
২০১৩-১৪ সালের জ্বালাও-পোড়াও, নৈরাজ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেন, সে সময় যে সহিংসতা চালানো হয়েছিল সেই দিন শেষ। ২০১৩-১৪ সালের পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করলে সেই স্বার্থান্বেষি মহলকে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলা চালিয়ে বিদেশিদের হত্যা করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের পুলিশ সদস্যরা দেশের গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হতে দেননি। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত জঙ্গিবিরোধী অনেকগুলো সফল অভিযান পরিচালনা করে আমরা সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাজধানীতে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাইসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ নেই বললেই চলে। এর কারণ রাত-দিন আমাদের পুলিশ, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম সদস্যরা সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। তার নির্দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির শিক্ষাবৃত্তির সনদ ও নগদ অর্থ ডিএমপি সদস্যদের হাতে তুলে দিয়ে এ বৃত্তি অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন ডিএমপি কমিশনার।

গায়েবি মামলা বন্ধ চেয়ে রিটের দ্বিধাবিভক্ত আদেশ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মী ও দলটির আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ‘গায়েবী’ ও ‘কাল্পনিক’ মামলা নিয়ে করা রিটের দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট বেঞ্চ। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটের শুনানি শেষে জেষ্ঠ্য বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী গায়েবি মামলা নিয়ে রুল দেন। অপরদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি আশরাফুল কামাল রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন। পরে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবীরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী এখন প্রধান বিচারপতি আবেদনটি অন্য একটি বেঞ্চে পাঠাবেন।

গত ২৩শে সেপ্টেম্বর এই রিট আবেদন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী ও দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লা মিয়া।

ডিএমপির ১৩ পুলিশ পরিদর্শকের রদবদল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা :ঢাকা : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক পদ মর্যাদার ১৩ কর্মকর্তার পদে রদবদল করা হয়েছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের এক অফিস আদেশে গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ রদবদল করা হলেও বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে জানানো হয়, রূপনগর থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ্ মো. আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসকে গোয়েন্দা-দক্ষিণ বিভাগে, সূত্রাপুর থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানীকে রূপনগর থানার (তদন্ত), কলাবাগান থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আ ফ ম আছাদুজ্জামানকে কলাবাগান থানার (তদন্ত), গোয়েন্দা-পশ্চিম বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মতিনকে সূত্রাপুর থানার (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া অর্গানাইজড এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক ঠাকুর দাস মালোকে কলাবাগান থানার (অপারেশন), রমনা মডেল থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. সফিকুল ইসলামকে গোয়েন্দা-পূর্ব বিভাগে, চকবাজার থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদারকে গোয়েন্দা-পূর্ব বিভাগে, গোয়েন্দা-পূর্ব বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহফুজুল হক ভূঞাকে রমনা মডেল থানায় (অপারেশন) বদলি করা হয়েছে।
আর মুগদা থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) সৈয়দ ইফতেখার হোসেনকে গোয়েন্দা-পশ্চিম বিভাগে, প্রসিকিউশন বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মনির হোসেনকে চকবাজার থানার (অপারেশন), অপারেশনস বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমানকে মুগদা থানার (অপারেশন), ওয়ারী থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ওয়ারী থানার (তদন্ত) ও গোয়েন্দা-পূর্ব বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক হুমায়ুন কবিরকে ওয়ারী থানার (অপারেশন) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

নিয়োগের ২৭ বছর পর ৪২০ শিক্ষকের পদোন্নতি

ঢাকা: সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪২০ জন শিক্ষককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৭১ জন নিউজ মিডিয়া ২৪:পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ৫২ জন সহকারী মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হয়েছেন। নিয়োগের ২৭ বছর পর তারা এই পদোন্নতি পেলেন।
সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন স্বাক্ষরিত পদোন্নতি-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, মামলা, পদমর্যাদা পরিবর্তন হওয়াসহ নানা জটিলতায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের পদোন্নতি স্থগিত ছিল। এ কারণে গত ৮ বছর ধরে এ পর্যায়ের শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নিয়োগের ২৭ বছর পার হলেও এসব শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের পদটি ১০ গ্রেডে (২য় শ্রেণি) উন্নীত হওয়ায় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) আওতায় নিয়োগ-পদোন্নতি দেয়ার ক্ষমতা চলে যায়। গত তিন মাস আগে তিনটি পদে মোট ৪২৬ শিক্ষককে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তার ভিত্তিতে পিএসসি মোট ৪২০ জনকে পদোন্নতি দিতে সুপারিশ করে। যার প্রেক্ষিতে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়া জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্যে ১৯৮ জনকে সহকারী মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ১৭৩ জনকে সহকারী প্রধান এবং ১৩০ জনকে সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে পদোন্নতির জন্য পিএসসিতে চাহিদা দেয়া হয়। তার ভিত্তিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ১৯৬ জন, সহকারী প্রধান শিক্ষিকা পদে ১৭২ জন এবং সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে ৫২ জনসহ মোট ৪২০ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।
১৯৯১ সালের ২৫ মে’র আগে যোগদান করা শিক্ষকদের পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকরা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে একই পদে কর্মরত ছিলেন। আজ (১৭ সেপ্টেম্বর, সোমবার) থেকেই এসব পদোন্নতি কার্যকর করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: কারাগারে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দিতে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
আজ সোমবার সকালে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশের ফলে শহীদুল আলমের কারাগারে ডিভিশন পেতে আর কোন বাধা থাকলো না।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর কারাগারে শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন জানায়।
এর আগে গত ৬ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় মামলাটি হয়। ওই দিনই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) শহিদুল আলমকে আদালতে হাজির করলে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শহিদুল আলম তার ফেসবুক টাইম লাইনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে কল্পনাপ্রসূত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণিকে শ্রুতিনির্ভর (যাচাই-বাছাই ছাড়া কেবল শোনা কথা) মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে উসকানি দিয়েছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকররূপে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি উপস্থাপন করেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ জনমনে ভীতি ছড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নের জন্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন।
পরে ১৪ আগস্ট ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হলে ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এরপর ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ এগিয়ে নেয়ার জন্য আবেদন করা হলে তা গ্রহণ করেননি আদালত। এ অবস্থায় ২৬ আগস্ট শহিদুল আলমের অন্তবর্তীকালীন জামিন চাইলে ওই আদালত শুনানির জন্য তা গ্রহণ করেননি। পরে গত ২৮ আগস্ট এ মামলায় শহিদুল আলমের জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান-এমডিসহ ৯ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : অর্থ পাচার মামলায় বিসমিল্লাহ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ নয়জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক আতাবুল্লাহ এ আদেশ দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের ৩০ কোটি ৬৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত অপর আসামিরা হলেন বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক ও খাজা সোলেমানের বাবা সফিকুল আনোয়ার চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর আজিজ মুতাক্কি, মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপক রিয়াজউদ্দিন আহম্মেদ, নেটওয়ার্ক ফ্রেইট সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন এবং জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা মোস্তাক আহমদ খান এবং এস এম শোয়েব-উল-কবীর।
২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা করে। পরে তদন্ত শেষে নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলে আদালত আমলে নিয়ে ২০১৬ সালে বিচার শুরু করেন। দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মোশাররফ হোসেন কাজল।
দুদকের আদালত পরিদর্শক আশিকুর রহমান বলেন, দণ্ডিত খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরীসহ নয় আসামি পলাতক আছেন। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন সূত্র বলছে, ব্যাংকিং খাতের আরেক আর্থিক কেলেঙ্কারি বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১২ মামলায় ৫৪ জনকে আসামি করে দুদক।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলা হয়, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে মোট ১ হাজার ১৭৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর মধ্যে ফান্ডেড দায় (স্বীকৃত বিলের বিপরীতে) ৯৯০ কোটি ৩ লাখ টাকা এবং ননফান্ডেড অর্থের পরিমাণ ১৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
বিসমিল্লাহ গ্রুপ জনতা ব্যাংকের ভবন করপোরেট শাখা থেকে ফান্ডেড ৩০৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ও ননফান্ডেড ২৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, মগবাজার শাখা থেকে ১৭৭ কোটি ১০ লাখ ফান্ডেড ও ননফান্ডেড এক কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে ফান্ডেড ১৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।
এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ফান্ডেড ২৬৫ কোটি ৪০ লাখ ও ননফান্ডেড টাকা ৬১ কোটি আট লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ফান্ডেড ২৩ কোটি ২২ লাখ ও ননফান্ডেড ৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখা থেকে ফান্ডেড ১০৮ কোটি ৪৪ লাখ ও ননফান্ডেড ৪৬ কোটি দুই লাখ টাকা এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ইস্কাটন শাখা থেকে ৯৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ফান্ডেড ও ১০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ননফান্ডেড হিসাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ১২টি মামলার সব কটিতেই বিসমিল্লাহ গ্রুপের পরিচালক খাজা সোলেমান চৌধুরী আসামি।

প্রধান বিচারপতির কাছে তিন যুক্তি তুলে ধরলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি করতে কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষায়িত আদালতের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা। রোববার দুপুরে প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাত করেন বিএনপির আইনজীবীরা।
আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খন্দকার মাহবুব হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, মীর নাসির উদ্দীন এবং বদরুদ্দোজা বাদল।
‘বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের’ বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন তারা। যেখানে মূলত তিনটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তিগুলো হলো-
প্রথমত, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো না। তিনি গুরুতর অসুস্থ, তিনি হাঁটতে পারেন না। যা সরকারও স্বীকার করেছে। তবুও সরকার তার যথাযথ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
দ্বিতীয়ত, পরিত্যক্ত কারাগারে কোনো বিচার কাজ চলতে পারে না। যদি চলে- তা হবে অবৈধ।
তৃতীয়ত, দেশের কারাগারের তালিকা থেকে পরিত্যক্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারটি এখনও বাদ দেয়া হয়নি- সে কারণে সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি ছাড়া পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থাপন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত।
লিখিত আবেদনে প্রধান বিচারপতিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, আমরা আপনার কাছে অনুরোধ করছি, যারা বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং যে বিচারিক কর্মকর্তা তার বিচাররিক সীমা লঙ্ঘন করেছে- তাদের বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট বাংলদেশ (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হোক।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর মোট খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদনটি করা হয়েছে। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে।
এদিকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া। রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।
উল্লেখ্য, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে বিশেষ এজলাসে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

কারাগারে আদালত স্থাপন ,খালেদা জিয়ার বিচারের বিষয়টি দেখবেন প্রধান বিচারপতি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়া কারাগারে অসুস্থ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দেখবেন বলে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতিসহ সিনিয়র আইনজীবীদের আশ্বাস দিয়েছেন। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীনে নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সাথে দেখান। এসময় সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি তুলে ধরেন তারা।
জবাবে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি বিষয়টি জুডিসিয়ারি দেখব না প্রশাসনিকভাবে দেখব। জবাবে আইনজীবীরা বলেন, আপনি যেহেতু বিচার বিভাগের প্রধান তাই বিষয়টি প্রসাসনিকভাবে দেখতে পারেন। তখন প্রধান বিচারপতি বিষয়টি বিশেষভাবে দেখার আশ্বাস দেন বলে জয়নুল আবেদীন জানান।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, এজে মোহাম্মদ আলী, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মাহবুবউদ্দিন খোকন, নিতায় রায় চৌধুরী, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। আইনজীবীরা কারাগারের ভেতরে বিশেষ আদালত স্থাপনের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা প্রধান বিচারপতিকে জানান।
রোববার দুপুর ১টা থেকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবীরা কথা বলেন। আলোচনা কলে তিনি (প্রধান বিচারপতি) তার ক্ষমতাবলে এ বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মনে করেছি দেশের সর্বোচ্চ আদালত ও সংবিধানের অভিভাবক সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক হলেন প্রধান বিচারপতি। তাই কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের কোনো প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করতে পারে না। তাই এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত করে আমরা বলেছি, প্রধান বিচারপতি আপনি বিচার বিভাগের অভিভাবক। আমরা মনে করি, মাসদার হোসেন মামলার মধ্য দিয়ে আপনার সুপ্রিমেসি ও সুপ্রিম কোর্টের সুপ্রিমেসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আপনার সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রাতের অন্ধকারে গেজেট করে এ ধরনের আদালত স্থাপন হতে পারে না।
জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ না করেই এ আদালত স্থানান্তর করা হয়েছে। তাই বিষয়টি দেখার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছি। তিনি বলেন, দেশের সংবিধানের গার্ডিয়ান হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট। আর সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক প্রধান বিচারপতি। এটা সুপ্রিম কোর্টের পাওয়ার। এটা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে কনসাল্ট না করে এ ধরণের কোনো কোর্ট প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে না। এটা আমরা বলেছি।
জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা প্রধান বিচারপতির সামনে আইনগত দিকগুলো তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি সরকারের এই গেজেট, আইন ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ না করে রাতারাতি এই প্রজ্ঞাপন করা বেআইনী হয়েছে। জেলখানার মধ্যে সরকার আদালত বসাতে পারে না। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ না করে এটা করা যায় না।