দুর্নীতিবাজদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই: দুদক চেয়ারম্যান

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: দুর্নীতিবাজদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

‘সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া আটক করতে পারবে না দুদক’ এমন প্রস্তাবিত আইনের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। দুদক কারও অনুমোদন নিয়ে কাজ করবে না বলেও জানান দুদক প্রধান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমার বিশ্বাস দুর্নীতিবাজদের রক্ষার কোনো আইন হবে না। দুর্নীতি করে পার পাওয়া এতটা সহজ নয়। কমিশন যতদিন রয়েছে ততদিন দুর্নীতি করে পার পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, নতুন আইনের কারণে দুর্নীতিবাজদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। যে আইনই পাস হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনতে দুদকের কোনো অসুবিধা হবে না। প্রয়োজনের সময় গ্রেফতার থেমে থাকবে না।

মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা :আইজিপি

নিউজ মিডিয়া ২৪: গাজীপুর : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বস্তিতে ঘরে ফিরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মানুষ ঈদ করুন তা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম আমরা।

তিনি বলেন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সাধারণ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা সবাই রাস্তায়। পুলিশের আইজি, ডিআইজি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাস্তায় রয়েছেন। সারারাত জেগে কাজ করেছেন। মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারে তার জন্য কাজ করছি আমরা সবাই।

মঙ্গলবার বিকেলে মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ঈদের সময় কোটি মানুষ ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যায়। সবার নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি আমাদের কাছে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেটি সফলভাবে করতে পেরেছে পুলিশ। নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরেছে সবাই।

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কোথাও যানজট নেই। কোনো রকমের প্রতিবন্ধকতা নেই। মাত্র ২০ মিনিটে ঢাকার মিন্টু রোড থেকে গাজীপুর এসেছি। পুরো রাস্তা ফাঁকা।

আইজিপি বলেন, ঈদের পর মানুষ কর্মস্থলে ফিরবে। তাদের কর্মস্থলে ফেরা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কোনো ছুটি নেই। কারো কোনো ঈদ নেই। আমাদের সকল পুলিশ অফিসার সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের জন্য আমাদের সার্ভিস। এই সার্ভিসটাই আমাদের ঈদ।

এ সময় আইজিপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।

এরই মধ্যে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক : দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ উল আযহা। এ উপলক্ষে এরই মধ্যে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। পুরোদমে চলছে বেচাকেনা। তবে হাটে বিক্রির জন্য আসা এতো গরুর মধ্যে অনেকগুলোই থাকতে পারে রোগাক্রান্ত অথবা ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ওষুধযুক্ত।
এসবের মধ্যে থেকে কোরবানির যোগ্য সুস্থ গরু চেনার উপায় কি?
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাশেমের মতে, স্টেরয়েড দিয়ে মোটাতাজা করা গরু দেখতে আকর্ষণীয়, চকচকে ও হৃষ্টপুষ্ট দেখালেও আসলে সেগুলো মোটাতাজা হয় না।
বরং এসব ক্ষতিকর উপাদান রান্নার পরেও মাংসে থেকে যাওয়ার সেটা খেলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গরুর রোগবালাই:
ভালো দাম পাওয়ার আশায় প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে একদল অসাধু ব্যবসায়ি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গরু মোটা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ করেন।
এতে গরুর শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে শুরু করে। এতে গরুটির কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী ও যকৃত নষ্ট হতে থাকে এবং গরুটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায়।
এছাড়া অনেক গরু খুড়া রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে বেশি থাকে উল্লেখ করে অধ্যাপক আবুল হাশেম বলেন, সুস্থ গরুর দেহের তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়।
এছাড়া খুড়া রোগাক্রান্ত গরুর ক্ষুর ও মুখে ঘা থাকতে পারে, আক্রান্ত গরু খুড়িয়ে হাঁটবে এবং খাবার খেতে চাইবেনা বলেও জানান তিনি।
এছাড়া অনেক গরু কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরণের গরু বেশ বিবর্ণ ও হাড় জিরজিরে হয় বলে তিনি জানান।
সুস্থ ও অসুস্থ গরু সনাক্তের উপায়:
সুস্থ গরু সনাক্তের ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু বিশেষজ্ঞরা। তারা মূলত কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
১. রাসায়নিক বা ওষুধ দেয়া গরুর মাংসপেশি থেকে শুরু শরীরের অন্য অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকে। শরীরে পানি জমায় বিভিন্ন অংশে চাপ দিলে সেখানে গর্ত হয়ে দেবে যাবে, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে সময় নেবে।
৩. অতিরিক্ত ওজনের কারণে এ সব গরু চলাফেরা বা স্বাভাবিক নাড়াচাড়া করতে পারেনা। শান্ত থাকে।
৪. রাসায়নিকযুক্ত গরু ভীষণ ক্লান্ত থাকবে এবং ঝিমাবে। সুস্থ গরুর গতিবিধি চটপটে থাকে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখায়। কান ও লেজ দিয়ে মশা মাছি তাড়ায়।
৫. রাসায়নিক বা ওষুধ খাওয়ানো গরুর শরীরের অঙ্গগুলো নষ্ট হতে শুরু করায় এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হয়। মনে হবে যেন হাঁপাচ্ছে।
৬. অতিরিক্ত স্টেরয়েড দেয়া গরুর মুখ থেকে প্রতিনিয়ত লালা ঝরবে। কিছু খেতে চাইবে না। সুস্থ গরুর মুখের সামনে খাবার ধরলে সেটা টেনে খাবে। না হলে জাবর কাটবে।
৭. সুস্থ গরুর নাকের উপরের অংশটা ভেজা বা বিন্দু বিন্দু ঘাম জমা থাকবে। অন্যদিকে অসুস্থ গরুর নাক থাকবে শুকনা।
৮. সুস্থ গরুর শরীরের রঙ উজ্জ্বল থাকবে। গরুর পিঠের কুজ মোটা, টানটান ও দাগমুক্ত হবে।
৯. সুস্থ গরুর রানের মাংস শক্ত থাকবে। যেখানে রাসায়নিক দেয়া গরুর পা হবে নরম থলথলে।
১০. গরুর শরীরে হাত দিয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মনে হলে বুঝতে হবে গরুটি অসুস্থ।
১১. সুস্থ গরুর চামড়ার ওপর দিয়ে কয়েকটা পাঁজরেরহাড় বোঝা যাবে।
কোরবানির উপযুক্ত পশু:
কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করার গরুগুলো অনেক সময় কেনার পর কোরবানির অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে দেশি গরু কেনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
কেননা চাইলেও দেশি গরুরি বেশি মোটাতাজা করা সম্ভব না।
কোরবানির জন্য কোন পশুটি উপযুক্ত তা জেনে নেয়া খুবই জরুরি।
১. গরুর বয়স ন্যূনতম দুই বছর হলেই এটা কোরবানির জন্য উপযুক্ত হবে। এক্ষেত্রে গরুর দাঁত দেখে বয়স যাচাই করে নিতে হবে। গরুর নীচের পাটিতে যদি দুধ দাঁতের পাশাপাশি সামনে অন্তত দুটি কোদালের মতো স্থায়ী দাঁত থাকে তাহলে বুঝতে হবে গরুটি কোরবানির উপযুক্ত হয়েছে।
২. গরুটিকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। এজন্য শিং ভাঙ্গা লেজ কাটা কিংবা মুখ, জিহ্বা, শরীর, পা, ক্ষুর, গোড়ালিতে কোন ক্ষত আছে কিনা দেখে নিতে হবে।
৩. গাভী কোরবানির দেয়া গেলেও তার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে গাভীটি গর্ভবতী কিনা। গর্ভবতী গাভী কোন অবস্থাতেই কোরবানি দেয়া যাবেনা। সাধারণত গর্ভবতী গাভীর পেট ও ওলান স্ফীত থাকে।
দক্ষ পশু ক্রেতার পরামর্শ:
দক্ষ পশু ক্রেতারা দিনের আলো থাকতে থাকতেই গরু কেনার পরামর্শ দিয়েছেন।
তাদের মতে রাতের বেলা গরুর এতোগুলো বিষয় ঠিকঠাক যাচাই করা সম্ভব নাও হতে পারে।
এ ব্যাপারে লালবাগের বাসিন্দা ও খামার ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিন নিপু বলেন, মোটা গরুর পরিবর্তে সুস্থ গরু কোরবানি দেয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হতে হবে। সূত্র: বিবিসি

‘সাংবাদিকদরে পেশা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন হানিফ ‘

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘সাংবাদিকতার নামে এমন হলুদ সাংবাদিকতা পৃথিবীর কোথাও আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে।’
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুব উল আলম হানিফ আরও বলেন, বিএনপি জামায়াতের আন্দোলন করার সামর্থ্য নেই, তাই তারা কোমলমতি শিশুদের ওপর ভর করেছিল। আর এই শিশুদের নাম করে ওই দিন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করেছিলো। তারপরও অনেক মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে লেখা শুরু করে, কেন? সাংবাদিকতার নামে এমন হলুদ সাংবাদিকতা পৃথিবীর মধ্যে আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে।
তবে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, বিএনপির কোনো স্বপ্নই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাদের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হচ্ছে না দেখে দলটির নেতারা হতাশ হয়ে নানা ধরণের অপ্রাসঙ্গিক কথা বলে। হানিফ আরও বলেন, ‘৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ছিলো জিয়াউর রহমান। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার সময় জিয়াউর রহমানের কী ভূমিকা ছিল এটা জাতির কাছে উন্মোচন করা হোক। তার মরণোত্তর বিচার করা হোক।’
বিবি ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাহাদুর বেপারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান তপন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দিন মাহিসহ প্রমুখ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

নিউজ মিডিয়া ২৪: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।
বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে, পিটিসি টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) পদে, নওগাঁ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে ট্যুরিস্ট পুলিশ’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বিকে পিবিআই ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের (৮ম এপিবিএন উত্তরায় সংযুক্ত) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনজুর আহমেদ সিদ্দিকীকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দারফুর সুদান মিশন হতে প্রত্যাগত) মুহাম্মদ মতিউর রহমান সিদ্দিকীকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসবি ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন মজুমদারকে নরসিংদীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ১২ এপিবিএন ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহাবুবুর রহমানকে এন্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও নরসিংদীর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহরিয়ার আলমকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

ঢাকার ৮০ শতাংশ ভবন নির্মাণে নীতিমালা মানা হয়নি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: রাজধানীর অধিকাংশ ভবনই শতভাগ নীতিমালা মানা হয়নি জানিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেছেন, ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবন শতভাগ নীতিমালা অনুসরণ করেনি। আগামী একমাসের মধ্যে এসব ভবনের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শনিবার (০৪ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে বিআইপির বল রুমে আয়োজিত ডেনসিটি জোন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা জানান।

রাজউক সদস্য (প্লানিং) আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) প্রেসিডেন্ট ড. এ কে এম আবুল কাশেম, ড্যাপ প্রকল্প পরিচালক পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রমুখ।

বিআইপি ও রাজউকের যৌথ আয়োজনে সেমিনার সঞ্চালনা করেন আক্তার মাহমুদ; এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খান।

রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দীর্ঘ ছয়মাসে একটি কাজ করেছি। যে কাজের মাধ্যমে বের হয়ে আসছে কোন এলাকার কোন ভবন ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মানা হয়নি। কোনো ভবন ছয়তলার জায়গায় ২০ তলা হয়েছে, কোনো ভবন রাস্তা দখল করে করা হয়েছে, সবই বের হয়ে আসবে।

তিনি বলেন, আমরা আগামী একমাসের মধ্যে এর তালিকা প্রকাশ করবো। তালিকা প্রকাশ করার পর যারা নীতিমালা মানেনি তাদের বলা হবে সংশোধন করার জন্য। হয় তারা ভেঙে নেবে নয়তো আমরা ভেঙে দেবো। আমরা গোপন রাখতে চাই না আগামী এক মাসের মধ্যে সেই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

‘আমরা শিক্ষা জোন করারও চিন্তা-ভাবনা করছি। বিশেষ করে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এলাকার স্কুল-কলেজ একটা নির্দিষ্ট জায়গায় সব সুবিধা নিশ্চিত করে শিক্ষা জোন করার পরিকল্পনা করছি,’ বলেন রাজউক চেয়ারম্যান।

জাফর ইকবালের ওপর হামলা: ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ৬ জন হলেন- ছুরি নিয়ে হামলাকারী প্রধান আসামি ফয়জুল হাসান ফয়েজ, তার বাবা হাফেজ মাওলানা আতিকুর রহমান ও মা মোছাম্মৎ মিনারা বেগম, মামা মো. ফজলুর রহমান, ফয়েজের ভাই এনামুল হাসান এবং ফয়েজের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়া। এরা সবাই আটক আছেন।
এদিকে বুধবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেছেন, মামলার প্রধান আসামি ফয়জুল হাসান নিজেই জাফর ইকবালকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ৩-৪ মাস থেকেই সে জাফর ইকবালকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে ফয়জুল।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইইই ফেস্টিভ্যালে’ জাফর ইকবাল বক্তব্য দেয়ার সময় তার মাথার পেছনে, হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ফয়জুল হাসান ফয়েজ।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

হলি আর্টিজান হামলা: ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: দুই বছর আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।
‘চিহ্নিত’ বাকি ১৩ জন নজিরবিহীন ওই হামলার পর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এই অভিযোগপত্রে।
মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সোমবার সকালে মিন্টো রোডে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তারা ওই অভিযোগপত্র আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তিনি জানান, জীবিত আট আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, বাকি দুজন পলাতক।
কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।
পলাতক দুই আসামি শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে বলে জানান মনিরুল।
তিনি বলেন, “তদন্তে দেখা গেছে, আসামিরা পাঁচ মাস আগে থেকেই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল দেশকে অস্থিতিশীল করা, বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র বানানো, সরকারকে চাপের মুখে ফেলা।”
হামলার পরদিন সকালে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে গ্রেপ্তার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের নাম এই অভিযোগপত্রে আসেনি। অভিযানে নিহত হলি আর্টিজানের পাচক সাইফুল ইসলামকে শুরুতে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলেও তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে কূটনীতিক পাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। তাদের ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাও নিহত হন।
রাতভর উৎকণ্ঠার পর ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানের মধ্য দিয়ে সঙ্কটের অবসান ঘটে।
হামলায় অংশ নেওয়া নব্য জেএমবির পাঁচ জঙ্গি নিবরাজ ইসলাম, মীর সামেহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল নিহত হন ওই অভিযানে।
আর পরে জঙ্গিবিরোধী বিভিন্ন অভিযানে হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ তামিম চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু রায়হান তারেক, সারোয়ার জাহান, বাসারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান নিহত হন।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে চিহ্নিত ২১ জনের মধ্যে পাঁচজন গুলশান হামলায় সরাসরি অংশ নেন। বাকিরা হামলার পরিকল্পনা, সমন্বয়, প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র-বোমা সংগ্রহসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত ছিলেন।

জালিয়াতি ঠেকাতে ই-পাসপোর্টের চুক্তি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে চালু হতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়া। ঘরে বসেই ইন্টারনেটে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে অল্প সময়ে পাওয়া যাবে কাক্সিক্ষত পাসপোর্ট। এজন্যwww.passport.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে ই-পাসপোর্ট ও অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর জিটুজি’র ভিত্তিতে টার্ন কী পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাসুদ রেজওয়ান ও ভেরিডোস কোম্পানির সিইও কুনস এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ ও নিরাপদ করতে হাতে লেখা পাসপোর্টের বদলে ২০১০ সালে সশস্ত্র বাহীনির সহায়তায় প্রবর্তিত হয়েছিল মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট। কিন্তু মেশিন রিডেবল পাসপোর্টেও জালিয়াতি করা হচ্ছে বিধায় ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনাকে আরও নির্ভুল, সহজতর, সময়-সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দময় করতে বিশ্বের ১১৮টি দেশ ইতোমধ্যে ই-পাসপোর্ট এনেছে।
ই-পাসপোর্টের সকল তথ্য, স্বাক্ষর, ছবি, চোখের কর্ণিয়া এবং ফিঙ্গার প্রিন্ট সিল্ড অবস্থায় সুরক্ষিত থাকে বিধায় তা কোনোভাবেই পরিবর্তন বা জাল করা সম্ভব না। এই পাসপোর্টের মাধ্যমে হয়রানিমূলকভাবে দেশ ভ্রমণ সম্ভব হবে না। কেননা এই প্রক্রিয়ার কারণে ইমিগ্রেশনের ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় ঠেকবে বলেও জানিয়েছে অধিদফতরটি। আবার অটোমেটেড মেশিন নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় জাল পাসপোর্টের কোনো স্থান নেই।
এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন জার্মানির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নেইলস অ্যানেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তি এবং সংসদ সদস্যরা।

‘চাইলেই সব ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারি না’

নিউজ মিডিয়া ২৪:ডেস্ক: চাইলেই সব ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করা যায় না বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. মো. সহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, রাজধানীর অনেক ক্লাবের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মাদক আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালানের মাধ্যমে মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সেসব ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে উত্তরা ক্লাবে অভিযান ও সাম্প্রতিক সময়ে শুল্ক গোয়েন্দার চলমান কার্যক্রম জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সহিদুল ইসলাম বলেন,‘আমাদের কাছে অনেক ক্লাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। কিন্তু আমরা চাইলেই সব ক্লাবে অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। আমাদের গোয়েন্দারা সেসব অভিযুক্ত ক্লাবের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহে কাজ করছেন। সেসব তথ্য হাতে পেয়ে নিশ্চিত হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
এখনই সেসব ক্লাবের নাম প্রকাশ করে কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটাতে চান না জানিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, পর্যায়ক্রমে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে উত্তরা ক্লাবের তালা ভেঙে ৫ কোটি টাকার বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
ক্লাবে শুল্কমুক্ত সুবিধার মদ বিক্রির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সেখানে কোটি কোটি টাকার মদ বিক্রি করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল দুপুর ২টার দিকে ওই ক্লাবটি ঘিরে ফেলা হয়। প্রথমে বাধা পেলেও বিকেল ৫টার দিকে ক্লাবের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দারা।