মানিলন্ডারিং মামলা : হুন্ডি ব্যবসায়ী তাজিম আনোয়ারকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ মিডিয়া ২৪:  ঢাকা : শুল্ক গোয়েন্দাদের করা মানিলন্ডারিং মামলায় হুন্ডি ব্যবসায়ী তাজিম আনোয়ার যেন দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন সে জন্য অতিরিক্ত আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী মুহম্মদ জিয়াউদ্দীন স্বাক্ষরিত এ চিঠি সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর পাঠানো হয়। অন্যদিকে তাজিম আনোয়ার যেন নতুন করে পাসপোর্ট বানাতে না পারে সেজন্যও ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

হুন্ডি ব্যবসার মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মানিক বাদী হয়ে গত ২৯ মার্চ তাজিম আনোয়ারসহ ৫ জনকে আসামি করে মতিঝিল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তাজিম আনোয়ারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে দেশী-বিদেশী মুদ্রা বিদেশে পাচার করে এবং স্বর্ণ চোরাচালানের অর্থসহ বিভিন্ন আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ের ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসের অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে প্রেরণ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা গত ২৮ মার্চ তাজিম আনোয়ারের মতিঝিলের প্রতিষ্ঠানে তল্লাশী চালায়। এসময় ব্যাগ ভর্তি ৯ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এই টাকার উৎস সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ফরিদ এবং তার বন্ধু পরিচয় দানকারী তরুণ দত্ত জানান, এই টাকা ভারতে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন যাবৎ এইভাবে টাকা পাচার করে আসছেন বলে তারা স্বীকার করেন। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক তাজিম আনোয়ারের বাসায় বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে বলে গোপন সংবাদ থাকায় তাদেরকে সাথে নিয়ে বাদী তাজিম আনোয়ারের সেগুনবাগিচার ফ্ল্যাটে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত টিম তল্লাশী চালিয়ে বাসার বাথরুম থেকে একটি কালো ব্যাগে ৫৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে। ফ্ল্যাটে তল্লাশীকালে তাজিম আনোয়ারের স্ত্রী মিসেস আয়েশা সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি এই টাকার উৎস ও বৈধতা সম্পর্কে কোনো প্রকার সদুত্তর দিতে পারেননি এবং তিনি জানান যে, তার স্বামী এই বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার জন্য বাসায় এনে রেখেছেন। এর ফলে শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে, আটককৃত আসামিগণ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

ঢাবির হলে ছাত্রলীগের ২গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ

নিউজ মিডিয়া ২৪:   ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) থামছে না ছাত্রলীগের মারামারি। গতকাল রোববার রাতে সারা দেশ যখন কালরাত্রি পালনে ব্যস্ত তখন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই নেতাকর্মী।
১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে ঢাবির এই হলে গণহত্যা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ওই রাতে নিহত হন হলের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীরা। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে হলের মধ্যে মোমবাতি প্রজ্বলনের পরেই দুই দফায় এই সংঘর্ষ হয় বলে জানা যায়।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মোট ছয়টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহতও হয়েছেন ডজনখানেক নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী।
হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, হলের মধ্যে মোমবাতি প্রজ্বলনের পরে ছাত্রলীগের নেতারা ক্যান্টিনে খেতে যান। হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদারের অনুসারীরা খেতে বসলে সভাপতি সোহানুর রহমানের অনুসারীরা উচ্চস্বরে কথা বলেন। এ সময় আসিফের অনুসারী হল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক সোহানুর রহমানসহ আরো কয়েকজন সভাপতি সোহানের অনুসারী শিপন, সজিব, নূর হোসেনদের আস্তে কথা বলতে বলেন। তাঁরা আস্তে কথা না বললে সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা তাদের উপর রেগে যান এবং একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পরে হলের গেমস রুমে সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদারের অনুসারীরা খেলতে যান। এর কিছু পরে সভাপতি সোহানুর রহমানের অনুসারীরাও খেলতে যান। তখন সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকদের খেলা শেষ করতে বললে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
এই ঘটনার আধা ঘণ্টা পর উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও রড, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা রড, লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে সভাপতির অনুসারীদের ধাওয়া দেয়। এর কিছুক্ষণ পর সভাপতির সমর্থক নেতাকর্মীরা রড, লাঠি নিয়ে জড়ো হলে আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হলের দুইজন আবাসিক শিক্ষক, হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘটনাস্থলে আসলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় সভাপতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত তৃতীয় বর্ষের মো. বায়জিদ ও সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক হিসেবে পরিচিতি সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন ছাত্রলীগের নেতারা।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগ হল শাখার সভাপতি সোহানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসিফ তালুকদার বলেন, হলের জুনিয়ররা মারামারি করেছে। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এখন সব ঠিক আছে।
সোহানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান ও আসিফ তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের অনুসারী।

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন : শেষ দিনে পড়েছে ২২৫৬ ভোট

নিউজ মিডিয়া ২৪:   ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দু’দিনব্যাপী নির্বাচনের শেষ দিন ছিল আজ। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দুই দিনে মোট চার হাজার ৮৬৫ আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।নির্বাচন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের দ্বিতীয় অর্থাৎ শেষ দিনে মোট ২২৫৬ আইনজীবী ভোট দিয়েছেন। এর আগে প্রথম দিনে পড়েছিল দুই হাজার ৬০৯ ভোট। এখন ভোট যাচাই-বাছাই করা শেষ হলে রাত ৯টার পরে ভোট গণনা শুরু হতে পারে। রাত ভোট গণনা শেষ হলে পরে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ৪৫টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে মধ্যে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।

নির্বাচন উপ-কমিটির আহ্বায়ক এ ওয়াই মসিউজ্জামান জানান, শেষ দিনেও একই সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। সমিতির ২০১৮-১৯ সেশনের নির্বাচনে মোট ভোটার ছয় হাজার ১৫২ জন।

নির্বাচনে যথারীতি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরকার সমর্থক এবং বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। ১৪টি পদের বিপরীতে লড়ছেন মোট ৩৩ প্রার্থী। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদের মধ্যে ৭টি সম্পাদকীয় ও ৭টি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। এসব পদের বিপরীতে সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ছাড়াও আলাদা পাঁচজন মিলে মোট ৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে সভাপতি পদে দুইজন এবং সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও সদস্য পদে একজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিহুজ্জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত কমিটিকে সহযোগিতার জন্য ৭০ আইনজীবীকে পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সরকার সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি পদে লড়ছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এবং সম্পাদক পদে শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। পরিষদের অন্যান্যরা হলেন, সহ-সভাপতি আলালউদ্দীন ও ড. মোহাম্মদ শামসুর রহমান, অর্থ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ ইকবাল করিম, সহ-সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক ও ইয়াদিয়া জামান, সদস্য ব্যারিস্টার আশরাফুল হাদী, হুমায়ুন কবির, চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, শাহানা পারভীন, রুহুল আমিন তুহিন, শেখ মোহাম্মদ মাজু মিয়া, মোহাম্মদ মুজিবর রহমান সম্রাট।

অপরদিকে অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলের অন্যরা হলেন, সহ-সভাপতি ড. মো. গোলাম রহমান ভুইয়া, এম গোলাম মোস্তফা, কোষাধ্যক্ষ নাসরিন আক্তার, সহ-সম্পাদক কাজী জয়নুল আবেদীন, আনজুমানারা বেগম, সদস্য ব্যারিস্টার সাইফুর আলম মাহমুদ, মো. জাহাঙ্গীর জমাদ্দার, মো. এমদাদুল হক, মাহফুজ বিন ইউসুফ, সৈয়দা শাহীনারা লাইলী, মো. আহসান উল্লাহ ও মোহাম্মদ মেহদী হাসান।

এছাড়া স্বতন্ত্রভাবে পাঁচজন বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হচ্ছেন, সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট শাহ মো. খসরুজ্জামান, ইউনুস আলী আকন্দ, সহ-সভাপতি পদে মো. আব্দুল জব্বার ভুইয়া, সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল বাসার, ও সদস্য পদে তাপস কুমার দাস।

জিরো থেকে হিরো ,প্র্রতারনার করে কিভাবে কৌশলে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা? প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শন ।

অনুসন্ধান রির্পোট:-  পর্ব-১  :    জিরো থেকে হিরো ফু_দিলে সেরে যায় জীবনের সব রোগ ।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে সোনা মিয়া নামে এক প্রতারক কবিরাজের খোজ ।জানা গেছে চাদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার গাজীপুর গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে সোনা মিয়া ।প্র্রায় যুগ-যুগ ধরে প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে করে আসছে এই প্রতারনার ব্যবসা । গ্রমের অতি গরিব-অসহায় মানুষদের ফাদে ফেলে জীবনের সব ধরনের রোগ যেমন:-কিডনির পাথর প্যারালাইসিজ মহিলাদের গর্ভে থাকা সন্তান ছেলে চাইলে ছেলে মেয়ে সন্তান চাইলে মেয়ে এবং ব্যবসায় আয়-উন্নতি, বিদেশগামী মানুষদের ফেরত আনা ও স্বমী-স্ত্রী দন্ধ সহ সব দরনের সমস্যা ও রোগের সিকিৎসা করেন তিনি ।সোনা মিয়ার এই অত্যাধুনিক হেকিমি কবিরাজের মাধ্যমে অনেক নিরীহ মানুষের চিকিৎসার কারনে অকালে প্র্রান হারিয়েছে অনেকেই।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দালালের মাধ্যমে সোনা মিয়া কবিরাজির সাইন বোর্ড জুলিয়ে পুরোদেশ জুড়ে এ দরনের প্রতারনার ব্যবসা চালিয়ে আসছে দির্ঘ্যদিন ।

এলকাবাশী আরো জানান, সোনা মিয়া আগে গ্র্রামে হেঠে হেঠে বাদাম বিক্র্রি ও ইটা ভাঙ্গার কাজ করতেন ।হঠাৎ সোনা মিয়ার পরিবর্তন ঘটে । কিভাবে এ পরিবর্তন ঘটে জানতে চাইলে অভিযোগকারীরা বলেন, তিনি এক দিন গভীর রাতে হঠাৎ তাকে পাওয়া যায় না এমন এক গুজোব উঠে তার পরিবার থেকে অনকে খোজাখুজির পর পাওয়া গেলো এক গ্র্রাম থেকে অন্য গ্র্রামের গভীর বাগানে, তারহাতে পাওয়া গেলো এক অত্যাধানুনিক যন্ত্র । কি আছে এ যন্ত্রতে জানতে চাইলে এলাকাবাসি বলেন, আল্লাহর তরফ হইতে নাকি কে বা কাহারা তাকে গায়বি ভাবে এ যন্ত্র তার হাতে দেয় এবং বলে তোকে এটি দিলাম মানুষের উপকার করবি যে কোন মানুষের যে দরনের রোগ হোকনা কেন শরিরের উপরে যন্ত্র ধরে তার নাম ও বাবার নাম বললে সেরে যাবে আস্থে আস্থে সব রোগ । ভিজিট জানতে চাইলে প্রত্যক্ষর্দশী বলেন,মানুষ দেখে ভিজিট নেন ,ধারনা করেন আর কোন ডাক্তার দেখিয়েছেন কিনা এবং রোগ বড় ধরনের কিনা এর মধ্যে হিসাব হয় ভিজিটের সংখ্যা ।

জানা যায়, ১০০,টাকা থেকে ১লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্রমানয়ে হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক।সোনামিয়া এক জন দিনমুজুর হলেও এখন তার সম্পদের পরিমান কয়েক কোটি টাকা ।তার ব্যাংকে নগদ টাকা সহ বিভন্ন সমিতি ও সিএনজি,এবং বিপুল পরিমান স্বর্ণের মালিক রয়েছেন তিনি ।জানতে চাইলে বলেন,তার এক সময় সতাংশ পরিমান জায়গা ছিলনা তাদের কুড়ের ঘর ছিলো তার এই ব্যবসার পর এখন তিনি কয়েক একর সম্পতি ও দ্বিতিয় তলা ভবন সহ চারটি পাকা বাড়ীর মালিক ।

জানা গেছে সোনা মিয়া এলকার কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও থানা পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে এ ধরনের প্রতারনা ব্যবসা করে আসছে অহরহ ।সোনা মিয়ার দাপটে এলাকার প্রভাবশালীদের হাত করায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে সাহস পায়না । সোনা মিয়ার ব্যাপারে অভিযোগ দিয়েও মিলছে না কোন ফলাফল । নিরোউপায় হয়ে ফিরছেন বহু ভুক্তভোগী ।পরিশেষে আল্লাহর নিকট বিচার পার্থনা করে চোখের পানি ফেলে নগদ অর্থ ও গহনা জমা দিয়ে যাচ্ছেন অনেক নিরিহ মানুষ ।

প্রতারক সোনা মিয়ার আতংকে ও প্রতারনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এবং এসব দূর্নীতি করে বিপুল পরিমান অর্থের মালিক হওয়ায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃস্টি আকর্শন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, দেশের মানবাধীকার সংস্থা গুলো তদন্ত করে আইনি ব্যাবস্থা নিয়ে তার উপযুক্ত শাস্তি ও সু-বিচার কামানা করছেন ভুক্তভোগীরা ।

 

র্রিপোটির অনুসন্ধান চলবে । পর্ব- ১

প্রেমে মজেছিলেন ক্যাটরিনা-আকাশ আম্বানি (ভিডিও)!

নিউজ মিডিয়া ২৪: ডেস্ক : ভারতের বিখ্যাত ব্যবসায়ী ও ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ছেলে আকাশ আম্বানি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন। পাত্রী শ্লোক মেহতা আকাশ আম্বানির সঙ্গে একই স্কুলে পড়তেন। সেই সূত্রেই তাদের মধ্যে পরিচয়। এমন সময়ে বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে আকাশ আম্বানি প্রেমের খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। খবর জিনিউজের।

খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে একটি দিওয়ালি পার্টিতে একসঙ্গে দেখা যায় আকাশ এবং শ্লোককে। অমিতাভ বচ্চনের বাড়ির দিওয়ালি পার্টিতে আকাশের সঙ্গে দেখা যায় ক্যাটরিনাকে।

এরপর ওই দুজন একসঙ্গে অনিল কাপুরের বাড়ির দিওয়ালি পার্টিতেও হাজির হন, যা নিয়ে বেশ কানাঘুষো শুরু হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ওই সময় কোনও মন্তব্য করেননি আকাশ এবং ক্যাটরিনা কেউই।

দিওয়ালি পার্টিতে সাদা রঙের কুর্তা, পাজামা পরে হাজির হন আকাশ। এবং আইভরি শাড়িতে সবার চোখ ঝলসে দিয়ে সেখানে হাজির হন ক্যাটরিনা কাইফ। ওইদিন অনিল কাপুরের বাড়িতে রণবীর কাপুর হাজির হলে, তার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে আকাশের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতে দেখা যায় ক্যাটরিনা কাইফকে।

সুনীতি ও সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ জরুরি

চাল, পেঁয়াজসহ কতিপয় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি বহুলাংশে বজায় থাকাটা প্রমাণ দিচ্ছে যে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ খুব কার্যকর নয়। আমন ধানের বাম্পার ফলন একটা বড় সুখবর এনে দিলেও সরকারের শিথিল বাজার ব্যবস্থাপনা ভোক্তাজীবনে খুব স্বস্তি বয়ে আনছে না।

সরকারের তরফ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছে সম্ভবত ভুল সংকেত যাচ্ছে। বিশেষ করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লক্ষ করছেন, দাম নিয়ন্ত্রণের সরকারি পদক্ষেপগুলো তেমন কোনো কাজ দিচ্ছে না। যেমন সরকারের অজানা ছিল না যে সরকারি গুদামে যদি চালের মজুত কম থাকে, তাহলে সেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিতে পারেন। যেখানে ১০ থেকে ১২ লাখ টন চাল মজুত থাকার কথা, সেখানে তা ২ লাখ টনে নেমে আসার আগ পর্যন্ত সরকারকে নির্বিকার থাকতে দেখা গেছে। আবার চালের আমদানি শুল্ক অনেক আগেই কমানো দরকার ছিল। সম্প্রতি যখন শুল্ক কমানো হলো তখন ভারত রপ্তানি শুল্ক বাড়িয়ে দিল। তাই সুফল মিলল না। আবার পেঁয়াজের ঝাঁজও ভোক্তাদের অস্বস্তিতে রাখছে। ৫ থেকে ৬ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতির দেশকে উদ্বৃত্তের দেশে সহজেই পরিণত করা সম্ভব। এ জন্য দরকার উপযুক্ত নীতি ও ভর্তুকি, কিন্তু সে রকম কোনো তোড়জোড় চোখে পড়ে না।

জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করলে ব্যাপক সুফল যে মানুষ পেতে পারে, সরকার যেন তা কানেই তুলতে চাইছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলে ভর্তুকি এখন শুধু একেবারেই বন্ধ তা নয়, তারা অতীতে এই খাতে যত ভর্তুকি দিয়েছিল, তা এখন কড়ায়-গন্ডায় উশুল করে নিচ্ছে। অথচ শুধু জ্বালানি তেলের দাম কমালে তার ভালো প্রভাব বহুমুখী হতে পারে। এমনকি ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব দাবি করেছে যে যদি জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়, তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হয় না। বাজার স্থিতিশীল থাকতেও তা খুব সহায়ক হতে পারে। কিন্তু সরকার সেদিকে হাঁটতে নারাজ। বিদ্যুতে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে না, কারণ উৎপাদনকারীদের তারা ঋণ দিচ্ছে। আর এই ঋণ শুধু নয়, তার সুদের টাকাও চাপানো হচ্ছে ভোক্তাদের ওপর। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের উচিত হবে সরকারের নীতিনির্ধারণী বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা।

বাজারের ওপর সরকারের সময়োপযোগী নীতি (ভর্তুকিসহ) ও সে অনুযায়ী হস্তক্ষেপের বিকল্প নেই। বিশেষ করে ডজন দেড়েক পণ্যের সরবরাহ ও দাম সার্বক্ষণিকভাবে তদারক করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ সেল থাকতে পারে।

পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার এখনই সময়

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রায় ১ লাখ পাকিস্তানি সেনা ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে, সৃষ্টি হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। পাকিস্তানি বাহিনীর ঢাকায় আত্মসমর্পণের পর ৪৬ বছর ধরেই দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক শীতল রয়েছে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতৃত্বাধীন সরকার সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য কিছু উদ্যোগ নিলেও বর্তমান সরকারের এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগই নেই। পিপিপি ২০১২ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা খারকে ঢাকায় পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইসলামাবাদে ডি-৮-এর শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে। তবে পিপিপি সরকার ওই সময় বাংলাদেশের কাছে ১৯৭১ সালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরেই নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনার দাবি জানিয়ে আসছে। ক্ষমাপ্রার্থনা না করায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সে সময় পাকিস্তানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করা হয়। তা সত্ত্বেও এই আশা আছে যে নিকট ভবিষ্যতে উভয় দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে।

২০১৩ সালে বাংলাদেশ যখন যুদ্ধাপরাধের জন্য আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে নতুন করে তিক্ততা দেখা দেয়। ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীর মিত্র হিসেবে কাজ করেছে। কাদের মোল্লা সে সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য প্রথমে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তখন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে। গণদাবির মুখে সরকার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং উচ্চ আদালত কাদের মোল্লাকে ফাঁসির দণ্ড দেয়।

এ ঘটনায় ইসলামাবাদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের ঘটনায় নিন্দা জানায় এবং দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার ওই সময় বলেন, মর্মান্তিক ওই ঘটনায় পুরো পাকিস্তান গভীরভাবে শোকাহত। এদিকে মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার পরও পাকিস্তান তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ এ ঘটনাকে তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের নাক গলানো হিসেবে দেখে। ফলে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সার্কের সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দেয়। এতে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট পাকিস্তানকে আবারও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একটা সুযোগ করে দিয়েছিল। মিয়ানমার
থেকে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে, যেটা কিনা বাংলাদেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশ ঠিকই এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারের কুতুপালং সফর করেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। সবার খাদ্যনিরাপত্তা যেখানে নিশ্চিত করতে পারছি, সেখানে আরও সাত লাখ মানুষকেও খেতে দিতে পারব।’

রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের প্রতি সারা বিশ্ব সহানুভূতি দেখায়। পাকিস্তানও সহানুভূতি দেখিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত হওয়ার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হতে পারত, যদি পাকিস্তান সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় হাসিনা সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিত বা রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পাশে শর্তহীনভাবে দাঁড়াত। পাকিস্তানের উচিত ছিল সেই সুযোগটাকে কাজে লাগানো। কিন্তু পাকিস্তান তা করেনি। ১৯৭১ সালের ভূত এখনো তাদের ঘাড়ে চেপে রয়েছে। সে সময় তারা যে মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সেই একই মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। তাই তাদের উচিত, বাংলাদেশের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া। আর সে সময় এখনই।

প্রতিবেশী ও ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে এই অঞ্চলে পাকিস্তান ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ইরান পাকিস্তানকে সন্দেহের চোখে দেখে। আফগানিস্তানও খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না পাকিস্তানকে। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের বৈরিতা তো বহুদিনের। এখনো তা-ই আছে। দুই ঐতিহাসিক মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এখন পাকিস্তানের ব্যাপারে অনেকটাই শীতল। তারা এখন ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এই অঞ্চলে এখন কেবল চীনই পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। যদিও চীন পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগী, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে এখন যেসব দেশের শীতল সম্পর্ক চলছে, তাদের সঙ্গে চীনের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে।

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সিদ্ধান্তে হয়তো পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠীতে বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে। বিশেষ করে ডানপন্থী ইসলামি দলগুলো এই বলে চেঁচামেচি করবে যে, মুক্তিবাহিনীর দ্বারাও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং পাকিস্তানকে দুই টুকরো করার জন্য ভারত ভূমিকা রেখেছিল এবং শেখ হাসিনার সরকার পাকিস্তানপন্থী রাজনীতিকদের ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে।

কেবল কট্টরপন্থীদের শান্ত রাখার জন্য পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন না আনাটা পাকিস্তানের চরম বোকামি। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলানো এবং দেশটির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা হবে একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং তা এই অঞ্চলে এই সংকেত দেবে যে পাকিস্তান একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র, যে কিনা অতীতে করা ভুল স্বীকার করছে। ২১ শতকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে এ ধরনের সাহসী পরিবর্তন প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সেটাই হবে সঠিক কাজ, যদিও এরই মধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

টোকিওর অনলাইন ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: রোকেয়া রহমান।

উজাইর ইউনুস: পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন ভাষ্যকার। অলব্রাইট স্টোন গ্রুপের ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক।

সরকারি চাকরির বিকল্প কী?

দেশে একদিকে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। কিছুদিন আগে প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক কলামে এই প্রবণতাকে বিসিএস উন্মাদনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলাম। কারণ, সবাই তো আর সরকারি চাকরি পাবে না; যঁারা সেটা পাবেন না, তঁারা কী করবেন? তঁাদের সিংহভাগ যে অন্য চাকরির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, তা–ও নয়। ফলে চাকরির বাজারে একধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপাত্ত মতে, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পঁাচ বছর সময়ে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসে প্রায় ১৮ হাজার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার নিয়োগ হয়েছে। অথচ প্রতিবছর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে এই মুহূর্তে সরকারের মন্ত্রণালয়গুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি পদ শূন্য আছে। সব মিলিয়ে এক বছরে পাস করা তরুণ যদি সর্বনিম্ন বেতন স্কেলেও চাকরি করতে রাজি থাকেন, তারপরও তঁাদের সবাইকে সরকারি চাকরি পেতে পঁাচ বছর সময় লাগবে। কিন্তু প্রতিবছর যে আরও সমানসংখ্যক স্নাতক বের হচ্ছেন, তঁাদের জায়গা কোথায় হবে? বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোনোর পর মাধ্যমিকে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী। আবার এই ৬০ শতাংশের মধ্যে ১৫ শতাংশ মাধ্যমিক পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মাধ্যমিক-উত্তর কোর্সে ভর্তি হয়; এর অর্থ হলো, এই সাড়ে চার লাখ উচ্চশিক্ষিতের বাইরে বড় একটা অংশ মাধ্যমিক পেরোনো তরুণ রয়ে গেছে, যারা পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষা পায়নি। আবার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ তরুণের সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ, যা মোট শ্রমশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ। তঁাদের যে অংশটা উচ্চমাধ্যমিক-উত্তর শিক্ষা গ্রহণ করেন, তঁারা যদি সরকারি বেতনের ১৬তম গ্রেডে চাকরি করতেও ইচ্ছুক হন, তাতেও সবার পক্ষে সরকারি চাকরি জোটানো সম্ভব হবে না। প্রকৃত অর্থে প্রতিবছর ৭০ থেকে ৮০ হাজার সরকারি শূন্যপদে নিয়োগ হয়। এর অর্থ হলো, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে পঁাচজনে একজনের সরকারি চাকরি ভাগ্যে জোটে। অন্যদিকে বিবিএসের পরিসংখ্যান বর্ষ গ্রন্থ ২০১৬ থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৫ সালের সরকারি চাকরিতে মোট নিয়োগের ৭২ শতাংশ ছিল তৃতীয় শ্রেণির পদের বিপরীতে, প্রথম শ্রেণিতে নিয়োগ হয়েছে শতকরা ৭ ও দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য শতকরা ১৬ ভাগ। সব মিলিয়ে এটা শ্রমশক্তির ১০ ভাগের বেশি নয়। তাহলে অন্যদের বেসরকারি চাকরির ওপর নির্ভর করতে হয়। সাধারণভাবে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি যত বেশি হবে, তত বেশি কর্মসংস্থান হবে। তাই প্রাথমিকভাবে সেটা নিশ্চিত করতে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই।

দেশে তিন কারণে বেকারত্ব হয়—শ্রমের চাহিদা কম কিংবা জোগান বেশি হলে ও শ্রমদক্ষতার চাহিদার সঙ্গে দক্ষ শ্রমিকের সরবরাহের মিলন না হলে। ওপরের দুটির চেয়ে তৃতীয়টি বেদনাদায়ক। চাকরির বাজারে চাকরি আছে, বেকার শ্রমিকও আছেন, কিন্তু বেকারের হাতে চাকরি আসছে না। এবার তত্ত্ব রেখে উপাত্তে ফিরে আসি। দক্ষতার ঘাটতি নিয়ে সম্প্রতি বিআইডিএসের একটি সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। অর্থনীতির তিন খাতের মধ্যে শ্রমশক্তির ৪২ ভাগের অধিক কৃষি খাতে কর্মরত, অথচ জিডিপিতে এই খাতের অবদান দিনকে দিন কমছে। কৃষির মধ্যে আবার প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অভাব রয়েছে। জিডিপিতে শিল্প খাতের মোট অবদানের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে, এই পোশাক খাতেই দক্ষতার অভাবের সূচকে দ্বিতীয়। মোটের ওপর আমাদের দেশের শ্রমশক্তির মধ্যে মারাত্মক রকমের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। আমাদের তরুণেরা উচ্চশিক্ষার কালপর্বেও তঁারা বুঝতে পারেন না, কোন পথটা তঁাদের জন্য সঠিক। এই লম্বা সময়ে খুব কমসংখ্যক শিক্ষার্থী চাকরির বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জন করছেন।

এশিয়া ফাউন্ডেশন পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির দুই অধ্যাপকের (খন্দকার বজলুল হক ও সেলিম রায়হান) গবেষণায় কর্মসংস্থানে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের অবদান এবং খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ওই খাতে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি কী মাত্রায় ঘটে, সে–বিষয়ক একটি চিত্র পাওয়া যায়। কৃষি, বন ও মৎস্য খাতের কর্মসংস্থানে সম্মিলিত অবদান প্রায় ৪৫ শতাংশ, বাণিজ্য, হোটেল ও রেস্টুরেন্টের সম্মিলিত অবদান ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পোশাক খাতের অবদান ৮ দশমিক ৫ শতাংশের মতো। কিন্তু খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার হিসাব করলে দেখা যায়, অন্য খাতগুলো এগিয়ে আছে। ২০১৩ সালে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ বাড়লে কর্মসংস্থান ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা অন্যান্য খাত হলো কেমিক্যাল, রাবার ও প্লাস্টিক (সম্মিলিত), খনিজ শিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প (সম্মিলিত)। যেসব খাতের আকার বড়, সেখানে ধীরে ধীরে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, আমার শিক্ষা কি উক্ত খাতগুলোর জন্য দক্ষ জনশক্তি সরবরাহ করতে পারছে কিংবা তরুণদের পছন্দের তালিকায় কি উক্ত খাতগুলো আছে? তরুণদের পছন্দের তালিকায় আছে অর্থনীতির ৩ শতাংশ দখল করে রাখা জনপ্রশাসন ও সামরিক খাত, মোট কর্মসংস্থানে যাদের অবদান শতকরা ১ দশমিক ৫ ভাগের নিচে।

আমাদের বাস্তবতা হলো, ১৮ পেরোনোর পরও তরুণদের বুকে সাহস আসে না। জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ঝুঁকি থেকে অন্য সবার মতো তরুণেরাও মুক্ত নয়। সে কারণে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন আছে, যাতে জীবনের বিভিন্ন বয়সে যে ঝুঁকিগুলো রয়েছে, সেগুলো তারুণ্যের চিন্তার প্রবাহে প্রতিবন্ধক হয়ে না দঁাড়ায়। পরিবারেও এই চিন্তার চাষাবাদ হওয়া দরকার। আর আন্তর্জাতিক শ্রম আইনগুলো যাতে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্যও প্রযোজ্য হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। সাধারণ শিক্ষার চেয়ে বিশেষায়িত শিক্ষায় বেশি জোর দিতে হবে। কোন খাতে কেমন জনবল দরকার বা আগামী দিনে কোন খাত বিকশিত হবে, শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই চাহিদা অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য দরকার সমন্বিত নীতি ও তৎপরতা। তা না হলে আমরা জনসংখ্যা ডিভিডেন্ড কাজে লাগাতে পারব না। বেকারত্ব সমস্যারও সমাধান হবে না। শহিদুল ইসলাম: গবেষণা সহযোগী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)।

বারবার ফসলের বিপর্যয় নয়

গত এপ্রিলে হাওরাঞ্চলে বন্যায় যে ফসল বিপর্যয় ঘটেছে, আগামী মৌসুমেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ, বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার কথা ১৫ ডিসেম্বর থেকে, অথচ প্রকল্প নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো (পিসিআই) গঠনের কাজই এখনো শুরু করা হয়নি।

কিন্তু কেন? এভাবে কালক্ষেপণের কারণ কী?

বলা হচ্ছে, এবার হাওরের পানি ধীরে নামছে, উপরন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি আরও বেড়েছে। এই সময়ে হাওরগুলোর যেসব জায়গা থেকে পানি নেমে যাওয়ার কথা, সেগুলো এখনো জলমগ্ন। তাই বাঁধের প্রকল্প নির্ধারণে সমস্যা হচ্ছে। আর প্রকল্প নির্ধারণের আগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিগুলো গঠন করা যায় না।

বাস্তব সমস্যাই বটে। কিন্তু কী কারণে হাওরের পানি যথাসময়ে নেমে যাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে এ কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু কতটা বেড়েছে? আর পানি ধীরে নামার কারণ কি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক? এমন কিছু করার কি নেই, যাতে অপেক্ষাকৃত দ্রুত পানি নেমে যায় এবং বাঁধের প্রকল্পগুলো দ্রুত নির্ধারণ করে নির্মাণকাজ শুরু করে দেওয়া যায়?

সতর্কতার সঙ্গে স্মরণ করা দরকার, হাওরের বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এক অংশের কায়েমি স্বার্থ আছে; হাওরের পানি নামতে যত দেরি হয়, ততই তাদের লাভ। কারণ, শেষ মুহূর্তে বাঁধ নির্মাণের কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ মেলে, যেনতেন প্রকারে কিছু মাটি ফেলেই নির্মাণ শেষ করা হয়। এভাবে নির্মিত বাঁধগুলো স্বভাবতই দুর্বল হয়, বানের পানি এলে এই বাঁধগুলোই সবচেয়ে আগে ভাঙে এবং হাওরে পানি ঢুকে ফসল নষ্ট হয়। প্রতিবছর কমবেশি এমন ঘটনা ঘটে। গত বছর ঘটেছে অত্যধিক মাত্রায়।

আসলে পানি নামছে না বলে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। হাওর থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার জলকপাটগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখুন; অনেক জলকপাট অকেজো হয়ে আছে। সেগুলো সচল করে এবং জায়গাবিশেষে নালা কেটে দিলে হাওরের পানি নেমে যাওয়ার গতি অবশ্যই বাড়বে। গত মৌসুমের ফসল বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি অবশ্যই ঠেকানো দরকার।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্ন

একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদারেরা একটা মরণ কামড় বসাতে চেয়েছিল বাঙালিদের বুকে-তারা এই জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। পাকিস্তানিরা জানত তাদের পরাজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র, তবে তা ছিল মাত্র ৪৮ ঘণ্টার দূরত্বে, তারা হয়তো তা কল্পনা করতে পারেনি। তবে তাদের লক্ষ্য থেকে তারা বিচ্যুত হয়নি। পরাজয়ের গ্লানি ও বেদনা তারা ঢেকে দিতে চেয়েছিল এ দেশের সবচেয়ে দীপ্যমান কিছু মনীষীর জীবনের সমাপ্তি ঘোষণা করে। রায়েরবাজারের বধ্যভূমি পাকিস্তানিদের গ্লানি ভুলে যাওয়ার একটা সুযোগ করে দিয়েছিল।

কাপুরুষতারও একটা সীমা থাকে। পাকিস্তানিদের তা-ও ছিল না। তারা নিরস্ত্র, অরক্ষিত বুদ্ধিজীবীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে তাঁদের হাত-পা-চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে রায়েরবাজারে নিয়ে এল এবং নৃশংসভাবে তাঁদের হত্যা করল। পাকিস্তানিরা ধরে নিয়েছিল, বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে তারা বাঙালি জাতিকে বুদ্ধিহীন করে যাবে, যাতে এই জাতি কোনো দিন বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে।

তাদের ভাবনায় দুটি মারাত্মক ভুল ছিল। প্রথম ভুলটি ছিল বুদ্ধিজীবীদের সংজ্ঞা নিয়ে, দ্বিতীয়টি বাঙালিদের সক্ষমতা নিয়ে। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী বলতে অবশ্যই সুশিক্ষিত চিন্তাশীল এবং তত্ত্ব-তথ্যে সুপণ্ডিত একটি শ্রেণি আছে, কিন্তু এ দেশের নিম্নবর্গীয় চিন্তায়ও বুদ্ধিজীবী বলে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা তাঁদের নিত্যদিনের কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের বুদ্ধির সক্রিয়তাকে জাগিয়ে রাখেন-তাঁদের মধ্যে শিক্ষক বা সাংবাদিক যেমন, তেমনি আছেন কারখানার শ্রমিক অথবা খেতমজুর, যাঁদের বুদ্ধিচর্চা কলকারখানার উৎপাদন বাড়াচ্ছে, রপ্তানি বাণিজ্যের বিকাশ ঘটাচ্ছে এবং সামাজিক সমাবেশের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে। পাকিস্তানে এই নিম্নবর্গীয় বা সাব-অল্টার্ন বুদ্ধিজীবী হয়তো নেই; আমাদের আছে। ফলে একাত্তরে বছরজুড়ে এবং ১৪ ডিসেম্বর বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে পাকিস্তানিরা বুদ্ধিজীবী হত্যা করলেও বাংলাদেশে বুদ্ধিচর্চা অব্যাহত রয়ে গেছে।

ওই দিন পাকিস্তানিরা কিছু অসামান্য প্রতিভাধর বাঙালিকে নিধন করে ভেবেছে, তাদের পথচলা নিষ্কণ্টক হয়েছে। তারা ভাবেনি, বাঙালির সক্ষমতা শুধু সৃজনশীল নয়, মননশীলও বটে। ফলে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পরও বাঙালি আত্মসমর্পণ করেনি, স্তম্ভিত হয়ে যায়নি, ভয় পেয়ে চুপ করে যায়নি। বরং তাদের যুদ্ধটা চালিয়ে গেছে। পাকিস্তানিদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার, আমাদের গৌরব পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে স্থির থেকেছে।

গত ৪৬ বছরে ১৪ ডিসেম্বরকে আমার মনোযোগের কেন্দ্রে রেখে মনে হয়েছে বাঙালিদের কোনো একটি সত্তা অন্য সব প্রকাশকে নিয়ন্ত্রণ করেনি, বরং একটি সমবায়ী সত্তাই সর্বত্র বিরাজমান ছিল। এই সমবায়ী সত্তায় লীন হয়েছিলেন যোদ্ধারা, দেশের ভেতরে আইনে পড়া বাঙালি নাগরিকেরা, স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা। আমরা নানা নামে তাঁদের ডেকেছি, কিন্তু একটি নাম ইতিহাসে স্থান পেয়েছে-মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরজুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অগ্রবর্তী ভূমিকায়। তাঁদের নেতৃত্ব সবাই মেনে নিয়েছিল এবং এক অভিন্ন উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্যে ধাবিত হচ্ছিল।

পাকিস্তানিদের হিংস্রতা, বর্বরতা অথবা যুক্তিহীনতাকে আমি বুঝতে পারি, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে সক্ষম হই না তাদের সঙ্গে কিছু বাঙালির গাঁটছড়া বাঁধার বিষয়টিকে। যারা গাঁটছড়া বেঁধেছিল, তাদের কয়েকটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথম উদ্দেশ্য ছিল, ক্রমাবনতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের সংহত করে ফায়দা আদায় করা। দ্বিতীয় একটি উদ্দেশ্যও ছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে স্থায়ী ও সৌভ্রাতৃত্বমূলক একটি সম্পর্ক গড়ে তোলা। স্বাধীনতার প্রাক্কালে তাদের এই প্রত্যাশা যখন সুদূরপরাহত হয়, এসব মানুষ উগ্রবাদী ও পাকিস্তানপন্থী একটি চিন্তার সমর্থক হয়ে দাঁড়াল। স্বাধীনতার পরও এরা থেকে গেল। এখনো তারা আছে এবং মাঝে মাঝেই তাদের বীভৎসতা তারা জানান দেয়।

স্বাধীনতাপ্রাপ্তির ৪৬ বছর পার হলো। প্রশ্ন হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ কিছু সন্তান মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এসে যখন নিহত হলেন, আমরা কি সত্যিই তাঁদের আত্মদানের বিষয়টি মাথায় রেখে অগ্রসর হয়েছি? তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন কি আমরা করেছি? তাঁদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা কি রাষ্ট্র গঠন করেছি?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এককথায় বলতে গেলে, না। আমরা অন্যের আত্মদান পছন্দ করি, কিন্তু নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করি এবং কোনো বিবাদের মাঝখানে দাঁড়াতে চাই না। কূটনীতির বিচারে হয়তো এটি ঠিক, কিন্তু নৈতিকতার বিচারে অবশ্যই নয়। আমরা যদি বৃহৎ শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে আমাদের পরিচিতি, আমাদের সত্তা এবং আমাদের ইতিহাস, সমাজ ও মানুষ নিয়ে চিন্তার পরম্পরাকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারি, তাহলে আমরা বিশ্বসভায় সম্মানের আসনে বসতে পারব না।

কাজেই ১৪ ডিসেম্বর শুধু কয়েকজন শহীদকে স্মরণ করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আমাদের বরং এমন কিছু কাজ করতে হবে, এমন কিছু প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে যা আমাদের আত্ম-অনুসন্ধানের পথ উন্মুক্ত করবে। এবং আমাদের জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সেই কাজ ও প্রশ্নগুলো এই-
ক. আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, ১৪ ডিসেম্বর প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল। এদিন তো ভয় দেখিয়ে আমাদের নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছে বর্বর পাকিস্তানিরা। কিন্তু পাকিস্তানি উপনিবেশবাদের সুবর্ণ সময়ে উত্তর ঔপনিবেশিক কিছু বাণী আমরা আমাদের ইতিহাসের দেয়ালে লিখেছি তা দেখা।
খ. স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আমরা নিশ্চয় এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছি, যাতে একাত্তরের বুদ্ধিজীবীদের হারানোর বেদনা ভুলে আমরা তাঁদের উত্তরসূরিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু সেই উত্তরসূরিদের কি আমরা প্রস্তুত করতে পেরেছি? তাঁদের সব শূন্যতা কি আমরা মোচন করতে পেরেছি?
গ. একাত্তরের ওই শহীদেরা যে বাংলাদেশের স্বপ্ন চোখে নিয়ে চোখ বুজেছেন, সেই বাংলাদেশ কি আমরা তৈরি করতে পেরেছি?
ঘ. সবচেয়ে বড় কথা, এই ৪৬ বছর পর আমরা কি ১৪ ডিসেম্বরের শহীদদের আদর্শ, বিশ্বাস ও স্বপ্নের ধারক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি?
প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার কাছে নেই। আমি জানি না। একাত্তরের ওই শহীদদের আমরা পূর্ণ মর্যাদা দিতে পেরেছি কি না। অথবা তাঁদের রেখে যাওয়া আদর্শকে আমরা প্রকৃতই আমাদের প্রতিদিনের কাজে-কর্মে স্থান দিতে পেরেছি কি না।

২.
কিছুদিন আগে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে শুনলাম, একজন শ্রদ্ধাভাজন মুক্তিযোদ্ধা, যিনি একটি প্রশ্ন রেখেছেন-শহীদ বুদ্ধিজীবীরা একাত্তরে আদৌ কি কোনো বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর আমরা যে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করি, এর পাশাপাশি তাঁর মতো অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কি আমরা তেমন দৃঢ়তার সঙ্গে স্মরণ করি?
প্রাচীন চীনের এক বিখ্যাত সমরবিদ সুন জু লিখেছিলেন, একটি যুদ্ধ শুধু সৈন্যরা বা সেনাপতিরা করেন না, বরং তাতে দেশের নাগরিক সমাজের চিন্তাবিদ থেকে নিয়ে গৃহস্থরাও জড়িত থাকেন। সুন জু সেনাপতিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, চোখ-কান খোলা রেখে একজন পুরোহিত থেকে প্রজ্ঞা ধার নিয়েও যুদ্ধ করো। আমরা জানি বুদ্ধিজীবীরাই প্রযুক্তির কর্ণধার-আধুনিক যুদ্ধের সরঞ্জাম তাঁদের জ্ঞান থেকেই তৈরি হয়। আমাদের বুদ্ধিজীবীরা বাঙালির আত্মপরিচয় অর্জনে বারবার একটি ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তানিরা এটি বুঝেছিল। তারা জানত, বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করতে পারলে বাংলাদেশের মেরুদণ্ড দুর্বল হবে।

৩.
একাত্তরে যাঁরা তাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী চিন্তার জন্য পাকিস্তানিদের জিঘাংসার বলি হয়েছিলেন, তাঁদের আদর্শের বাংলাদেশ কি আমরা গড়তে পেরেছি?
উত্তরটি হ্যাঁ ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি করছি, কিন্তু শিক্ষার মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ক্রমাগত পেছনে চলছি।
আমরা সামাজিক বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে তো আরও প্রকট করছি। আমরা শিশুদের সুরক্ষা দিতে পারিনি: আমরা সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জনগণকে আমাদের সমান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে পারিনি। আমরা তরুণদের স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আমাদের রাজনীতিকে হানাহানি, সংঘাত ও কুতর্কের বিবরে ফেলে দিয়েছি।
আমরা বাংলাদেশের পরিবেশ ও নৈসর্গিক ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা দরিদ্রকে আরও দরিদ্র এবং ধনীদের আরও ধনী হতে সাহায্য করেছি।
তালিকাটি আরও অনেক দীর্ঘ করা যায়। কিন্তু এর ইতি টানা যায় এই বলে যে আমরা একাত্তরের চেতনাকে শুধু যে অবহেলা করেছি তা নয়, এর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাও করেছি।

৪.
একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ শুধু এ কথাই বলব, আপনাদের প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশে আপনাদের আদর্শ আমরা ধরে রাখতে পারিনি।
তবে যারা তরুণ, একাত্তরে যাদের জন্মই হয়নি, তারা একদিন নিশ্চয় তা করবে। তারুণ্যের ওপর আমার যে বিশ্বাস, তা থেকেই কথাগুলো আমি বলছি।

৫.
একদিন বাংলাদেশ সত্যিকার সোনার বাংলা হবে। ইতিহাস তাই বলে। অহংকারী, আত্মম্ভরী অথবা বিভ্রান্ত কিছু মানুষ যা-ই বলুক।
বাংলাদেশের মাটিতে কান পাতলে সেই সত্য শোনা যায়। একদিন বাংলাদেশ একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সম্মান দেখাবে। আজ না হলেও।
আমি এবং আমরা সেদিন না থাকলেও।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম: কথাসাহিত্যিক। অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।