সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করবেন না: ইসিকে বাম জোটের চিঠি

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য এক চিঠিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছে। আজ ৭ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেয়া চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ও বাসদ-এর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জোটের সমন্বয়ক কমরেড সাইফুল হকের স্বাক্ষরিত চিঠিটি হস্তান্তর করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকট নিরসনকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে সংলাপ করছেন। অবাধ-নিরপেক্ষ-অংশগ্রহণমূলক-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য চলমান সংলাপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সংলাপ শেষ হওয়ার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পুরো প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সে কারণে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি।”

বল এখন সরকারের কোর্টে: ড. কামাল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বল এখন সরকারের কোর্টে। ঐক্যফ্রন্ট সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে সীমিত পরিসরে আরও আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার সংলাপ শেষে গণভবন থেকে ফিরে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা। ড. কামাল বলেন, সংলাপে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন আর কোন মামলা দায়ের হবে না, নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পুর্ণগঠনের বিষয়ে আমরা প্রস্তাব করেছি। আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ফ্রন্টের করণীয় কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া আছে। কাল (৮ নভেম্বর) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ হবে। তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবো।
এসময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা তফসিল ঘোষণা না করতে বলেছি। তারপরও ঘোষণা হলে পুনঃতফসিল হতে পারে। তফসিল ঘোষণা হলেও আলোচনা চলতে পারে। আর ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দেয়নি। আমরা সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছি।
আজ সকাল ১১টা থেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ওই সংলাপে নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

যাত্রাবাড়ীতে দুই বাসের চাপায় যুবক নিহত

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই বাসের চাপায় সেলিম মিয়া (২২) নামে এ যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন জুয়েল (৩০) নামে আরেক যুবক।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম মাদারীপুর শিবচর উপজেলা আলেপুর গ্রামের ফজল হকের একমাত্র সন্তান। তিনি ডেমরা এলাকায় থাকতেন।
নিহত সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, চিকিৎসার জন্য আজকে গ্রামের বাড়ি আলেপুর থেকে ঢাকায় ছেলে সেলিমের বাসায় আসেন। পরে যাত্রাবাড়ী মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের চাপায় সেলিমসহ আরও এক যুবক আহত হয়। তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ২টার দিকে সেলিমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত জুয়েলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
যাত্রাবাড়ীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, দুর্ঘটনার পর ‘ট্রান্স সিলভা’ পরিবহনের দু’টি বাস জব্দ ও এক চালককে আটক করা হয়েছে।

আমার বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে: ড. কামাল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, যাঁরা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন তাঁদের আমি এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে যাব।
এই প্রবীণ আইনজীবী বলেন, জনগণের এই উদ্বেগ ও আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণফোরাম ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে সাতটি দাবির ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
সাতটি দাবি হলো- বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় নির্বাহী বিভাগ বা সরকার গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাকস্বাধীনতা ও রাজনীতির সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে- এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমাদের সাত দফা দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছেছি, যার ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
ড. কামাল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাজ করে যাবে, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষে আমাদের দাবিগুলো আদায়ের জন্য আমরা এমন ব্যক্তি ও দলের সাথে কাজ করব, যারা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ এবং যারা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না। আমরা বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে সমাবেশ করব।
সংবিধান প্রণেতা বলেন, আমাদের এই ঐক্যের সাথে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এটা আগেও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। এখনো বলছি, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আমাদের ঐক্য নয়। আর একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই- আমরা ঐক্য করেছি কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বিশেষের সাথে আমাদের ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নাই। বিশেষ করে তারেক রহমানের সাথে।
গণফোরামের সভাপতি বলেন, আমরা দল হিসেবে বিএনপির সাথে ঐক্য করেছি। কিন্তু ব্যক্তি তারেক রহমানের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কয়েকটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য করেছি। আর সেই জন্য জনমত গঠনে কাজ করছি।
গতকাল জাতীয় সংসদে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন মনে করছি না। যদি কখনো প্রয়োজন মনে করি তাহলে তখন মন্তব্য করব। আর সংসদে তারা অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করতেই পারে।
সংবিধানের বাইরে কোনো দাবি মানা হবে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই সংবিধান তো তারা সংশোধন করছে। আগের সংবিধানে আমাদের দাবিগুলো ছিল। আমরা আগের সংবিধানে যেগুলো ছিল সেগুলোই বলেছি।
দাবি মানা না হলে কর্মসূচি কেমন হবে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, আমরা আপাতত সারা দেশে যে জনমত গঠন করব তার মাধ্যমে আশা করি দাবি আদায় হবে। তারপরও যদি দাবি আদায় না হয়, তাহলে গভীরভাবে ভেবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

দু’এক সপ্তাহে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, ইঙ্গিত দিলেন দুদু

ঢাকা: আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরকারের প্রতিকূলে চলে যাবে এবং কত ধানে কত চাল হয় তা সরকার বুঝবে বলে মনে করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ এইড ফাউন্ডেশন (ইডাফ) আয়োজিত ‘নির্বাচন ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা টের পাবেন আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়, কত ধানে কত চাল হয়। এখনও বুঝতে পারেন নাই। কারণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে তাদের অতীত পরিচয় রয়েছে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে কতটা কার্যকর, তা সরকারের বক্তব্য শুনলেই আপনারা বুঝতে পারবেন উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘তাদের (সরকার) মাথা শিগগির আরও খারাপ হবে।’
দেশে মানবাধিকার বলে কিছু নেই দাবি করে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যেখানে গণতন্ত্রের স্বাধীনতা থাকে না, বাক্স্বাধীনতা থাকে না, ব্যক্তি তার অধিকার হারায় সেখানে মানবাধিকার বলে তো কিছু থাকে না। বাংলাদেশে মানবাধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করায় এটিকে সমাবেশের অনুমতি দিতেও গড়িমসি করছে সরকার। আমাদের নেতাদেরকে ব্যপক হারে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : জনমতের প্রতিফলন ঘটে এমন অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সরকারের দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক প্রিন্সিপাল উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস। মৌলিক অধিকার বিশেষ করে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করার ব্যাপারেও সরকারের প্রতি আহ্বান রেখেছেন তিনি।
তিন দিনের সফরের শেষ দিন সোমবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন মার্কিন মন্ত্রী। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাটও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে এলিস ওয়েলস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল আর তা অতি দ্রুত বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোগুলো জোরদার করা গেলে তা এদেশের ভবিষ্যত সাফল্যকে এগিয়ে নেবে। আর এ কারণেই আমরা বাংলাদেশ সরকারকে মৌলিক অধিকার বিশেষ করে বাক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটে এমন অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষা করার ব্যাপারে আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছি। এখানে অংশ নেওয়া বৈঠকগুলোতে আমি যুক্তরাষ্ট্রের এ বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হোক। সব রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে এবং স্বাধীনভাবে তার রাজনৈতিক ভিশন ও নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের সামনে প্রদর্শন করতে পারে। সরকার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত যারা তারা যেন এ সুযোগ নিশ্চিত করে।

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে মার্কিন উপ সহকারী মন্ত্রীর বৈঠক No icon ‘জনগণের আকাঙ্খার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে’ এমন নির্বাচন দিন: ঢাকাকে ওয়াশিংটন

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যে নির্বাচনে এদেশের জনগণের আকাঙ্খার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে। পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মূখ্য উপ সহকারী মন্ত্রী এলিস ওয়েলস।
সকালে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হকের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন তিনি। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয় হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, অন্যন্য বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হলেও রাজনৈতিক বিষয়ের আলোচনা কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। আলোচনায় মার্কিন উপ সহকারী মন্ত্রী বলেন, তার দেশ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবিশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সব দল অংশ নেবে। জবাবে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারও এমন একটি নির্বাচন করতে চায়। এবং এজন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আরেক মামলা

নিউজ মিডিয়া ২৪: সাভার: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আবারও একটি মামলা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার রাতে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকার বাসিন্দা হাসান ইমাম বাদী হয়ে ওই মামলা দায়ের করেন।
চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, জমি দখল ও সাইনবোর্ড চুরির অভিযোগে ডা. জাফরুল্লাহসহ তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশির।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থানার খামারহাটি গ্রামের মোহাম্মদ আলী।
ওই মামলাতেও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জাফরুল্লাহসহ মোট চারজনকে আসামি করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক ডা. জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়টি জানান।

সিধা পথে আসুন, অন্য কোনো পথ খোলা নেই: সরকারকে ফখরুল

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সিধা পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।
সংগঠনের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এতে সভাপতিত্ব করেন।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন আজকে বিভক্ত, তারা (নির্বাচন কমিশন) এখন ভিন্ন কথা বলছে। সেখানে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একজন কমিশনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেই প্রস্তাবকে অন্য কমিশনার বলছে অসাংবিধানিক। আমরা বলব নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন। তা না হলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবেনা।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপিরস্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, যুব জাগপার নেতা প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সহ অনেকেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বহু নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এভাবে একটি দলের ওপর নির্যাতন করলে কীভাবে সুষ্ঠু রাজনীতি হয়। নির্বাচনই বা সুষ্ঠু কেমনে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলছি- অবিলম্বে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সিধা পথে আসুন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসুন। তা না হলে অন্য কোনো পথ নেই। এই একটাই পথ।
বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করার পর এখন তাকে সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের কথা বলার কারণেই সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে জেল খানায় বন্দি করা হয়েছে ।

গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আদায় করেই ঘরে ফিরব: ফখরুল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নতুন আঙ্গিকে লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আদায় করেই ঘরে ফিরব।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া এই সংবাদ সম্মেলনে বর্ষিয়ান আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সন্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে অংশ নেয় বিএনপি।
সংবাদ সন্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেন, গত তিনদিনের টানা বৈঠক শেষে আমরা একটি ঐক্যমতে পৌঁছেছি। এতে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ সিন্দাবাদের ভুত চেপে বসেছে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ না হলে এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না।
এসময় তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরেন এবং সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সব কালো আইন বাতিল করাসহ সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আ ব ম মোস্তফা আমিন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক রতন, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার, আ ও ম শফিক উল্লাহ, মোস্তাক আহমদসহ আরও কয়েকজন ঐক্যপ্রত্যাশী নেতা।