সাগর উত্তাল, ৩ নম্বর সতর্কতা

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন স্থলভাগে অবস্থান করছে। আজ সোমবার দুপুরে এটি ভারতের ওডিশা ও বিহার এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকা উত্তাল। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, স্থলভাগে চলে আসায় লঘুচাপটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাবে। এর প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল থাকায় দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চট্টগ্রাম, টেকনাফসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন দিন এই আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

মিয়ানমারের উস্কানিতে পা দেব না: বিজিবি মহাপরিচালক

নিউজ মিডিয়া ২৪: ময়মনসিংহ : সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করলেও বিজিবি কোন উস্কানিতে পা দেবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে চলে আসছে। এই সমস্যায় বিশ্বের সব দেশ আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাই বাংলাদেশও দাড়িয়েছে।’

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, ‘যতবার বৈঠক হয়েছে মিয়ানমারের সঙ্গে ততবারই তারা বলছে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়া হবে। তবে মাঝে মাঝে তারা সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করে।’ এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এর প্রতিবাদে কিছুদিন আগে পতাকা বৈঠক করেছি। তাদেরকে আমরা জানিয়েছি তোমরা যে সৈন্য সমাবেশ করছো এটা আন্তর্জাতিক নিয়ম নীতির লঙ্ঘন। তাদেরকে আমরা বলেছি ভবিষ্যতে তোমরা এটি করবানা। আমরা বিজিবি সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে দেব।’

লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সৈকত

লাখো পর্যটকে মুখর বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সকালে সৈকতে গোসল, বিকেলে বালুচরে দাঁড়িয়ে অস্তগামী রাঙা সূর্য অবলোকন, পাহাড়ি ঝরনা, মেরিনড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করে সময় পার করছেন তাঁরা। অনেকে প্রমোদতরীতে ছুটছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে। তবে পর্যটনের এই ভরা মৌসুমে দেশের নানা জায়গা থেকে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে।

হোটেল মালিকেরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে চার দিনে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন অন্তত তিন লাখ পর্যটক। এর মধ্যে এক লাখ পর্যটক ফিরে গেলেও অবশিষ্ট দুই লাখ পর্যটককে সামাল দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল সকালে সৈকতের লাবণি পয়েন্টে দেখা গেছে হাজার হাজার পর্যটক লোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দ উল্লাস করছেন। কেউ আবার জেডস্কি ও স্পিডবোটে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে।

দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত পর্যটক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম), খোলা জিপ ও অটোরিকশায় চড়ে শহর থেকে মেরিনড্রাইভ সড়ক দিয়ে যাচ্ছেন কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীর পাথুরে সৈকত, শীলখালী, জাহাজপুরা, বাহারছড়াসহ টেকনাফ সৈকতে। কেউ কেউ স্পিডবোটসহ নৌযানে করে ছুটছেন মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপে।

তবে পর্যটনের এই রমরমা মৌসুমে অনেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পিপলস ফোরাম সংগঠনের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম বলেন, ১৫ ডিসেম্বর সমুদ্রসৈকতের পাশে জাম্বুর দোকান এলাকায় দিনদুপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ফেনীর আবু তাহের নামে এক পর্যটক। পুলিশ এখনো ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈকত এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সমুদ্রসৈকতে নামার সি-ওয়ার্ল্ড সড়ক, সাংস্কৃতিককেন্দ্রের সামনে, জাম্বুর দোকান, কলাতলী মোড়, সৈকতের ঝাউবাগান এলাকা, হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস এলাকা, বাইপাস সড়ক, বাস টার্মিনাল, বিজিবি ক্যাম্প ও সাবমেরিন কেব্‌ল ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকায় দিনরাত প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ বলেন, শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস, কটেজের কোথাও এখন কক্ষ খালি নেই। আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ৯০ শতাংশ হোটেলকক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সব দিক বিবেচনা করে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।

অবশ্য ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমি বলেন, সৈকতের ডায়াবেটিকস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত চার কিলোমিটারে ট্যুরিস্ট পুলিশ ২৪ ঘণ্টা এবং মেরিনড্রাইভসহ ইনানী সৈকতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকছে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, হোটেলকক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছে।