সংলাপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা করবেন না: ইসিকে বাম জোটের চিঠি

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য এক চিঠিতে বাম গণতান্ত্রিক জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছে। আজ ৭ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে দেয়া চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ও বাসদ-এর নেতা খালেকুজ্জামান লিপন নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জোটের সমন্বয়ক কমরেড সাইফুল হকের স্বাক্ষরিত চিঠিটি হস্তান্তর করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সংকট নিরসনকল্পে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে সংলাপ করছেন। অবাধ-নিরপেক্ষ-অংশগ্রহণমূলক-গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য চলমান সংলাপ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সংলাপ শেষ হওয়ার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পুরো প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সে কারণে রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি।”

বল এখন সরকারের কোর্টে: ড. কামাল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বল এখন সরকারের কোর্টে। ঐক্যফ্রন্ট সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সামনে সীমিত পরিসরে আরও আলোচনার দাবি জানানো হয়েছে।
আজ বুধবার সংলাপ শেষে গণভবন থেকে ফিরে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা। ড. কামাল বলেন, সংলাপে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন আর কোন মামলা দায়ের হবে না, নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন পুর্ণগঠনের বিষয়ে আমরা প্রস্তাব করেছি। আলোচনা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে ফ্রন্টের করণীয় কি হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া আছে। কাল (৮ নভেম্বর) রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ হবে। তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবো।
এসময় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা তফসিল ঘোষণা না করতে বলেছি। তারপরও ঘোষণা হলে পুনঃতফসিল হতে পারে। তফসিল ঘোষণা হলেও আলোচনা চলতে পারে। আর ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন পেছানোর প্রস্তাব দেয়নি। আমরা সংসদের মেয়াদ শেষের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার প্রস্তাব দিয়েছি।
আজ সকাল ১১টা থেকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। ওই সংলাপে নেতৃত্ব দেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আমার বিরুদ্ধে ক্রমাগতভাবে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে: ড. কামাল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : গণফোরামের সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন ড. কামাল হোসেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, যাঁরা ক্রমাগতভাবে আমার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করে চলেছেন তাঁদের আমি এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই যে, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। একটি গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমি কাজ করে যাব।
এই প্রবীণ আইনজীবী বলেন, জনগণের এই উদ্বেগ ও আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণফোরাম ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে সাতটি দাবির ব্যাপারে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
সাতটি দাবি হলো- বর্তমান সংসদ ভেঙে দেওয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় নির্বাহী বিভাগ বা সরকার গঠন, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, বাকস্বাধীনতা ও রাজনীতির সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, জনগণের আস্থা আছে- এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করা।
ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমাদের সাত দফা দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দেশের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ জাতীয় পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতৈক্যে পৌঁছেছি, যার ফলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
ড. কামাল বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ঐক্য বজায় রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কাজ করে যাবে, যাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষে আমাদের দাবিগুলো আদায়ের জন্য আমরা এমন ব্যক্তি ও দলের সাথে কাজ করব, যারা একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ এবং যারা এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান যেখানে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কারো বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হবে না। আমরা বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে সমাবেশ করব।
সংবিধান প্রণেতা বলেন, আমাদের এই ঐক্যের সাথে জামায়াতের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এটা আগেও পরিষ্কার করে বলা হয়েছে। এখনো বলছি, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে আমাদের ঐক্য নয়। আর একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই- আমরা ঐক্য করেছি কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলে। কিন্তু কোনো ব্যক্তি বিশেষের সাথে আমাদের ঐক্যের কোনো সম্পর্ক নাই। বিশেষ করে তারেক রহমানের সাথে।
গণফোরামের সভাপতি বলেন, আমরা দল হিসেবে বিএনপির সাথে ঐক্য করেছি। কিন্তু ব্যক্তি তারেক রহমানের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা কয়েকটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে ঐক্য করেছি। আর সেই জন্য জনমত গঠনে কাজ করছি।
গতকাল জাতীয় সংসদে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে যেসব মন্তব্য করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে মন্তব্য করার প্রয়োজন মনে করছি না। যদি কখনো প্রয়োজন মনে করি তাহলে তখন মন্তব্য করব। আর সংসদে তারা অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করতেই পারে।
সংবিধানের বাইরে কোনো দাবি মানা হবে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই সংবিধান তো তারা সংশোধন করছে। আগের সংবিধানে আমাদের দাবিগুলো ছিল। আমরা আগের সংবিধানে যেগুলো ছিল সেগুলোই বলেছি।
দাবি মানা না হলে কর্মসূচি কেমন হবে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, আমরা আপাতত সারা দেশে যে জনমত গঠন করব তার মাধ্যমে আশা করি দাবি আদায় হবে। তারপরও যদি দাবি আদায় না হয়, তাহলে গভীরভাবে ভেবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

দু’এক সপ্তাহে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, ইঙ্গিত দিলেন দুদু

ঢাকা: আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরকারের প্রতিকূলে চলে যাবে এবং কত ধানে কত চাল হয় তা সরকার বুঝবে বলে মনে করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিশু কল্যাণ মিলনায়তনে ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ এইড ফাউন্ডেশন (ইডাফ) আয়োজিত ‘নির্বাচন ও মানবাধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা টের পাবেন আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়, কত ধানে কত চাল হয়। এখনও বুঝতে পারেন নাই। কারণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে তাদের অতীত পরিচয় রয়েছে।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যে কতটা কার্যকর, তা সরকারের বক্তব্য শুনলেই আপনারা বুঝতে পারবেন উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘তাদের (সরকার) মাথা শিগগির আরও খারাপ হবে।’
দেশে মানবাধিকার বলে কিছু নেই দাবি করে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘যেখানে গণতন্ত্রের স্বাধীনতা থাকে না, বাক্স্বাধীনতা থাকে না, ব্যক্তি তার অধিকার হারায় সেখানে মানবাধিকার বলে তো কিছু থাকে না। বাংলাদেশে মানবাধিকার আজ ভুলুণ্ঠিত।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি করায় এটিকে সমাবেশের অনুমতি দিতেও গড়িমসি করছে সরকার। আমাদের নেতাদেরকে ব্যপক হারে গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সিধা পথে আসুন, অন্য কোনো পথ খোলা নেই: সরকারকে ফখরুল

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সরকারকে অবিলম্বে সিধা পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের স্বাধীনতা হলে এক সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।
সংগঠনের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান এতে সভাপতিত্ব করেন।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন আজকে বিভক্ত, তারা (নির্বাচন কমিশন) এখন ভিন্ন কথা বলছে। সেখানে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একজন কমিশনার যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেই প্রস্তাবকে অন্য কমিশনার বলছে অসাংবিধানিক। আমরা বলব নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন। তা না হলে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবেনা।
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিএনপিরস্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিশ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, যুব জাগপার নেতা প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান সহ অনেকেই।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবী মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। বহু নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এভাবে একটি দলের ওপর নির্যাতন করলে কীভাবে সুষ্ঠু রাজনীতি হয়। নির্বাচনই বা সুষ্ঠু কেমনে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বলছি- অবিলম্বে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সিধা পথে আসুন। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসুন। তা না হলে অন্য কোনো পথ নেই। এই একটাই পথ।
বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে বন্দি করার পর এখন তাকে সুচিকিৎসাও দেয়া হচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, আজকে গণতন্ত্রের কথা বলার কারণেই সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তাকে জেল খানায় বন্দি করা হয়েছে ।

গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আদায় করেই ঘরে ফিরব: ফখরুল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। নতুন আঙ্গিকে লড়াই শুরু হয়েছে। এ লড়াইয়ের মাধ্যমে গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আদায় করেই ঘরে ফিরব।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া এই সংবাদ সম্মেলনে বর্ষিয়ান আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সন্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে অংশ নেয় বিএনপি।
সংবাদ সন্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেন, গত তিনদিনের টানা বৈঠক শেষে আমরা একটি ঐক্যমতে পৌঁছেছি। এতে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ সিন্দাবাদের ভুত চেপে বসেছে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ না হলে এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না।
এসময় তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরেন এবং সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সব কালো আইন বাতিল করাসহ সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সভাপতি আ স ম রব, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
এছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আ ব ম মোস্তফা আমিন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক রতন, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার, আ ও ম শফিক উল্লাহ, মোস্তাক আহমদসহ আরও কয়েকজন ঐক্যপ্রত্যাশী নেতা।

গ্রেনেড হামলার জন্য শেখ হাসিনা দোষারোপ করেছিলেন সেনাবাহিনীকে: ফখরুল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ১/১১-র পর শেখ হাসিনা যখন সাব জেলে ছিলেন তখন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিএনপিকে দোষারোপ করেনি, দোষারোপ করেছিল সেনাবাহিনীকে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে জিহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরপরই আমাদের সরকার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং তৎকালীন সরকারই মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করেছিল। তদন্তের জন্য এফবিআই, ইন্টারপোলকে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনবার চার্জশিট দিয়েছিল। তখন কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি, তারেক রহমান কিংবা আব্দুস সালাম পিন্টুকে জড়িয়ে কোনও কথা বলেননি। উনি যখন ১/১১-র পর সাব জেলে ছিলেন তখন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিএনপির বিরুদ্ধে দোষারোপ করেননি, দোষারোপ করেছিলেন সেনাবাহিনীকে।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই গোটা পরিস্থিতি বদলে গেছে এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের আমলেও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সেখানেও তারেক রহমানের নাম ছিল না। ৬১ জন সাক্ষী হওয়ার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বদল করে আবার নতুন করে তদন্ত করতে দেওয়া হলো। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হলো, তার চাকরি চলে গিয়েছিল। চাকরিতে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তাকে এই মামলার আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) করা হলো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুফতি হান্নানকে ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্মম অত্যাচার করে। এক সময় মুফতি হান্নান বলেছে রিমান্ডে তার নখগুলো তুলে ফেলা হয়েছে। অত্যাচার করে তার কাছ থেকে জবানবন্দি নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এরপরে এই মামলায় তারেক সাহেবের নাম নিয়ে এসেছে।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রাজনৈতিক ভাবে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘এটা ভয়ঙ্কর একটা ঘটনা, যার একটা সুষ্ঠু তদন্ত হওয়ার দরকার ছিল, প্রকৃত আসামিদের বের করে নিয়ে এসে বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। তা না করে সরকার রাজনৈতিক ভাবে পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে তারেক রহমান, আব্দুস সালাম পিন্টুর মতো বিএনপি নেতাদের জড়িত করলেন। এর ফলে তারা একই রেকর্ড বাজাচ্ছেন যে এর সঙ্গে তারেক রহমান জড়িত, বিএনপি জড়িত। প্রতিটি মামলায় তারা এই কাজগুলো করেছে যে প্রকৃত আসামিকে না ধরে, সুষ্ঠু তদন্ত না করে ভিন্ন খাতে বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা একটা চক্রান্ত, এই চক্রান্ত শুরু হয়েছে দীর্ঘদিন আগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্যে দিয়ে।
বিএনপির কেউ গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল না দাবি করে ফখরুল আরও বলেন, যে কোনও হত্যাকাণ্ডের একটা মোটিভ থাকে। সেই মোটিভটাতে লাভবান কে হয়েছে? আওয়ামী লীগ হয়েছে। সেই ইস্যুকে মোটিভ করে বিএনপিকে দোষারোপ করছে, বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। সঠিকভাবে যদি তদন্ত করা হতো তাহলে আসল সত্য বেরিয়ে আসতো। এতে এটাই প্রমাণিত হয় সরকার তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মামলায় জড়িয়েছে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, প্রচার সম্পাদক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্টায় হয় রাস্তা নয়তো জেলখানা : দুদু

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্টায় আমাদেরকে হয় রাস্তায় থাকতে হবে নয়তো জেলখানায়। এই দুটির একটি স্বীকার করে নিতে পারলে আমাদের মুক্তি কেউ টেকাতে পারবে না।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
দুদু বলেন, নিজের কথা গুলো যদি বলি দলের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। সরকারি লোকজন যখন স্বীকার করছে খালেদা জিয়ার অবস্থা ভালো না। তার পায়ের অবস্থা, হাতের অবস্থা, কাধের অবস্থা ভয়ানক খারাপের দিকে চলে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের যে ধরনের প্রতিবাদ করার দরকার ছিল, যে ধরনের আন্দোলন হওয়ার কথা ছিল আমরা কি তা করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, এই আন্দোলনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রথমে রাস্তায় নামতে হবে। আগে একদিন এক ঘন্টার জন্য হলেও রাস্থায় নামতে হবে শ্রমিক, ছাত্র, যুবক, সকলকে রাস্তায় নামতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মাওলানা ভাষানী হয়তো নাই, আমাদের বেগম জিয়া তো আছে, তারেক রহমান তো আছে, মহাসচিব তো আছে। আসুন রাস্তায় নামি। হয় আমরা জেলে থাকবো নয়তো রাস্তায়।
বিগত সময়ের ছাত্র আন্দোলন সর্ম্পকে দুদু বলেন, রাস্তায় নামে নাই আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন ইতিহাস আমার জানা নাই। এদেশে যা কিছু হয়ছে, ভালো কিছু হয়েছে সবি ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে হয়েছে। এখনো যদি ভালো কিছু করতে হয় ছাত্রদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেজন্য তাদের পাশে আমাদের দাড়াতে হবে, তাদের সমস্যা গুলো দেখতে হবে, তাদেরকে যাতে ভূমিকায় আনা যায় সে চেষ্টা করতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হবে অপরাজয় বাংলার পাদদেশ সমাবেশ, ডাকসু নির্বাচন এবং এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাবো।
ডিজিটাল আইনের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল আইন প্রতিষ্ঠিত হয়নি বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আমরা যে রক্ষিবাহিনী দেখেছি তা এখন ভিন্ন নামে পুলিশে পরিণত হয়েছে। সেই আইনে এখন দেখতে পাচ্ছি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এমন একটা কোর্ট যেখানে মানুষ অসহায় হলে যায়, আর সেই কোর্টের চিফ জাস্টিস কাপড় খুলে পালাতে হয়। আর দেশের এরকম পরিস্থিতিতে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিদেশে পরে আছেন, অথচ তার ফাঁসির জন্য যতো আয়োজন করা প্রয়োজন করা হয়েছে, যা গোটা দেশের মানুষ জানে। ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ২৮তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডিজিটাল আইন নিয়ে বিএনপির মতবিনিময় সভায় যা বললেন বক্তারা

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : অলিখিত বাকশাল ও একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতেই সরকার তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পাস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের বৈধতা নেই তাই জনগণ এ আইন মানে না।
সোমবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলের হলরুমে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ নিয়ে সাংবাদিক থেকে শুরু করে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দেশে যে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে, তাকে আরো চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।
‘আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হচ্ছে। গণতান্ত্রিক, মুক্ত স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি, বহু মত, বহু পথ, ভিন্নমতের ব্যবস্থাকে পুরোপুরি শেষ করে দিয়ে একটি দলের শাসন বাস্তবায়নের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধ্বংস করা হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। দেশের সব মানুষকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়নে সম্পাদক পরিষদের দাবি না মেনে সরকার প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এই আইন মানি না। অবৈধ সংসদে এই আইনটি পাস হয়েছে। কোনো ধরণের আলোচনা ছাড়াই তা পাশ হয়েছে। সম্পাদকমণ্ডলীকে কথা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রতারক সরকার কথা রাখেনি। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যবদ্ধের কাজ শুরু করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আগেই জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে আছে। শুধু আমরা না, অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোও আজ ঐক্যবদ্ধ। এখনও সময় আছে, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করুন। কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যায়, তা করুন। মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সাময়িক দেশ শাসন করা যায়, দীর্ঘদিন করা যায় না।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন একটি বিশেষ কালো আইন। এরচেয়ে বড় কালো আইন আর হতে পারে না। অলিখিত বাকশাল চলছিলো। এটিকে লিখিত করার জন্য কালো আইন প্রয়োজন ছিলো। সেটি করা হলো। আসলে তারা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটাই মূল কথা৷ এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়। আমি মনে করি বর্তমান স্বৈরশাসকের নিরাপত্তার জন্য আইনটি পাশ করা হয়েছে৷
খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, প্রহসনমূলক নির্বাচন করার জন্য সরকার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এগিয়ে যাচ্ছে। যার জন্য এমন একটি কালো আইন বাস্তবায়ন হলো। এই আইনটি অলিখিত বাকশাল প্রতিষ্ঠা, নিজেদের সুরক্ষার আইন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই সময়ে এই আইনটি বাস্তবায়নে এত জুলুম পড়েছে কেন? বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতির দস্তখত হয়ে গেল।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রকল্প উল্লেখ করে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার যা সংবিধানে বলা হয়েছে তা হরণ করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের একটি নির্বাচনী প্রকল্প আছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডিজিটাল আইন পাশ করা হয়েছো। এই প্রকল্পে আছে খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রেখে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। ইভিএম চালু করে ভোটে কারচুপি করা, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, বিভিন্ন নির্বাচনী আইন পাস ইত্যাদি। সূতরাং ডিজিটাল আইন পাস পুরোপুরি নির্বাচনী প্রকল্প। এই প্রকল্প যতোক্ষণ বাস্তবায়ন হবে না ততোক্ষণ মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে যাবে সরকার। আজকে এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে দাঁড়াতে হবে। আমাদের আন্দোলন ছাড়া উপায় নেই।
গনস্বাস্থের প্রতিষ্ঠাতা জাফর উল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলির সকলেই মারা গেছেন তাই তিনি সকল সময় হতাশায় ভোগেন, মানষিক চাপে থাকেন। তিনি একটি দেশ পরিচালনা করেন কিন্তু ভালো কাজ করতে চাইলেও তার পাশের লোকেরা কখনোই তাকে ভালো কাজ করতে দেয়না। পৃথিবীতে যত যঘন্নতম অইন আছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
শীর্ষনিউজের সম্পাদক একরামুল হক বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নামে যেই আইন করেছে তা নিয়ে দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমি যতদিন আছি ততোদিন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। একরামুল হক আরও বলেন, আমরা জতদিন তার কথামতো চলবো ততোদিন আমাদের কোনো সমস্যা হবে না তার কথার বাইরে গেলেই সমস্যা হবে প্রধানমন্ত্রী এটাই বুঝাতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, যাতে সরকার এই ডিজিটাল আইনটি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এই আইন যাতে বাস্তবায়ন করতে না পারে সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপি আয়োজিত এই সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিকরা অংশ নেন। সভায় কার্যপত্র উপস্থাপন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ; সঞ্চালনা করেন প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল আলম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন বক্তৃতা করেন।
এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক মো. আলমগীর মহিউদ্দিন, বাংলাদেশের খবর সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, হলিডে সম্পাদক সৈয়দ কামাল উদ্দিন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, শীর্ষনিউজের সম্পাদক ইকরামুল হক, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সমকালের প্রধান প্রতিবেদক লোটন একরাম, আমার দেশের বার্তা সম্পাদক জাহিদ চৌধুরী, ল রিপোর্টার্স ফোরাম সভাপতি সাইদ আহমেদ খান, কলামিস্ট হাসান আবেদ চৌধুরী কিরণ ও এসএ টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইলিয়াস হোসেন বক্তব্য দেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মামুন আহমেদ, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শামা ওবায়েদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নির্বাহী কমিটির সদস্য সাঈদ সোহরাব, সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু, জেবা খান, শামসুজ্জামান সুরুজ, বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবীর খান প্রমুখ।
সাংবাদিকদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক আশীষ সৈকত, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মামুন স্ট্যালিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনী প্রকল্পের আওতায় ভৌতিক মামলা, গণগ্রেফতার : খসরু

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলেছেন, আজকে যারা জাতির প্রত্যাশা পূরণ করবে না, যেসব রাজনীতিবিদ জাতির বিপক্ষে দাঁড়াবে, তারা আজ কলঙ্কিত হবে। জাতি আজ নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে কারা তাদের বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছে, কারা পক্ষে দাঁড়াচ্ছে। জাতি আজ প্রস্তুত হয়ে গেছে। আজকে আপনাদের এই প্রবাদ-শক্তিকে সঠিক পথে চালিত করতে হবে। এই বৃহৎ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশকে মুক্ত করতে হবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় খসরু এই মন্তব্য করেন।
‘নির্বাচন নামক প্রকল্পের’ আওতায় খালেদা জিয়া জেলে আছেন দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ‘নির্বাচন নামক এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে ভৌতিক মামলা দিয়ে লাখ লাখ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষক আসামি করা হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
এই নির্বাচনী প্রকল্পের আওতায় ইভিএম নামক একটি মেশিন এসেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করছে। এই প্রকল্পের আওতায় সংবিধানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেই সংবিধান দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য, সেটা ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে।’
‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে যেন স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম কাজ করতে না পারে। দেশের বিভিন্ন ধরনের আইন করা হচ্ছে, যাতে করে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কথা বলতে না পারে। একটা আইন করে দেশের জনগণসহ গণমাধ্যমের মুখ বন্ধ করতে চায় সরকার।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপটে জাতি আজ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে তাদের মালিকানা ফিরে পেতে। এতে কোনো সন্দেহ নাই, যার প্রতিফলন হিসেবে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন জাতীয় ঐক্য হতে যাচ্ছে।’ সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।