থাবা দিয়ে ব্যাগ নিল, ছিটকে পড়ে মারা গেল শিশু

রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইয়ের শিকার মায়ের কোল থেকে পড়ে এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর নাম আরাফাত। তার বয়স মাত্র সাত মাস। তার বাবার নাম শাহ আলম গাজী ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম। তাদের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার নরসিংপুর গ্রামে।

নিহত আরাফাতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, শাহ আলম-আকলিমার বড় ছেলে আলামিন অসুস্থ থাকায় তার চিকিৎসার জন্য তাঁরা সবাই আজ ঢাকায় আসেন। সকালে সদরঘাটে নামার পর শাহ আলম বড় ছেলে আলামিনকে নিয়ে শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে যান। মা আকলিমা ছোট ছেলে আরাফাতকে নিয়ে রিকশায় করে শনির আখড়ায় বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে দয়াগঞ্জ মোড়ে ছিনতাইকারীরা আকলিমার হাতে থাকা ব্যাগ চলন্ত রিকশা থেকে থাবা দিয়ে নিয়ে নেয়। এ সময় তাঁর কোলে থাকা শিশু আরাফাত রাস্তায় পড়ে যায়। আহত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

একই উড়োজাহাজে এরশাদ-ফখরুল

একই উড়োজাহাজে চড়ে ঢাকা থেকে সৈয়দপুরে গেলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাছাকাছি আসনে বসেছিলেন তাঁরা। একে অন্যের সঙ্গে করেছেন কুশল বিনিময়।

আজ সোমবার সকালে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস বাংলার একটি উড়োজাহাজে চড়ে তাঁরা যাত্রা করেন।

প্রথমে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল উঠে যান এরশাদের কাছে। জানতে চান এরশাদ কেমন আছেন? কুশল বিনিময় হয় দুজনের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে আলাপ চলে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান তাঁদের একসঙ্গে যাত্রার বিষয়টি জানান।

রংপুর সিটি নির্বাচনের প্রচারে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। আর এরশাদ যাচ্ছেন ব্যক্তিগত কাজে। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে দুজন রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

বিএনপি নেতা ফখরুল ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এরশাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে কোনো আলোচনা দেখা যায়নি।

ট্রলির হাতলে সাড়ে সাত কেজি সোনা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে সাত কেজি সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল।

গতকাল রোববার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম থেকে আসা ওই তিন যাত্রীর কাছ থেকে এই সোনা উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিভেন্টিভ দল তিন যাত্রীকে তল্লাশি করে। তাঁদের ট্রলিব্যাগের হাতলের পাইপের ভেতরে লুকানো অবস্থায় সোনার বার পাওয়া যায়।

আটক তিন যাত্রী হলেন ইব্রাহীম, মহসীন ও রোকনুজ্জামান। তাঁরা চট্টগ্রাম থেকে রিজেন্ট এয়ারে করে অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রী হিসেবে ঢাকায় আসেন।

ঢাকা কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সাইদুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহীমের কাছ থেকে ৩ কেজি ৫৯০ গ্রাম, মহসীনের কাছ থেকে ১ কেজি ৯৯০ গ্রাম ও রোকনুজ্জামানের কাছ থেকে ১ কেজি ৭৯০ গ্রাম ওজনের মোট ৭৪টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। জব্দ সোনার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

ঘন কুয়াশায় চলাচল ব্যাহত

ভোর থেকেই কুয়াশার ফিনফিনে চাদরে ঢাকা পড়েছিল রাজধানী ঢাকার অনেক এলাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রমনা পার্ক, ধানমন্ডি লেক, হাতিরঝিল, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গতকাল রোববার যেন সত্যিকারের শীতের সকাল ধরা দিয়েছিল। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানীতে জাঁকালো শীতের দেখা পেতে জানুয়ারি নাগাদ অপেক্ষা করতে হবে।

গতকাল সারা দিনই ক্ষণে ক্ষণে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ছিল সূর্য। ধোঁয়াটে কুয়াশার ভাব ছিল শহরজুড়েই। কুয়াশার কারণে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ওঠা-নামার সময় আর পরিকল্পনাতেও বদল আনতে হয়। বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম প্রথম আলোকেবলেন, কুয়াশার কারণে সকালে চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় নামতে পারেনি। সিঙ্গাপুর আর শারজাহ থেকে ছেড়ে আসা দুটি ফ্লাইট গন্তব্য বদলে কলকাতায় নামে। কুয়ালালামপুর আর মাস্কট থেকে আসা দুটি ফ্লাইট ঢাকার বদলে চট্টগ্রামে অবতরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে প্রতিটি ফ্লাইটই নির্ধারিত সময়ের পর ছেড়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শামসুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টির পর এখন তাপমাত্রা কমেছে। তাই কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, নদী অববাহিকায় এ সপ্তাহ থেকেই ঘন কুয়াশা থাকবে। আর জানুয়ারির ৯ থেকে ১০ তারিখ নাগাদ তীব্র শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নৌপথের চিত্র

কুয়াশার কারণে কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া রুটে গতকাল ভোর পাঁচটা থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চলাচল স্বাভাবিক হয়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথেও চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সড়কপথ

কুয়াশার কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাত ১১টা থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে থেমে থেমে যানবাহন চলে। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার কুর্ণী থেকে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের স্কয়ার এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

[তথ্য দিয়েছেন মাদারীপুর, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি]

ট্যাক্সির চাহিদাও কমেছে

নীল-কালো-হলুদ রঙের ট্যাক্সিক্যাব ছুটে চলার দৃশ্য একসময় ঢাকার রাস্তার নিয়মিতই ছিল।। নীল ও কালোগুলো নেই। অল্প কিছু হলুদ ক্যাব এখনো আছে। তবে ট্যাক্সিক্যাবচালক ও মালিকপক্ষ বলছে, অ্যাপভিত্তিক সেবা আসায় ট্যাক্সির চাহিদা আরও কমেছে।

সরকার ১৯৯৮ সালে ট্যাক্সিক্যাব সেবা চালু করে। সে সময়ে বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী ঢাকায় ১১ হাজার ২৬০টি ট্যাক্সিক্যাব নিবন্ধিত ছিল। তবে বিআরটিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকায় দুই কোম্পানির প্রায় ৪০০ ট্যাক্সিক্যাব চলে।

গতকাল রোববার কাকরাইল মোড়ে দেখা যায়, তমা গ্রুপের চারটি ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। চায়ের দোকানে চালকেরা আড্ডা দিচ্ছিলেন। ট্যাক্সিক্যাবের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মেহেদী হাসান নামের এক চালক বলেন, ‘মোটামুটি চলে। কিন্তু চাহিদা আগের চেয়ে কমেছে।’ কথা বলতে বলতেই তাঁর কাছে ফোন এল একটি ট্রিপের জন্য। তমার শুরু থেকেই থাকা এই চালক বললেন, ফোনকলের মাধ্যমেই বেশির ভাগ যাত্রী পেয়ে থাকেন। পূর্বপরিচিত যাত্রীরা তাঁদের ফোন করেন। আরও কয়েকজন চালক একই কথা বললেন।

মো. সোহাগ নামের আরেকজন চালক আরও হতাশা প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘অবস্থা ভালো না। আগে ৭ থেকে ১০টা ট্রিপ ছিল দিনে। কিন্তু এখন ৪-৫টার বেশি হয় না।’ বর্তমানে বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক সেবা চালু হওয়ায় তাঁদের যাত্রী কমে গেছে বলে মনে করছেন। ঝড়বৃষ্টি হলে যেসব যাত্রী ফোন করে বাসা বা অফিসের সামনে যেতে বলতেন, তাঁরা এখন ট্যাক্সিক্যাব না ডেকে উবার বা অন্য কোনো সেবা নিচ্ছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই চালক বলেন, হলুদ রং হওয়ায় সহজেই বোঝা যায়, এটি ট্যাক্সি। কিন্তু অ্যাপের গাড়ি বোঝার উপায় নেই। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের হয়রানির শিকার তাঁরা বেশি হন। তিনি আরও বলেন, অ্যাপভিত্তিক সেবার কারণে রাস্তায় যানজট বেড়েছে। যে গাড়িগুলো আগে পার্কিংয়ে থাকত, সেগুলো অফিস সময়ে বাদে বাকি সময় রাস্তায় থাকে।

বেসরকারি একটি সংগঠনের কর্মকর্তা তারেক আহমেদ মাঝেমধ্যে ট্যাক্সিক্যাব ব্যবহার করেন। তবে অ্যাপভিত্তিক সেবা আসার পর তিনি কমিয়ে দিয়েছেন। তারেক বলেন, ‘মধ্যবিত্তদের জন্য ট্যাক্সি বেশি খরুচে। অ্যাপের গাড়িগুলোতে নানান ছাড় থাকায় খরচ কিছুটা কম হয়। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে পরিবহনব্যবস্থা খুবই খারাপ। আয়ের বড় একটা অংশ চলে যায় রাস্তায়।’

চারদিকে অ্যাপভিত্তিক সেবার চাহিদা বাড়ায় ট্যাক্সিক্যাব চালকেরাও মনে করছেন, ট্যাক্সির জন্য অ্যাপ হলে তাঁরাও সুবিধা পাবেন। তমা গ্রুপের ট্রান্সপোর্ট অপারেটিং কর্মকর্তা সাজ্জাদ ফারুক বলেন, বিআরটিএকে তাঁরা প্রস্তাব দিয়েছেন অ্যাপের আওতায় আসতে। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এ ছাড়া অ্যাপে চলা গাড়িগুলোতে ট্যাক্সির মতো নির্দেশকের ব্যবস্থা রাখার জন্যও প্রস্তাব করেছেন। তিনি জানান, ঢাকায় এখন তমা গ্রুপের ২০০টি এবং ট্রাস্টের ১৭৫টি ট্যাক্সিক্যাব চলছে। ট্যাক্সিক্যাবের ভাড়া প্রথম ২ কিলোমিটার ৮৫ টাকা এবং এরপরে প্রতি কিলোমিটারে ৩৪ টাকা। আর যাত্রাবিরতির (যানজট ও সিগন্যাল) জন্য প্রতি দুই মিনিটে আট টাকা। ট্যাক্সিক্যাব বেশি খরুচে কি না, তা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, গাড়ির মান ও সেবা অনুযায়ী ভাড়া ঠিকই আছে।

বিআরটিএর পরিচালক (অপারেশন) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস ট্যাক্সিসেবা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেন, গাড়িগুলোর মান ও বিভিন্ন সমস্যার কারণে কমে গেছে। অ্যাপের গাড়িতে নির্দেশক লাগানোর ব্যাপারে বলেন, এ গাড়িগুলো ট্যাক্সির মতো সর্বক্ষণ চলে না। তাই নির্দেশক লাগানোর দরকার নেই।

দুস্থদের কম্বল দিতে এলেন হেলিকপ্টারে

তিনি কুয়েতপ্রবাসী ব্যবসায়ী। আগামী নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের আংশিক) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। এলাকায় আসা-যাওয়ার করছেন গত এক বছর ধরে। নানা সামাজিক কাজে অংশ নিচ্ছেন। গতকাল রোববার দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণের জন্য ঢাকা থেকে এলেন হেলিকপ্টারের চড়ে। তিনি কাজী শহিদ ইসলাম। সবার কাছে পরিচিত পাপুল নামে।

গতকাল বেলা ১১টায় রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমির মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন অল্প কিছু দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেখা যায়নি।

হেলিকপ্টার থেকে নেমে তিনি ছয়টি গাড়ি ও অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে রায়পুর উপজেলা মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনায় যোগ দেন। এরপর বিকেল পাঁচটায় তিনি সোনাপুর মাদ্রাসা মাঠে ১২ হাজার কম্বল বিতরণ করেন।

দুটি অনুষ্ঠানেই নৌকার পক্ষে ভোট চান কাজী শহিদ। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রায়পুরে এখন শক্তিশালী। আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দেবেন। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, কাজী শহিদকে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে গত এক বছর ধরে বিরোধ চলছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র হাজী ইসমাইল খোকন তাঁর পক্ষে অবস্থান নিলেও অন্যদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তিনি এক বছর আগে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ২৮টি মোটরসাইকেল দেন।

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মঞ্জুর হোসেন বলেন, কাজী শহিদ রায়পুর আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এমনকি সদস্যও নন। সমাজসেবার নামে তিনি হেলিকপ্টারে এসে কৌশলে মহড়া দিচ্ছেন। আসলে তিনি একটি দলের পক্ষে হয়ে আওয়ামী লীগকে দ্বিধাবিভক্তি করছেন।

এ ব্যাপারে কাজী শহিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর মুঠোফোনে রিং হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল খোকন বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে কাজী শহিদ এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন পেতে ও এমপি নির্বাচিত হওয়ার জন্য এলাকায় কাজ করছেন তিনি। এলাকার বেকার শতাধিক যুবককে চাকরি দিয়েছেন। নিজ উদ্যোগে রায়পুরে উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ড করছেন। দলকে দ্বিধাবিভক্তির অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানান তিনি।

পলাতক আসামিদের সংবাদ সম্মেলন

ছেলে দিয়াজ ইরফানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করার দাবিতে টানা ছয় দিন অনশন করেছিলেন মা জাহেদা আমিন। আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে—পুলিশ কর্মকর্তাদের এমন আশ্বাসে ২ ডিসেম্বর অনশন ভঙ্গ করেন তিনি। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় গতকাল রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন দিয়াজ হত্যা মামলার ১০ আসামির ৭ জন। লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, ‘চট্টগ্রামে মেয়র আজম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার নকশার অংশ এই মামলা।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু। তিনি দিয়াজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। দিয়াজের লাশ আবার কবর থেকে তুলে তৃতীয় দফা ময়নাতদন্ত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে দিয়াজের মৃত্যুর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে সুষ্ঠু তদন্ত করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে হয়রানি না করার দাবি জানান তিনি।

আসামিদের সংবাদ সম্মেলন করার বিষয়ে দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ তাঁদের বলেছে আসামিরা পলাতক। তাহলে তাঁরা প্রকাশ্যে কীভাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে সংবাদ সম্মেলনে বিষোদ্‌গার করা হয়েছে। যাতে তাঁরা দিয়াজের বিচারের দাবি থেকে সরে যান। যা-ই হোক না কেন, বিচারের দাবিতে তাঁরা অনঢ় থাকবেন।

গত বছরের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় নিজ বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এই অভিযোগ এনে ২৪ নভেম্বর তাঁর মা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু (বর্তমানে কমিটি বিলুপ্ত), সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কমিটির দায়িত্বে ছিলেন প্রক্টর আনোয়ার হোসেন। এ কারণে ভূমি দখলকারীদের ইন্ধনে দিয়াজের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকেও (আনোয়ার) আসামি করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, দিয়াজের মায়ের করা মামলায় সিআইডি তদন্তে আসামিদের কারও বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকে ভিত্তিহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করেন আলমগীর টিপু। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে তাঁরা জেনেছেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় দিয়াজ আত্মহত্যা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি মনছুর আলম, আবদুল মালেক, যুগ্ম সম্পাদক মো. আরমান ও আবু তোরাব, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল আলম, আপ্যায়ন সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ। তাঁরা সবাই দিয়াজ হত্যা মামলার আসামি।

দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় গত বছরের ২১ নভেম্বর। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে—এমন আলামত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মেলেনি। পরে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর দিয়াজের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিয়াজকে শ্বাস রোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে

সারা দেশের মতো চট্টগ্রাম থেকে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে এ বছর। চলতি বছর বন্দর নগর থেকে ৫৫ হাজার ২৫৩ জন শ্রমিক কর্মসূত্রে বিদেশে গেছেন। গত বছরের তুলনায় চট্টগ্রাম থেকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সারা দেশে চট্টগ্রামের অবস্থান এখন তৃতীয়।

প্রতারণা কমে যাওয়া, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তদারকি বৃদ্ধি সর্বোপরি নিরাপদ অভিবাসনের কারণে শ্রমিক রপ্তানি বাড়ছে বলে এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

জনশক্তি রপ্তানি দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশ থেকে ৯ লাখ ৩১ হাজার ৮৩২ জন শ্রমিক বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য গেছেন। যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৭৪ হাজার বেশি। এবারের সংখ্যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রপ্তানির ক্ষেত্রে এবার এগিয়ে আছে কুমিল্লা। এই জেলা থেকে বিদেশে গেছেন ১ লাখ ২ হাজার জন। দ্বিতীয় অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সেখান থেকে গেছেন ৫৫ হাজার ৮৬০ জন।

চট্টগ্রাম থেকে গত বছর ৪৪ হাজার ৩১৮ জন শ্রমিক বিভিন্ন দেশে যান। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও ১০ হাজার ৯৩৫ জন। চলতি বছরে ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক বিদেশে যান। এরপর রয়েছে রাঙ্গুনিয়া, সন্দ্বীপ, বাঁশখালী ও হাটহাজারী।

চট্টগ্রাম জনশক্তি রপ্তানি দপ্তরের সহকারী পরিচালক জহিরুল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, এবার রেকর্ডসংখ্যক শ্রমিক বিদেশে গেছে। সরকারি দপ্তরের মনিটরিং (তদারকি) বাড়ার কারণে অভিবাসন এখন অনেক নিরাপদ হয়েছে। এ কারণে এবার জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। এ ছাড়া প্রতারণাও প্রায় শূন্যের কোটায় চলে এসেছে।

জনশক্তি রপ্তানি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ শ্রমিক সৌদি আরবে গেছেন, যা সংখ্যায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৬২ জন। ৬ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে শ্রমবাজারের দুয়ারের খোলার পর থেকে সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির হার ঊর্ধ্বমুখী। চট্টগ্রাম থেকেও এবার সৌদি আরবে বেশি শ্রমিক গেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়া ও ওমানে ৮৩ হাজার করে শ্রমিক গেছেন। এর পরের অবস্থানে আছে কাতার, কুয়েত ও সিঙ্গাপুরের। তবে বাংলাদেশ থেকে দুবাই, ব্রুনেই ও ইউরোপের দেশে জনশক্তি রপ্তানি আপাতত বন্ধ রয়েছে।

জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ (আটাব) চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম মুজিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে শ্রমিক রপ্তানি বেড়েছে। তবে এখনো দুবাই, ব্রুনেই এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

অভিবাসন নিরাপদ করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে। কারিতাসের সেফ মাইগ্রেশন প্রকল্পের অধীনে অভিবাসনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের ভিসা, টাকা পাঠানো ও টিকিট নিয়ে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে প্রকল্পের সমন্বয়ক শ্যামল মজুমদার বলেন, আগে মানুষ ভিসা পেলে সেটা যাচাই-বাছাই করতে পারত না। মানুষ সচেতন ছিল না। এখন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে যাচাই করা যায়। এসব কারণে অভিবাসন বেড়েছে।

ভিসা নিয়ে কাতার যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাটের বাসিন্দা টাইলস মিস্ত্রি কার্তিক তালুকদার। ভিসাটি আসল কিনা তা পরীক্ষার জন্য গতকাল তিনি সেফ মাইগ্রেশন প্রকল্পে গিয়ে যাচাই করে দেখেছেন। কার্তিক তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ভিসাটি পরিচিত এক লোকের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে ভিসা আসল। ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়বেন বলে জানান।

এদিকে চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা খুব কম। এবার সারা দেশ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার নারী কর্মসূত্রে বাইরে গেছেন। চট্টগ্রাম থেকে গেছেন মাত্র ১ হাজার ৩৮৭ জন।

 জহিরুল আলম মজুমদার আরও বলেন, ২০১২ সালে যেখানে চট্টগ্রাম থেকে ১৫ জন নারী গেছেন এবার সেটা দেড় হাজারে দাঁড়িয়েছে। নারীদের মধ্যে একটু রক্ষণশীলতা রয়েছে। কম হওয়ার এটাও একটা কারণ।

 এইচ এম মুজিবুল হক আরও বলেন, কেবল সৌদি আরব নারী কর্মী নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে নারীদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। তাই নারী শ্রমিকের সংখ্যা কম।

লাখো পর্যটকে মুখর কক্সবাজার সৈকত

লাখো পর্যটকে মুখর বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। সকালে সৈকতে গোসল, বিকেলে বালুচরে দাঁড়িয়ে অস্তগামী রাঙা সূর্য অবলোকন, পাহাড়ি ঝরনা, মেরিনড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করে সময় পার করছেন তাঁরা। অনেকে প্রমোদতরীতে ছুটছেন প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে। তবে পর্যটনের এই ভরা মৌসুমে দেশের নানা জায়গা থেকে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেকে।

হোটেল মালিকেরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে চার দিনে কক্সবাজার ভ্রমণে এসেছেন অন্তত তিন লাখ পর্যটক। এর মধ্যে এক লাখ পর্যটক ফিরে গেলেও অবশিষ্ট দুই লাখ পর্যটককে সামাল দিতে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল সকালে সৈকতের লাবণি পয়েন্টে দেখা গেছে হাজার হাজার পর্যটক লোনা জলে গা ভাসিয়ে আনন্দ উল্লাস করছেন। কেউ আবার জেডস্কি ও স্পিডবোটে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাগরের ঢেউয়ে ঢেউয়ে।

দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত পর্যটক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক (টমটম), খোলা জিপ ও অটোরিকশায় চড়ে শহর থেকে মেরিনড্রাইভ সড়ক দিয়ে যাচ্ছেন কলাতলী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানীর পাথুরে সৈকত, শীলখালী, জাহাজপুরা, বাহারছড়াসহ টেকনাফ সৈকতে। কেউ কেউ স্পিডবোটসহ নৌযানে করে ছুটছেন মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপে।

তবে পর্যটনের এই রমরমা মৌসুমে অনেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পিপলস ফোরাম সংগঠনের মুখপাত্র নজরুল ইসলাম বলেন, ১৫ ডিসেম্বর সমুদ্রসৈকতের পাশে জাম্বুর দোকান এলাকায় দিনদুপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ফেনীর আবু তাহের নামে এক পর্যটক। পুলিশ এখনো ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈকত এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সমুদ্রসৈকতে নামার সি-ওয়ার্ল্ড সড়ক, সাংস্কৃতিককেন্দ্রের সামনে, জাম্বুর দোকান, কলাতলী মোড়, সৈকতের ঝাউবাগান এলাকা, হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস এলাকা, বাইপাস সড়ক, বাস টার্মিনাল, বিজিবি ক্যাম্প ও সাবমেরিন কেব্‌ল ল্যান্ডিং স্টেশন এলাকায় দিনরাত প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।

কক্সবাজার কটেজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কাজী রাসেল আহমেদ বলেন, শহরের চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস, কটেজের কোথাও এখন কক্ষ খালি নেই। আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১০ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে ৯০ শতাংশ হোটেলকক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। সব দিক বিবেচনা করে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো দরকার।

অবশ্য ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমি বলেন, সৈকতের ডায়াবেটিকস পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত চার কিলোমিটারে ট্যুরিস্ট পুলিশ ২৪ ঘণ্টা এবং মেরিনড্রাইভসহ ইনানী সৈকতে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সঙ্গে থাকছে একদল ট্যুরিস্ট পুলিশ।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, হোটেলকক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছে।

জাল নোট ঠেকাতে কাজ করবে দুই দেশ

জাল নোটের উৎস চিহ্নিত করাসহ জাল নোট তৈরি ও বিতরণকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথভাবে কাজ করবে। দুই দেশের পুলিশ কর্মকর্তারা এখন থেকে তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবেন। এ জন্য কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

গতকাল রোববার পুলিশ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও ভারত জাল নোট-সংক্রান্ত যৌথ টাস্কফোর্সের সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন উপমহাপরিদর্শক (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) রৌশন আরা বেগম এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন এনআইএর মহাপরিদর্শক শ্রী অনিল শুক্লা। দুই দেশের ২৬ জন কর্মকর্তা বৈঠকে অংশ নেন।

এর আগে এ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ভারতের হিন্দুস্তান টাইমস সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের জব্দ তালিকা ধরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে জাল নোট ঢুকছে সীমান্তবর্তী জম্মু, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের ১৩টি পয়েন্ট থেকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতীয় জাল নোট ঢোকার ঘটনাও অনেক বেড়ে গেছে।

এদিকে বাংলাদেশি মুদ্রা ভারতে পাচারের সময় যশোরের বেনাপোল ও চীনে পাচারের জন্য ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার হয় বলে খবর জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত বৈঠকে দুই দেশ আলাদাভাবে কোন কোন বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, জানতে চাইলে পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক সহেলী ফেরদৌস বলেন, কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। তবে জঙ্গি অর্থায়ন ও মাদক কেনাবেচায় জাল নোট ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গিবাদী কার্যক্রম পরিচালনার সময় অস্ত্র কিনতে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে জাল নোট থেকে যেতে পারে। এমন ঘটনাও ঘটেছে, ভারতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে রোগী ও তাঁর স্বজনেরা জাল নোটের কারণে বিপদে পড়েছেন। এসব চিন্তা থেকেই দুই দেশ জাল নোটের উৎস চিহ্নিতকরণ ও বিস্তার রোধে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের প্রধান এনআইএর মহাপরিদর্শক শ্রী অনিল শুক্লা বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তাঁরা যৌথভাবে অপরাধ দমনে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সঙ্গে তাঁর অফিস কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে জাল নোট বন্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।