কুয়েতে চাকরি হারাচ্ছেন ৩১৪০ প্রবাসী

নিউজ মিডিয়া ২৪:ডেস্ক: কুয়েতের সিভিল সার্ভিস কমিশনের প্রধান আল জাসার জানিয়েছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কুয়েতি নাগরিক নন এমন ৩ হাজার ১৪০ জনের সাথে চাকরির চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এরা কুয়েতের সরকারি সংস্থায় নিয়োজিত বিদেশি।

মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ সবগুলো সরকারি সংস্থার বাজেট কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির কর্মসংস্থান খাতে সংস্কারনীতি বাস্তবায়নের প্রথম বছরে এ ঘোষণা আসলো।

আল জাসার বলেন, কুয়েত সিভিল সার্ভিস কমিশন ২০১৭ সালে যে সরকারি চাকরির পুনর্বাসনের যে নীতি গ্রহণ করেছে সেটার আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে দেশটির সিভিল সার্ভিস কমিশন একটি ডিক্রি জারি করে যাতে বলা হয়, আগামী ৫ বছরের বছরের মধ্যে সরকারি চাকরিতে প্রবাসীদের স্থলে কুয়েতিদের নিয়োগ দেওয়া হবে। কুয়েতে বিদেশিরা মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ। ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে বিদেশিদে সংখ্যা ছিল ৭ মিলিয়ন। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ও ভারি বর্ষণ হতে পারে

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: আগামী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।
সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে।
আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং হিমালয় পাদদেশীয় উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় বিরাজমান রয়েছে।

ভুল পথে আনন্দের যাত্রা

আমেরিকায় আসার পর থেকে অনেকটাই জিপিএস নির্ভর হয়ে পড়েছি। নতুন দেশে সবকিছুই নতুন। ঘুরতে যাওয়ার সাহসও করি জিপিএসের ওপর ভরসা করেই। বাঙালি মুসলমান পরিবারের মেয়ে হওয়ায় বাবা-মা একা ঘুরতে যাওয়ার বিরোধী। কিন্তু প্যাকেজ ট্যুরে গেলে বাবা-মা আর বাধা দেয় না। আমিও ট্যুর প্যাকেজ পছন্দ করি, কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো অল্প খরচ ও অল্প সময়ে বেশ ভালোই গাইড করে। তো এভাবে একবার গেলাম ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্ট শহরে। তবে একা যাওয়ার লোভটা সামলাতে পারিনি। বাবা-মা যেহেতু ট্যুর প্যাকেজে ভরসা করে, তাদেরকে মিথ্যা বলে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া আবিষ্কারে।
ফেয়ারমন্টকে শহর বললে ভুল হবে। বলা যায় অজপাড়া গাঁ। প্রধান আকর্ষণ ভ্যালিফল্‌স স্টেট পার্ক বা জলপ্রপাত। প্রথম দিন সবকিছুই ঠিক ছিল। নির্বিঘ্নে পৌঁছলাম ফেয়ারমন্ট। পরদিন খুব ভোরে ট্যাক্সি কল করে চললাম জলপ্রপাত দেখতে। গাড়িচালকের বয়স ষাটের বেশি। গাড়ি চলছে, কিছুক্ষণ পর লক্ষ্য করলাম গাড়ি ভুল পথে যাচ্ছে। ভুল পথে অনেক দুর চলে এসেছি ততক্ষণে। এতক্ষণে চালক বললেন, আমি সব পথ ভালোভাবে চিনি না। আমার বউ সব চেনে। মনে ভয় ভয় করছিল, তবু রেগেমেগে বললাম, আগে কেন বলেননি? আমার সময় নষ্ট করলে কেন? আমি আপনার ভাড়া দেব না, আমাকে এখানেই নামিয়ে দিন। চালক দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, আগের ভাড়া নেবেন না, তবে এখান থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর টাকা নেবেন। এবার আমি বললাম, ঠিক আছে, তাহলে আমি জিপিএস দেখে বলছি, আপনি সেভাবে চলেন। চালক রাজি হলেন।
আমি এবার চালকের পাশের আসনে বসলাম আর রাস্তার দুপাশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে জলপ্রপাতের দিকে এগোলাম। একপর্যায়ে দেখলাম, জিপিএস দেখাচ্ছে আর এক মিনিটের পথ। আমি নেমে পড়লাম। চালক যাওয়ার আগে আমাকে তাঁর ফোন নম্বর দিয়ে গেলেন। আমি বিরক্তির সঙ্গে তাঁর নম্বর নিতে নিতে বললাম, এরপর তোমার বউকে পাশে রেখো। রাস্তার দুপাশে ঘন জঙ্গল, গা ছমছম করছিল। জিপিএস আমাকে একবার দুই মিনিট ডানে হাঁটিয়ে আবার তিন মিনিট বামে যেতে বলছে। কিছুক্ষণ পর আবিষ্কার করলাম আমার মোবাইলে নেটওয়ার্কই নেই। রাস্তায় একটা মানুষও নেই। প্রথম ১০/১৫ মিনিট আশপাশের প্রকৃতি, পাহাড়ের ঢালে সাজানো ঘরবাড়ি, সবুজ ঘাসে বাতাসের ঢেউ, সব মিলে এক অপূর্ব সৌন্দর্য উপভোগ করছিলাম। একটু পরে সংবিৎ ফিরল, আমি জলপ্রপাতে যাব কীভাবে? হোটেলই বা ফিরব কীভাবে? ওই সড়কে কোনো গণপরিবহনও দেখছি না। এবার বেশ দুশ্চিন্তা শুরু হল আমার। হঠাৎ ভাবলাম কারও কাছে লিফট নিতে পারি কি না।
যেই ভাবা সেই কাজ, ইশারা দিয়ে একটা গাড়ি থামিয়ে সব খুলে বললাম। লোকটা স্থানীয়, তাঁর কথায় হতাশা আরও বেড়ে গেল। লোকটা বললেন, জলপ্রপাত এখান থেকে ৩০ মিনিট ড্রাইভিং। হেঁটে গেলে দুই ঘণ্টার মতো লাগবে, কিন্তু পুরো পথটাই বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। গাড়ি ছাড়া যাওয়া বোকামি। আমি লিফট চাইলে লোকটি বললেন, তিনি কাজে যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে। আমাকে সাহায্য করার মতো তাঁর সময় নেই। মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক নেই, প্রচণ্ড ভয় কাজ করছে। মনে মনে ভাবছি, বাসায় মিথ্যা বলার ফল পাচ্ছি। ছবি তুলতে তুলতে হাঁটছি, ভাবছি কীভাবে হোটেলে ফিরব? আর জীবনেও বাসায় মিথ্যা বলব না। ২০ মিনিট সামনের দিকে হাঁটার পর মুঠোফোনে একটু একটু নেটওয়ার্ক দেখতে পাচ্ছিলাম। সময় নষ্ট না করেই চালককে ফোন দিলাম। চালক বললেন, তার আসতে ৪০ মিনিট সময় লাগবে।
আমি এবার একটু আশার আলো পেয়ে গ্রামটা আরও একটু ঘুরে দেখলাম। চালক আসলে বললাম, আমি আর ঘুরব না, আমাকে হোটেলে নিয়ে চলেন। চালক চিন্তা না করে এবার বললেন, ‘আমি স্ত্রীর কাছে শুনে এসেছি। আমি তোমাকে জলপ্রপাতে নিয়ে যাব। অবশেষে ভ্যালিফল্স স্টেট পার্কে পৌঁছালাম। চালকের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। কারণ সেদিন তিনি আমাকে নিতে না আসলে জিপিএসের ভুলের কারণে ভুল জায়গা থেকে কীভাবে ফিরতাম?

লাখ লাখ ই-মেইল তদন্ত কর্মকর্তার হাতে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের লাখ লাখ ই-মেইল চালাচালি হয়েছিল। সেই ই-মেইলের নথি এখন রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট ম্যুয়েলারের হাতে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ খবর বেরিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো ইতিমধ্যেই চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

‘ট্রাম্প ফর আমেরিকা’ নামের ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার দলের আইনজীবী কোরি ল্যাংহোফার অভিযোগ করেছেন, আইনবহির্ভূতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে এই ই-মেইলগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এভাবে ব্যক্তিগত ই-মেইল হাতিয়ে নেওয়ায় মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ফর আমেরিকা গ্রুপটি ট্রাম্পের নির্বাচন থেকে তাঁর অভিষেক পর্যন্ত নিজেদের কাজের জন্য সরকারি সংস্থা জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে (জিএসএ) ব্যবহার করেছিল। জিএসএ গত গ্রীষ্মে এই লাখ লাখ ই-মেইল তদন্ত ম্যুয়েলারের তদন্ত দলের হাতে তুলে দিয়েছে।

কোরি লংহোফার তাঁর চিঠিতে বলেছেন, ট্রাম্প ফর আমেরিকা গ্রুপের সঙ্গে জিএসএর চুক্তি ছিল তারা ই-মেইল তৃতীয় কারও কাছে তুলে দেবে না, কিংবা এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না। কিন্তু সরকারি সংস্থাটি সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে তা ম্যুয়েলারের হাতে দিয়েছে।

তবে সাবেক কেন্দ্রীয় কৌঁসুলি রেনাটো মারিওট্টির মতো অনেকেই বলছেন, এর মাধ্যমে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়নি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এভাবে তথ্য নেওয়ার নজির আছে।

আমেরিকান নিউজ ওয়েব সাইট অ্যাক্সিওস শনিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ ট্রাম্পের প্রচার দলের অন্তত ১২ জনের ই-মেইল ম্যুয়েলারের হাতে এসে গেছে।

বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবীরা শিগগিরই ম্যুয়েলারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন এবং ট্রাম্পের প্রচার দলের সদস্যরা পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন।

ধারণা করা হচ্ছে, ই-মেইলগুলোর বিষয়বস্তু প্রকাশ পেলে ট্রাম্প আবারও একটি বড় ধরনের ধাক্কা খাবেন। নতুন করে বিতর্ক চাঙা হয়ে উঠবে।

শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ক্রেতাদের পোশাকের দাম বাড়াতে হবে

বাংলাদেশের পোশাক খাতকে শক্তিশালী করতে হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকার সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রমিক অধিকার সংহত করার জন্য ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি পোশাকের দাম বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বোস্টনভিত্তিক গবেষণামূলক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (আইএসডিআই) আয়োজনে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।

‘বাংলাদেশের টেকসই পোশাকশিল্পের স্বচ্ছতায় মাল্টি স্টেকহোল্ডার সমন্বয় ও উদ্যোগ’ শীর্ষক এ সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপযুক্ত দাম পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কমপ্লায়েন্সের জন্য পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ঋণ ও সহায়তা পাওয়া যায়নি। কমপ্লায়েন্স ও ট্রেড ইউনিয়ন করতে বাংলাদেশকে যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, প্রতিযোগী দেশগুলোকে সেই পরিমাণ চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

তবে সরকার পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, আর এটার আশার কথা বলে মন্তব্য করেন মসিউর রহমান।

সেমিনারে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন জোয়েল রেইফম্যান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা ঘুরে দেখেছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের লিয়ানা ফক্সভোগ বলেন, বাংলাদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স আসার পর কয়েক বছর ধরে গার্মেন্টসে বড় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি। সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। তবে বেশ কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এখনো পূর্ণ কমপ্লায়েন্ট হতে পারেনি।

টানা চতুর্থ বছরের মতো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এই আন্তর্জাতিক সেমিনার করছেন বলে জানান আয়োজক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী ইকবাল ইউসুফ। এবারের আয়োজনে দিনব্যাপী পাঁচটি সেশনে ৩০ জন বক্তা বাংলাদেশ এবং বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নানা প্রতিকূলতা তুলে ধরেন। প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়েও তাঁরা আলোচনা করেন। বরাবরের মতো এই সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, কানাডা, ইউরোপের আমদানিকারক, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও লেবার ডিপার্টমেন্ট, বিশ্বব্যাংক, শ্রমিক সংগঠক, গবেষক এবং শিক্ষাবিদেরা অংশ নেন।

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পারিবারিক অভিবাসন!

‘অলক্ষ্মীর বাদা নিজে মরতে গেছিল, পারছে না, তয় আমরারে মারিলাইছে।’ এভাবেই আলেয়া বেগম খেদোক্তি করলেন। সঙ্গে ঝরে পড়ল একরাশ হতাশা। ১১ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে পাইপবোমা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী আকায়েদ উল্লাহ এখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী স্বদেশিদের কাছেও এক ঘৃণিত নাম। নিউ জার্সিতে বসবাসরত প্রবাসী আলেয়া বেগম ভাবতেই পারছেন না, আকায়েদ উল্লাহ কেন এ কাজ করতে গেলেন। নিজে মরতে চেয়েছিলেন, পারেননি, তবে মেরে গেছেন অভিবাসীদের। আমেরিকায় আসার স্বপ্নের ওপর আঘাত করতে পেরেছে আলেয়া বেগমের মতো অগুনতি লোকজনের।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যেন অপেক্ষা করছিলেন এমন কোনো ঘটনার। একদিকে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু নারী প্রকাশ্যে নেমে পড়েন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নারীদের পীড়ন করেছেন—এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন প্রভাবশালী বেশ কিছু কংগ্রেসম্যান। তাঁরা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন। ম্যানহাটনে আকায়েদ উল্লাহর ঘটনা ঘটেছে গুরুত্বপূর্ণ আলাবামা সিনেট নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। এই সিনেট নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গণভোট বলে প্রচার চলছিল।

মোক্ষম এই সময়েই আকায়েদ উল্লাহর ঘটনা লুফে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকার চলমান অভিবাসন বিতর্ককে উসকে দিয়েছেন। অভিবাসনের সবচেয়ে বড় অংশে আঘাত করে পারিবারিক অভিবাসনকে বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এর আগে উজবেকিস্তান থেকে আসা এক অভিবাসী ম্যানহাটনে একই ঘটনা ঘটিয়েছেন গাড়ি হামলা করে। দুটি ঘটনা এক করে সহজেই দেখানো সম্ভব হচ্ছে, পারিবারিক চেইন অভিবাসন না থাকলে নিকটবর্তী দুটি হামলার জন্য দায়ী কারোরই আমেরিকায় প্রবেশের কোনো সুযোগ ছিল না। নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিত আমেরিকানদের কাছে কথাটি খুব সহজেই বিক্রি হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই সুযোগে চেইন অভিবাসন বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি ঘোষণা দিচ্ছেন। কংগ্রেসকে আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেস দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পারিবারিক বা চেইন ইমিগ্রেশনের পরিবর্তন যে দ্রুততার সঙ্গে করা হবে, তা নিয়ে অভিবাসী মহলের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে।
আলেয়া বেগমের মতো অধিকাংশ অভিবাসী আমেরিকায় এসেছেন পারিবারিক অভিবাসনে। বাংলাদেশ থেকে গত ১২ বছরে প্রায় দেড় লাখ লোকের অভিবাসন ঘটেছে এই চেইন অভিবাসনের আওতায়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৬ সালে আমেরিকায় ১৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এসেছেন এই চেইন ইমিগ্রেশনের ফলে। ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ থেকে শুধু এই ভিসায় আমেরিকায় আসা অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি। প্রতি দুজন অভিবাসী চেইন ইমিগ্রেশনের সুযোগে সাতজন করে লোকের অভিবাসন করিয়ে থাকেন আমেরিকায়। এসব অভিবাসনের জন্য অভিবাসীর অন্য কোনো যোগ্যতা নয়, যোগ্যতা কেবল মার্কিন অভিবাসীর সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক। এসব অভিবাসীর অধিকাংশই অদক্ষ, কোনো অপরিহার্য শ্রমিক হিসেবেও তাঁদের দেখা হয় না। অনেকেই বার্ধক্যে আসেন। ফলে চিকিৎসাসহ অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তার বোঝা নিতে হয় আমেরিকাকে।
এর পরিবর্তে মেধাভিত্তিক অভিবাসন হলে আমেরিকা পছন্দ করে লোক নিয়ে আসবে। তারা ইচ্ছে করলে, কোনো দেশ থেকে, কী যোগ্যতার লোক আনবে তা নির্ধারণ করতে পারবে। এমন যুক্তি দেখিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে চেইন ইমিগ্রেশন বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। বছরে যে দেড় লাখ চাকরিভিত্তিক ভিসা প্রদান করা হয়ে থাকে, তার অর্ধেক চাকরি ভিসায় আসা অভিবাসীদের পরিবারের জন্য চলে যায়। এ বিষয়কে মার্কিন অভিবাসনের মারাত্মক ত্রুটি হিসেবে দেখানোর এখন সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আকায়েদ উল্লাহ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হন সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের পরিচালক লুই ফ্রান্সিস কিসনা। তিনি প্রেসিডেন্টের বার্তাটি স্পষ্ট করেই দিলেন সংবাদ সম্মেলনে। দ্রুততার সঙ্গে পারিবারিক এই চেইন অভিবাসন বন্ধ করার প্রেসিডেন্টের ইচ্ছার কথা জানালেন। আইন পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে। অন্য যেকোনো বিষয়ে বিভক্ত মার্কিন কংগ্রেসে অভিবাসনের আইন দ্রুত বদলে দেওয়া নিয়েও বিতর্ক হবে। সহজে ঐক্যবদ্ধ আইন প্রস্তাব খুব সহজ হবে না, এমন ধারণা করা যেতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট এ ক্ষেত্রেও নির্বাহী আদেশ জারি করে পরিবর্তনের জন্য চাপ দিতে পারেন বলে আভাস দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের আকায়েদ উল্লাহকে নিয়ে কথা হয়েছে। আমেরিকায় আসার আগে এই আকায়েদ উল্লাহর কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো তথ্য আছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক লুই ফ্রান্সিস কিসনা বলেছেন, তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নারীদের পীড়নের অভিযোগ এবং তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন মুখপাত্র সারা হাকাবি স্যান্ডার্স। আর এই এড়িয়ে যাওয়ার জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আকায়েদ উল্লাহ আর চেইন অভিবাসনকে। রাজনীতির মোক্ষম এই অস্ত্র ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে তাঁর এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যাবেন, তা বলাই বাহুল্য।
এ পর্যন্ত অভিবাসনবিরোধিতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর নির্বাহী আদেশ আংশিক হলেও কার্যকর হয়েছে। তিনি কিছু দেশকে চিহ্নিত করেছেন, যেখান থেকে আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। এ ধরনের দেশের তালিকা তিনি বৃদ্ধি করতে পারেন। সেখানে বাংলাদেশের কিছু অর্বাচীন আকায়েদ উল্লাহ, নাফিজসহ আগের একাধিক ব্যক্তির তৎপরতাকে উদাহরণ হিসেবে নেওয়া হতে পারে। যদিও জঙ্গিবাদ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। আকায়েদ উল্লাহর ঘটনার পরপরই ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ বা জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর অবস্থানে, এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের বাংলাদেশের অবস্থান চিহ্নিত করে তদন্তে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ। এসবের পরও অনেকেই মনে করছেন, কতিপয় অর্বাচীনের ন্যক্কারজনক তাণ্ডবে ‘ড্যামেজ ইজ অলরেডি ডান’ বা ক্ষতি যা তা হয়ে গেছে। নিউইয়র্কসহ আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা তীব্র ভাষায় এই কর্মকাণ্ডের নিন্দায় সোচ্চার হয়ে উঠছেন। যদিও কিছু চিহ্নিত গোষ্ঠী মিন মিন করে বলার চেষ্টা করছে, আকায়েদ উল্লাহর ঘটনার পেছনে অন্য কিছু আছে কি না, তলিয়ে দেখা দরকার।
পারিবারিক অভিবাসনের আবেদনে বাংলাদেশের ঠিক কত লোকের আবেদন জমা আছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে আমেরিকাপ্রবাসী প্রায় প্রতিটি পরিবারের লোকজন এই অভিবাসন আবেদনের আওতায় আছেন। অনেকেই বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। আত্মীয়তার জের ধরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কোনো কোনো আবেদনকারীর আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পরও অপেক্ষা করতে হয় ১০ থেকে ১২ বছর। চেইন অভিবাসনের ওপর খড়্‌গ নামলে এ ধরনের আবেদনের কী হবে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত বাংলাদেশিরা। যাঁরা আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম বা অন্য ক্যাটাগরিতে আমেরিকায় অভিবাসন পেয়েছেন, তাঁদেরও স্বপ্ন ও প্রয়াস রয়েছে নিকটাত্মীয়দের আমেরিকায় অভিবাসন করানো। বাংলাদেশ থেকে কর্ম ভিসা বা অন্য ধরনের ভিসায় আমেরিকায় অভিবাসনের সংখ্যা তেমন বেশি না থাকায় অভিবাসনের এই পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বাংলাদেশিদের আমেরিকায় আগমনের ক্ষেত্রে। এখন চেইন অভিবাসন বন্ধের অজুহাতে নাম উঠছে বাংলাদেশের আকায়েদ উল্লাহর। এ কারণেই প্রবাসীদের কাছে ধিক্কার আর ঘৃণার সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর নাম।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডাইভার্সিটি ভিসা বা লটারি ভিসা বন্ধ করতে চান। পারিবারিক চেইন অভিবাসন বন্ধ করে কেবল স্বামী, স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য অভিবাসনের দরজা খোলা রাখতে চান। তাঁর এই উদ্যোগ কতটা তাড়াতাড়ি, কীভাবে বাস্তবায়ন করবেন, তা এখন দেখার অপেক্ষায় উৎকণ্ঠিত প্রবাসীরা।
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের আইনের অধ্যাপক রামজি কাশিম গত মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, জঙ্গিবাদের সঙ্গে অভিবাসনকে এক করে দেখাটা রাজনৈতিক ও বিদ্বেষপ্রসূত। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এই বিদ্বেষের পথেই হাঁটছেন এবং এর বলি হতে হচ্ছে আমেরিকায় অভিবাসন প্রত্যাশী লোকজনকে।

ধনকুবের দম্পতির রহস্যময় মৃত্যু

কানাডার টরন্টোতে একটি বাড়ির বেসমেন্ট ধনকুবের ব্যারি শেরম্যান ও তাঁর স্ত্রী হানি শেরম্যানের লাশ পাওয়া গেছে। ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ।

বিবিসির খবরে জানা যায়, অ্যাপোটেক্স নামে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ব্যারি শেরম্যান। অ্যাপোটেক্স বিশ্বের অন্যতম ওষুধ বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান। জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম ছিল ব্যারির।

পুলিশ গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, সম্পত্তি দখল করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে কোনো প্রমাণ তারা খুঁজে পাননি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সন্দেহভাজন হত্যাকারীর খোঁজ চলছে।

কানাডীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে গোয়েন্দা ব্রান্ডন প্রাইস বলেন, তদন্তকারীরা হত্যার কারণ খুঁজছে।

তবে এই হত্যার ব্যাপারে পুলিশ খুব অল্প তথ্যই দিতে পেরেছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো টুইটে ব্যারি ও হানি শেরম্যানের হঠাৎ মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। তাঁদের পরিবার ও বন্ধুর প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

অন্টারিও অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এরিক হসকিন্স এক টুইটে বলেন, এখন আমি প্রতিক্রিয়া জানানোর কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার বন্ধু ব্যারি ও হানির লাশ পাওয়া গেছে। তাঁরা চমৎকার মানুষ ছিলেন। ব্যারি খুবই জনহিতৈষী ছিলেন। স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাঁরা মহান ছিলেন।

সিনেটর লিন্ডা ফ্রাম বলেন, উদারতা, কঠোর পরিশ্রমের কারণে তিনি ওই দম্পতিকে পুরস্কৃত করেন। হানি ও ব্যারি শেরম্যানের মৃত্যুতে তিনি শোকাহত বলে জানান। দুজনের লাশ কম্বলে মুড়ে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মুখপাত্র কনস্টেবল ডেভিড হপকিন্স বলেন, তাঁদের মৃত্যুতে পরিস্থিতি রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

টরন্টোর পত্রিকা গ্লোব অ্যান্ড মেইল পরিবারের এক সদস্যের বরাত দিয়ে বলেন, তাদের বিলাসবহুল বাড়িটি বিক্রি করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

১৯৭৪ সালে শেরম্যান অ্যাপোটেক্স প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি এখন বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ওষুধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। ফোর্বস ম্যাগাজিন বলছে, শেরম্যানের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ৩২০ কোটি ডলার।