পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী বার্তা দিতে মাওয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সেতু এবং সরকারের অন্যতম মেগাপ্রকল্প ‘পদ্মা সেতু’ কবে নাগাদ উদ্ধোধন হবে; সে উদ্ধোধনের সময়সীমা জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে জনসভায় বার্তা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চক্রান্তের পথ পেরিয়ে প্রমত্তা পদ্মায় এখন দৃশ্যমান পদ্মা সেতু। ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্ধোধনের সময়সীমা জনগণের সামনে স্পষ্ট করবেন। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা জানান, রোববার (১৪ অক্টোবর) সকালে মাওয়া সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি হেলিকপ্টারযোগে মাওয়ার দোগাছির পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়ার-১-এর মাঠে নামবেন। এরপর গাড়িতে করে প্রকল্প এলাকায় যাবেন। মাওয়া থেকে গিয়ে বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী এ সফরে পদ্মা বহুমুখী সেতুর নামফলক উন্মোচন করবেন, সেতুর ৬০ শতাংশ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন, রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজসহ আরও কয়েকটি প্রকল্পের উদ্ধোধন করবেন। এরপর পদ্মাসেতুর মাওয়া টোলপ্লাজা সংলগ্ন গোলচত্বরে সুধী সমাবেশেও অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো কার্যসূচি থেকে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে দশটায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রওনা করবেন। সকাল এগারটায় মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর নামফলক উম্মোচন, এন-৮ মহাসড়কের ঢাকা-মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি পরিদর্শন, পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন, মূল নদীশাসন কাজ সংলগ্ন স্থায়ী নদীতীর প্রতিরক্ষামূলক কাজের শুভ উদ্বোধন ও মোনাজাত এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শন করবেন। এরপর এগারটা ১৫ মিনিটে মাওয়া টোলপ্লাজা সংলগ্ন গোলচত্বরে সুধি সমাবেশে যোগ দেবেন।
এরপর দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর নামফলক উম্মোচন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন এবং মোনাজাতে অংশগ্রহণ শেষে বিকেলে তিনটার মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ী ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ঘাটে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ কারণে রোববার পদ্মা পাড়ে দুই সুধী সমাবেশে পদ্মা সেতু উদ্ধোধনের সময়সীমা ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিরাপত্তা বেষ্টনিসহ কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর শেখ হাসিনার মাওয়া সফর নিয়ে পদ্মার দুই পাড়ে উচ্ছ্বাস-উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর মুখে কবে নাগাদ উদ্ধোধন হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, সেই সময়সীমাটি জানার অপেক্ষার প্রহর গুনছে এলাকাবাসী।

এ ঐক্য কোটি জনতার পক্ষে, কোনো দলের স্বার্থে নয়: ড. কামাল

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: সদ্য ঘোষিত বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো দলের স্বার্থে নয়। জাতীয় স্বার্থে। এ দেশের কোটি কোটি জনতার আকাক্সক্ষার পক্ষেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন। শনিবার সন্ধ্যায় ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, অতীতে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা শত রকমের বিজয় অর্জন করেছি।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আজ থেকে যাত্রা শুরু : মান্না

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: বর্ষিয়ান আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আজ থেকে যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপিও অংশ নিয়েছে।
সংবাদ সন্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেন, গত তিনদিনের টানা বৈঠক শেষে আমরা একটি ঐক্যমতে পৌঁছেছি। এতে লিখিত বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ সিন্দাবাদের ভুত চেপে বসেছে। দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ না হলে এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না।
এসময় তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরেন এবং সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, ডিজিটাল নিরাপত্তাসহ সব কালো আইন বাতিল করাসহ সাত দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের ৭দফা দাবিগুলো হলো:
১. অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকার প্রধানের পদত্যাগ। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি।
২. গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ইভিএম বাদ দিয়ে ইসি পুনর্গঠন।
৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
৪. কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক চেয়ে যে আন্দোলন হয়েছে সেই আন্দোলনে আটকদের মুক্তি দাবি ও মামলা প্রত্যাহার। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রত্যাহার।
৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন। এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে।
৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় ও আন্তজার্তিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের নিশ্চয়তা দেওয়া। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ রাখতে হবে।
৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণ ফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
এছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মুনসুর, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আ ব ম মোস্তফা আমিন, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, আব্দুল মালেক রতন, অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন, অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার, আ ও ম শফিক উল্লাহ, মোস্তাক আহমদ প্রমুখ।

সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবিতে ড. কামালের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা: সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা, বিশ্বখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, এই ঐক্য কোনো দলের স্বার্থে নয়। জাতীয় স্বার্থে এই ঐক্য করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে ৭ দফা দাবিসহ ১১ লক্ষ্য তুলে ধরেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ নেতারা অংশগ্রহণ করেন।
ফ্রন্টের ঘোষণায় নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দিয়ে সর্বদলীয় গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীর মুক্তির দাবি করা হয়েছে।
৭ দফা দাবি:
১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা সপেক্ষে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদাসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে।
২. গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

৩. বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিকসহ সবার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সকল কালো আইন বাতিল করতে হবে।
৫. নির্বাচনের ১০ দিন পূর্ব থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে।
৬. নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ভোটকেন্দ্র, পোলিং বুথ, ভোট গণনা স্থল ও কন্ট্রোল রুমে তাদের প্রবেশের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ না করা। নির্বাচনকালীন গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর যেকোনও ধরনের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে।
৭. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও কোনও ধরনের নতুন মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।
ঘোষিত ১১টি লক্ষ্য:
১. মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসান করে সুশাসন, ন্যায়ভিত্তিক, শোসনমুক্ত ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা। এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক নির্বাহীক্ষমতার অবসান কল্পে সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনয়নসহ প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ ও ন্যায়পাল নিয়োগ করা।
২.৭০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের যুগোপযোগী সংশোধন করা। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাসহ সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ,সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দানের জন্য সাংবিধানিক কমিশন ও সাংবিধানিক কোর্ট গঠন করা।
৩. বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের নীতমালা প্রণয়ন ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা।
৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতিকে কঠোর হাতে দমন।

৫.দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতাসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগ দানের ক্ষেত্রে মেধাকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কোটা সংস্কার করা।
৬. সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তার বিধান করা। কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
৭.জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কালো থাবা থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও কাঠামোগত সংস্কার সাধন করা।
৮. রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রের সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বন্টন, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। নিম্ন আয়ের মানবিক জীবন মান নিশ্চিত করা এবং দ্রব্যমূলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা।
৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়া।
১০. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’-এই নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করা এবং প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে পারস্পরিক সৎ-প্রতিবেশী বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিবে ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১১. বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার ও সংগ্রামের প্রতি পূর্ণ সমর্থন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশে ফেরত ও পুনর্বাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার এবং দেশের সার্বোভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিরপত্তা সুরক্ষার লক্ষে প্রতিরক্ষা বাহিনীর আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর-সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি নিয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করবে সম্পাদক পরিষদ

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌল মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ। বৃহস্পতিবার পরিষদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে আইনটি সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। আজ ডেইলি স্টার সেন্টারে ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে সম্পাদক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এ বিবৃতি দেয়া হয়। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করতে সংবাদ সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

বিবৃতিদাতারা হলেন: ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, নিউজ টুডের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মানবজমিন এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দিন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম।

মেয়েরা খেলায় খুব সাহসী ভূমিকা রাখেন :প্রধানমন্ত্রী

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেয়েরা খেলায় খুব সাহসী ভূমিকা রাখেন। পারফরমেন্সও ভালো। আমি চাই খেলাধুলা সাংস্কৃতিক চর্চা সবদিক থেকেই দেশের ছেলে-মেয়েরা আরও উন্নত হোক।

বৃহস্পতিবার গণভবনে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

খেলাধুলার জন্য সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে ক্ষমতা হচ্ছে দায়িত্ব, মানুষের সেবা করা এবং যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা স্বাধীনতা এনেছিলেন সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

তারেক রহমানকে ফেরানোর বিষয়ে যা বললেন ইংল্যান্ডের আইনজীবী

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার যে আহ্বান জানিয়েছেন তাতে কোনো আইনগত সুবিধা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারেক রহমান সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশে ফেরত গেলে তার ওপর জুলুম হবে। ব্রিটিশ সরকারকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন বলেই তাকে আশ্রয় এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইংল্যান্ডের এ আইনজীবী জানান, এক্সট্রাডিশন ট্রিটি বা এমল্যাট – যাই হোক না কেন ২০০৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইন এবং ২০০২ সালের কমনওয়েলথ দেশগুলোর এক্সট্রাডিশন সংক্রান্ত আইনগুলোর আওতার মধ্যে থেকে ব্রিটিশ সরকারকে তারেক রহমানকে ফেরত নেয়ার আবেদন বিবেচনা করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও এক ফেসবুক পোস্টে বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকার উদ্যোগী হলে বন্দিসমর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) না থাকলেও জাতিসংঘ সনদের শর্ত মেনে ব্রিটেন সাজাপ্রাপ্তদের ফেরত দিতে পারে।

এক্সট্রাডিশন ট্রিটির আইনগত প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করে আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ বলেন, যদি বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফেরত চেয়ে কোনো আবেদন পাঠায় তাহলে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসব আইনের আলোকে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি সেটা ঠেলে দিতে পারেন আদালতে। আদালত এক্ষেত্রে প্রথমে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করতে পারে। আদালতের বিবেচনা হবে এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা আছে কিনা।

তিনি বলেন, এই বাধাগুলোর একটি হলো যে সাজার কথা বলে তাকে ফেরত নেয়া হবে, তার বাইরে যেন তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা দায়ের কিংবা তার কোনো সাজা না হয়। আদালতের রায় বিরুদ্ধে গেলে তারেক রহমান একে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। হাইকোর্টে এবং সুপ্রিমকোর্ট পেরিয়ে মানবাধিকার-সংক্রান্ত ইউরোপীয় আদালতেও যেতে পারবেন। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আইনের বর্তমান কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ কোনোভাবেই তাকে ফেরত পাবে না।

বাংলাদেশে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে: বিশ্বব্যাংক

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : বাংলাদেশে ব্যবহার করা ৪১ শতাংশ পানিতে ই.কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এতে ডায়েরিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বহুজাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
রাজধানী সোনাগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে- বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক ঝুঁকি বাড়ছে।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রুখসানা কাদের ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়া থাকায় এবং স্যানিটেশন সমস্যার কারণে এক-পঞ্চমাংশ দারিদ্র্য মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। দারিদ্র্য, উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শহর ও গ্রামের সবাই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে শহরের বস্তিতে বাস করা লোকজন আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যায় বেশি।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে এখন ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এর চেয়ে প্রধান সমস্যা হল সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের পাঁচ কোটি মানুষ টয়লেট শেয়ার করেন। অর্থাৎ একাধিক পরিবারের লোকজন একটি টয়লেট ব্যবহার করেন। এ সংখ্যা গ্রামে যেমন রয়েছে, তেমনি শহরেও রয়েছে। তবে শহরের বস্তি এলাকায় টয়লেট শেয়ারের সংখ্যা গ্রাম এলাকার লোকজনের তুলনায় তিনগুণ বেশি।
‘ফলে এসব লোকজন নানা প্রকার রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন।’
বিশ্বব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে ভুগর্ভস্থ পানির ১৩ শতাংশে আর্সেনিক রয়েছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে এ আর্সেনিকের সংখ্যা বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পানিতে আর্সেনিকের সংখ্যা বাড়ছে।
‘বাংলাদেশে দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। তাই দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি জরুরি নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।’
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর শিরিন ঝুমা বলেন, স্যানিটেশন ও পানিজনিত সমস্যার কারণে বাংলাদেশের অনেক শিশু যথাযথভাবে বিকশিত হচ্ছে না। পাঁচ বছর বয়সের নিচের শিশুরা সবচেয়ে বেশি পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
ঝুমার ভাষ্য, বাংলাদেশকে পানি ও স্যানিটেশন সমস্

ইউএনও অফিসে সহকারী কমিশনার চায় সংসদীয় কমিটি

নিউজ মিডিয়া ২৪: ঢাকা : দেশের সব উপজেলায় একটি করে সহকারী কমিশনার পদ সৃজনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়গুলোর বর্তমান কাজের চাপ বিবেচনায় নিয়ে কমিটি এ সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকের এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী অফিসের সব কাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সামাল দিতে হয়। কিন্তু কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় ইউএনও’র অধীনস্থ একজন সহকারী কমিশনার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এ সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

বৈঠকে জেলা প্রশাসনে শূন্যপদ পূরণ ও জেলা প্রশাসনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (প্রবাসী কল্যাণ) পদ সৃজনের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে প্রতিটি জেলায় পর্যায়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ঢাকায় একটি নতুন সার্কিট হাউজ নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য ফের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বৈঠকে জানানো হয় যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় শেরে বাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় স্থানান্তরসহ ভবন নির্মাণের জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ দেওয়া ২.৩৭ একর জমি বুঝে নিয়ে দখল গ্রহণ এবং সেখানে ভবণ নির্মাণের বিষয়ে চাহিদামালা পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে জেলা প্রশাসক, ঢাকা এবং বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দফতর/অধিদফতর/সংস্থাগুলোর নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী প্রেষণে পূরণযোগ্য শূন্য পদে প্রেষণে পদায়নে সতর্কতা অবলম্বন করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে কমিটি সুপারিশ করে।

কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কমিটি সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মো. আব্দুল্লাহ, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক এবং জয়া সেন গুপ্তা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

আমার সময় শেষ, আগামীতে দেখা নাও হতে পারে: কাদের

নিউজ মিডিয়া ২৪:ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২১ আগস্টের খুনিদের সঙ্গে কোনো ধরনের ‘জাতীয় ঐক্য’ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।
আজ বৃহস্পতিবার সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতির ২৮তম বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সময় খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বেও ছিলেন। তাই খালেদা জিয়া কোনোভাবেই গ্রেনেড হামলার দায় এড়াতে পারেন না।’
রায় নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ’১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা । একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা।’
পাল্টা প্রশ্ন করে কাদের বলেন, ‘যে ঘটনায় ২৪ জন মানুষ মারা গেল, শত শত লোক আহত হলো। যাদের অনেকে সারাজীবন পঙ্গু হয়ে আছে সে ধরনের একটি হত্যাকাণ্ডের রায় কি ফরমায়েশি হতে পারে? তাছাড়া মুফতি হান্নান যেখানে বলেছেন, তারেক রহমানের নির্দেশে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেখানে কি করে এ রায় ফরমায়েশি হয়?’

তিনি বলেন, ‘আমি নিজে এখনও বসে নামাজ পড়তে পারি না, সেজদা দিতে পারি না। চেয়ারে বসে আমাকে নামাজ আদায় করতে হয়।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়কে মানুষ বলে দুর্নীতিবাজ মন্ত্রণালয়। এটা শুনে কি ভালো লাগে? আপনারা অবশ্য শোধরানোর চেষ্টা করবেন। কারণ যে মন্ত্রণালয়কে মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয় বলে সে মন্ত্রণালয়ের সৎ মন্ত্রী থাকলেও লোকে কি তাকে সৎ মন্ত্রী বলবে? যা হোক আমার সময় তো শেষ। আপনাদের সঙ্গে আগামীতে নাও দেখা হতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্বে যদি থাকি তাহলে হয়তো রুটিন ওয়ার্ক করতে হবে। তবে এ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করার সময় ভালো কিছু যদি করি তাহলে তার সুনাম আপনাদের; আর মন্দ কিছু হলে আমি তার দায়ভার নেব।’