রানবৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ইংল্যান্ড বৃষ্টিরই প্রার্থনায়

জো রুট কি আকাশের পানে চেয়ে প্রার্থনায় বসেছেন? বৃষ্টির কারণে দিনের পুরো খেলা হয়নি। তারপরও শান্তি পাচ্ছেন না রুট। দ্বিতীয় ইনিংসে ইতিমধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ইনিংসে পরাজয় এড়াতে এখনো প্রয়োজন ১২৭ রান। ওয়াকার প্রায় ভেঙে পড়া উইকেটে বীনের সামনে নাচতে থাকা সাপের মতো ঘুরছে বল। অলআউট না হওয়াই এখন এভারেস্ট বিজয়ের মতো কঠিন। তাই রুটদের একমাত্র ত্রাতা হতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও শেষ দিনে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ম্যাচ ভেসে না গেলে ৩-০ ঠেকানো কঠিন হয়ে যাবে রুটদের।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া রানের বন্যায় ভাসিয়েছে ইংলিশদের। ৯ উইকেটে ৬৬২ রান তুলে ঘোষণা করেছে প্রথম ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার ২৫৯ রানের লিডের কারণেই ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ইংল্যান্ড।

অ্যাশেজে ঘরের মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড অস্ট্রেলিয়া নতুন করে লিখিয়েছে পঞ্চম উইকেটে মিচেল মার্শ ও স্টিভ স্মিথের ৩০১ রানের জুটির সৌজন্যে। আজ অবশ্য দিনের শুরুতেই কোনো রান যোগ না করেই জেমস অ্যান্ডারসনের বলে এলবিডব্লু হয়েছেন মার্শ। ১১ রান পর আউট হয়েছেন স্মিথও। ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ২৩৯ রান করে অ্যান্ডারসনেরই শিকার। ১ রান যোগ করতেই আবারও ধাক্কা, এবারে রান আউট মিচেল স্টার্ক।
আগের দিন দাপুটে ব্যাটিং করা স্বাগতিকদের সামনে তখন অলআউট হওয়ার শঙ্কা। উদ্ধার করলেন প্যাট কামিন্স ও টিম পেইন। অষ্টম উইকেটে দুজন ৯৩ রান যোগ করেছেন। তাতেই স্বাগতিকদের লিড দুই শ ছাড়িয়েছে। অ্যান্ডারসনের তৃতীয় শিকার কামিন্স ফিরেছেন ৪১ রান করে। আর ৪ রান করে নাথান লায়ন আউট হতেই ড্রেসিংরুমের ব্যালকনিতে স্মিথের শিস, ইনিংস ঘোষণার। পেইন তখন অপরাজিত ৪৯ রানে।

২৫৯ রানের লিডটাকে আরও বড় বানিয়ে দিয়েছে ওয়াকার উইকেট। এক সময় পেসের কারণে বিখ্যাত এই পিচ দেখে তখন উপমহাদেশের গল কিংবা মোহালির কথা মনে পড়ছিল। মাঝ বরাবর লম্বা একটা ফাটল। প্রথম বল হওয়ার আগেই অনেকক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে নিলেন লায়ন। এমন উইকেট তো স্পিনারদের জন্য স্বপ্ন।
তবে প্রথম আঘাতটা পেসারদেরই। একটানা করিডোর ধরে বল করে যাওয়ায় জশ হ্যাজেলউডের বলে পেইনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মার্কাস স্টোনম্যান। খানিক পরেই নিজের বলে ক্যাচ নিয়ে অ্যালিস্টার কুককেও ড্রেসিংরুমের পথ দেখালেন হ্যাজেলউড। জেমস ভিন্সের সঙ্গে ৩০ রানের ছোট্ট এক জুটি গড়ে ফিরে গেলেন অধিনায়ক রুট। ৬০ রানে নেই প্রথম ৩ উইকেট, ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত দিন পার করতে পারে কি না, সেটাই তখন প্রশ্ন। চতুর্থ দিনের খেলা তখনো যে ৪০ ওভারের মতো বাকি।

চতুর্থ উইকেট ডেভিড মালান ও ভিন্সের ৪০ রানের জুটিতে ইনিংসের প্রথম প্রতিরোধ গড়ে সফরকারীরা। ৫৫ রান করে স্টার্কের দারুণ এক বলে বোল্ড হয়েছেন ভিন্স, যেটিকে অনেকেই বলছেন ‘শতাব্দীর সেরা’ বল; এমনই দুর্দান্ত ছিল বলটি। এরপর ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন পার করেছেন প্রথম ইনিংসের দুই সেঞ্চুরিয়ান মালান ও বেয়ারস্টো। আসলে বৃষ্টি বাধায় দিনের শেষে আর খেলাই হতে পারেনি। তাতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে ঘরে ফিরেছেন দুই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩২ রান।

শেষ দিনে পরাজয় এড়াতে অন্তত ১২৭ রান চাই রুট বাহিনীর। হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ওয়াকার ভাঙা উইকেটে যা প্রায় অসম্ভব। এখন বৃষ্টি আসলেই প্রাণে বেঁচে যায় সফরকারীরা। নয়তো প্রথম তিন টেস্টের সব কটিতে হেরে অ্যাশেজ হাতছাড়া করার লজ্জায় পড়তে হবে রুটদের।

ভারতের ঘামও ঝরাতে পারল না শ্রীলঙ্কা

২১৬ রানের লক্ষ্য পেরোতে ভারতের কষ্ট হওয়ার কথা নয়। তাই বলে এতটা একতরফা জয় হয়তো স্বাগতিকেরাও আশা করেনি। মাত্র ২ উইকেট হারিয়েই সিরিজ জিতে নিল ভারত। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে শিখর ধাওয়ানের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে ১০৭ বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নিল ভারত।

আগের ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরিয়ান রোহিত শর্মা আজ ফিরে গেছেন ৭ রানে। ১৪ রানে প্রথম উইকেট হারানো ভারত শুরুতে কিছুক্ষণ অস্বস্তিতে কাটিয়েছে। কিন্তু আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রেয়াস আয়ার ও শিখর ধাওয়ান সব দুশ্চিন্তা ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছেন। ৬৩ বলে ৬৫ রান করে আয়ার যখন ফিরছেন, ভারতের রান তখন প্রায় দেড় শ ছুঁইছুঁই (১৪৯)। আয়ার ফিরে গেলেও রানের চাকার গতি শ্লথ হয়নি ভারতের। ৮৫ বলে ১০০ রান করে ৩২.১ ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন ধাওয়ান।

১৬ ওভার ও ৫৫ রানের একটি অধ্যায়ই ম্যাচের রূপ বদলে দিল। দুর্দান্ত এক বছর কাটানো উপুল থারাঙ্গা সেঞ্চুরি দিয়ে বছর শেষ করার অপেক্ষায়। মাত্র তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০১৭ সালে ওয়ানডেতে এক হাজার রান তোলার উদ্‌যাপন সেঞ্চুরিতেই মানাত। চায়নাম্যান কুলদীপ যাদবের একটি বাইরের বল ড্রাইভ করতে গেলেন এই ওপেনার। সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য গোড়ালিটা বের হয়ে এল ক্রিজ থেকে। ওটুকুতেই সর্বনাশ হয়ে গেল থারাঙ্গার। ধোনির গ্লাভস ভেঙে দিল স্টাম্প। ৮২ বলে ৯৫ রান করে ফিরে গেলেন থারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কার রান তখন ১৬০। ইনিংসের বয়স ২৭.১ ওভার। হাতে আ-ট উইকেট।

শ্রীলঙ্কার ধসের শুরু থারাঙ্গার আউটে। এর পর একে একে ফিরলেন ডিকভেলা, ম্যাথুস, পেরেরারা। ২৫ ওভার শেষে সহজে ৩০০ ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকা শ্রীলঙ্কা সব গুবলেট পাকিয়ে শেষ ৮ উইকেট হারাল ৫৫ রানে। টেস্টেও ৫০-এর ওপর স্ট্রাইকরেট রাখা আসেলা গুনারত্নে অনেকক্ষণ ঠুকঠুক করলেন শেষ দিকে। কিন্তু ৫১ বলে ১৭ করেও ৪৫তম ওভারে দলের অলআউট হওয়া আটকাতে পারলেন না।